সাতক্ষীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গবাদি পশু, হাঁসমুরগি পালন ও মৎস্য চাষ বিষয়ে ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই কর্মকর্তা ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার ও সিনিয়র প্রশিক্ষক দেবাশীষের বিরুদ্ধে।
সরকারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কাগজ-কলমে দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের বড় অঙ্কের সম্মানী ভাতার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে এক/ দুদিন দায়সারাভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র প্রশিক্ষক (পশুপালন) দেবাশীষ সরকার ও ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার পরষ্পর যোগসাজশ করে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যাচের মেস খরচ সহ অন্যান্য ভাতা আত্মসাৎ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
যানা যায়,অফিসের কোয়ার্টারে বসবাসের সুযোগে হোস্টেলের খাবার বাসায় নিয়ে যায়। ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার চাকরির শুরু থেকে সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৭ বছর কর্মরত আছেন। তবে এসব বিষয়ে জেনেও নিশ্চুপ থাকার অভিযোগ আছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভুয়া ভর্তি, সম্মানি ভাতার রেজিষ্টার জালিয়াতি, শিক্ষার্থীদের মেস খরচ মেরে দেওয়া সহ একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায়য় কাগজে-কলমে পূর্ণ উপস্থিতি দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের হিসাব ঠিকঠাক দেখানো হয়েছে।দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করে বিলাসী জীবন যাপন করছে এই দুই কর্মকর্তা।
তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ সিডিউল প্রকাশ না করে অনিমিত ক্লাস করা। বিশেষজ্ঞ রিসোর্স পার্সনদের ২-১ দিন ক্লাস দিয়ে বাকি ক্লাস মিল্ক ভিটা কোম্পানির লোকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়। জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসারের ১-২ টি ক্লাস নিয়ে বাকি ক্লাস খাতা কলমে ঠিক দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ করেন।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, হোস্টেলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে। সকালেও দুপুরের ৬০ জনের খাবার খেলে রাত্রে উপস্থিত থাকে ১৫ থেকে ২০ জন। খাতা কলমে বাকিদের উপস্থিত দেখিয়ে সিনিয়র প্রশিক্ষক দেবাশীষ ও ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার দুই কর্মকর্তা বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করে। তাদের মাধ্যমে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা টাকা ভাগ বাটোরা করে নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আসাদুজ্জামান ও বিলকিস নামে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়ে অফিসে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে গোলযোগের সৃষ্টিতে একপর্যায়ে বিলকিসের স্বামী সেলিম বহিরাগত লোক নিয়ে অফিসে প্রশিক্ষক আসাদুজ্জামান গ্রুপের উপর হামলা করলে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হয়। এ নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তারা জানান, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্বতাদের দ্রুত বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না করলে অফিসে যে কোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদেরকে দ্রুত বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ স্থানীয় সচেতন মহল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাচে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে সরকারি অর্থ তসরুফ করারও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
এর আগে দুর্নীতির কারণে ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার কে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সাতক্ষীরা থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর ২৪ ইং তারিখে বদলি করা হয় তালা উপজেলায়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে, ৫ মাসের মধ্যে তালা থেকে সাতক্ষীরা সদর এবং সাতক্ষীরা সদর থেকে ৩ ইং ফেব্রুয়ারি ২৫ ইং তারিখে জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সাতক্ষীরা জেলা অফিসে যোগদান করেন।
দুর্নীতির কারণে প্রশিক্ষক আসাদুজ্জামানকে সাতক্ষীরা থেকে বদলি করা হয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নড়াইল জেলায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নড়াইল থেকে ২৭ শে নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সাতক্ষীরা অফিসে বদলি হয়ে আসেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির তাদের একাধিক বার বদলি করা হলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবার সাতক্ষীরা জেলা অফিসে বদলি হয়ে আসেন। সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেন দুর্নীতির রসের হাঁড়িতে পরিণত হয়েছে।
তাদের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির উন্মোচনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে মাঠে নেমেছে এই প্রতিবেদক।
ক্যাশিয়ার বিলকিস আক্তার চাকরির শুরু থেকে সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৭ বছর কর্মরত আছেন। তবে এসব বিষয়ে জেনেও নিশ্চুপ থাকার অভিযোগ আছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভুয়া ভর্তি, সম্মানি ভাতার রেজিষ্টার জালিয়াতি, শিক্ষার্থীদের মেস খরচ মেরে দেওয়া সহ একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায়য় কাগজে-কলমে পূর্ণ উপস্থিতি দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের হিসাব ঠিকঠাক দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সরকারের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে বিলাসী জীবন যাপন করছে এই দুই কর্মকর্তা।
তাদের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির উন্মোচনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে মাঠে নেমেছে এই প্রতিবেদক। এবিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন করেও না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমার বাঙলা/আরএ