<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/shisu-shargo</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/shisu-shargo"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla shisu-shargo Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest shisu-shargo News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Sat, 26 Apr 2025 13:00:37 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[কিশোরগঞ্জের ইটনায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/10840" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/10840</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[কিশোরগঞ্জ ইটনায় অদিতী রাণী দাস(৪) নামের এক কন্যা শিশু পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সে উপজেলা সদরের দাস পাড়া গ্রামের অবিকল দাসের মেয়ে।

জানা যায়, শনিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে অবিকল দাস বাড়ির সামনে ধনু নদীতে মেয়ে অদিতীকে নিয়ে গোসল করতে যান। গোসল শেষে অদিতীকে বাড়ির দিকে খানিকটা এগিয়ে দিয়ে নৌকা নিয়ে ধান আনতে যান তিনি। খানিকটা পরে শিশুটি আবারও নদীতে গিয়ে একা গোসল করতে থাকলে এক পর্যায়ে পানিতে ডুবে যায়। এদিকে অদিতীকে অনেকক্ষণ যাবৎ দেখতে না পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তখন এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অদিতীকে নদীর পাড়ে যেতে দেখেছেন তিনি। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে নদীতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে নিধু রঞ্জৈদন দাস নামে একজন শিশুটির মরদেহ খুঁজে পান।

ইটনা থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. আলমগীর হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি মাত্র জেনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 26 Apr 2025 13:00:37 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভালো ও মন্দ স্পর্শ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করবেন যেভাবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/9743" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/9743</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিরাপদ শৈশব প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। শৈশবের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিশুর মানসিক গঠনে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার। তবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে &lsquo;বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ&rsquo; বিষয়টি অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত একধরনের বাস্তবতা। সেই জায়গা থেকে শিশুদের আদর করাও সামাজিকভাবে বেশ প্রচলিত।

কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশেই মা-বাবা ছাড়া অন্য কেউ বা বাইরের কেউ শিশুদের আদর করাকে বেশ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। মা-বাবার অনুমতি ছাড়া এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত আইনের ব্যবস্থাও থাকে। এর পেছনে একটি বড় কারণ শিশুদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকি। কারণ সাবধানতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির তথ্য বলছে, দেশটিতে প্রতি চারজন মেয়ে শিশুর মধ্যে একজন এবং ২০ জন ছেলে শিশুর মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়।

আরো বলা হচ্ছে, এমন এমন হয়রানির শিকার হওয়া ৯০ শতাংশই কোনো পরিচিত বা পরিবারের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দ্বারা ঘটে।

বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল জুড়ে ২৩৪টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৬৬টি। এর বাইরে ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৩৬টি, ধর্ষণচেষ্টা তিনটি। শিক্ষক পর্যায় থেকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৯০টি, অপরিচিতদের দ্বারা ৩৯টি।

বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি নিবন্ধে গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য হিসেবে বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে শতকরা ৩০, পুরুষদের মধ্যে শতকরা ১৬ জন ছোটবেলায় কোনো না কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

এ ছাড়া প্রায় শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনকারী শিশুর পরিচিত হয়&hellip;তার আত্মীয়, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কেউ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে ৭৫ শতাংশ শিশু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া হয়রানির ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ করে না বলে অন্য এক গবেষণায় উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, লজ্জাবোধ ও জড়তা, নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনা, ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ এবং ব্যক্তিগত স্থানের গোপনীয়তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রকাশ করে না।

অভিভাবকদের করণীয়: এই ধরনের বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এমন বিষয় নিয়ে অভিভাবকরা বিবেচনায় নিতে বা আলোচনা করতে অস্বস্তি বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে জানতে পারলেও পরিবারের কাছের মানুষদের সন্দেহ করার বিষয়েও অভিভাবকরা কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক ও অধিকারকর্মী নিশাত সুলতানা বলছেন, অভিভাবকরা যদি এ বিষয়ে সচেতনতা না দেখান বা এমন ঘটনা ঘটলে শুধু বিষয়টিকে গোপন রাখার বিষয়ে জোর দেন এবং খারাপভাবে স্পর্শ করা ব্যক্তি যদি পরিবারে অবাধে ওঠাবসা করতে পারেন, তাহলে সেটি জীবনভর মা-বাবার ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক মনোভাব বা ট্রমা হিসেবে রয়ে যেতে পারে।

নিশাত সুলতানা বলেন, &lsquo;প্রথম থেকেই সন্তানকে জানাতে হবে যেন এমন পরিস্থিতিতে তারা না পড়ে। তারপরও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, সেটা লঘু মাত্রার হলেও সন্তানদের আগলে রাখতে হবে, চোখে চোখে রাখতে হবে। আত্মীয় হলেও তেমন ঘটনা ঘটানো ব্যক্তিকে বাড়িতে যতটা সম্ভব আসতে না দেওয়া উচিত, শিশুকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করা ব্যক্তিদের নিজেদের জীবন থেকে যতদূর সম্ভব ছেঁটে ফেলা অথবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন তিনি।

&lsquo;ভালো স্পর্শ, খারাপ স্পর্শ&rsquo; বিষয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে &lsquo;মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন&rsquo; কর্তৃক প্রণীত কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অভিভাবকদের জন্য বলা হয়েছে&ndash;&ndash;

&bull; শিশুর সঙ্গে একা সময় কাটাতে চাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবক ছাড়া কাউকে, এমনকি শিশুর পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গেও বাইরে ঘুরতে দেওয়া যাবে না। শিশুদের সঙ্গে ছোট বলে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যাবে না যাতে তারা অস্বস্তি বোধ করে।

&bull; মা-বাবা ও অভিভাবকদের মাথায় রাখতে হবে পরিবারের ভেতরে-বাইরে কারো কারো &lsquo;অন্যের শরীরে খারাপভাবে হাত দেওয়ার&rsquo; অভ্যাস থাকতে পারে। যেসব জায়গায় হাত দেওয়া উচিত নয়, তেমন জায়গায় হাত দিলে শিশুরা যেন মা-বাবাকে বলে দেয় সেটি শেখাতে হবে।

&bull; যে ব্যক্তি শিশুদের ব্যক্তিগত জায়গায় স্পর্শ করবে বা শিশুকে দিয়ে তাদের শরীরে এমনভাবে স্পর্শ করার কথা বলবে যেটি শিশুর পছন্দ হবে না, সে ক্ষেত্রে শিশুদের বাধা দেওয়া শেখাতে হবে।

&bull; সব বয়সী শিশুর প্রতি নজর রাখতে হবে। শিশু এমন কোনো অভিযোগ করলে সেটি গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।

&bull; &lsquo;গুড টাচ-ব্যাড টাচ&rsquo; বা &lsquo;ভালো স্পর্শ, মন্দ স্পর্শ&rsquo; ধারণার সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করিয়ে দিতে হবে।

&bull; বাচ্চাদের মন খুলে কথা বলা শেখাতে হবে, যেন সমস্যার বিষয়ে বলতে তারা ভয় না পায়।

&bull; যদি তেমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায় সেক্ষেত্রে শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সে ঘটনার জন্য শিশুটি কোনোভাবে দায়ী নয় এবং নিপীড়নকারী ব্যক্তির এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য না।

&bull; পরিবারের অন্য সদস্য বা পরিচিতদের নিপীড়নকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জানাতে হবে, যেন তারা নিজ সন্তানদের নিয়ে সতর্ক থাকতে পারেন।

&bull; ঘটনাকে তুচ্ছ হিসেবে দেখা বা নিপীড়নকারীর পক্ষ নেওয়া যাবে না। আবার এ নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের দুশ্চিন্তা বা প্রতিক্রিয়া বা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

শিশুদের কীভাবে বোঝাতে হবে?

&bull; সন্তানদের সুরক্ষার জন্য এসব বিষয় বোঝানোটা মা-বাবার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

&bull; আর &lsquo;গুড টাচ ও ব্যাড টাচ&rsquo; এই ধারণা দিতে প্রায় সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা যেটি উল্লেখ করেন, সেটি হচ্ছে শিশুদের ব্যক্তিগত অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা।

&bull; ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠোঁট, গোপনাঙ্গ, পায়ুপথ; মেয়েদের ক্ষেত্রে এই তিন অংশ ছাড়াও বুকের দিকের অংশ।

&bull; জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও এই অঙ্গগুলোকে একান্ত ব্যক্তিগত হিসেবে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে।

তবে একই সঙ্গে এটিও বলা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন শিশুর যদি টয়লেটে বা গোসলে সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং চিকিৎসকের কাছে স্বাস্থ্যের পরীক্ষার জন্য যেতে হয়।

এ ক্ষেত্রে নিরাপদ স্পর্শের উদাহরণ হিসেবে বলা হয় যদি দাদা-দাদি বা নানা-নানি কেউ জড়িয়ে ধরে এবং গালে চুমু দেয় বা বন্ধুরা হাই ফাইভ দেয়।

অনিরাপদ স্পর্শ হিসেবে ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে&ndash;&ndash;

&bull; যদি ধরলে ব্যথা লাগে

&bull; যদি এমন জায়গায় ধরা বা স্পর্শ করা হয়, যেখানে ধরলে ভালো লাগে না বা যেখানে ধরা উচিত না (ব্যক্তিগত অঙ্গ)

&bull; অস্বস্তি বোধ হয় বা খারাপ লাগে এমনভাবে কেউ ধরলে

&bull; যদি এমনভাবে কেউ ধরে, যাতে ভয় বা নার্ভাস লাগে

&bull; যদি তাকে ধরার জন্য বা স্পর্শ করার জন্য শিশুকে জোর করে

&bull; যদি স্পর্শ করে কাউকে এ বিষয়ে বলতে নিষেধ করে, চুপ থাকতে বলে

&bull; যদি স্পর্শের কথা কাউকে বললে তার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়

&bull; অস্বস্তি বলতে বোঝানো হচ্ছে, মন খারাপ, রাগ, ভয়, লজ্জা

&bull; কেউ এমন করলে যাকে বিশ্বাস করা যায় বা আস্থা রাখা যায়, এমন মানুষকে বলতে হবে

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. ইশরাত শারমিন রহমান বলেন, &lsquo;বাবা-মা গোসল করানো বা পরিষ্কার করার সময় ছাড়া অন্য কেউ ব্যক্তিগত অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে না। কেউ সেটি করলে সে কী করবে সেটিও তাকে জানানো। সেটি বাবা মাকে যে জানাবে সেটি শেখাতে হবে। এতে বাচ্চারা সচেতন থাকবে।&rsquo;

ডা. ইশরাত শারমিন ছোট শিশুদের বেলায় একটু খেলার ছলে, ছবি এঁকে অথবা গল্প করে ধীরে ধীরে ধারণাটা তার মাথায় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আর সন্তান একটু বড় হলে মুখে বলা এবং মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।

তিনি বলেন, &lsquo;শিশুর আচরণ পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে। বাচ্চার আচরণ থেকেও অনেক সময় অনেক কিছু বোঝা যায়। সে যদি কাউকে দেখে ভয় পায়, কারো কোলে যেতে না চায়, তাকে জোর করা উচিত নয়। যে বাচ্চা বিছানা ভেজানো বন্ধ করে দিয়েছে, সে যদি হঠাৎ আবার তা করে, সে যদি ভয় পেয়ে চমকে ওঠে বা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখছে, এমন পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে।&rsquo;

সূত্র : বিবিসি।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 09 Mar 2025 07:00:00 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শিশুশ্রম নিরসনে আরো সচেতন হতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/5210" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/5210</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাসহ শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো সচেষ্ট হতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। সরকারপ্রধান বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে একযোগে কাজ করার এখনই সময়। এসডিজি ৮.৭ অর্জনে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাস করতেন আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, শিশুরাই তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। এই ভাবনা থেকেই জাতিসংঘ শিশু সনদের ১৫ বছর আগে ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শিশু, নারী ও অনগ্রসর অংশসহ প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মের স্থিতিশীলতা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-তে যোগ দেয়। শিশু শিক্ষার বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে নারী, শিশু ও সমাজের অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে শিশু শ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আমরা &lsquo;জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০&rsquo; প্রণয়ন করেছি। এ নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি, জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি এবং বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য ৪৩টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে &lsquo;শিশুশ্রম নিরসন ও পুনর্বাসন প্রকল্প&rsquo; নামে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে যা এবছর শেষ হবে। গৃহকর্মে শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে &lsquo;গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫&rsquo;।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা দেশকে সকল ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়ন করেছি এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার &lsquo;জাতীয় শিশুনীতি-২০১১&rsquo;, &lsquo;শিশু আইন-২০১৩&rsquo;, &lsquo;বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭&rsquo; প্রণয়ন করেছে। এছাড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় শতভাগ শিশু আজ স্কুলে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিশু ও তাদের পরিবারের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, শিশু সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া শিশুশ্রম নিরসনে আমরা বেসরকারি খাতগুলোকে সম্পৃক্ত করেছি। সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা সম্পর্কে নিয়োগদাতাদের প্রশিক্ষিত করার বিষয়টিতে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।

আগামীকাল বুধবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হল &lsquo;শিশুশ্রম বন্ধ করি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি।&rsquo;

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Jun 2024 14:08:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সকল খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/5199" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/5199</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে ও শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাসহ সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এমন প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে হবে।

&lsquo;বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস&rsquo; উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, আগামীকাল ১২ জুন &lsquo;বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস&rsquo;।

রাষ্ট্রপতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে &lsquo;বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস&rsquo; পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিশুর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে তাদের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। শিশুশ্রম শিশুর স্বাভাবিক শৈশব ও পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি তাদের সঠিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশ এবং শিক্ষা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার টার্গেট ৮ দশমিক ৭ এর অধীনে ২০২৫ সালের মধ্যে সকল ধরণের শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথাগত শিশুশ্রম নির্মূলের পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রম, আধুনিক দাসপ্রথা ও মানবপাচার, শিশুদেরকে সৈনিক হিসেবে ব্যবহারসহ নিকৃষ্ট শিশুশ্রমসমূহ নিষিদ্ধ ও নির্মূলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- &lsquo;শিশুশ্রম বন্ধ করি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি&rsquo; যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার দেশ থেকে সকল ধরণের শিশুশ্রম নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে &lsquo;জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি, ২০১০&rsquo; ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। শিশুশ্রম নির্মূলে জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চার স্তরবিশিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়। তিনি বলেন, শিশুদের শ্রমসাধ্য কাজে ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে দারিদ্র্য বিমোচন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক মানসম্পন্ন শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধিসহ জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি &lsquo;বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস- ২০২৪&rsquo; উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Jun 2024 11:40:16 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে উৎসব শনিবার]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/education/3230" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/education/3230</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ও সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে দিনব্যাপী গ্লেনফেস্ট কার্নিভাল আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

আগামী শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সাতারকুলে অবস্থিত স্কুল ক্যাম্পাসে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই গ্লেনফেস্ট।

চমৎকার এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সমবয়সীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, নিজেদের মেধা প্রদর্শন ও আকর্ষণীয় সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

মনমাতানো পুতুলনাচের আসর, শাওন গানওয়ালার লাইভ পারফরম্যান্স, আকর্ষণীয় আর্কেড গেমস আর মাস্কট নাচের এই অনবদ্য আয়োজন উপস্থিত সকলের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

পাশাপাশি ফেরিস হুইল, জাঙ্গল জাম্পার, বাস্কেটবল শুটার ও ডল ক্যাচারের মতো আকর্ষণীয় রাইড উপভোগের সুযোগ পাবেন অতিথিরা। উৎসবমুখর পরিবেশে নাচ ও গানের প্রতিযোগিতা এই আয়োজনে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

স্থানীয় চারু ও কারুশিল্প (আর্ট ও ক্র্যাফট), বই, কনফেকশনারি, জামাকাপড় ও মজাদার খাবারের ৪০টি স্টল সকলের উদযাপনকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

কার্নিভাল চলাকালে স্কুলের গেট থেকে মাত্র ১০০ টাকার টিকেট কিনে এই আয়োজনে অংশ নেওয়া যাবে।

গ্লেনফেস্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। এছাড়া সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে অপটিমাল টেকনোলোজি লিমিটেড, প্রগতি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড ও এয়ারকন।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 15 Feb 2024 12:05:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সন্তানের ভালো বন্ধু হতে করণীয়]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/lifestyle/3019" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/lifestyle/3019</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[লাইফস্টাইল ডেস্ক: সন্তানের বন্ধু হতে চাইলে একটি দৃঢ় এবং স্বচ্ছ সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। কোনো ধরনের জাজমেন্ট ছাড়াই সন্তানের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানা, তার আবেগ বুঝতে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে।

ভয় দেখানো নয়, বরং তার জন্য নিরাপদ একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তার কৃতিত্ব উদযাপন করুন, ব্যর্থতায়ও পাশে থাকুন। তবে মা-বাবার কেবল বন্ধু হলেই হয় না, তাকে আরও কিছু বিষয় মেনে চলতে হয়।

তাই সন্তানের বন্ধু হতে করণীয় বিষয়গুলো মাথায় রাখুন-

১) কোয়ালিটি টাইম কাটান

সন্তানের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। যদিও বর্তমান ব্যস্ততাপূর্ণ জীবনে তা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে গ্যাজেট কিংবা ইন্টারনেটের দুনিয়া ছেড়ে তাদের সঙ্গে প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া পরিবেশে সময় কাটান। সন্তানের সঙ্গে গল্প করার সময় সব ধরনের ডিভাইস আপনাদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। এতে আপনাদের সময় সত্যি সুন্দর কাটবে। এমনকী আপনিও পরবর্তী দিনের কাজে উৎসাহ খুঁজে পাবেন।

২) অর্থপূর্ণ কথোপকথন

বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহানুভূতিশীল হোন। এটি আপনাদের মধ্যে কথোপকথনকে সহজ ও অর্থপূর্ণ করবে। নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠুন। তাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করুন। তার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হোন।

অনেককিছু আপনার চিন্তাভাবনার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। তবে বয়সের পার্থক্য বলেও একটি জিনিস আছে। সে বিষয়টি মাথায় রাখুন। কথা বলার সময় নিজের মূল্যবান কথাগুলোই বলুন। অহেতুক রাগারাগি সম্পর্কটি খারাপ করে দিতে পারে।

৩) সন্তানের আগ্রহের প্রতি আগ্রহ দেখান

আন্তরিক উৎসাহের সঙ্গে সন্তানের শখ এবং সাধনায় সমর্থন দিন। এটি শুধু আপনাদের বন্ধনকে শক্তিশালী করবে না বরং তার আবেগ যে আপনার কাছে মূল্যবান সেটিও প্রকাশ করবে। সন্তানের জীবনে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হোন, যিনি প্রয়োজনের সময় নির্দেশনা দেয় এবং তার স্বাধীনতাকে সম্মান করেন।

৪) কথা মন দিয়ে শুনুন

সন্তানের কথা ভালো করে না শুনেই তাকে উপদেশ দেওয়া শুরু করবেন না। প্রথমে মন দিয়ে শুনুন সে যা বলতে চায়। এতে সে নিজে থেকেই আপনার কাছ থেকে উপদেশ শুনতে চাইবে। কারণ তখন সে নিশ্চিন্তে নিজের আবেগ ও ভালোলাগা-মন্দলাগার কথা আপনার কাছে বলতে পারবে। আপনার মতামতও তখন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সন্তানের আবেগ, আনন্দ, রাগ বা হতাশাকে বরণ করতে শিখুন। কারণ সেও আপনার মতোই আলাদা একজন মানুষ।

৫) স্মৃতি তৈরি করুন

সন্তানের সঙ্গে সুন্দর ও সুখকর স্মৃতি তৈরি করুন। মানুষের সঙ্গে মানুষের মূলত স্মৃতিরই সম্পর্ক। তাদের সঙ্গে নানা স্মৃতিময় গল্প ভাগাভাগি করতে পারেন। সন্তানের একজন ভালো বন্ধু হওয়ার অর্থ হলো তার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তার সুখ ও সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনভাবে প্রচেষ্টা করা। বাবা-মা-সন্তানের বন্ধন তৈরি করার পাশাপাশি এই বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে তার বাকি জীবনের জন্য সহায়ক এবং বিশ্বস্ত সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করুন।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 04 Feb 2024 13:31:51 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৭ লাইফ স্কিল সন্তানকে শেখানো জরুরি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/lifestyle/1852" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/lifestyle/1852</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[লাইফস্টাইল ডেস্ক: মা-বাবা হওয়া অনেক বড় দায়িত্ব। নতুন মানুষকে পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সহজ কথা নয়। আপনার সন্তান আপনার আয়না। আপনি তাকে যা শেখাবেন, সে সেভাবেই প্রতিফলিত করবে।

মা-বাবা হলে তাই অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করতে হয়। সন্তান যেন বড় হয়ে নিজের সব কাজ নিজেই করতে পারে, সেভাবে গড়ে তুলতে হয়। প্রত্যেক মা-বাবারই সন্তানকে বেসিক লাইফ স্কিল শেখানো জরুরি। যেন তারা পরনির্ভরশীল না হয়।

চলুন জেনে নেয়া যাক ৭টি লাইফ স্কিল, যা সন্তানকে শেখানো জরুরি-

১) নিজের যত্ন নেওয়া: 

শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই নিজের যত্ন নিতে পারে না। এক্ষেত্রে তাকে আপনাদের সাহায্য করতে হবে। যখন কিছুটা বড় হবে তখন নিজে নিজে গোসল করা, দাঁত ব্রাশ করা, হাত ধোওয়া, জুতা পরা, পোশাক পরিবর্তন করার মতো অভ্যাস করাবেন। সেইসঙ্গে তাকে এর প্রয়োজনীয়তাও বুঝিয়ে বলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন। বাড়িতে একটি চার্ট সেট করুন যাতে তারা প্রতিদিন সম্পূর্ণ করা প্রতিটি কাজকে টিক দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা এই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

২) রান্না করা: 

সন্তানকে মাস্টারশেফ বানাতে হবে না, অন্তত মা-বাবা অনুপস্থিতিতে যেন নিজের খাবারটা নিজে তৈরি করে খেতে পারে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। ছেলে কিংবা মেয়ে, সবার জন্যই রান্না জানা সমান জরুরি। শুরুতেই কঠিন রান্না শেখানোর প্রয়োজন নেই। তার স্কুলের টিফিনের জন্য স্যান্ডুইচ, নুডলস কিংবা সালাদ কিভাবে তৈরি করতে হয় তা শেখান। এরপর ধীরে ধীরে চলনসই রান্নাও শিখিয়ে ফেলুন। চুলা এবং মাইক্রোওয়েভ কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তাও শিখিয়ে দিন। এভাবে সে প্রয়োজনীয় রান্না শিখে ফেলবে।

৩) অর্থ ব্যবস্থাপনা: 

বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নন। যা নানা অসুবিধার কারণ হতে পারে। আপনার সন্তানকে তাই ছোটবেলা থেকেই অর্থ সম্পর্কে শেখানোর চেষ্টা করুন। সন্তানের জন্য অঢেল সম্পদ না রেখে বরং তাকে অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখানো বেশি জরুরি। কীভাবে অর্থ সঞ্চয় করতে হয়, কীভাবে অতিরিক্ত খরচ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হয় তা তাকে শেখান। সঠিক খাতে খরচ করা একটি বড় গুণ। এটি শিশুকে শেখাতে হবে।

৪) সাহায্য চাওয়া: 

আপনার সন্তানকে প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়া শেখাতে হবে। এমন অনেককিছুই থাকতে পারে যা আমার ঠিক বুঝতে পারি না। তখন অন্য কারও সাহায্য নিয়ে সেটি বোঝার বা জানার চেষ্টা করা দোষের কিছু নয়। এতে মানুষ ছোটও হয়ে যায় না। এগুলো তাকে বোঝান। কোনোকিছু সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা থাকলে বা বুঝতে না পারলে অনুমান না করে কাছাকাছি কারও সাহায্য নিতে বলুন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফ স্কিল যা অনেকের মধ্যেই অনুপস্থিত।

৫) ঘর গোছানো: 

ঘর গোছানো কেবল নারীর কাজ নয়। তাই আপনার সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, তাকে ঘর গোছানো শেখান। শিশুর কাছ থেকে নিখুঁতভাবে গোছানো আশা করবেন না। তবে তার ছোট্ট হাতেই যতটুকু সম্ভব গুছিয়ে রাখতে শেখান। কীভাবে বিছানা তৈরি করতে হয়, ময়লা কোথায় ফেলতে হয়, রান্নাঘর কীভাবে পরিষ্কার করতে হয় তা শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো তার পুরো জীবনের জন্যই জরুরি।

৬) লন্ড্রি: 

শিশুরা শুরুতেই এই কাজে আগ্রহী নাও হতে পারে। কিন্তু তাকে বোঝাতে হবে কোনো কাজই ছোট নয়। আবার নিজের কোনো কাজের জন্য সব সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়াও উচিত নয়। তাই তাকে নিজের কাপড় ধোওয়া, তোয়ালে ভাঁজ করা, ময়লা কাপড় আলাদা রাখা, ধোওয়া কাপড় ভাঁজ করে রাখা শেখাতে হবে। এভাবে অভ্যাস করলে তার পরবর্তী জীবন আরও সহজ হবে।

৭) ফরম পূরণ: 

এটি এমন একটি জিনিস যা আপনার সন্তানের সারাজীবন করতে থাকবে। আপনার তত্ত্বাবধান ছাড়াই তাকে সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করতে শেখান। তার কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিন, এটি তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য প্রস্তুত করার একটি উপায়। এই অভ্যাস সন্তানকে কেবল স্বাধীনই করে না বরং তার আত্মবিশ্বাসের স্তরকেও বাড়িয়ে তোলে।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 09 Dec 2023 10:54:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দেশে ৮ মাসে ৪৯৩ শিশু ধর্ষিত]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/779" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/779</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে চলতি ২০২৩ সালের গত ৮ মাসে ৪৯৩ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া ১০১ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এছাড়া, গত ৮ মাসে মোট ৩২৯ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই সময়কালে পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে ৩০ জন কন্যাশিশু।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি সংস্থা জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম &lsquo;কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং প্রকাশনা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন&rsquo; অনুষ্ঠানে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংস্থাটি জানায়, এই সময়ে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ২ জন, অপহরণ ও পাচারের শিকার হয়েছে ১০৪ জন কন্যাশিশু। এর মধ্যে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ২৬০ জন, আর বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে ২১টি। এছাড়া বাল্যবিয়ে হয়েছে- কিন্তু অভিভাবকরা স্বীকারোক্তি দেয়নি এমন কন্যাশিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৫২৫ জন। তবে, সংস্থাটি জানিয়ে ২০২২ সালের তুলনায় ২৩ সালে বাল্যবিয়ের সংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ।

চলতি বছরের গত ৮ মাসে মোট ২৬ জন গৃহশ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার; ৩ জনকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ১০ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

গত ৮ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ৩৬ জন কন্যাশিশু। এছাড়া নানামুখি চাপে এই সময়ে আত্মহত্যা করে আরও ১৮১ জন। গত ৮ মাসে ১৩৬ জন কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আগে থেকে পারিবারিক শত্রুতা, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন ইত্যাদি।

গত ৮ মাসে ১১ জন কন্যাশিশুকে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, এ বছর এখন পর্যন্ত ৩০৭ জন কন্যাশিশুর পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জন কন্যাশিশুর এবং ৪৭ জন কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশের ৭০টি দৈনিক পত্রিকা এবং মাঠ পর্যায় থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ১৭টি ক্যাটাগরির আওতায় ৭০টি সাব-ক্যাটাগরিতে এসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের বিভিন্ন ধারায় নারী ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। ৬৫ শতাংশের বেশি মামলা যৌতুক ও ধর্ষণের অভিযোগ। এই আইনে শিশু ভুক্তভোগী এমন মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৮৮টি।

২০২২ সালে উচ্চ আদালতের তথ্যানুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৩১টি। সবচেয়ে বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে, এ সংখ্যা ১৮ হাজার ২৫টি।

নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে ৯টি সুপারিশও করেছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 27 Sep 2023 15:41:25 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নতুন ‘মা’ নবজাতকের যা জানতে চান]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/282" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/shisu-shargo/282</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী: সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটি যদি পূর্ণ গর্ভকাল পায়, ওজন যদি হয় ২৫০০ গ্রামের বেশি এবং জন্মের সময় শ্বাসজনিত বড় রকমের কোনো শারীরিক ত্রুটি না থাকে, তবে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক বলা যায়। এমন শিশুকে হাসপাতাল থেকে নিশ্চিন্তে বাড়ি নেওয়া যায়।

সুস্থ নবজাতককে ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৪৮-৭২ ঘণ্টা পর বাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু সুস্থ শিশুরও চাই সঠিক যত্ন। শিশুটিকে কী খাওয়াবেন, কীভাবে ধরবেন, কখন গোসল করাবেন&mdash;এমন অসংখ্য প্রশ্ন নিয়ে নাজেহাল থাকেন নতুন মা। অনভিজ্ঞতার কারণে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন প্রথমবার সন্তান জন্মদানকারী মা।

যে কাজগুলো করতে হবে:

ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই নবজাতককে স্তন্যদান করানো যায়। তাই জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই মাতৃদুগ্ধ পান শুরু করানো উচিত।

নবজাতকের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। &lsquo;ক্যাঙারু কেয়ার&rsquo; পদ্ধতিতে প্রসূতি মায়ের বুকে-পেটে নবজাতককে লেপটে রেখে উষ্ণ রাখা ভালো। এ পদ্ধতিতে নবজাতকের তাপমাত্রার সুরক্ষা, বুকের দুধপানে সহায়তা, মা-সন্তানের বন্ধন দৃঢ় হয়।

সব নবজাতককে ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে এক ডোজ &lsquo;কে&rsquo; ভিটামিন ইনজেকশন প্রদান করা উচিত। ১০০০ গ্রামের কম ওজনের শিশু ০.৫ মিলিগ্রাম ও তার বেশি ওজনের নবজাতক শিশু ১ মিলিগ্রাম &lsquo;কে ভিটামিন&rsquo; দিতে হবে।

নবজাতকের চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধে (গনোককাল জীবাণু সংক্রমণ), জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে চোখে ইরিথ্রোমাইসিন অয়েন্টমেন্ট বা ১ শতাংশ সিলভার নাইট্রেট ড্রপ দেওয়া যায়।

নবজাতককে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নেওয়ার আগেই বিসিজি, খাওয়ার পোলিও ও &lsquo;হেপাটাইটিস বি&rsquo; টিকা প্রদান করা যায়।

শিশুর বৃদ্ধি-বিকাশ পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রথম দিকে মাসে একবার ও পরে তিন মাস অন্তর শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাবেন।

নবজাতকের খাওয়া:

আগেই বলেছি, এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া ভালো। এরপর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ দিন, আর কিছু না। প্রথম দিকে বুকের দুধ খাওয়াতে একটু সমস্যা হতে পারে, মনে হতে পারে শিশু যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে না। কিন্তু ঘাবড়াবেন না। এর&ndash;ওর পরামর্শে কিছুতেই বাইরের দুধ দেবেন না।

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম আট ঘণ্টা স্তন থেকে মাত্র কয়েক ফোঁটা দুধ নিঃসরণ হতে পারে। কখনোবা প্রথম ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এ রকম অবস্থা চলতে পারে। ষষ্ঠ দিন থেকে শিশুকে স্তন্যদান করার পর স্তন নরম হয়ে আসে। একটু ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় সঠিক অ্যাটাচমেন্টের অভাবে বা নিয়ম না জানার কারণে দুধ পেতে সমস্যা হয়।

হাসপাতাল ছাড়ার আগেই নার্সের কাছ থেকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম জেনে নিন। শিশু প্রথম কয়েক সপ্তাহ দৈনিক সাত-আটবার পর্যন্ত বুকের দুধ পান করবে। আট ঘণ্টা হতে চার দিন বয়স পর্যন্ত শিশু যতবার চায় ততবার বুকের দুধ খেতে দিতে হবে।

নবজাতকের আচার-আচরণ:

সাধারণভাবে জন্মের প্রথম ঘণ্টায় শিশু বেশ সতেজ ও সতর্ক থাকে। জন্মের ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যেতে পারে। ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা বয়সে শিশু প্রায় ঘুমিয়েই থাকে। শুধু খিদে পেলে জেগে ওঠে। একনাগাড়ে ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়ে থাকলে আলতো নড়াচড়া করে তাকে জাগিয়ে বুকের দুধ দেওয়া যায়।

তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিন শিশুর মধ্যে স্তনের খোঁজে মুখ ঘোরানো, ঠোঁট নাড়া কিংবা হাত দুটি মুখের কাছে নিয়ে আসা প্রভৃতি খেতে চাওয়ার নমুনা দেখা যায়। ষষ্ঠ দিনের পর বুকের দুধ খেয়ে পরিতৃপ্ত হওয়ার ছাপ শিশুর মধ্যে দেখা যায়।

নবজাতকের মলমূত্র ত্যাগ:

শিশু ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত একবার কালো-সবুজ রঙের মল বা মিকোনিয়াম ত্যাগ করবে। তৃতীয় ও চতুর্থ দিন শিশুর পায়খানার রং কালো-সবুজ হতে হলুদাভ ধারণ করে। পঞ্চম দিন থেকে দৈনিক তিন থেকে চারবার দানাদার হলুদ পায়খানা করে থাকে।

নবজাতকের ঘুম:

নবজাতক রোজ ১৬-২০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে পার করে। এতে ভয়ের কিছু নেই। বুকের দুধ খেয়ে তৃপ্ত থাকলে নবজাতক কখনো বা ৪-৫ ঘণ্টাও একনাগাড়ে ঘুমোতে পারে।

নবজাতকের গোসল:

যখন শিশুর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হবে, তখন তাকে গোসল করানো যায়। তবে ৩ দিন বয়সের আগে না। হালকা কুসুম গরম পানি করে দ্রুত গোসল সেরে নিন। তোয়ালে দিয়ে ত্বকের পানি শুষে নিন।

নবজাতকের নাভির যত্ন:

নবজাতকের নাড়ি জীবাণুমুক্তভাবে সঠিক পদ্ধতিতে কাটতে হবে, সঠিক পদ্ধতিতে বাঁধতে হবে। নাড়ি কাটার পর নাড়িতে ৭ দশমিক ১ শতাংশ ক্লোরহেক্সিডিন দিতে হবে। এর বাইরে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া নাভিতে কোনো কিছু দেওয়া বা লাগানো উচিত নয়।

সচরাচর শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক-দুই সপ্তাহ সময়ের মধ্যে নাভি শুকিয়ে ঝরে যায়। এক মাসের পরও যদি তা না ঝরে, তবে নাভির সংক্রমণ বা নবজাতকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম কি না, খতিয়ে দেখতে হবে।

যেসব লক্ষণে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে:

বুকের দুধপানে অসুবিধা

জ্বর বা অতিরিক্ত শীতল দেহ

শ্বাসকষ্ট (শান্ত অবস্থায় শ্বাস হার যদি মিনিটে ৬০ বা তার বেশি থাকে, যদি নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকের নিচের অংশ দেবে যায়, বা ঘোঁত ঘোঁত সাঁ সাঁ শব্দ হয়)

অনবরত বমি, বমিতে রক্ত বা পিত্তরস

পেট ফোলা, ফ্যাকাশে ভাব

হাত-পা পর্যন্ত বিস্তৃত জন্ডিস, রক্তপাত

খিঁচুনি ও ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া

এসব উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নবজাতকের জন্ডিস:

জীবনের প্রথম সপ্তাহে প্রায় ৬০ শতাংশ পূর্ণ গর্ভকাল পাওয়া (টার্ম) নবজাতক ও ৮০ শতাংশ অকালপ্রজ (প্রিটার্ম) নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে। এসব জন্ডিসের বেশির ভাগ ফিজিওলজিক্যাল বা নির্দোষ। ৫ শতাংশ প্যাথলজিক্যাল বা রোগ&ndash;সংশ্লিষ্ট জন্ডিস।

নির্দোষ জন্ডিস সাধারণত ভূমিষ্ঠ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর দেখা যায়। এই জন্ডিসে বিলিরুবিন মাত্রা ১৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকে। শিশু যদি সুস্থ স্বাভাবিক থাকে, ভালোভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করে, তবে টার্ম নবজাতকের পাঁচ-সাত দিনের মাথায়, প্রিটার্ম নবজাতকের দুই সপ্তাহ বয়সের দিকে আপনা&ndash;আপনিই তা সেরে যায়।

সব নবজাতককে প্রথম ৭২ ঘণ্টা বয়সে জন্ডিস দেখা দিয়েছে কি না, তা যাচাই করে নিতে হবে। শিশুর ত্বক, চোখ ও হাত&ndash;পা সূর্যের আলোয় পরীক্ষা করলে তা বোঝা যায়। জন্ডিস হয়েছে মনে হলে অবশ্যই ল্যাব টেস্ট করে বিলিরুবিনের মাত্রা নির্ণয় করা উচিত। বিশেষত তিন দিন বয়সে।

নবজাতকের জন্ডিস প্রতিরোধে গর্ভাবস্থায় মায়ের এবিও এবং আরএইচ রক্ত গ্রুপ পরীক্ষা ছাড়াও যথাযথ অ্যান্টিনেটাল কেয়ার গ্রহণ করা উচিত।

নবজাতকের জন্ডিস দেখা দিলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। নবজাতককে রোদে দিয়ে জন্ডিস কমানোর পুরোনো ধারণা ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

যেসব নবজাতক মারাত্মক জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে ও চিকিৎসা পেয়েছে, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, বিশেষ করে কানে শোনা ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ যথাযথ হচ্ছে কি না, দেখা উচিত।

কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুর যত্ন:

যাদের জন্মকালীন ওজন ২৫০০ গ্রামের কম থাকে, তাদের লো বার্থওয়েট বা স্বল্প জন্মওজনি নবজাতক বলা হয়। এরা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ শিশু আর বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

এসব নবজাতকের যত্ন স্বল্প জন্মওজনি নবজাতকের সব চিকিৎসাব্যবস্থা প্রদানের সুবিধা থাকে, এমন কেন্দ্রে নেওয়া উচিত। বিশেষত যেসব নবজাতকের জন্মওজন ১৮০০ গ্রামের কম, গর্ভকাল ৩৪ সপ্তাহের কম, অসুস্থ বা মায়ের দুধ পানে অসমর্থ।

কমপক্ষে ১২ মাস বয়স অবধি এদের ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন জোগানো দরকার।

ক্যাঙারু কেয়ার পদ্ধতিতে নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রার সুরক্ষা দিতে হবে। বিশেষত হাসপাতাল ছাড়ার পর বাড়িতে যখন তাকে নেওয়া হবে।

বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি এবং নানা অসুখের জটিলতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কমপক্ষে ১২-১৮ মাস বয়স পর্যন্ত এই ফলোআপ চালিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ যত্ন:

মা যদি হেপাটাইটিস সারফেস অ্যান্টিজেন পজিটিভ থাকেন, তবে শিশুকে হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন ও হেপাটাইটিস-বি ইমিউনোগ্লোবিউলিন প্রদান করতে হবে।

মা যদি আরএইচ নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের হন, তবে ভূমিষ্ঠকালীন নাড়ির রক্ত শিশুর রক্তের গ্রুপ ও অ্যান্টিবডি শনাক্তের জন্য পাঠাতে হবে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের নবজাতক শিশু, প্রিম্যাচিওর বেবি অথবা অসুস্থ শিশুর রক্তের গ্লুকোজ জন্মের পর পর মাপতে হবে। গ্লুকোজ মান ৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চিকিৎসা দিতে হবে।

হাসপাতালে থাকার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেনেটিক স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম করা ভালো। উল্লেখ্য, থাইরয়েড হরমোন ও আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ &lsquo;কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম&rsquo; নিয়ে অসংখ্য শিশু প্রতিবছর আমাদের দেশে জন্ম নিচ্ছে।

অকারণ মৃত্যুরোধে নবজাতককে পিঠের ওপর বা একটু ডান দিকে কাত করে, শক্ত বিছানায় শোয়ানো উচিত। নরম তুলতুলে বিছানায় শোয়ানো হলে এক বছরের কম বয়সী শিশুর উল্টে গিয়ে শ্বাসরোধ পরিস্থিতির মতো বিপদের ঝুঁকি থাকে।

লেখক:

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী

সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এবি/এইচএন]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 09 Sep 2023 13:15:34 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
