মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ছাত্রদল-যুবদল পরিচয় দিলেই আগে তার বায়োডাটা নিতে হবে। দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানো বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলের দিকে রাজনগর উপজেলা পরিষদ হলরুম-এ সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমপি নাসের রহমান বলেন, সংসদে আইন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন এমপির আসল কাজ তার নির্বাচনী এলাকায়। এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এবারের সংসদে মাত্র ৬০ জন রয়েছেন যারা আগে এমপি ছিলেন। অনেকের অভিজ্ঞতা কম। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন করবো।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন এমপি। তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানে কোনো দলীয় পরিচয় দেখা হবে না। আইন সবার জন্য সমান।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কেউ যেন বেআইনিভাবে সুযোগ না পায় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে তারা কাজ করবে। কিন্তু কেউ যদি গায়ের জোরে পেশিশক্তি নিয়ে এসে দলের নাম ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে, তাহলে ‘নো মার্সি’। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে যেতে হবে।
এমপি বলেন, “উনি আমার দলের যত বড় নেতা হোক বা যত ছোট নেতা হোক—আইনের ব্যত্যয় হলে জিরো টলারেন্স।”
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী দুই মাসের মধ্যে চাঁদাবাজি বা ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটা যেন আর উচ্চারিত না হয়। সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।” দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে থানায় নিয়ে মামলা করার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এমপি বলেন, “রাজনগর-মৌলভীবাজারে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। যারা চাঁদাবাজি করবে তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তারা অপরাধী। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। স্থানীয় উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান এবং কোনো সমস্যা হলে তা অবহিত করতে বলেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, যেন কেউ সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার না হন।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উৎপল রায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গণি, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হোসেন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান এবং পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী খান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুল মুকিত, সদস্য বকসি মিছবাহুর রহমান, আশরাফুজ্জামান খান নাহাজ, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জিতু মিয়া ও কবির মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী, এমএ হাকিম বক্স সুন্দর, রাজনগর প্রেসক্লাব-এর সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
পরে উপজেলা কম্পাউন্ডে কৃষ্ণচূড়া ও আম গাছের চারা রোপণ করেন এম নাসের রহমান। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “পরিবেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো।
আমারবাঙলা/এসএবি