স্লোভেনিয়ার জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশার নেতৃত্বে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের সাথে যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের আচরণ নিয়ে সম্পর্কের শীতলতা তৈরি হয়েছে, সেখানে স্লোভেনিয়া ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার পথে হাঁটছে। এই নীতির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার লুবলিয়ানায় ইসরাইল তাদের প্রথম দূতাবাস উদ্বোধন করতে যাচ্ছে এবং ইসরাইলের শীর্ষ কূটনীতিক গিদিওন সার এই সফরে উপস্থিত থাকবেন। ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়ানশাকে তাদের অন্যতম ‘বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই পদক্ষেপটি স্লোভেনিয়ার আগের মধ্য-বামপন্থী সরকারের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তৎকালীন সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম কঠোর সমালোচকের ভূমিকা পালন করেছিল। তবে ইয়ানশা চলতি বছরের শুরুতে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পাল্টে দিয়েছেন। তিনি পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং নেতানিয়াহু ও তার দুই মন্ত্রীর ওপর দেওয়া প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছেন। তার মতে, তার সরকার আগের উদারপন্থী প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলবের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে পররাষ্ট্রনীতি ‘স্বাভাবিক’ করছে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে প্রায়ই বিরোধে জড়ানো ইয়ানশার এই অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ও দেশের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে ইইউর অবস্থানের বিরোধিতা করায় তিনি ইসরাইলের প্রশংসা পেলেও, ইউরোপে তাকে নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। দৈনিক দেনেভনিকের কলামিস্ট দারিয়ান কোশির মন্তব্য করেছেন যে, ইইউর ভেতরে ইয়ানশা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ‘ট্রোজান হর্স’ হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া লুবলিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক তথা সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক এএফপিকে বলেছেন, স্লোভেনিয়া বর্তমানে ‘ইসরাইলি নীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে’, যা একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।