যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে দেশটির প্রায় ৭০০ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ফ্রাঙ্কোইস-ফিলিপ শ্যামপেন।
কানাডার বাজারে এসব ৭০০ মার্কিন পণ্যের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। এর আগে এসব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
কানাডার অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কানাডার কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অটোয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবৃতিতে শ্যামপেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে এবং কানাডা ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবিলা করবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলার। দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। গত জুলাইয়ে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমূল্যও প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কানাডা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হলে বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে তিন দিন পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয় এবং কানাডার প্রতিনিধিরা দেশে ফিরে যান।
এর কয়েক ঘণ্টা পর, ২৩ আগস্ট মধ্যরাতে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব হিসেবে তিন দিনের মাথায় একই পথে হাঁটল অটোয়া।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে এবং কানাডা সেই হামলার শিকার হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি