‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন’ — প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। খাল খনন, গাছ লাগানো, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি, পল্লী বিদ্যুৎ ও তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর অবদান আজও দেশের উন্নয়নে পথপ্রদর্শক।”—এমন মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ প্রতিপাদ্য ও ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মসূচির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কালাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল। পরে বক্তব্য দেন কালাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল-মাহাবুব এবং প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মিসেস নাজমা আরা বারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর দেশে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জয়পুরহাট জেলাতেই পাঁচ লাখ গাছ রোপণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তাঁর প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর উদ্যোগেই বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো নিমগাছ আজও ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত। সেই গাছকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বনায়ন গড়ে উঠেছে।”
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতিরিক্ত গাছ কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয় এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই প্রত্যেকেরই বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যা করা প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু সাধারণ লেখাপড়া করলেই হবে না, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে। কম্পিউটার শিক্ষা জানতে হবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে চাকরির কোনো অভাব হবে না। মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলেই দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। শিক্ষার্থীদের ট্যাব ও স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে। তবে এসব কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় কালাই সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে উপজেলা প্রশাসন, কালাই, জয়পুরহাটের আয়োজনে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি অংশগ্রহন করেন। হয়।
সভায় শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জোরদার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি