বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় নেমে আসে এক অনন্য আবহ। কারণ, মঞ্চে উঠবেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা—যার কণ্ঠের জাদু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুগ্ধ করে আসছে শ্রোতাদের। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন। অধীর অপেক্ষায় থাকা শ্রোতাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে সন্ধ্যা সাতটায়, যখন চিরচেনা হাসিমাখা মুখে মঞ্চে ওঠেন দেশের সংগীতাঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।
রুনা লায়লাকে একনজর দেখতেই যেন মুখিয়ে ছিলেন উপস্থিত দর্শকেরা। মঞ্চে তার উপস্থিতি আর অভিবাদনের জবাবে হাসিমাখা অভিব্যক্তিই মুহূর্তে আবেগঘন করে তোলে পুরো পরিবেশ। তবে বিপুল আগ্রহের কারণে অনেকেই টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। আয়োজকদের ভাষ্য, টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই সব আসনের টিকিট শেষ হয়ে যায়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এদিন কিংবদন্তি এই শিল্পীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর আরও কিছু গান করেন; তার পরিচিত গানগুলোতে গলা মেলান আসনে থাকা দর্শকেরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় তিনি আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান ও দেশাত্মবোধক সংগীত মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন। প্রতিটি গান হৃদয় ছুঁয়ে যায় রুনা লায়লার ভক্ত-শ্রোতাদের।
শিল্পকলা মিলনায়তনে গান পরিবেশন করছেন রুনা লায়লা।
শিল্পকলার এই আয়োজনকে বেশ সাধুবাদ জানিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পী। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই প্রথম একক অনুষ্ঠান শিল্পীর। সম্মাননা পেয়ে যেমন আনন্দিত তিনি; একইসঙ্গে এই আয়োজনের মাধ্যমে বন্যা দূর্গতদের জন্য শিল্পকলার এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানান রুনা লায়লা।
এক বক্তব্যে রুনা লায়লা বললেন, ‘অনেক বছর পরে হলেও এ ধরনের আয়োজনের জন্য শিল্পকলা একাডেমিকে সাধুবাদ জানাই। ভালো লাগছে যে আপনারা একটা ভালো কাজে এগিয়ে এসেছেন, ভালো কাজে যোগ দিয়েছেন। আমরা সবাই যেন দেশকে ভালোবেসে কাজ করি।’
দুই নয়, তিন নয়; ছয়- ছয় দশকের ক্যারিয়ার রুনা লায়লার। সেই সোনালী পর্দার যুগের শিল্পী তিনি। ক্যারিয়ারে বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি ও পশতুসহ ১৮টি ভাষায় গান গেয়েছেন। করাচি, বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজেও রুনা লায়লার ছিল ব্যাপক দাপট। এখন উপমহাদেশের বহু প্রবীণ, খ্যাতিমান শিল্পীরা তার নামের শেষে 'জি' তথা 'রুনা লায়লা জি' হিসেবে সম্মান দিয়ে অভিহিত করেন। এমন এক কিংবদন্তিকে নিয়ে আয়োজন ঢাকার শিল্পকলার মঞ্চে বিশাল গুরুত্ব বহন করে- মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সবশেষ, এদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি