আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কথা মাথায় রেখে সারা দেশে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনুযায়ী, প্রচারণা ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে। তাই ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের মধ্যে সব ধরনের প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিধিমালার ৭ (ক) ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
এছাড়া ৭(খ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো অপচনশীল উপকরণ—যেমন রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, লিফলেট বা ব্যানার—ব্যবহার করা যাবে না।
বিধিমালার ৭(ঙ) ধারায় আরও বলা হয়েছে, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত ব্যবহার করলে সেগুলো অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের মধ্যে এবং ফেস্টুনের মাপ অনধিক ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হবে।
প্রচারণার উপকরণে শুধুমাত্র প্রার্থীর নিজস্ব ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করার অনুমতি আছে। অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে।
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ব্যানারের ব্যবহার নিয়েও একটি স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, হরাইজন্টাল বা ভার্টিকাল যেভাবেই হোক, ব্যানারের মাপ ১০ ফুট বাই ৪ ফুটের বেশি হলে তা ব্যবহার করা যাবে না।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার মুদ্রণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুদ্রণালয় ও ছাপাখানার প্রতি। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, সম্প্রতি কিছু এলাকায় পোস্টারের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে, যা আচরণবিধিমালার লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ—সবাইকে আচরণবিধিমালা মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। মুদ্রণালয় ও ছাপাখানাগুলোকে কোনো পোস্টার মুদ্রণ না করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি