কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সরকার জানিয়েছে, নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারি ভবন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা কলম্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
গত সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত এক শতাব্দীর মধ্যে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট। গত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
সরকারি হিসাবে, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। তবে বেসরকারিভাবে পরিচালিত একটি ডেটাবেসে আহতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্যোগের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানি ও খাবারের ব্যবস্থা থাকলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষ আরও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদো রয়েছে। এসব এলাকায় রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। পেরেইরা ও কালিতে ক্রেন, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও হাতে করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারে সহযোগিতা করছেন।
কালি শহরের বিভিন্ন এলাকা ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন। কোদাল, বেলচা এমনকি খালি হাতেও ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা গেছে তাদের।
ভূমিকম্পের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কালি শহরের হসপিটাল ইউনিভার্সিটারিও দেল ভ্যায়ের একটি অংশ ধসে পড়ায় চিকিৎসকদের রোগীদের পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। সেখানে কয়েকজন রোগীকে খোলা জায়গায় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
হতাহতদের সহায়তায় কলম্বিয়ার সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে এগিয়ে এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে হাজারো মানুষ খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছেন। বিভিন্ন রক্তদান কেন্দ্রের সামনেও রক্তদাতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েল্লা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি