দুই দশক পর গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিলেন নোভাক জোকোভিচ। ইউএস ওপেনে নিজের প্রথম ম্যাচেই অপ্রত্যাশিতভাবে আর্জেন্টাইন মারিয়ানো নাভোনের কাছে হারলেন সার্ব তারকা। ম্যাচে শুরু থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা জোকোভিচ শেষ পর্যন্ত পাঁচ সেটের লড়াইয়ে পরাজিত হন।
রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লক্ষ্যে ইউএস ওপেনে নেমেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী জোকোভিচ। তবে আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই তার শারীরিক অস্বস্তি চোখে পড়ে। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে বারবার মাথায় আইসব্যাগ দিতে দেখা যায় তাকে। এমনকি ছাদ বন্ধ হওয়ার পর এসি চালানোর অনুরোধও করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা একেবারেই স্পষ্ট ছিল যে কোর্টে আমার ভীষণ বাজে অনুভূতি হচ্ছিল।’
তৃতীয় সেটে তার শারীরিক সমস্যা আরও প্রকট হয়। ষষ্ঠ গেমে কয়েকবার বমি করেন তিনি। পরে টুর্নামেন্টের একজন ফিজিও তাকে ওষুধ দেন এবং কোর্টসাইডে তরল খাওয়ানো হয়। এরপর ক্র্যাম্পিং ও তীব্র ব্যথায় আরও দুর্বল হয়ে পড়েন জোকোভিচ।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এই বছরের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমাকে এই সমস্যা নিয়ে খেলতে হচ্ছে। বমি হওয়া বা গা গোলানো একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর আমার পুরো শরীর কার্যত ভেঙে পড়তে শুরু করে।’
প্রথম সেটের টাইব্রেকে হারের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন জোকোভিচ। জয় থেকে মাত্র এক সেট দূরে থাকলেও চতুর্থ সেটে শারীরিক সমস্যা তাকে আরও চাপে ফেলে। পিঠ ও কাঁধের সমস্যাও বাড়তে থাকে।
জোকোভিচ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত পিঠ আর কাঁধ একবারে সায় দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ম্যাচটি শেষ করে আসতে পারিনি। চতুর্থ সেটে আমি এক ব্রেক এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ গেমের পর থেকেই আমাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে।’
তারপরও ম্যাচ ছেড়ে দিতে চাননি জোকোভিচ। বলেন, ‘আমি চতুর্থ বা পঞ্চম সেটে হাল ছেড়ে দিতে চাইনি। আমি ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলাম।’
তবে নাভোনে তাকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। চতুর্থ সেটে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নির্ধারণী সেটেও আধিপত্য ধরে রাখেন আর্জেন্টাইন। শেষ সেটে ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যান জোকোভিচ। শেষ পর্যন্ত কোর্টেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দর্শকসারিতে থাকা তার স্ত্রী জেলেনাকেও এ সময় বিচলিত দেখা যায়।
শারীরিক সমস্যাকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখালেও নাভোনের কৃতিত্বকে খাটো করেননি জোকোভিচ। তিনি বলেন, ‘আমি তার জয় থেকে কোনো কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। তাকে অভিনন্দন। সে একজন ভালো মানুষ এবং লড়াই করার মানসিকতা রাখে। কিন্তু আমি নিজে খেলাটা উপভোগ করতে পারিনি।’
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নাভোনে পেলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য। মেজরে টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জেতা জোকোভিচকে থামিয়ে দিলেন তিনি। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে হারের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেন সার্ব তারকা।
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত নাভোনে বলেন, ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইমের (গোট) বিপক্ষে পাঁচ সেট—এটা এমন কিছু নয়, যা প্রতিদিন ঘটে। আমি খুব খুশি। এটা আমার কাছে অনেক কিছু। যেন স্বপ্ন সত্যি হলো।’
আমার বাঙলা/ রাব্বি