খেলা

ফুটবল মাঠে মানবতার জয়

ক্রীড়া ডেস্ক

‘গ্রিক পুরাণে টাইটানরা নাকি সৃষ্টিকর্তার চেয়েও শক্তিশালী ছিল। চরম ক্ষমতাবলে তারা শাসন করেছে মহাবিশ্ব। আজ রাতে ওই যে ফুটবল মাঠটা, ওটাই আমাদের মহাবিশ্ব। চলো, টাইটানদের মতো শাসন করি!’-কোচ হারমান বুন।

সেই শাসন তো টাইটানরাই করেছিল। ১৯৭১ সালে হাইস্কুল আমেরিকান ফুটবলে ১৩–০ রেকর্ডে মৌসুম শেষ করে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা, ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ-সবই করে দেখায় ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়ার টি সি উইলিয়ামস হাইস্কুলের (এখন আলেক্সান্দ্রিয়া সি টি হাই স্কুল) ফুটবল দল। যাদের ডাকনামই ছিল ‘টাইটানস’। সেই অবিশ্বাস্য মৌসুমের গল্প নিয়েই তৈরি সিনেমা ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’।

কিন্তু গল্পটা কেবল খেলার নয়। সত্তরের দশকের যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ কত গভীরে ছিল, সেটাও ফুটে উঠেছে এতে। সাদা–কালো খেলোয়াড়ের মিশ্রণে গড়া দলের ভেতরকার বিভাজন আর সেই দেয়াল ভাঙতে এক কোচের লড়াই-এই সিনেমার আসল শক্তি। মাঠে টাচডাউন করার আগে বুন কি মাঠের বাইরের লড়াইটাও জিতেছিলেন?

সত্য ঘটনা অবলম্বনে বানানো এই ছবির সংলাপ যেন ছুরি-সোজা মগজে গিয়ে লাগে। অধিনায়কত্ব নিয়ে একসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘Attitude reflects leadership’ লাইনটাও এসেছে এখান থেকে।

১৯৭১ সালে টি সি উইলিয়ামস ছিল আলেক্সান্দ্রিয়ার প্রথম সমন্বিত স্কুল, যেখানে সাদা ও কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়ত। এর আগে দুই বর্ণের মানুষের মধ্যে মেলামেশা ছিল বিরল। নতুন এই মিশ্র দলে এলেন প্রধান কোচ বুন-কৃষ্ণাঙ্গ। আর এত দিন সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা শ্বেতাঙ্গ কোচ, যাঁর প্রধান হওয়ার দাবিও ছিল প্রবল। শুরুর এই দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে সাদা–কালো খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা, আর সেখান থেকে একে অপরের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত হয়ে ওঠার যাত্রা—সিনেমার মোচড়গুলো এককথায় দুর্দান্ত।

বুনের চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করেছেন নিউইয়র্ক টাইমস ঘোষিত একুশ শতকের সেরা অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন। সহকারী কোচের চরিত্রে উইল প্যাটনও কম যাননি। ওয়াশিংটন যদি হন জ্বলন্ত আগুন, প্যাটন সেই আগুনে শীতল জলের ছিটা। আর এ দুই বিপরীত ধারা মিলিয়েছেন পরিচালক বোয়াজ ইয়াকিন-দেখিয়ে দিয়েছেন, খেলাধুলার ঐক্যের কাছে জাতিগত বিভাজন সব সময়ই হেরে যায়।

সিনেমায় এক দৃশ্যে, রাত তিনটার পর খেলোয়াড়দের ঘুম থেকে তুলে জগিংয়ে বের করেন বুন। বনবাদাড় পেরিয়ে নিয়ে যান এক সমাধিক্ষেত্রে। সেখানে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটা গেটিসবার্গ, যেখানে ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে একই লড়াইয়ে নেমে, যে লড়াই আমরা এখন লড়ছি। না থামলে তাদের মতো আমরাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।’

এই দৃশ্যের পরই শুরু হয় বদলে যাওয়া টাইটানসদের গল্প। শুরুর দিকে ভাঙাচোরা এক দল যেভাবে একসঙ্গে দাঁড়ায়, তা দেখে ‘ফিল-গুড’ ফিলিং অনিবার্য। সম্ভবত এ কারণেই ২০০০ সালে মুক্তির পর শুরুতে তেমন সাড়া না পেলেও সিনেমাটি ধীরে ধীরে ‘কাল্ট’ মর্যাদা পেয়েছে।

জেরি ব্রুকহেইমার ও ডিজনির প্রযোজনায় তৈরি এ ছবিতে তরুণ অ্যাথলেটদের চরিত্রে রায়ান হার্স্ট ও উড হ্যারিসের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। অধিনায়ক জেরি বার্টিয়ারের চরিত্রে হার্স্ট আর দ্য নোটবুকখ্যাত রায়ান গসলিংয়ের ছোট অথচ মজার চরিত্রটিও আলাদা নজর কাড়ে।

শিকাগো সান–টাইমসের কিংবদন্তি সমালোচক রজার এবার্ট সিনেমাটি দেখে লিখেছিলেন, ‘জয়গুলোয় আমরা নিশ্চিত হতে পারি না, টাচডাউনের জন্য উল্লাস হচ্ছে নাকি “টলারেন্স” জেতার জন্য।’ অর্থাৎ এখানে খেলায় জয়ের আনন্দ আর জাতিগত বিভাজন ভাঙার তৃপ্তি-দুটোই এমনভাবে গাঁথা, মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা আসলে খেলাধুলার সিনেমা, নাকি বর্ণবাদ বিলোপের!

রিমেম্বার দ্য টাইটানস (২০০০):
পরিচালক: বোয়াজ ইয়াকিন
প্রযোজক: জেরি ব্রুকহেইমার ফিল্মস ও ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স
অভিনয়ে: ডেনজেল ওয়াশিংটন, উইল প্যাটন, উড হ্যারিস, রায়ান গসলিং, রায়ান হার্স্ট
আইএমডিবি রেটিং: ৭.৮/১০
রানটাইম: ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট

আমারবাঙলা/জিজি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

চরের পথে ঘোড়ার জাহাজ,  চরের মানুষের নিরব সংগ্রাম

‎ভোরের কুয়াশা তখনও কাটেনি। তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচরের ওপর দিয়ে একটি ঘোড...

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর বিএনপি অফিসে ককটেল আহত ৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ...

বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এমপি শওকতুল ইসলাম শকুকে সংবর্ধনা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর...

দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটি,

সিরাজগঞ্জে দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটির ঘটনায় ‘সমবয়সী বন্ধুর...

গরম আর শুধু গরম নয়, এটি এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়

মোঃ শামীম মিয়া: বাংলাদেশের সামনে জলবায়ুর ভয়ংকর ভবিষ্যৎ জ্যৈষ্ঠের গরম বাংলাদেশ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা