ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার পর কী করবে সৌদি, কাতার,আমিরাত?

আমার বাঙলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়েছে তাদের আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে। এসব হামলায় তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপদ ভ্রমণ, পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের যে মূলভিত্তি তেল ও গ্যাস শিল্পেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

আরব সরকারগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তারা এটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। প্রশ্ন হলো তারা ইরানের যে হামলাকে বিশ্বাসঘাতকতামূলক আখ্যায়িত করেছে, সেই যুদ্ধে নিজেরাই জড়িয়ে পড়বে কি-না।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, সব সীমারেখা অতিক্রম হয়ে গেছে। আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা চলছে। অবকাঠামোগুলোতে হামলা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে। এসব হামলার প্রভাব একেবারেই স্পষ্ট। সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে আমাদের নেতৃত্বের সামনে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বিনা জবাবে থাকবে না এবং থাকতে পারে না।

ইরানের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ওই অঞ্চলে প্রতিহত করা হচ্ছে কিন্তু ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগছে এবং তাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

আবার আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে তুলনামূলকভাবে সক্ষম ড্রোনগুলো বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণকে ব্যাপক বাধাগ্রস্ত করছে।

এটাই ইরানের কৌশল বলে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে যে নিজেদের আরব প্রতিবেশীদের বিপর্যস্ত করে তোলা যাতে যুদ্ধ বন্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইসরাইলের দিকে যত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে তার সমান সংখ্যক ছুঁড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে।

ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। এ খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাপক মাত্রায় প্রভাবিত করতে পারে।

তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলও দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি তারা যুদ্ধে জড়িত হওয়ার প্রচেষ্টাতেও অংশ নিতে পারে।

এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে দেয়নি।

যদিও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে এবং কোনো এক পর্যায়ে হয়তো তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

পরিস্থিতি এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং এই মুহূর্তে আরব দেশগুলো মূলত নিজেদের প্রতিরক্ষাতেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

কিছু দেশ চাইছে না যে তারা এই সংঘাতে ইসরাইলের পক্ষ নিচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হোক।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলের প্রাণঘাতী ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আর লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে গত বছর হামাস নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টায় কাতারে বোমা হামলার ঘটনায় আরব বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তবে এটা স্পষ্ট যে ইরানের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য- সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান রোববার জরুরি বৈঠক করে সংহতি প্রকাশ করেছে।

দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করেছে। যার মধ্যে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের একজন সিনিয়র কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

‘আপনার যুদ্ধ আপনার প্রতিবেশীর সাথে নয়,’ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন তিনি। ‘বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনা আর বাড়ার আগেই নিজের এলাকায় ফিরে এসে প্রতিবেশীদের সাথে যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করুন,’ লিখেছেন তিনি।

আমারবাঙলা/এসএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বাগেরহাটে সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

মঙ্গলবার বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্...

নেপাল-তিব্বতে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল

নেপাল ও তিব্বতে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা...

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে...

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তাই হবে মনোনয়নের প্রধান মাপকাঠি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তাকে প্রধা...

বুধবার খুলছে ধউর-আশুলিয়া সার্ভিস লেনের সেতু

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশের...

ভারতসহ ৩ দেশের কাছে বন্যার ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্রাণহানি এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর জলবায়ু ক্...

রণজিৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক, বিপাকে মুসলিম শিক্ষার্থীরা

বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রণজিৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষা...

দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে ‘পাঁচ দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর...

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ...

ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে ভারতে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা