নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামের এক নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার, ভাই ও বোনেরা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রায় চার বছর আগে নাছরিনকে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে জামাইকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা নাছরিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নির্যাতনে মান্নানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে ও তার স্ত্রীদেরও সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ করেন নাছরিনের স্বজনরা।
নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট আরও তিন লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য নাছরিনের ওপর চাপ দেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছরিনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নাছরিনের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার অভিযোগ করেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে ঘরে নাছরিনের মরদেহ ঝুলছিল, সেখানে ভেতরের দিকে আরও একটি দরজা রয়েছে। ওই দরজা ব্যবহার করে নাছরিনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, নাছরিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় জামাতা আব্দুল মান্নান, তার পুত্রবধূ আরিফা বেগম এবং দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
আমার বাঙলা/ রাব্বি