বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় (আইপিসি ফেজ ৩ বা তার ওপরে) রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ ৮৩ হাজার মানুষ অতি সংকটজনক বা জরুরি অবস্থায় (আইপিসি ফেজ ৪) জীবনযাপন করছে। চলতি মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিদ্যমান বলে জানা গেছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—তখন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে, যাদের মধ্যে সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ থাকবে চরম জরুরি অবস্থায়। দেশের ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত জাতিসংঘের এক যৌথ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এফপিএমইউ-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রকাশ করা হয়। এফএও, ডব্লিউএফপি, অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন ও গেইনসহ একাধিক সংস্থা এই সমীক্ষায় অংশ নেয়।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, কিছু উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার-ভাসানচরের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সংকট সবচেয়ে তীব্র। প্রতিকূল আবহাওয়া, ঘন ঘন বন্যা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি-খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াকেই এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেছেন, এই তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও প্রান্তিক মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, আর ডব্লিউএফপি প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা জানান, বন্যাপ্রবণ এলাকায় তাদের সংস্থা ইতিমধ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জরুরি খাদ্যসহায়তা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি পুনর্গঠন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়নে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আমার বাঙলা/ তালহা