<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla opinion Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Mon, 24 Aug 2026 10:24:50 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[দেশ চালাতে প্রয়োজন গণতথ্য মেজর (অব.) মনজুর কাদের]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18497" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18497</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সঠিক তথ্য পাওয়া আর মূল্যবান সম্পদের মালিক হওয়া একই কথা। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র-সবার জন্যই সঠিক তথ্য অপরিহার্য, কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। বিপরীতে, ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতিহাস, রাজনীতি, গবেষণা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্য একটি কৌশলগত সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়। এ কারণেই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বলা হয়, &lsquo;তথ্যই শক্তি&rsquo;।
তথ্যের অভাবে ঘটে যায় মহাবিপর্যয় : গোয়েন্দা সংস্থা প্রদত্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে অথবা যাচাই-বাছাই না করার কারণে বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছিল। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক কোন্দল নিরসন করার জন্য ১৯৮১ সালের ২৯ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম) চট্টগ্রামে যান। তথ্য দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে না গেলে বিএনপি ভেঙে যেতে পারে। তবে ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে গোপন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে অবস্থানরত পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মনজুরকে ২৬ মের দিকে ঢাকায় কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়। বদলির আদেশ পেয়ে জেনারেল মনজুর রাগে-ক্ষোভে বাঘের মতো ফুঁসতে থাকেন। বাঘের মুখে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রামে কেন নেওয়া হলো, তা এখনো পর্যন্ত বড় এক এনিগমা (ধাঁধা) হয়ে আছে। পরদিন, ৩০ মে ১৯৮১-এর ভোরে রাষ্ট্রপতি জিয়ার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে ঢাকায় বদলি আদেশপ্রাপ্ত (তখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থানরত) মেজর জেনারেল আবুল মনজুরের নেতৃত্বে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন। প্রদত্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করলে অথবা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো।
ইমদু উপাখ্যান : ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থী ড. কামাল হোসেনকে ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত করে বিচারপতি আবদুস সাত্তার বিজয়ী হয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তার কেবিনেটের যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমদাদুল হক ইমদুকে গ্রেফতার করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল মতিনের নির্দেশে। ইমদু ছিলেন একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং সে সময়ের অন্যতম আলোচিত সন্ত্রাসী। এ ঘটনা ছিল শেষের শুরু, অর্থাৎ তৎকালীন বিএনপি সরকারের শেষ সময়। ইমদুকে খবর দেওয়া হয়, যুব প্রতিমন্ত্রী তাকে বাসায় ডেকেছেন। অথচ মন্ত্রী তখন বাসায় ছিলেন না। অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে ইমদুকে গ্রেফতার করে। ইমদু যদি তথ্য যাচাই করতেন অথবা যুবপ্রতিমন্ত্রী আগেই তথ্য পেতেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তবে এ ঘটনার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। তিন দিন পর রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এ মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় বাদপড়া এবং অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন মূল বিএনপির সঙ্গে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মতবিরোধ তীব্র হয়। বিক্ষুব্ধ এসব নেতা তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সামরিক শাসন জারির জন্য গোপনে উসকানি দিতে থাকেন। দেশব্যাপী গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়, সামরিক শাসন জারি করা হচ্ছে। সাত্তার সরকারের কাছে এ সম্পর্কিত তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ, তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি আগে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
ষড়যন্ত্র : ১৯৯১-৯৬ সময়কালে বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকাকালে গোপনে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু নেতা অবস্থান নেওয়ার ফলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন; যার প্রভাব নির্বাচনে পড়ে এবং আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির যেসব নেতা একসময় ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, তাদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না বলে অনেকেই আবার ২০০১ সালে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
১/১১ : ২০০৬-এর নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নতুন দল গঠন করলে ২০০৭ সালে ১/১১-এর কুশীলবরা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে বিএনপিকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। তারা বিএনপির ভেতরে একটি &lsquo;সংস্কারপন্থি&rsquo; ধারা গড়ে তোলেন। এ ধারার সঙ্গে বিএনপির দ্বন্দ্বের অবসান হলেও এর প্রভাবের কারণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে ২০ বছর সময় লেগে যায়।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি : ২০২৬-এ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় দলের অভ্যন্তরের অবস্থা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে, যা শুধু অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট &lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে&rsquo;র রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের &lsquo;একদফা&rsquo; ঘোষণা বিষয় নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তার কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি সরকারের কাছে। প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্র-জনতার ঘোষণা করা মূল &lsquo;একদফা&rsquo; এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবদান বাদ দিয়ে তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে একদফার ঘোষক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এক ছাত্রনেতার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হট্টগোলের সময় আমন্ত্রিত বিদেশি কূটনীতিক এবং ছাত্ররা সভাস্থল ত্যাগ করলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, &lsquo;ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এ গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটি কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না। খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এতবড় একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কী ঘটতে যাচ্ছে অথবা কী ঘটতে পারে, তার কোনো তথ্য সরকারের কাছে কেন নেই, সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
উন্নয়নের স্লোগান : পুরোনো বিড়ম্বনার নতুন করে উত্থান : শুধু উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না-জেনারেল এরশাদ ৯ বছর শাসন করার পর উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, শেখ হাসিনাও সাড়ে পনেরো বছর শাসন করার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কারণ তারা সঠিক রাজনীতি নির্ধারণ করতে পারেননি এবং তাদের কাছে গণতথ্য ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়া জাতির সামনে সঠিক রাজনীতি নিক্ষেপ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পাঁচ বছর উন্নয়ন করেছিলেন, যা জাতি এখনো মনে রেখেছেন। একজন জাতীয়তাবাদী কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। কারণ জাতীয় স্বার্থ মাথায় রাখলে দুর্নীতি করা যায় না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং নড়বড়ে করে দিয়ে গেছে সবকিছু। নড়বড়ে খুঁটি ধরে বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের টর্নেডো থেকে বাঁচা যাবে না। বাঁচতে হলে দরকার সোজা শক্ত খুঁটি-সে খুঁটি হলো নিজ দল ও বিভিন্ন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং জনগণ। দেশ এবং সরকারকে বাঁচাতে হলে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের থেকে তথ্য নিতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হয় সরকার এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা। দেশ চালাতে হয় গণতথ্যের ওপর ভিত্তি করে, যার জন্য জনগণের সঙ্গে মিশতে হয়, বন্ধুত্ব করতে হয়। চাটুকারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে খাদে পড়তে হয়, যার উদাহরণ হলো শেখ হাসিনা।

লেখক : : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 24 Aug 2026 10:24:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দেশ চালাতে প্রয়োজন গণতথ্য মেজর (অব.) মনজুর কাদের মনজুর কাদের]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18496" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18496</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সঠিক তথ্য পাওয়া আর মূল্যবান সম্পদের মালিক হওয়া একই কথা। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র-সবার জন্যই সঠিক তথ্য অপরিহার্য, কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। বিপরীতে, ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতিহাস, রাজনীতি, গবেষণা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্য একটি কৌশলগত সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়। এ কারণেই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বলা হয়, &lsquo;তথ্যই শক্তি&rsquo;।
তথ্যের অভাবে ঘটে যায় মহাবিপর্যয় : গোয়েন্দা সংস্থা প্রদত্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে অথবা যাচাই-বাছাই না করার কারণে বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছিল। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক কোন্দল নিরসন করার জন্য ১৯৮১ সালের ২৯ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম) চট্টগ্রামে যান। তথ্য দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে না গেলে বিএনপি ভেঙে যেতে পারে। তবে ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে গোপন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে অবস্থানরত পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মনজুরকে ২৬ মের দিকে ঢাকায় কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়। বদলির আদেশ পেয়ে জেনারেল মনজুর রাগে-ক্ষোভে বাঘের মতো ফুঁসতে থাকেন। বাঘের মুখে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রামে কেন নেওয়া হলো, তা এখনো পর্যন্ত বড় এক এনিগমা (ধাঁধা) হয়ে আছে। পরদিন, ৩০ মে ১৯৮১-এর ভোরে রাষ্ট্রপতি জিয়ার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে ঢাকায় বদলি আদেশপ্রাপ্ত (তখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থানরত) মেজর জেনারেল আবুল মনজুরের নেতৃত্বে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন। প্রদত্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে চট্টগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করলে অথবা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো।
ইমদু উপাখ্যান : ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থী ড. কামাল হোসেনকে ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত করে বিচারপতি আবদুস সাত্তার বিজয়ী হয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তার কেবিনেটের যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমদাদুল হক ইমদুকে গ্রেফতার করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল মতিনের নির্দেশে। ইমদু ছিলেন একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং সে সময়ের অন্যতম আলোচিত সন্ত্রাসী। এ ঘটনা ছিল শেষের শুরু, অর্থাৎ তৎকালীন বিএনপি সরকারের শেষ সময়। ইমদুকে খবর দেওয়া হয়, যুব প্রতিমন্ত্রী তাকে বাসায় ডেকেছেন। অথচ মন্ত্রী তখন বাসায় ছিলেন না। অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে ইমদুকে গ্রেফতার করে। ইমদু যদি তথ্য যাচাই করতেন অথবা যুবপ্রতিমন্ত্রী আগেই তথ্য পেতেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তবে এ ঘটনার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। তিন দিন পর রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এ মন্ত্রিসভায় বিতর্কিত যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় বাদপড়া এবং অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন মূল বিএনপির সঙ্গে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মতবিরোধ তীব্র হয়। বিক্ষুব্ধ এসব নেতা তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সামরিক শাসন জারির জন্য গোপনে উসকানি দিতে থাকেন। দেশব্যাপী গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়, সামরিক শাসন জারি করা হচ্ছে। সাত্তার সরকারের কাছে এ সম্পর্কিত তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ, তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি আগে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
ষড়যন্ত্র : ১৯৯১-৯৬ সময়কালে বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকাকালে গোপনে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু নেতা অবস্থান নেওয়ার ফলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন; যার প্রভাব নির্বাচনে পড়ে এবং আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির যেসব নেতা একসময় ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, তাদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না বলে অনেকেই আবার ২০০১ সালে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
১/১১ : ২০০৬-এর নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নতুন দল গঠন করলে ২০০৭ সালে ১/১১-এর কুশীলবরা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে বিএনপিকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। তারা বিএনপির ভেতরে একটি &lsquo;সংস্কারপন্থি&rsquo; ধারা গড়ে তোলেন। এ ধারার সঙ্গে বিএনপির দ্বন্দ্বের অবসান হলেও এর প্রভাবের কারণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে ২০ বছর সময় লেগে যায়।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি : ২০২৬-এ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় দলের অভ্যন্তরের অবস্থা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে, যা শুধু অতীতকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট &lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে&rsquo;র রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের &lsquo;একদফা&rsquo; ঘোষণা বিষয় নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তার কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি সরকারের কাছে। প্রামাণ্যচিত্রে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্র-জনতার ঘোষণা করা মূল &lsquo;একদফা&rsquo; এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবদান বাদ দিয়ে তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে একদফার ঘোষক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এক ছাত্রনেতার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হট্টগোলের সময় আমন্ত্রিত বিদেশি কূটনীতিক এবং ছাত্ররা সভাস্থল ত্যাগ করলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, &lsquo;ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি দেখেছি, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এ গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটি কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না। খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এতবড় একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কী ঘটতে যাচ্ছে অথবা কী ঘটতে পারে, তার কোনো তথ্য সরকারের কাছে কেন নেই, সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
উন্নয়নের স্লোগান : পুরোনো বিড়ম্বনার নতুন করে উত্থান : শুধু উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না-জেনারেল এরশাদ ৯ বছর শাসন করার পর উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, শেখ হাসিনাও সাড়ে পনেরো বছর শাসন করার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কারণ তারা সঠিক রাজনীতি নির্ধারণ করতে পারেননি এবং তাদের কাছে গণতথ্য ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়া জাতির সামনে সঠিক রাজনীতি নিক্ষেপ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পাঁচ বছর উন্নয়ন করেছিলেন, যা জাতি এখনো মনে রেখেছেন। একজন জাতীয়তাবাদী কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। কারণ জাতীয় স্বার্থ মাথায় রাখলে দুর্নীতি করা যায় না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং নড়বড়ে করে দিয়ে গেছে সবকিছু। নড়বড়ে খুঁটি ধরে বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের টর্নেডো থেকে বাঁচা যাবে না। বাঁচতে হলে দরকার সোজা শক্ত খুঁটি-সে খুঁটি হলো নিজ দল ও বিভিন্ন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং জনগণ। দেশ এবং সরকারকে বাঁচাতে হলে দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের থেকে তথ্য নিতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হয় সরকার এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা। দেশ চালাতে হয় গণতথ্যের ওপর ভিত্তি করে, যার জন্য জনগণের সঙ্গে মিশতে হয়, বন্ধুত্ব করতে হয়। চাটুকারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে খাদে পড়তে হয়, যার উদাহরণ হলো শেখ হাসিনা।

 লেখক :  : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য


 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 17 Aug 2026 12:42:30 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি করলেই মিলবে জাল ও ছেঁড়া নোটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18305" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18305</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রাজধানীর একটি নামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পাশের দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেন। তাঁর হাতে থাকা এক হাজার টাকার নোটটি নিতে বিক্রেতা সাফ মানা করে দিলেন। কারণ, নোটটির এক কোণ ছেঁড়া এবং মাঝখানে স্কচটেপ লাগানো। বুথ থেকে বের হওয়া টাকা যে অচল হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাবা কঠিন। কিন্তু এটাই এখন দেশের নিত্যদিনের বাস্তব চিত্র। বাজারে এখন শুধু ছেঁড়া-ফাটা বা তেলচিটে নোংরা নোটের ছড়াছড়িই নয়, বরং উচ্চমূল্যের জাল নোটের উপদ্রবও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কাগজের টাকার এই জঞ্জাল থেকে রেহাই পেতে দেশের মানুষ যখন ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে ঝুঁকতে চাইছে, তখন সেখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত সেবামূল্য বা ট্রানজেকশন চার্জ বা সার্ভিস চার্জ।

বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাগজের টাকা ব্যবহার করা এক ধরণের মানসিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। দশ, বিশ, পঞ্চাশ, একশ টাকার নোটগুলো হাতবদল হতে হতে এতটাই নোংরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সেগুলো পকেটে রাখাই অস্বস্তিকর। তার চেয়েও বড় সংকট হলো জাল নোটের বিস্তার। নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়া এসব জাল টাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, কাগজের মুদ্রাভিত্তিক এই সনাতন লেনদেন ব্যবস্থা সাধারণ নাগরিককে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই সমস্যার সমাধান কিন্তু আমাদের খুব কাছেই রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে তাকালে একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সেখানকার একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম, ফুটপাতের চা-বিক্রেতা কিংবা সবজিওয়ালাও এখন কাগজের টাকা স্পর্শ করেন না। তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি &lsquo;ইউপিআই&rsquo; প্রযুক্তির মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল পেমেন্ট নিচ্ছেন। এক রুপি থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের লেনদেন সেখানে একদম &#39;শূণ্য খরচে&#39; করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি সাশ্রয়ী হতে পারেনি। এখানে একজন গ্রাহককে এক হাজার টাকা ক্যাশ-আউট করতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হয়। এমনকি এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে গেলেও ফি দিতে হচ্ছে। একজন নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এই সামান্য চার্জও অনেক বড় বোঝা। ফলে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত খরচের ভয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে কাগজের নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরছেন।

বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হয়, তবে এই লেনদেন প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি নিখরচায় রূপ দিতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন ফ্রি করা হলে সরকারের নিজস্ব বড় অঙ্কের সাশ্রয় হবে। কারণ, ছেঁড়া-ফাটা ও পুরোনো নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাপাতে প্রতি বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়। লেনদেন পুরোপুরি ডিজিটাল হলে এই বিপুল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধ হবে। একই সাথে, প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকার কারণে জাল নোটের কারবার এক ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ইতোমধ্যে &#39;বাংলা কিউআর&#39; ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখন প্রয়োজন এর আওতা বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একে সম্পূর্ণ ফ্রি বা চার্জমুক্ত ঘোষণা করা। প্রয়োজনে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার থেকে নীতিগত ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে হলেও সাধারণ গ্রাহকের জন্য মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং পার্সন-টু-পার্সন লেনদেনের খরচ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল লেনদেন এখন আর কোনো বিলাসিতা বা আধুনিকতার অনুষঙ্গ নয়; এটি নাগরিক স্বস্তি, জাল নোটের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং একটি পরিচ্ছন্ন অর্থনীতি গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কাগজের মুদ্রার ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং স্মার্ট অর্থনীতি বিনির্মাণে ক্যাশলেস লেনদেনকে সম্পূর্ণ ফ্রি করার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আমার বাঙলা/ হুমায়রা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Aug 2026 07:48:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ : বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18198" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18198</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে আদিবাসী জনগণের অসামান্য অবদানকেও স্বীকৃতি জানায়। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য : &ldquo;জীবন রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আদিবাসী ধাত্রীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানানো&rdquo; যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কল্যাণ ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণের ওপর আলোকপাত করে।

বাংলাদেশে আদিবাসী জনগণের বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশ তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এ দেশ বৈচিত্র্যময় জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য আবাসস্থল। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এখানে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যারা অন্তত ৩৫টি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। তবে আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, সাঁওতাল, ওঁরাও, গারো, মাহাতো, পাংখোয়া, রাখাইন, মুন্ডা, মণিপুরীসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী যুগ-যুগ ধরে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বসবাস করে আসছে।

আমাদের সংবিধান ও সমঅধিকারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশের সংবিধান সমতা ও ন্যায়বিচারের একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ কিংবা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে আরও স্পষ্টীকরণের জন্য সংবিধানে &lsquo;জাতিসত্তা (Ethnicity) অথবা আদিবাসী (Indigenous Peoples)&rsquo; শব্দটির অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) কনভেনশন নং ১০৭ অনুসমর্থন করলেও, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য স্বীকৃত হলেও, আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে &lsquo;আদিবাসী জনগণ (Indigenous Peoples)&rsquo; হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও কিছু সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, ভূমির মালিকানা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা, বিশেষ করে আইএলও -এর Committee of Experts on the Application of Conventions and Recommendations (CEACR), বার বার গুরুত্বারোপ করেছে যে, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; যেখানে আদিবাসী জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করতে পারেন।

আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা

সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও একটি গুরুতর মানবাধিকার সংকট। Kapaeeng Foundation -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩২ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুকে কেন্দ্র করে মোট ২৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা, নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী নারীদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রতিফলন। তবে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।

প্রতিশোধের আশঙ্কা, সামাজিক কলঙ্ক, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, আইনি সহায়তা ও সহায়ক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার বহু ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। এসব প্রতিবন্ধকতা শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে না; বরং সহিংসতা, প্রান্তিকীকরণ এবং বৈষম্যের চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। তাই জরুরি ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা ব্যবস্থা এবং অর্থবহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তানা হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে না।

বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত।

&ldquo;বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত&rdquo; - এই বহুল প্রচলিত উক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সহিংসতার অসংখ্য বেঁচে থাকা মানুষের জন্য বিচার শুধু ধীরগতির নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা অধরাই থেকে যায়। তদন্তে বিলম্ব, দীর্ঘসূত্রিতা, পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের জবাবদিহিতার অভাব বিচারপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হন। এতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি : উনত্রিশ বছরের অপূর্ণ বাস্তবায়ন

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল অধিকতর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের কার্যকর সমাধান এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। পরবর্তী বিভিন্ন সরকার চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করলেও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতে, অর্থবহ বিকেন্দ্রীকরণ, কার্যকর ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। এই বাস্তবায়ন ঘাটতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের এক নতুন সুযোগ

সম্প্রতি সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৯ -এর সংসদ সদস্য আন্না মিনজের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাতে অংশ নেয়। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিনিধিরা তাদের ন্যায্য দাবিসমূহ তুলে ধরে একটি সুপারিশপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। আদিবাসী নেতৃবৃন্দের এই উদ্যোগ নতুন করে দেশের জাতীয় আলোচনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ

সংলাপ, সহনশীলতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহু জাতীয় সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। একই অঙ্গীকার এখন প্রয়োজন, যাতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীও সংবিধানের পূর্ণ সুরক্ষা এবং অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। তাদের কল্যাণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বিবেচনার দাবি রাখে :

ভূমি বিরোধের সমাধান : আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে একটি কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরি।

ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করা : আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত আইনি সহায়তা, সুরক্ষা, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি : জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ ও বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মানবাধিকার পরিস্থিতির নিয়মিত ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন : পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে, সকল অংশীজনের মধ্যে নতুন করে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করা অপরিহার্য।

বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দেশের বাইরের কেউ নয়, বরং তারা এই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম অংশীদার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বহু সদস্য, বাঙালি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতি তাদের এই অবদান শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়, বরং তাদের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিতকারী নীতিমালার মাধ্যমে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের শক্তি কখনোই সাংস্কৃতিক একরূপতার ওপর নির্ভর করেনি। বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষায়। তাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি এবং পূর্বপুরুষের ভূমি রক্ষা করা কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দয়া প্রদর্শন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

উন্নয়নকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক।

 

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 08 Aug 2026 05:33:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থানের বিজয়, নতুন বাংলাদেশের পথচলা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18076" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/18076</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু দিন কেবল একটি তারিখ নয়; সেগুলো একটি জাতির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তেমনই একটি দিন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই আন্দোলন শুধু একটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দাবির বহিঃপ্রকাশও ছিল।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শুরুতে এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট দাবিকেন্দ্রিক কর্মসূচি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে এটি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ লাভ করে।

জুলাই মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্দোলনের গতি থেমে থাকেনি। বরং জনসম্পৃক্ততা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। আন্দোলনকারীরা সুশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি সামনে নিয়ে আসেন।

এই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট ঘোষিত &lsquo;লং মার্চ টু ঢাকা&rsquo; কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। দিনটির ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনের পথ তৈরি হয় এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীকালে ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে &lsquo;জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস&rsquo; হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে প্রতীকী অর্থে অনেকেই &lsquo;৩৬ জুলাই&rsquo; নামে অভিহিত করতে শুরু করেন। এই প্রতীকী নামটি শুধু একটি তারিখের ব্যতিক্রম নয়; বরং আন্দোলনের দীর্ঘায়িত সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি আন্দোলনের গুরুত্ব নির্ধারিত হয়েছে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মাধ্যমে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানও সেই অর্থে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়নের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে, যেখানে আইনের শাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে যে কোনো গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেই আন্দোলনের চেতনা কতটা রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিফলিত হয় তার ওপর। তাই ৫ আগস্টের তাৎপর্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল&mdash;কীভাবে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হবে এবং জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের ওপর অর্পিত প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যে প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করতে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আসে।

একই সময়ে জুলাই-আগস্টের সহিংস ঘটনায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কারণ, কোনো গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়, যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করা যায়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এই বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকে।

তবে রাষ্ট্র সংস্কার কখনোই স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হওয়ার মতো কাজ নয়। প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার কারণে অনেক সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন হয়। তবুও এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার যে আলোচনা শুরু হয়, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয় এবং একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হয়।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল&mdash;গণঅভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি পরিবর্তনেরও আহ্বান। জনগণ এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আর দুর্নীতির পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা পাবে। সেই প্রত্যাশাই নতুন সরকারের জন্য ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তরণের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল&mdash;নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে, তা যেন সুশাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়।

নতুন সরকারের সামনে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। ফলে বাজার স্থিতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তাও ছিল সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পোৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। একই সঙ্গে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল জনগণের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা। একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে অপরাধ দমন, বিচারপ্রক্রার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়টিও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থা অর্জন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগও সময়ের দাবি হয়ে ওঠে।

তবে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, সরকার পরিবর্তন কোনো দেশের সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সংলাপ, সহনশীলতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে&mdash;এটিই একটি পরিণত গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পরিশেষ বলা যায়,৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্মারক নয়; বরং জনগণের অধিকার, অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশার প্রতীক। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ&mdash;সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।নতুন বাংলাদেশের পথচলা তখনই সফল হবে, যখন উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ সমান গুরুত্ব পাবে। ৫ আগস্ট তাই শুধু অতীতের একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের এক স্থায়ী প্রেরণা, যেখানে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক হবে আরও আস্থাশীল, অংশগ্রহণমূলক এবং গণতান্ত্রিক।

লেখক : কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যান সোসাইটি

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 04 Aug 2026 08:26:43 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ড. মুহাম্মদ ইউনূস: করিডোরের কৌশলগত ভবিষ্যৎ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17804" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17804</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে একটু ভালো করে তাকালে দেখা যায় উপরে হিমালয়ের দক্ষিণ ঢাল আর নিচে বঙ্গোপসাগরের বিপুল জলরাশি, ঠিক তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো জমি। বাহ্যিকভাবে দেখে মনে হতে পারে এ যেন কেবলই নদী আর পলল মাটির দেশ। কিন্তু ভূরাজনীতির সমীকরণ বলছে অন্য কথা।

ভারত, চীন আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঠিক ত্রিভুজাকার মোহনায় অবস্থান হওয়ায় এই মাটির প্রতিটা সেন্টিমিটার এখন আন্তর্জাতিক শক্তির খেলায় এক একটা দাবার গুঁটি। এই যে চারপাশে করিডোর, ট্রানজিট আর সংযোগের নানা আওয়াজ উঠছে, এগুলো কি স্রেফ দুটো গাড়ির চাকা চলার রাস্তা? একদম নয়। রাস্তা বা বন্দর বানানো কোনোদিনই কেবল সিমেন্ট-কংক্রিটের হিসাব থাকে না। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্ষমতার ভারসাম্য, গোয়েন্দা নজরদারি আর এক দেশের কাঁধে অন্য দেশের নিরাপত্তার ভার সঁপে দেওয়ার গভীর ছক। তাই করিডোর নিয়ে যখনই আমাদের দেশে তর্ক ওঠে, তখন শুধু কত টাকা লাভ হলো আর কত টাকা মাশুল পাওয়া গেল&mdash;সেসব খুচরো অঙ্কে মাপা চরম বোকামি। এটা সোজা হিসাব, ভারতের সাতটি বোন বা &lsquo;সেভেন সিস্টার্স&rsquo;কে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্রুত জোড়ার জন্য ভারতের ব্যাকুলতা নতুন কিছু নয়। মাত্র ২২ কিলোমিটারের সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা &lsquo;চিকেনস নেক&rsquo; তাদের মাথার ওপর এক মস্ত বড় নিরাপত্তার তলোয়ার হয়ে ঝুলছে। তাই আমাদের ভেতর দিয়ে কম খরচে কম সময়ে পণ্য আর ট্রেন পৌঁছানোর চাহিদা তাদের বহুদিনের। অন্যদিকে চীন চাচ্ছে কুনমিং থেকে একদম কলকাতার বুক ছুঁয়ে যাওয়া বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজের পণ্যের জোয়ার ভাসিয়ে দিতে। ওদিকে আবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যা চলছে, সেসবকে উসিলা করে জাতিসংঘের ছাতার তলে &lsquo;মানবিক করিডোর&rsquo; বানানোর নতুন পরিকল্পনা । রাস্তাগুলোর নাম আলাদা, উদ্দেশ্য আলাদা, কিন্তু দিনশেষে আমাদের দেশের জন্য প্রশ্নটা এক&mdash;কোনো দেশের সুবিধার্থে কি নিজের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া যায়?
এখানে সবচেয়ে বড় কথা হলো সার্বভৌমত্ব।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস খুব নিষ্ঠুরভাবে আমাদের শেখায়, চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান যেমন একটা দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, ঠিক তেমনি তা আবার ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ দুর্যোগ। ইতিহাস খুলে দেখুন না, মধ্য এশিয়ার বিশাল সমভূমি কিংবা পূর্ব ইউরোপের ছোট ছোট দেশগুলো কীভাবে শক্তিকেন্দ্রগুলোর রেষারেষির কারণে ছারখার হয়ে গেছে। তারা করিডোর দিতে গিয়ে নিজেদের ঘরকেই পরের যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে ফেলেছিল। বাংলাদেশের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। একটা চুক্তি করে সামান্য কিছু ডলার পকেটে ভরলাম, আর সেই ফাঁকে বিদেশি সৈন্য, গোয়েন্দা কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর আনাগোনা আমাদের ভূখণ্ডে বেড়ে গেল&mdash;এমন দেউলিয়াপনা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনেও কিন্তু করিডোরের কোনো নির্দিষ্ট বাঁধাধরা সংজ্ঞা নেই। চুক্তিটা কীভাবে সই হচ্ছে, কাস্টমস তদারকি কার হাতে থাকছে, দেশের পুলিশ নাকি বিদেশি নিরাপত্তারক্ষীরা পাহাড়ায় থাকছে&mdash;তার ওপর নির্ভর করে সেটা কি কেবলই ব্যবসা, নাকি ফাঁদে পা দেওয়া।

অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমরা দরজাকপাট বন্ধ করে আতঙ্কে কুঁকড়ে বসে থাকব। ভূগোলকে ভয়ের বদলে শক্তিতে রূপান্তর করার উদাহরণ দুনিয়ায় কম নেই। সিঙ্গাপুরের মতো ছোট দেশ কীভাবে নিজেদের সমুদ্রপথকে বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যবহার করে বিশ্ব বাণিজ্যের হুকুমদাতা হয়ে বসল, তা কারোর অজানা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা ইউরোপের নেদারল্যান্ডসও তো এই একই পথে গিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলেছে। আমাদের চট্টগ্রাম, মোংলা কিংবা নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোকে যদি সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তবে শিপিং, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ আর শিল্পায়নের এক বিশাল সুযোগ উন্মোচিত হতে পারে। তবে কথা একটাই, সম্পর্ক হতে হবে সমান সমান। প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের ঘরে বাতি নেভানো কোনো সুস্থ পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। প্রত্যেকটা চুক্তি হতে হবে পুরোপুরি স্বচ্ছ, যেখানে প্রতিটি খরচের বিপরীতে নিশ্চিত মুনাফা এবং সমতার গ্যারান্টি থাকবে।

ঠিক এই জায়গাটাতেই আমাদের দরকষাকষির মূল পরীক্ষাটা দিতে হয়। এখন ভারত আর চীনের মারামারি শুধু হিমালয়ের বরফাবৃত সীমান্তে আটকে নেই। তাদের লড়াই ঢুকে গেছে আমাদের বন্দর, রেলপথ, ডিজিটাল ক্যাবল আর পাওয়ার গ্রিডের ট্রানজিটে। ভারত চায় তার ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির অধীনে বঙ্গোপসাগরে নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখতে। অন্যদিকে চীন তার বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এখানে অবকাঠামোর বন্যা বইয়ে দিতে চায়। এই দুই পরাশক্তির মল্লযুদ্ধের মাঝে বাংলাদেশের কাজটা কঠিন। কারও লেজুরবৃত্তি করা যাবে না, আবার কারও সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করা চলবে না। সোজা কথায়, কোনো এক পক্ষের কৌশলগত উপগ্রহ বা &#39;স্যাটেলাইট স্টেট&#39; না হয়ে আমাদের নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে হবে। আমাদের বহু পুরোনো নীতি &lsquo;সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়&rsquo;&mdash;কথাটাকে এখনকার বাস্তবতায় নতুন করে ঝালাই করে প্রয়োগ করতে হবে।


একই কথা খাটে রাখাইনকে ঘিরে যে &#39;মানবিক করিডোর&#39;-এর কথা উঠছে, তার ক্ষেত্রেও। প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বহু বছর ধরে মানবতার এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সেই জায়গা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে খাদ্য বা ওষুধ পৌঁছানোর কথা শুনলে আবেগাক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে আবেগ আর জাতীয় নিরাপত্তা এক জিনিস নয়। রাখাইন এখন কোনো সাধারণ এলাকা নয়; সেখানে মিয়ানমার জান্তা আর আরাকান আর্মির মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে, যার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। এমন একটা অস্থির জায়গায় হুট করে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে করিডোর খুলে দিলে নিজেদের সীমান্ত ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। কোনো অবস্থাতেই মানবিকতাকে ঢাল বানিয়ে চরমপন্থী কিংবা আন্তর্জাতিক চক্রান্তকে আমাদের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দেওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা, মিয়ানমারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার মূল লক্ষ্য হতে হবে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকারসহ তাদের নিজের ভিটেমাটিতে ফেরত পাঠানো। এই প্রধান দাবিকে পাশে সরিয়ে অন্য কোনো সাময়িক করিডোরের ফাদে পা দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়।

বাস্তবতার নিরিখে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটাও উচ্চারণ করছেন কেউ কেউ। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের রাষ্ট্রপতির কাজ বা একক ক্ষমতা কতটা, তা আইনি কাঠামোর ভেতর স্পষ্ট করা আছে। কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মূল কাজটা করে নির্বাচিত সরকার ও মন্ত্রিসভা। তাই এককভাবে কেউ নীতি নির্ধারণ করে ফেলবেন&mdash;এমনটা ভাবা ভুল। কিন্তু ড. ইউনূসের যে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, পশ্চিমা বিশ্ব এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর যে গভীর যোগাযোগ, সেটিকে কূটনৈতিক চাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ অনেক। তিনি যখন কথা বলেন, বিশ্বদরবারে সেটা আলাদা ওজন তৈরি করে। এই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে যদি আমরা দেশের স্বার্থে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কাজে লাগাতে পারি, তবে সেটা কৌশলগতভাবে বড় এক প্লাস পয়েন্ট। তবে শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্যই আসতে হবে দেশের সংবিধান, নির্বাচিত সংসদ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এখানে উল্লেখ্য, কারও কারও মতে বর্তমান সরকার চাইলেও ড: মুহাম্মদ ইউনূস কখনোই রাষ্ট্রপতি হবেন না। কারণ তিনি ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে সসর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হল অলংকারিক পদ। তাই উনাকে প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হবেন না বলে দাবি করছেন ওনার ঘনিষ্ঠ জনেরা।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনার সময়ও আমাদের আবেগ সরিয়ে পুরোদস্তুর বাস্তববাদী ব্যবসায়ী কিংবা চতুর রাজপুত্রের মতো ভাবতে হবে। ভারত আমাদের নিকটতম বড় প্রতিবেশী, সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ভালো বন্ধুত্ব কোনোদিন একপাক্ষিক লেনদেনে টিকে থাকে না। ট্রানজিট কিংবা কানেক্টিভিটির মতো বড় বড় সুবিধা যখন আমরা আলোচনার টেবিলে তুলব, ঠিক তখনই সমান জোর দিয়ে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্তে প্রতিদিনের প্রাণহানি বন্ধ, অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করা আর বাণিজ্যিক ঘাটতি কমানোর দাবি আদায় করে নিতে হবে। বছরের পর বছর একতরফা ছাড় দিয়ে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার দিন শেষ। একইভাবে চীনের বিনিয়োগ দেখলেই অমুক &#39;ঋণের ফাদ&#39; বলে আঁতকে ওঠার কিছু নেই, আবার অন্ধের মতো সব প্রজেক্ট গিলে ফেলাও বোকামি। চীনের টাকা নেওয়ার আগে প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভ, সুদের হার আর এর নেপথ্য রাজনৈতিক প্রভাব নিখুঁতভাবে মেপে নিতে হবে।

বর্তমান পৃথিবী আর একক কোনো পরাশক্তির ইশারায় চলে না, এটা বহু-মেরুকেন্দ্রিক এক বিশ্বব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা জাপান&mdash;সবাই নতুন নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে ব্যস্ত। এই বিশৃঙ্খল কিন্তু সম্ভাবনাময় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ যদি শুধু নিজের জমি আর জলসীমাকে অন্যের সুবিধার্থে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে অচিরেই আমাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে। আর আমরা যদি সেই একই ভূগোলকে নিজেদের শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম বানাতে পারি, তবে এই মানচিত্রই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। করিডোর কোনো পিচ ঢালা সাধারণ রাস্তা নয়; এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার এক জটিল পরীক্ষা। একটি দুর্বল বা হঠকারী চুক্তি আগামী কয়েক দশকের জন্য আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলতে পারে। অন্যদিকে একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে বদলে দিতে পারে চিরতরে। নিরপেক্ষ থাকা হয়তো কঠিন, কিন্তু নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে জানাটাই হলো প্রকৃত রাষ্ট্রনীতি। আর এই ভারসাম্যের কৌশলই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।


ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক

আমার বাঙলা/ এনআই]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 29 Jul 2026 06:53:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাষ্ট্রদূত : অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অগ্রসৈনিক]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17547" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17547</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একটি দেশের দূতাবাস আসলে কী? কেবল জাতীয় পতাকা ওড়ানো একটি ভবন, নাকি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের অগ্রবর্তী ঘাঁটি? প্রশ্নটি এখন আর কূটনৈতিক সৌজন্যের নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতার প্রশ্ন। একসময় রাষ্ট্রদূতদের প্রধান কাজ ছিল রাজনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা, সংকট সামাল দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে সেই ধারণা দ্রুত বদলে গেছে। আজ একটি দেশের প্রকৃত শক্তি অনেক সময় নির্ধারিত হয় তার দূতাবাস কতটি নতুন বাজার খুলতে পারল, কতটি শিল্প বিনিয়োগ টানতে পারল, কতজন দক্ষ কর্মীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারল কিংবা কতটি প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারল&mdash;তার ওপর। একটি সফল বিনিয়োগ চুক্তি বা নতুন রপ্তানি বাজারের দরজা খুলে দেওয়া অনেক সময় শত বক্তৃতা কিংবা অসংখ্য যৌথ বিবৃতির চেয়েও গভীর কূটনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো এই সত্য অনেক আগেই বুঝেছে। চীনের রাষ্ট্রদূতেরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধি নন; তাঁরা বেইজিংয়ের শিল্পনীতি, উৎপাদনশীলতা ও বাজার সম্প্রসারণের সক্রিয় দূত। জাপানের কূটনৈতিক মিশন দীর্ঘদিন ধরে শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি মিশনও কোরীয় শিল্প, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে এক সুতোয় বেঁধেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল ও কৌশলগত বিনিয়োগ এখন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় উপাদান। আজকের ভূরাজনীতিতে অর্থনীতি আর কূটনীতি আলাদা নদী নয়; তারা একই মোহনায় গিয়ে মিশেছে।

বাংলাদেশের সামনে বাস্তবতাও বদলাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্প, সবুজ জ্বালানি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে ঘিরে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে আমাদের দূতাবাসগুলো যদি শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আমরা সুযোগের একটি বড় অংশ হারাব। প্রতিটি দূতাবাসের উচিত নিজ নিজ দেশে কোন শিল্প বাংলাদেশে আসতে পারে, কোন প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব, কোথায় নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে&mdash;এসব নিয়ে নিয়মিত অর্থনৈতিক অনুসন্ধান চালানো। রাষ্ট্রদূতের টেবিলে রাজনৈতিক প্রতিবেদন যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে বিনিয়োগ সম্ভাবনার মানচিত্র, বাজার বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের রূপরেখাও।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে বিশ্ববাজারে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বিনিয়োগ নিজে থেকে কোনো দেশে আসে না; তাকে বিশ্বাস, নীতি এবং সক্রিয় রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে হয়। ঠিক এখানেই দূতাবাসগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা যদি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, শিল্পগোষ্ঠী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলে, তবে অর্থনৈতিক কূটনীতি কাগজের শব্দ হয়ে থাকবে না; তা বাস্তব কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে রূপ নেবে।

আরেকটি জায়গা আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। দক্ষ জনশক্তির বাজার। বিশ্বের বহু উন্নত দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্য দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ ও পরিচর্যা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়ছে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর শ্রমবাজার বিশ্লেষণকে যুক্ত করতে পারে, তবে বৈধ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। এতে রেমিট্যান্স বাড়বে, আবার দেশের মানবসম্পদও আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।

আমাদের কূটনৈতিক মূল্যায়নের মানদণ্ডও নতুন করে ভাবতে হবে। কেবল কতটি বৈঠক হলো কিংবা কতটি আনুষ্ঠানিক সফর সম্পন্ন হলো, তা দিয়ে একজন রাষ্ট্রদূতের সাফল্য মাপা যথেষ্ট নয়। বরং দেখতে হবে, তাঁর দায়িত্বকালে কতটি নতুন রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কতটি শিল্প বিনিয়োগ এসেছে, কতটি গবেষণা সহযোগিতা হয়েছে এবং কতজন দক্ষ কর্মীর জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের পথ খুলেছে। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে কূটনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এখনই। কারণ পতাকা বহন করা সম্মানের; কিন্তু সেই পতাকার জন্য নতুন বাজার, নতুন প্রযুক্তি, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ভবিষ্যৎ অর্জন করাই একজন আধুনিক রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক

আমার বাঙলা/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 24 Jul 2026 07:02:42 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দুটি ডিমের উপাখ্যান: আমাদের নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17418" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17418</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক, ক্ষোভমিশ্রিত এবং নির্মম সত্য আর কী হতে পারে? কিন্তু এই গভীর হতাশা তো কোনো আকস্মিক শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবন, আমাদের চারপাশের চেনা মানুষ এবং আমাদের নিজেদেরই তৈরি এক সম্মিলিত অবক্ষয়ের অমোঘ ফসল। আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুর মেগা-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি, হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লোপাট নিয়ে টকশোতে কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তুলি। কিন্তু আমাদের সমাজের একেবারে ভেতরটা, সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব যে কতটা জীর্ণ এবং ঘুণপোকা-ধরা হয়ে গেছে, তা আমরা কৌশলে এড়িয়ে যাই। আমরা ভাবি, দুর্নীতি কেবল ওপরের স্তরের মানুষের একচেটিয়া অধিকার। অথচ আসল সত্য হলো, ক্ষমতার ক্ষুদ্রতম সুযোগ পেলেও আমাদের সাধারণ নাগরিকের বড় অংশই সেই একই অনৈতিকতার চর্চা করে, যা বড় বড় লুটেরারা করে থাকে।

ডিম হাতিয়ে নেওয়ার উপাখ্যান, সামষ্ঠিক চরিত্রের একটি দর্পণ:

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ছোট, অথচ চরম প্রতীকী ঘটনা আমাদের এই ভেতরের কদর্য রূপটাকে নগ্নভাবে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ঘটনাটি স্রেফ একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি একটি সামষ্টিক চারিত্রিক স্খলনের দলিল। একজন নারী ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। একই রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। সামনের কোনো এক যানজটে পড়ে ভ্যানটি যখনই ওই নারীর হাতের নাগালে এলো, তিনি মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ দেখে নিয়ে টুপ করে দুটি ডিম হাতিয়ে নিজের ব্যাগে রেখে দেন। কোনো দ্বিধা নেই, কোনো অপরাধবোধ নেই, যেন অতি স্বাভাবিক এক অধিকার তিনি খাটিয়ে নিলেন।

মোটা দাগে মনে হতেই পারে, এস আলমের লক্ষ কোটি টাকা ব্যাংক লোপাট কিংবা শীর্ষ আমলা ও ব্যবসায়ীদের মেগা-দুর্নীতির তুলনায় দুটি ডিম হাতিয়ে নেওয়া এমন কী বড় ঘটনা! এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে? কিন্তু গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এটাই আসলে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। ব্যাংকের টাকা চুরি বা রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করার সুযোগ সবার হয় না; তার জন্য একটা নির্দিষ্ট ক্ষমতার স্তরে পৌঁছাতে হয়, লবিং করতে হয়, প্রভাবশালী হতে হয়। কিন্তু এই যে জ্যামে আটকে থাকা ভ্যান থেকে দুটি ডিম তুলে নেওয়া - এটি দেখায় যে, আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের মজ্জায় মজ্জায় এখন সততার অভাব। সুযোগের অভাবে আমরা অনেকেই হয়তো সাধু সেজে বসে আছি, কিন্তু সামান্যতম সুযোগ পেলেই নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে আমাদের এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। এই নারীর ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে আসলে আমাদের পুরো জাতিরাষ্ট্রের চারিত্রিক স্খলন নগ্নরূপে ধরা পড়েছে। আমরা আসলে প্রায় সবাই এখন এমন হয়ে গেছি।

শৈশবের হারিয়ে যাওয়া পাঠ ও আধুনিক শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা:

প্রশ্ন জাগে, আমাদের এই সামগ্রিক পতন কেন হলো? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার আর সমাজ কি তবে পুরোপুরি ব্যর্থ? শৈশবে আমরা যে পাঠ্যবই পড়ে বড় হয়েছি, সেখানে অত্যন্ত সহজ ভাষায় কিছু চিরন্তন সত্য ও মূল্যবোধ শেখানো হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সেইসব অমর বাণী: &quot;পরের হিত চিন্তা করিবে&quot;, &quot;অন্যের অনিষ্ট করিবে না&quot;, &quot;সদা সত্য কথা বলিবে&quot;, &quot;মিথ্যা বলা মহাপাপ&quot;, কিংবা &quot;অকারণে গাছের পাতা ছিড়িবে না&quot;। এই আপ্তবাক্যগুলো শুধু পরীক্ষার খাতায় লিখে নম্বর পাওয়ার জন্য ছিল না; এগুলো ছিল একজন মানুষের মানবিক ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার হাতিয়ার।

কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষকরা কি আর এসব শেখান? নাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল জিপিএ-৫, সার্টিফিকেট আর কর্পোরেট বাজারের জন্য রোবট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে? এখনকার জিপিএ-৫ পাওয়া মেধারী সন্তানটি যখন বড় হয়ে রাষ্ট্রের কোনো বড় পদে বসে প্রথম সুযোগেই ঘুষ খাওয়া শুরু করে, তখন বুঝতে হবে তার শৈশবের শিক্ষার বুনিয়াদেই গলদ ছিল। আমরা তাকে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শিখিয়েছি, কিন্তু মানুষ হওয়া শেখাইনি।

কাঠামোগত উন্নয়ন বনাম মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়:

আজ আমাদের দেশে জেলায় জেলায় এত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ পর্যায়েও শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় ঝাঁ-চকচকে আধুনিক মসজিদ ও উপাসনালয় তৈরি হচ্ছে। আর অন্যদিকে, ইন্টারনেটের যুগে ইউটিউব ও ফেসবুক জুড়ে হাজারো মোটিভেশনাল স্পিকার, ধর্মীয় বক্তা ও সুশীলদের বয়ানের খই ফুটছে। প্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞান, উপদেশ এবং তত্ত্বের কোনো অভাব নেই আমাদের। কিন্তু সবচেয়ে বড় ও রূঢ় প্রশ্ন হলো - সেসবের শিক্ষা আসলে কোথায় যায়?

যদি প্রতিটা গলিতে একটা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উপাসনালয় থাকার পরেও মানুষের অবচেতন মন থেকে চুরির প্রবণতা, পরশ্রীকাতরতা, লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করে নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতি এবং অনৈতিকতা দূর না হয়, তবে বুঝতে হবে এই বিশাল কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আসলে অন্তঃসারশূন্য। শিক্ষা কেবল মাথায় তথ্যের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং ডিগ্রি দিচ্ছে, কিন্তু মানুষের মন ও মননকে স্পর্শ করতে পারছে না। আমাদের সংস্কৃতি হয়ে পড়েছে কেবল উৎসব-কেন্দ্রিক ও চটকদার; জীবনের গভীরে, প্রতিদিনের আচরণে তার কোনো শিকড় বা প্রভাব নেই।

ইতিহাসের ঘূর্ণাবর্ত ও ঘুণপোকার বিস্তার:

আমরা এখন বাস করছি এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায়। আমাদের বুদ্ধিজীবী, সমাজচিন্তক, রাজনৈতিক কর্মী এবং আমজনতার সিংহভাগই ব্যস্ত ইতিহাস চর্চার চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে। কে কোন পক্ষের আর কে বিপক্ষের, কার আদর্শ খাঁটি আর কারটা ভেজাল, কোন দল স্বাধীনতার স্বপক্ষের আর কে বিপক্ষের - এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক দলবাজি ঠিক রাখতেই আমাদের সব মেধা ও শক্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

ইতিহাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কোনো জাতির আত্মপরিচয়ের জন্য ইতিহাস জানা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান যখন চোখের সামনে ধসে পড়ছে, তখন কেবল অতীত নিয়ে অন্তহীন কামড়াকামড়ি করা এক ধরনের পলায়নপরতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব।

আমরা যখন ওপরের স্তরে পক্ষ-বিপক্ষের অবিনাশী লড়াইয়ে মত্ত, তখন আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের একদম তলদেশ দিয়ে ঘুণপোকা ঢুকে সবকিছু কেটে কুটি কুটি করে দিয়ে যাচ্ছে। সেই খবর কেউ রাখছি না।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই যে মৌলিক গলদ, যা প্রতিদিন একজন সাধারণ নাগরিককে চোর বা দুর্নীতিবাজ বানিয়ে তুলছে, এর মূল উৎস কোথায়, তা কেউ তলিয়ে দেখছে না। আমরা উপরিভাগের ডালপালা ছাঁটতে ব্যস্ত, অথচ গাছের গোড়ায় যে মড়ক লেগেছে, সেদিকে কারও নজর নেই।

ক্ষুদ্র অপরাধের বৃহৎ ভবিষ্যৎ:

একটি রাষ্ট্র তখনই ভেঙে পড়ে না যখন তার অর্থনীতি দুর্বল হয়; রাষ্ট্র তখনই ধ্বংসের মুখে পড়ে যখন তার নাগরিকদের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আজ আমরা যে &#39;নষ্টদের অধিকারের&#39; কথা বলছি, সেই নষ্টরা কিন্তু কোনো ভিনগ্রহ থেকে রকেট বা স্পেসশিপে চড়ে আসেনি। তারা আমাদের এই সমাজ, আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থা এবং আমাদের এই পারিবারিক বলয় থেকেই তৈরি হয়েছে।

আজ যে নারী রিকশায় বসে স্রেফ দুটো ডিম হাতিয়ে নেওয়ার লোভ সামলাতে পারলেন না, সুযোগ ও ক্ষমতা পেলে তিনি যে ব্যাংকের ভল্ট খালি করবেন না, কিংবা কোনো সরকারি প্রজেক্টের কোটি টাকা আত্মসাৎ করবেন না - তার গ্যারান্টি কে দেবে? একইভাবে, আজ ক্ষমতার শীর্ষে বসে যারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন, তারাও হয়তো একসময় এই সমাজেরই কোনো এক স্তরে ছোটখাটো নৈতিক স্খলনের মধ্য দিয়ে, পরীক্ষার খাতায় নকল করে কিংবা ছোট-খাট কোনো চুরির মাধ্যমে তার অনৈতিকতার হাতেখড়ি করেছিলেন। ক্ষুদ্র অপরাধের এই ধারাবাহিকতাই একসময় সমাজকে বড় বড় অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের চারণভূমিতে পরিণত করে।

উত্তরণের পথ ও আমাদের দায়:

তাই সন্তানকে কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে &#39;মানুষের মতো মানুষ&#39; করার মেকি স্বপ্ন দেখার আগে আমাদের সমাজকে নতুন করে সাজাতে হবে। কেবল কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করা, দামি গাড়ি চড়া বা বড় সামাজিক স্ট্যাটাস অর্জন করাই যদি সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হয়, তবে এই সমাজ আরও দ্রুত গতিতে নষ্টদের দখলে চলে যাবে।

আমাদের এখন প্রয়োজন এক গভীর, আমূল শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জাগরণ। এমন এক সামাজিক আন্দোলন, যা মানুষকে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে শেখাবে, যা লোভের চেয়ে আত্মমর্যাদাকে এবং অন্যায়ের প্রতি আপসহীনতাকে বড় করে দেখতে শেখাবে।

ইতিহাসের পোস্টমর্টেম ও ক্ষণস্থায়ী দলবাজির ঊর্ধ্বে উঠে যদি আমরা আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ক্ষুদ্রতম নৈতিকতার চর্চাকে ফিরিয়ে আনতে না পারি, তবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো আলো আসলেই আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজ পরিবর্তন কোনো উপরিকাঠামোর বিষয় নয়; এর শুরুটা হয় নিজের ভেতরের লোভকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে।

উপসংহার- অন্তরের আলো ও পারিবারিক জাগরণ:

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের চারপাশের এই তীব্র নৈতিক সংকট এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির গলদ কাটিয়ে উঠতে হলে আমাদের দরকার সামগ্রিক চিন্তা-চেতনার আমূল পরিবর্তন। কেবল আইনের কঠোরতা কিংবা কাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি ভঙ্গুর জাতিকে টেনে তোলা সম্ভব নয়।

আমাদের ভেতরকার সুপ্ত চেতনাবোধ, নীতি-নৈতিকতা, মজ্জাগত সততা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যদি নতুন করে জাগরিত না হয়, তবে এই সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা সারানো সত্যিই অসম্ভব হয়ে উঠবে।

আমাদের দৈনন্দিন অস্থিরতা, সীমাহীন লিপ্সা, পরচর্চা আর পরনিন্দার মতো ব্যাধিগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজকে ভেতরে-ভেতরে বিষিয়ে তুলছে। এই বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো পরিবর্তনের সুঁই-সুতোটা নিজের ঘর থেকেই চালানো।

রাষ্ট্র বা সমাজের বড় বড় সংস্কারের আশায় বসে না থেকে, ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে এই মুহূর্তে নীতি-নৈতিকতাকে সবার উপরে স্থান দেওয়া দরকার। সন্তানকে জিপিএ-৫ কিংবা লোভনীয় ক্যারিয়ারের মন্ত্র গেঁলানোর আগে &#39;মানুষের মতো মানুষ&#39; হওয়ার পাঠ দিতে হবে; শেখাতে হবে অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মানবোধ।

নতুবা এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজকে কোনোভাবেই পাল্টানো যাবে না। এই মহাসংকটে দাঁড়িয়ে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক স্তরে নিজেদের নৈতিক পরিবর্তনটি আনাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

গণমাধ্যম ফ্রীল্যান্সার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আমার বাঙলা/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 20 Jul 2026 13:50:23 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গণতন্ত্র, জ্ঞানী-মানুষ ও একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17298" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17298</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গ্রিক সভ্যতায় গণতন্ত্র নামক যে শাসন-ব্যবস্থার গৌরবময় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে তা প্রথমত বিকশিত হয়েছিল এথেন্স নগরীতে। পেরিক্লিস (৪৯৫-৪২৯ খ্রীস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের তথা এথেন্সের স্বর্ণযুগের সবচাইতে সফল গণতান্ত্রিক নেতা। তার কাছে জ্ঞানী-গুণী মানুষের কদর যেমন ছিল, তার পাশাপাশি কিছু চাটুকার ও আদম বেপারীর আদরও কম ছিল না। আদম বেপারী আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে না। গণতন্ত্রে যোগ্যতার বাছ-বিচার ছাড়াই কেবলমাত্র দলভারী করা, মিছিল-মিটিং ও ভোটদানে উপযুক্ত লোকবল যোগান দাতাদেরকেও এক ধরনের আদম ব্যবসায়ী বলা চলে। পেরিক্লিসের সময় এরকম গড়পত্তা মানুষের বড় রকম একজন যোগানদাতা ছিলেন এনিটাস। কিছুটা মাথামোটা ও বেয়াদব কিসিমের এই তরুণ লোকটাও পেরিক্লিসের মতো বিজ্ঞ নেতার আমলে তারই তত্ত&iexcl;াবধানে পাতি নেতা বনে গিয়েছিলেন। পাতি নেতা হলে কি হবে, তারই রোষাণলে পরে গ্রিসের সেই সময়কার সবচেয়ে জ্ঞানী লোকটাকেই জীবন দিতে হয়েছে। এই জ্ঞানী লোকটি হচ্ছে সক্রেটিস। জ্ঞান-প্রেমিক নির্লোভ এবং এক ধরনের বিশেষ আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে সক্রেটিস ছিলেন তৎকালীন এথেন্সের জ্ঞান পিপাসু তরুণ সমাজের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন প্রভাবশালী মানুষ। পেরিক্লিস এবং তার সুবিজ্ঞ সহধর্মিনী আসপাসিয়ারও অতি নিকটজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অন্যদিকে এনিটাস ছিলেন বৈষয়িক লাভ লোকসান নিয়েই যাদের ভাবনা-চিন্তা এমন কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের ধূর্ত সংগঠক। ইউনিমন নামক একটি জনবহুল মহল্লায় ছিলো তার বসতবাড়ি। ভোগবাদী মানুষের সংখ্যা সব সমাজেই সাধারণত একটু বেশি থাকে। তার এলাকায়ও এ-ধরনের মানুষের কমতি ছিলো না। আর তারাই ছিল মূলত তার টার্গেট পিপল। তার এলাকার এ ধরনের সংখ্যাধিক্য মানুষকে পুঁজি করে ভোটের রাজনীতিতে এনিটাসের এগিয়ে চাওয়া অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো না। সক্রেটিসকে তিনি খামাখা সন্দেহের চোখে দেখতেন। যে ধরনের মানুষের কাছে সক্রেটিস প্রিয়ভাজন তারা নিছক সংখ্যা নয়, বরং কতিপয় জ্ঞানপিপাসু মানুষ; তাই তাদের পরিমাণ বা পরিসংখ্যান এনিটাসের নিছক ভোটার নির্ভর রাজনীতিতে যে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না, এটা বোঝার মতো মগজ এই আদম বেপারীর ছিলো না। তবে হ্যাঁ, নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের বাছ-বিচারহীন চাহিদা ও সস্তা জনপ্রিয়তার তাগিদে নৈতিকতা বিবর্জিত অসাধু ও অদূরদর্শী নীতির পক্ষেও যারা অবস্থান নিতে পারে&Ntilde; এমন সুবিধাবাদী সমাজপতি বকধার্মিক ও তথাকথিত নেতাদের নিকট সক্রেটিস মোটেই সুবিধাজনক ব্যক্তি ছিলেন না।


এনিটাস ছিলেন মেধাহীন স্বার্থপর দুষ্ট প্রকৃতির মানুষের প্রধানতম নেতা। তাই তিনি ন্যায়বিচার, সুনীতি ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রত্যক্ষ কারিগর সক্রেটিসকে সরিয়ে দিতে চেয়েছেন। কেবল এথেন্স বা গ্রিস থেকে নয়, একেবারে দুনিয়া থেকে। মেলিটাস নামক এক কবিকে দিয়ে, সক্রেটিসের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা অভিযোগ তুলে একেবারে মামলা জুড়ে দিলেন তিনি। তৎকালীন এথেন্সের বিচারিক আদালতও ছিলো গণতান্ত্রিক অর্থাৎ ভোট নির্ভর। অনাকাক্সিক্ষত হলেও অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আদম কারবারি এনিটাসের হাতে ছিল অধিক পরিমাণে ভোট-অস্ত্র। খুবই অল্প ভোটে সক্রেটিসের পক্ষ হেরে গেল। হেমলক পান করে মর্তলোক থেকে বিদায় নিতে হলো তাঁকে। তবে সক্রেটিসের নিকট এটাতে হারানোর কিছু ছিল না, কেননা তাঁর ভাবনায় মৃত্যু মানে ইহলোকের সংকীর্ণ জীবন থেকে মহাজীবনে গমন। আর পুণ্যবানদের জন্য সেটিই হচ্ছে আসল গন্তব্য। তিনি বলতেন, &ldquo;কোন মানুষের কাছে সাধন করার মতো মহৎ যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে তাঁর কাছে প্রশ্ন জীবন কিংবা মৃত্যুর নয়; বরং ইহকালীন জীবনে আপন কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে সে কোন প্রকার অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিলো কিনা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।&rdquo; তৎকালীন গ্রিসীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি বোধ হয় এই যে, তারা তার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে গণতন্ত্রের হাত দিয়েই হত্যা করেছে।


গণতন্ত্রের সূচনাপর্ব বলে সুনামধারী সেই সময়কার গ্রিক নগর রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সকল উৎকর্ষের মধ্যেও যেসকল মৌলিক মন্দ দিক ছিলো তার মধ্যে অন্যতম ছিলো লোকবলহীন জ্ঞানবলধারী গুণীদের অবমূল্যায়নের আশঙ্কা। গণতন্ত্রে জ্ঞানী মানুষের কদর নেই, কদর থাকে গড়পরতা মানুষের। এখানে অংকের একটি ব্যাপার আছে, ভোটের অংক। নেতাদের কদরও এখানে সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতারা কে কত দক্ষ, বিজ্ঞ, ভালো মানুষ তার চাইতে বিবেচনার বিষয় হলো কার পিছনে কত মানুষ আছে; মানুষ মানেই ভোটার, আর ভোট মানেই গণতন্ত্রের, আর ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জনই হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল গ্রন্থব্য।


একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কোনো কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত বিষয় পরিলক্ষিত হয়। দারিদ্র, ব্যাপক ধণবৈষম্য, নৈতিক মূল্যবোধসমৃদ্ধ শিক্ষার অভাব, অন্ধ-সা&curren;প্রদায়িকতা এই অশুভ সম্ভাবনাকে সাধারণত বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ঐতিহাসিকভাবেই এই রোগে আক্রান্ত। এখানে ক্ষমতাসীন দল এমনকি ক্ষমতার বাইরে থাকা অধিকাংশ দলই তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে মুখ্যত জনবলকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দলীয় পদ-পদবীকে ব্যক্তি-স্বার্থে গোষ্ঠী-স্বার্থে, ব্যবহার করার ফিন্দী-ফিকির জানে&Ntilde; তেমন কিছু তথাকথিত নেতা নানা রকম লোভ-লালসায় বেচাকিনি হয়&Ntilde; এ ধরনের লোকদের নিয়ে দলবাজিতে অনেক সময় এগিয়ে থাকে। আর বাস্তবতা হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত সংখ্যাতাত্তি&iexcl;ক হিসেবের উপরেই অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতৃত্ব ভাগাভাগি করে। এই অশুভ বাস্তবতার ফাঁদ থেকে মুক্ত হওয়ার আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরই দায়িত্ব। তবে বাংলাদেশের মতো কোনো ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাধারী দরিদ্র দেশে উদার মানবতাবাদী এবং সর্বজনীন কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শে পরিচালিত এবং সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত কোনো দলের পক্ষে ক্ষমতার মসনদে আসীন হওয়া অনেকটাই অসম্ভব বলা চলে। যতদিন পর্যন্ত দেশে প্রজ্ঞাবান, দক্ষ, নৈতিক নেতৃত্বের আধিক্য রাজনৈতিক দলগুলোতে দেখা না যাবে, ততদিন পর্যন্ত নিছক সাংবিধানিক শুদ্ধিতা, ভোটাভুটি আর ক্ষমতার পালাবদল দিয়ে সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।

লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
sowkot.hossain@juniv.edu]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 16 Jul 2026 07:13:21 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধস: নিহত ২৬, বিপর্যস্ত লাখো মানুষ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/17147" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/17147</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত সাত দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন কক্সবাজার জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ। গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে জেলায় মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নৌকায় যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের ১২ বছর বয়সী মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা মারা যায়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে একই উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

আমার বাঙলা/ রাব্বি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 11 Jul 2026 06:36:57 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[দুই বাংলার দুই নতুন সরকার কি নজর দেবেন মৈত্রী-বন্ধন এবং উত্তরের মিতালী এক্সপ্রেসে? ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17109" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/17109</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার আগে এপার এবং ওপার বাংলার যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে খোলা ছিল কলকাতা থেকে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে দেশীয় রাজ্য কোচবিহার-এর সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ-এর রেল যোগাযোগের ইতিহাস ছিল সোনালী। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে উত্তরবঙ্গকে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। ১৮৯৩-৯৪ সালে দেশীয় কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে চালু করেন। প্রথমে এই রেলপথ তোর্ষা নদীর তীর থেকে গিতালদহ পর্যন্ত নির্মিত হয়। গিতালদহ ছিল তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন, যেখান থেকে সরাসরি রেলপথ গিয়েছিল লালমনিরহাট হয়ে ঢাকার দিকে। এই রেলপথের দেশভাগের আগে কোচবিহার থেকে গিতালদহ হয়ে বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি ট্রেন চলাচল করত। তবে দেশভাগ ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ সংঘাত ব্যাঘাত ঘটায় সেই পরিষেবায়। এরপর মাঝে কিছু মালবাহী ট্রেন লালমণিহাটের মোগলহাট হয়ে গীতালদহ দিয়ে ভারতে চলাচল করলেও নদীভাঙনে একাধিক ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দুই দেশের উত্তরবঙ্গে একেবারেই অচল হয়ে ভারত-বাংলাদেশের রেলপরিষেবা। মোগলহাট স্টেশনটি দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও পড়ে দুই দেশে।

এরপর তিস্তা-মেঘনা-গঙ্গা- পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। জলের হিসেব তো আজো মেলেনি, কিন্তু ২০০১ সালে ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রথম কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে একটি ট্রেন। ভারত-বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মিলিত ভাবে যার নামকরণ করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে। ভারতে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রথম বাঙালী ভারতীয় রাষ্টপতি প্রণব মুখার্জী। ট্রেনটি প্রথম দিকে সপ্তাহে ১ দিনের জন্যে চালু হলেও পরবর্তীতে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে ৫ দিন ধরে যাতায়াত করতে শুরু করে। এই ট্রেন শুধুমাত্র দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছিল এমনটা নয়, আন্তর্জাতিক বানিজ্যের পথও প্রসারিত করে। তৎসহ দুই প্রান্তের মানুষের চলাচলে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবের ফ্রেমে উঠে আসে অনেক আবেগঘণ মুহূর্ত। ফেলে রাখা দিনের স্মৃতি ও ইতিহাস। এই উন্নয়নের পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৭ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা ও এলএইচবি কোচের সংযোগ করা হয় ভারতীয় রেলমন্ত্রকের তরফে।

এরপর একই সূত্র ধরে ৫২ বৎসর পর কোলকাতা ও খুলনার সাথে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস। বন্ধন শব্দের অর্থ হল সংযোগ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের অন্যতম সংযোগকারী, এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হয় ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর। এই ট্রেনে উভয় দেশের বগি ও ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় যার ফলে যাত্রীদের সীমান্তে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো না। অতএব ইমিগ্রেশন ব্যবস্হাকে অনেক সহজ করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক অস্হিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারনে এই ট্রেনটিও ১৮ জুলাই ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে ।

কিন্তু মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করার ফলে দুই দেশের উত্তরবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা বা বাংলাদেশের সরাসরি রেল যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। সীমান্ত ছাড়িয়ে বাংলা ভাষার এই বিস্তৃত জমিনে যোগাযোগের সেই প্রতিকূলতা কাটাতেই ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমজনতার কথা মাথায় রেখে এবং ভারত বাংলাদেশের মিত্রতাকে আরোও দৃঢ় করে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্য দিয়ে দুটি দেশেরই সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও ট্যুরিজমের অগ্রগতি সাধনে দুই দেশের সদিচ্ছায় এবং জনগণের কল্যাণে আরও একটি ট্রেনের উদ্বোধন হয়। যার নামকরণ করা হয় মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে এই ট্রেনের উদ্বোধন হলেও যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ১ জুন থেকে। এই ট্রেনটি শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (এনজেপি) থেকে যাত্রা শুরু করে পৌঁছাতো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত। শিলিগুড়ি (এনজেপি) থেকে ট্রেনটি ছাড়তো সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে আর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাতো রাত সাড়ে ১০টায়, মোট সময় লাগতো ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে বলে কথিত শিলিগুড়ি শহর রেল যোগাযোগ মাধ্যম একদিকে যেমন সিকিম, অসম, অরুণাচল, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার মতো প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যদিকে ট্রেন লাইনে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের প্রান্তদেশ পাশাকা থেকে নেপাল সীমান্তের নকশালবাড়ী পানিট্যাঙ্কি। ইদানিংকালে এই এলাকার যোগাযোগ-ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি এই এলাকার বাণিজ্যিক পরিসরের ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটিছে। তাই মিতালি এক্সপ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই উত্তর-পূর্ব ভারতের ও তৎসংলগ্ন দেশগুলির সরাসরি সংযোগস্থাপন ঘটে। শুধুমাত্র পর্যটন নয়, এই সংযোগস্থাপন দুই দেশের স্বাস্থ্য ট্যুরিজম এমনকি আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যের এক পথপ্রদর্শক হিসেবে ভুমিকা নিতে শুরু করে।

এই পরিবর্তনের প্রভাবে যাত্রীদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ট্রেন। ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ে যাত্রী সংখ্যা। উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও দেশি-বিদেশি নানাবিধ শহরের যোগাযোগের জন্যও অচিরেই উত্তরবঙ্গ প্রবেশের ভরসার মাধ্যম হয়ে ওঠে এই ট্রেন। এই রেল পরিষেবা চালুর সময় জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহর (এনজেপি)- তে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকরী হয় অভিবাসন দপ্তরের কাজকর্ম। তবে ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেলে প্রথম একবার বন্ধ রাখা হয় এই ট্রেন। ২০২২ সালে পুনরায় তা চালু হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে এই দুই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই পুনরায় ট্রেন দুটি চালুর বিষয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগকারী মিতালি এক্সপ্রেস ঘিরে উঠেছে গুঞ্জন ও আলোড়ন। কেননা এই এলাকার মানুষ জনের মাঝে প্রথিত রয়েছে আবেগ দেশভাগ ও ইতিহাসের এক নিবিড় সংযোগ।

সেই সূত্র ধরে ভারতীয় উত্তরবাংলার প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়া বিশিষ্ট মানুষজনের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম নিতে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-র অন্যতম প্রধান নেতা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার শেকড় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জড়িত। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত দিনাজপুরের অংশ জলপাইগুড়ি শহরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় কেটেছে তার শৈশব। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে বা দেশভাগের পর, তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে চলে যান। জলপাইগুড়ি শহরে আজও তিনি স্থানীয়দের কাছে &#39;পুতুল&#39; নামেই পরিচিত। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র জন্মস্থান কিংবা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সীমান্ত বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় খালেদা জিয়ার নাম বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রানজিট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বারবার আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই বঙ্গেও নেমে আসে শোকের ছায়া।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত হুসেন মহম্মদ এরশাদ এর জীবনও উত্তরবঙ্গের এর সাথে জড়িত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাকে উত্তরবঙ্গের নেতাও বলা হত। সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব গায়ক আব্বাসউদ্দীনও ছিলেন উত্তরের বাসিন্দা। অন্যদিকে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে চলে আসে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সতীনাথ ভাদুড়ি, দেবেশ রায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। এই তালিকা অতএব দীর্ঘ।

এইভাবে যারা দেশভাগের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছিলেন, তাদের জন্য সেইসব পরিবারের জন্য এইসব ট্রেন আসলে একটি আবেগের সেতুবন্ধন। তাদের মাধ্যমে দুই বাংলার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভাষা ও সংস্কৃতির মিল আরও দৃঢ় হয়। পরিব্যপ্তি ঘটে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকে মিতালি এক্সপ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। দুই বাংলার এই দুটি প্রান্ত দুই দেশের জন্যই একটি বড় ও সম্ভাবনাময় বাজার হওয়ায়, এই দুই এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হয় এবং সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন ও লজিস্টিক খাত চাঙ্গা হয় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই ট্রেন সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উত্তরের দিকে ভারত&ndash;বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ হয়। এই ট্রেন দুটি চালু থাকলে মানুষের চলাচল বাড়বে, বাজার সক্রিয় হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারিও বাড়ানো সম্ভব, যা অবৈধ পাচার কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়াও দার্জিলিং, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের মতো উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ট্রেন পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, যার ফলে ভারতের হোটেল, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পরবে। এছাড়া বর্তমানে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে মনিপাল, মেদান্ত, এ্যাপেলো, টাটা গ্রুপের উন্নতমানের হাসপাতাল পরিষেবা। এই ট্রেন দুটি পুনরায় চালু হলে তার পরিষেবার পরিসর অতিসহজে পৌঁছাবে বাংলাদেশেও।

লালমনিরহাটের মোগলহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বুড়িমারী সিএনএফ বন্ধু ট্রেডার্সের কর্নাধার শামীম হোসেন জানান, মোগলহাটের মানুষ চায় আবারও ট্রেনের সংযোগ স্হাপিত হোক কোচবিহারের সাথে। এমন মতামত পোষন করেন এমন লোকজনের সংখ্যা অসংখ্য।

ভিসা জটিলতা কেটে গেলে, এই ট্রেন পরিষেবা আবার চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ভারত&ndash;বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করছেন দুই দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই। দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে এবং সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অতিসত্বর এই রেল পরিষেবা আবার চালু করবেন, সেই আশায় তাঁরা নিচ্ছেন আবেগের আঁচ।


লেখক জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 08 Jul 2026 12:52:21 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন দিগন্ত:]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16714" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16714</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে ২০২৬ সালের জুন মাস একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অর্ধশতাব্দী অতিক্রম করার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় চীন সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং উন্নয়ন কৌশলের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনাময় এক মাইলফলক।

বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক প্রকল্পভিত্তিক সহযোগিতা থেকে ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। এই বাস্তবতায় বেইজিং সফর এবং সফর শেষে সম্ভাব্য যৌথ ইশতেহার ঘোষণা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশে চীনের অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা নির্মাণ অংশীদারিত্ব রয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প, রেল অবকাঠামো এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নে চীনের অংশগ্রহণ এ সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম আমদানি উৎস হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। এ কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চীনা বাজারে অধিকতর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, কৃষিপণ্য ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সম্ভাব্য ১৫টিরও বেশি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা কাঠামো স্বাক্ষর। উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি শিক্ষা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং ভাষা শিক্ষার মতো বহুমাত্রিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে নতুন গতি দিতে পারে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে মোংলাকে একটি আধুনিক আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে রূপান্তর করার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, রপ্তানি ব্যয় কমবে এবং বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চীনের &lsquo;গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ&rsquo; (জিডিআই)-এ বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এই উদ্যোগ ঘোষণা করেন। এর মূল লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হলে তা ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চীনের আরেকটি বড় বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার পথ খুলে দেবে।

বিআরআইয়ের আওতায় গত এক দশকে বাংলাদেশে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ এসেছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের চাহিদা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। দেশ এখন প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণা সহযোগিতা, উচ্চমূল্য সংযোজন শিল্প এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক কারিগরি শিক্ষার মতো খাতে সহযোগিতা বাংলাদেশের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করতে পারে।

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। গত দুই দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে দেশটি বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশকে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগ আকর্ষণ এখন সময়ের দাবি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। দেশীয় সঞ্চয় ও ব্যাংকিং খাতের সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ে আয়োজিত &lsquo;বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম&rsquo; বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বিদেশে নতুন বিনিয়োগ গন্তব্য খুঁজছে। বাংলাদেশের তরুণ শ্রমশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৃহৎ বাজার সেই বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এই সফরের গুরুত্ব কেবল অর্থনৈতিক নয়; এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ক্রমশ কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন &lsquo;সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়&rsquo; আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ যেমন ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধা এবং পশ্চিমা বিনিয়োগও দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতাও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো একটি শক্তির প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সফরের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্প্রসারণ। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক এবং দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক আস্থা ও নীতিগত সমন্বয়ও যে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের &lsquo;সামার ডাভোস&rsquo; বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু সংকট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সম্পৃক্ততা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

তবে যেকোনো উন্নয়ন অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন। উন্নয়ন সহযোগিতা যেন ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি তৈরি না করে, প্রকল্পগুলো যেন অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হয় এবং দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে&mdash;সেদিকে নীতিনির্ধারকদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে প্রতিটি বড় চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।

পাঁচ দশকের পথচলার পর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আজ নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সফল হলে তা শুধু কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত ভারসাম্যকে সামনে রেখে পরিচালিত এই সফর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অভিযাত্রা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার এই নতুন সমীকরণ যদি বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফল, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই কর্মসংস্থানে রূপ নেয়, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের আগামী দশকের উন্নয়নযাত্রাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।

E-mail: msislam.sumon@gmail.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 24 Jun 2026 10:43:29 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16702" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16702</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম। এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে জনাব আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাঁকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তাঁর ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন। তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল। তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তাঁর কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের &lsquo;খাবার দাবার&rsquo; দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তাঁর সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই। আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তাঁরা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।

আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক। ২০ জুন তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 23 Jun 2026 07:20:37 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কতখানি মুক্ত বাজারের পথে কিউবা?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16692" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16692</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মুক্ত বাজারের পথে হাঁটছে সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা চাপের মুখে পড়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এই সংস্কার আনছে দেশটি। গত বৃহস্পতিবার কিউবার আইনপ্রণেতারা প্রায় ২০০ মুক্ত বাণিজ্যসংক্রান্ত সংস্কার সামনে নিয়ে এসেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই সংস্কারগুলো চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

আইনসভায় এক বক্তব্যে কিউবার প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মারেরো ১৭৬টি পদক্ষেপের বিষয়ে জানান। মূলত ওই সংস্কার পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়ে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং থেকে শুরু করে পর্যটন, কৃষি খাতে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন সংস্কারের অধীনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসায় যেতে হবে না, বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হবে এবং কিউবান ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শেয়ার কিনতে পারবেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে কিউবা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রকাশ্যেই কিউবা দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত রাষ্ট্রটি। লন্ডনভিত্তিক কিউবান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল টোরালবাস নতুন পদক্ষেপগুলোকে ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর হাতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখছেন। দেশটির আইনসভায় গত বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমেই পদক্ষেপগুলো পাস হয়। অধিবেশন শেষ হয় দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেলের কণ্ঠে &lsquo;সমাজতন্ত্র অথবা মৃত্যু&rsquo; স্লোগানের মধ্য দিয়ে।

কিউবান প্রধানমন্ত্রী মারেরো পরিবর্তনগুলো প্রয়োগ করার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। তবে ডিয়াজ-ক্যানেল গত বুধবার বলেন, অর্থনীতির পতন ঠেকাতে &lsquo;জরুরি পরিবর্তন&rsquo; প্রয়োজন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার ওপর তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দেন। সে সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেও অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরো কিউবার মিত্র বলে পরিচিত ছিলেন। এর পর থেকেই রাষ্ট্রটির অর্থনীতির ওপর চাপ পড়তে থাকে এবং তা পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। এতে করে কমিউনিস্ট পার্টিও এমন ছাড়ের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছে, যা তারা আগে হয়তো কল্পনাও করত না। কিউবা বহু আগে থেকে নিজেদের অর্থনীতির প্রতিকূল অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে দোষ দিয়ে আসছিল। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানেলের মতে, এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, যা বাইরে থেকে আসেনি বা অবরোধের কারণেও তৈরি হয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির কিউবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান মাইকেল বুস্টামান্টে বলেন, &lsquo;এর আগে এভাবে দেয়ালে তাদের পিঠ ঠেকেনি। তারা নিজেদের অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার জন্য অস্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের চাপের মুখে ফেলেছে।&rsquo;

তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানাল দাবি করেন, এটি তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নয়, বরং সমাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণ বলছে, বছরের শুরু থেকে কিউবায় রাশিয়া থেকে পাঠানো শুধু একটি তেলের ট্যাংকার পৌঁছেছে।

বর্তমানে কিউবায় অনেক সময় টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। খাবার, জ্বালানি, সুপেয় পানি, ওষুধ&ndash; সবকিছুরই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন, কিউবায় শিশুরা চিকিৎসা রসদ ও ওষুধের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে।

কিউবার ৬৩ বছর বয়সী ব্যাংকার ভিক্টর হিরেজুয়েলো গত বৃহস্পতিবার বলেন, &lsquo;সংস্কার ছাড়া বিপ্লব টিকবে না।&rsquo; তবে এসব সংস্কারেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন গলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইরান যুদ্ধ অবসানের সমঝোতায় স্বাক্ষরের পর এখন ট্রাম্প কিউবা নিয়ে ভাববেন কি না। উত্তরে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন চায় কিউবার জনসাধারণ &lsquo;সুখী ও সফল&rsquo; হোক। তিনি আরও বলেন, &lsquo;আমরা আসলে এই মুহূর্তে কিউবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি যে তারা কীভাবে সে পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসতে পারে।&rsquo;

কিউবার নেতৃস্থানীয়দের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে চাপ বাড়িয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে মানবাধিকার গোষ্ঠীর দুটি বেসামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

আমার বাঙলঅ/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Jun 2026 09:06:02 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন,]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16678" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16678</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ও তার প্রভাব নির্মূল করা। তবে আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, যে শক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল, তাদের একটি অংশ এখনও বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই আন্দোলনের আগে &ldquo;ফ্যাসিস্ট&rdquo; শব্দটির ব্যবহার এতটা ব্যাপক ছিল না। আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার অবসান ঘটানোর প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, আন্দোলনের পর কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী গোপনে পূর্বের ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে চলেছে। তাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিনিময়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে। ফলে ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হয়ে বরং নতুন রূপে, নতুন মুখোশে আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকে জানতে চেয়েছেন, যদি জুলাই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যই হয়ে থাকে ফ্যাসিবাদ নির্মূল, তাহলে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে? তাদের মতে, পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি দুর্বল হলেও নতুন করে মুখোশধারী ফ্যাসিস্টদের উত্থান ঘটছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একসময় যাদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অনেক নেতার ঘনিষ্ঠতা ও সমঝোতার অভিযোগও সামনে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

তাদের মতে, আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে আপসের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অর্জন ক্ষুণ্ন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কাউকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা সমঝোতার ব্যাখ্যা কী হতে পারে? এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 11 Jun 2026 09:30:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16670" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16670</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিচারের আগেই কি কাউকে ফাঁসি দেওয়া যায়? এ প্রশ্ন শুনে অনেকেই অবাক হবেন হয়তো, ভাববেন, এটা কি কখনো সম্ভব নাকি?
আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপযুক্ত আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা আইনের শাসনের অন্যতম মৌলিক শর্ত। কিন্তু ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে প্রতি পদে। ইউনূসের শাসনামলে সবচেয়ে বড় কালো আইন ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধন।
এ আইন সংশোধন করে আন্ডার কাভার তদন্তের নামে হয়রানি, বিচারের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পত্তি ক্রোক করার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। এ দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়।
ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে দুদক সংশোধন অধ্যাদেশও ছিল। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে।গত ১১ এপ্রিল থেকেই আগের দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ গ্রহণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ওই অধ্যাদেশ ছিল সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। এতে তদন্ত ও বিচার ছাড়াই সম্পদ জব্দ করাসহ চরম স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে বিনা বিচারে সাজা দেওয়া কেবল বেআইনি নয়, রীতিমতো অপরাধ।কিন্তু ইউনূস সরকার দেড় বছর ধরে এই কাজটি করছে এ অধ্যাদেশ জারি করে। ইউনূসের কালো আইন বাতিল হলেও এ আইনের আওতায় যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের মুক্তি মেলেনি। অবৈধভাবে যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং যাদের সম্পত্তি বিচারের আগেই ক্রোক করা হয়েছিল, ইউনূসের কালো আইন বাতিলের ফলে সেসব কর্মকাণ্ড আপনাআপনিই আইনবহির্ভূত হয়ে যায়। তার পরও ভুক্তভোগীরা এখনো প্রতিকার পাননি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনূসের এ কালো আইনে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী এবং নিরীহ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের আগেই প্রায় ১ হাজার শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। ইউনূসের এ কালো আইনের কারণে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ফলে নতুন করে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক লাখ মানুষ। একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে বহু ভালো ব্যবসায়ী নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছেন। খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনো হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এটি ইউনূসের কালো আইনের ফল। যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে তারা ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে? আজ বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা করতে বিদেশ যেতেই হবে। কিন্তু বছরের পর বছর যদি উদ্যোক্তা, শিল্পপতিদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে? বিদেশে যেতে না পারায় অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে আর্থিক খাতে এবং অর্থনীতিতে।
বেসরকারি খাত এ কালো আইনের কারণে বিপর্যস্ত। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। ইউনূসের এ কালো আইনে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হয়েছে। দুর্নীতি দমন এবং অর্থ পাচার এখন সব দেশেরই বড় সমস্যা। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও এরকম নিকৃষ্ট কালো আইন নেই। ভারতে ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। অন্যদিকে, অর্থ পাচার প্রতিরোধে ২০০২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারতে দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে বলা হয় সিবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা)। অন্যদিকে অর্থ পাচার তদন্ত করে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)। ভারতের আইনে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের রায়ের আগে কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে পারে না। শুধু চার্জশিট প্রদানের পর আদালতের অনুমতি-সাপেক্ষে লেনদেন সীমিত করতে পারে। যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি পুরো টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যেতে না পারে। ভারতে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট প্রদান করতে হয়। কেবল অভিযোগ আছে এ কারণে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। ভারতে বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সময়কাল আদালতে পেশ করতে হয়। পাকিস্তানে এখনো ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইন কার্যকর। যে আইনে একমাত্র আদালতে দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সম্পদ জব্দ করা যায়। পাকিস্তানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাজ্যে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার (Money Laundering) রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনি কাঠামো রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে &lsquo;ক্লিন মানি&rsquo; বা স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে। ব্রিবারি অ্যাক্ট-২০১০ (Bribery Act 2010), যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী আইন, যা ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এ আইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার নেই। শুধু ব্যাংক হিসাব বিবরণীর যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রসিডিংস অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২ (Proceeds of Crime Act 2002-POCA) : এ আইনের অধীনে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ (যেমন- দুর্নীতি, মাদক বা অপরাধের অর্থ) এ আইনে প্রাথমিক তদন্তের পর যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে জব্দ করা যায়। কিন্তু এসব দেশে অন্তহীন সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে অন্তহীন মেয়াদে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, &lsquo;জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোনো স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। &rsquo; বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, &lsquo;একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে শুধু এ যুক্তিতে তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া যায় না। কেবল ফৌজদারি মামলায় আছে এ অজুহাতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। &rsquo; (৭৪ ডিএলআর)।
ইউনূস আমলে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এ কালো আইন বাতিল করেছে। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে যাদের সীমাহীন দুর্ভোগ হয়েছে তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি মেলেনি। অনতিবিলম্বে সরকার এ কালো আইনের আওতায় যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে, বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার আশা করি আর বিলম্ব করবে না।

অদিতি করিম, লেখক ও কলামিস্ট।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 09 Jun 2026 12:37:46 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গরম আর শুধু গরম নয়, এটি এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16636" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16636</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মোঃ শামীম মিয়া: বাংলাদেশের সামনে জলবায়ুর ভয়ংকর ভবিষ্যৎ জ্যৈষ্ঠের গরম বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এই ভুখন্ডের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরেই খরতাপ, লু হাওয়া আর ঘামে ভেজা দুপুরের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবারকার গরম শুধু তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে না, মানুষের সহ্যক্ষমতাকেও ভেঙে দিচ্ছে। বাতাসে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা, ভ্যাপসা আবহাওয়া, দমবন্ধ করা গুমোট পরিবেশ আর হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির অস্বাভাবিক আচরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
এখন আর গরমকে কেবল ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এই গরম শুধু অস্বস্তি তৈরি করছে না; এটি মানুষের শরীর, শ্রম, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। আজ বাংলাদেশের রাস্তায় বের হলেই বোঝা যায়, গরম কতটা নির্মম হয়ে উঠেছে। সকাল গড়ানোর আগেই শহরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। দুপুরে রাস্তায় হাঁটলে মনে হয় যেন আগুনের চুল্লির ভেতর দিয়ে চলা হচ্ছে। থার্মোমিটারে হয়তো ৩৭ বা ৩৮ ডিগ্রি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে মানুষের শরীর সেই তাপমাত্রাকে ৪৪ বা ৪৫ ডিগ্রির মতো অনুভব করছে।
কারণ বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। ঘাম ঝরছে, কিন্তু শরীর ঠান্ডা হচ্ছে না। ফলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, মাথা ঘুরছে, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। যে রিকশাচালক সারাদিন রোদে প্যাডেল ঘোরাচ্ছেন, যে নির্মাণশ্রমিক খোলা আকাশের নিচে কাজ করছেন, যে দিনমজুর ইট বহন করছেন কিংবা যে হকার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে জীবিকার লড়াই করছেন&Ntilde;তাদের জন্য এই গরম নিছক ঋতু নয়, এটি প্রতিদিনের যুদ্ধ।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ দাঁড়িয়ে আছে এই শ্রমজীবী মানুষের ঘামের উপর। কিন্তু সেই মানুষগুলোর জন্য আমাদের নগরব্যবস্থা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি কতটা মানবিক? প্রচন্ড গরমে কাজের সময় কমানোর কোনো কার্যকর নীতি নেই, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা নেই, পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থাও নেই। ফলে মানুষ কাজ না করলে যেমন না খেয়ে থাকার ভয়, তেমনি কাজ করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। এই নির্মম বাস্তবতা আমাদের উন্নয়নের ভেতরের ভয়ংকর বৈষম্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
শুধু শ্রমজীবী মানুষ নয়, শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, বৃদ্ধরা ঝুঁকিতে পড়ছেন, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সমস্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে গরমজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ আমাদের স্বাস্থ্যখাত এখনো এই নতুন জলবায়ুগত সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুত নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি কোনো সাময়িক ব্যতিক্রম নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষণ। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, আর দক্ষিণ এশিয়া তার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। বাংলাদেশ সেই ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতেই অবস্থান করছে।
বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়বে। দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশে এখন আমরা সেই বাস্তবতাই দেখছি। একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে হঠাৎ কালবৈশাখী, বজ্রপাত কিংবা অস্বাভাবিক বর্ষণ প্রকৃতি যেন তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সংকট কি শুধুই প্রকৃতির সৃষ্টি? উত্তর হলো&Ntilde;না। এর বড় অংশ মানুষের তৈরি। বিশেষ করে বাংলাদেশের শহরগুলো আজ নিজেরাই নিজেদের জন্য গরমের ফাঁদ তৈরি করেছে। ঢাকা এখন বিশ্বের অন্যতম উষ্ণ ও বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় চলে যাচ্ছে।
কারণ শহরের গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে, খাল-বিল ও জলাধার ভরাট করা হয়েছে, খোলা জায়গা ধ্বংস করা হয়েছে। চারদিকে শুধু কংক্রিটের দালান আর উত্তপ্ত রাস্তা। একসময় শহরে বড় বড় গাছ ছিল, পুকুর ছিল, খোলা মাঠ ছিল। এখন সেখানে শপিং মল, বহুতল ভবন আর কংক্রিটের দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে শহরে বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সূর্যের তাপ কংক্রিটে আটকে থাকে এবং রাতেও সেই তাপ বের হতে পারে না। এ কারণেই শহরগুলো &ldquo;হিট আইল্যান্ড&rdquo;-এ পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ উন্নয়নের নামে আমরা এমন এক নগরব্যবস্থা তৈরি করেছি, যা মানুষকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তুলছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এখনো পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
আমরা উন্নয়ন বলতে বুঝি বড় রাস্তা, উড়াল সড়ক, দালান আর মেগা প্রকল্প। কিন্তু একটি শহর কতটা বাসযোগ্য, মানুষ সেখানে কতটা স্বস্তিতে বাঁচতে পারছে সেই প্রশ্ন খুব কমই গুরুত্ব পায়। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো সভ্যতা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস বারবার সেটাই প্রমাণ করেছে। অথচ আমরা সেই একই ভুল করে চলেছি। নদী দখল করছি, গাছ কাটছি, জলাধার ভরাট করছি, পাহাড় ধ্বংস করছি&Ntilde;তারপর আবার প্রকৃতির প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হচ্ছি। এই গরম শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনৈতিক সংকটও। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা শ্রমঘণ্টা কমিয়ে দেয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে এবং অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ খোলা পরিবেশে কাজ করেন, সেখানে তাপপ্রবাহ সরাসরি জাতীয় অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলছে।
কৃষিক্ষেত্রও ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অতিরিক্ত গরমে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে, মাটির আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে, সেচব্যবস্থার উপর চাপ বাড়তে পারে। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলবে। দুঃখজনকভাবে, আমরা এখনো এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি না। অনেকেই মনে করেন, গরম তো প্রতি বছরই পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো আগের গরম আর এখনকার গরম এক নয়।
এখনকার গরমের পেছনে আছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশ ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের সম্মিলিত প্রভাব। সরকারের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, শহরাঞ্চলে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগানো নয়, সেগুলো সংরক্ষণেরও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাল-বিল ও জলাধার রক্ষা করতে হবে। কারণ পানি ও সবুজ পরিবেশই শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভ&sbquo;মিকা রাখে। তৃতীয়ত, শ্রমজীবী মানুষের জন্য &ldquo;হিট সেফটি পলিসি&rdquo; চালু করা প্রয়োজন। প্রচন্ড গরমে কাজের সময়সূচি পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিশ্রামের সুযোগ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চতুর্থত, স্বাস্থ্যখাতকে প্রস্তুত করতে হবে।
হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত রোগ মোকাবিলার বিশেষ ইউনিট প্রয়োজন। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও শক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। আমরা এখনো পরিবেশকে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে দেখি। অথচ পরিবেশ ধ্বংস মানে শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবন ধ্বংস। আজকের এই গুমোট গরম আসলে একটি কঠিন সতর্কবার্তা। প্রকৃতি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে&Ntilde;সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখনো যদি আমরা অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ ধ্বংস এবং জলবায়ু সংকটকে অবহেলা করি, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।
হয়তো এমন এক সময় আসবে, যখন গ্রীষ্ম মানেই হবে দীর্ঘ স্বাস্থ্যঝুঁকি, শ্রমহানি, খাদ্যসংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মৌসুম। তখন শুধু এসি-নির্ভর কিছু মানুষ নয়, পুরো সমাজই সংকটে পড়বে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ধনী-গরিব কাউকেই শেষ পর্যন্ত রেহাই দেয় না। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি কখনো প্রতিশোধ নেয় না; প্রকৃতি কেবল ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। আর সেই ভারসাম্যহীনতার মূল্য মানুষকেই দিতে হয়। অতএব, এই অসহনীয় গরমকে সাময়িক দুর্ভোগ ভেবে ভুল করলে চলবে না। এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের এক ভয়ংকর পূর্বাভাস। এই সংকেত বুঝতে না পারলে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন বাস্তবতা। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়&Ntilde;আমরা কি কংক্রিটের উত্তপ্ত নগরে ধীরে ধীরে অসুস্থ এক সমাজে পরিণত হব, নাকি পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথে হাঁটব? কারণ আজকের গরম শুধু আবহাওয়ার খবর নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
মোঃ শামীম মিয়া, শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, জুমারবাড়ী, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 01 Jun 2026 08:00:21 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[*জুয়ার আগুনে পুড়ছে জীবন, কার্যকর উদ্যোগ শূন্য*]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16612" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16612</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশে জুয়া এখন স্মার্টফোনের পর্দায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর নানা ধরনের নাম থাকলেও একে সবাই অনলাইন জুয়া বলে জানে। এই জুয়া খেলে সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনেকেই।

অনলাইন জুয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে (২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়) বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের সিংহভাগই তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবক।

অনলাইন জুয়া ২০১৮-২০১৯ সালের দিকে শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের সময় মানুষ যখন ঘরে অবরুদ্ধ, সে সময়ে বৃদ্ধি পায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। এই অবসরে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই সর্বনাশা জুয়ায় কত লোক পথে বসেছে, কত লোক নিঃস্ব হয়েছে এর সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষাধিক মানুষ জুয়ায় হেরে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংস্থাগুলোর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৩০% তীব্র মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আইন ও পুলিশের ভূমিকা অপ্রতুল। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০-এর বেশি জুয়ার সাইট এবং অসংখ্য মোবাইল অ্যাপ ব্লক হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার এবং দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার তাদের জমিজমা, ভিটেমাটি এবং শেষ সম্বল বিক্রি করে ঋণগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে পথে বসেছেন।

একসময় জুয়া মানে ছিল তাসের আড্ডা কিংবা গোপন আসর। এখন সেই জুয়া স্মার্টফোনের পর্দায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চলছে। একশ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জুয়ায় জড়াচ্ছে। তারা বিকাশ-নগদের লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি করেছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। কিশোর থেকে বৃদ্ধ বয়সি অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ংকর নেশায়। এ থেকে বাদ থাকছে না স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। এতে কেউ হারাচ্ছেন ব্যবসার মূলধন, কেউ বসতভিটা, কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়া শুধু মানুষকেই সর্বস্বান্ত করছে না, এর মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক ভাঙনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে। ফুটপাতের দোকানি, সিএনজিচালক, নির্মাণশ্রমিক, কলেজশিক্ষার্থী, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পর্যন্ত অনেকেই এখন নিয়মিত জড়াচ্ছেন বেটিং অ্যাপে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সিকে৪৪৪, সিভি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিক্রিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসক্তি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ জুয়ার জগতে প্রবেশ করতে পারছে। অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হওয়া কক্সবাজার শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, আগে ডলার দিয়ে খেলতে হতো, তাই লোক কম ছিল। এখন বিকাশে টাকা পাঠালেই খেলা যায়। সহজ হওয়ার কারণেই লোভে পড়ে সবাই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে এক সরকারি চাকরিজীবী এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পুরো টাকাই জুয়ায় হারিয়ে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাপে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন। এলাকায় কলেজছাত্র হৃদয় মিয়া বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকা জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষুব্ধ বন্ধুরা তাকে হত্যা করে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার এসএম পাড়ার ইমরান (২৮) অনলাইন জুয়ার ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। বগুড়ায় অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে খুন, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যশোরেও জুয়া খেলতে গিয়ে ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, অনলাইন অপরাধ দমনে জেলার সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চান না।

স্থানীয়রা বলছেন, অনলাইন জুয়ার কারণে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে স্বর্ণালংকার বিক্রি, পরিবারের টাকা আত্মসাৎ এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই বের হতে চাইলেও পারেন না। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট। মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। খেলোয়াড় হারলে কমিশন পান এজেন্টরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বসে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ করছে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি এমন এলাকাগুলোতে এ নেটওয়ার্ক বেশি সক্রিয়। কক্সবাজার, মেহেরপুর ও যশোরে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের আটক করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার &lsquo;মাস্টারমাইন্ড&rsquo; হিসেবে পরিচিত কমরপুর গ্রামের নবাবকে একসময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তার অনুপস্থিতিতে জুয়ার নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে আসেন মোরশেদুল আলম লিপু গাজী। তিনিও গত বছর অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক জেলায় অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

অসুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া মহামারিতে রূপ নিয়েছে। কয়েকশ তরুণ বিভিন্ন অ্যাপের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। মুজিবনগর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকায় অনেকের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। কেউ দোতলা বাড়ি করেছেন, কেউ বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। অথচ তাদের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় নেই। মেহেরপুর পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়ার অ্যাপ শনাক্ত ও বন্ধ করার কাজ চলছে। তবে মূল হোতারা বিদেশে অবস্থান করায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। একাধিক এমএফএস এজেন্ট জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বড় অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বলে তাদের ধারণা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে পরিচালিত একটি বেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার থেকে ৯ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের আরও অনেক জেলায় জুয়ার এজেন্টদের গ্রেপ্তারের নজির আছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অ্যাপগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, অনলাইন জুয়া, হুন্ডি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে তারা নিজেরাই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালাচ্ছেন। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তারা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন পাঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেখানে টাকার প্রবাহ বেশি সেখানেই অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবার। মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হাব হওয়ায় সেখানে অনলাইনের জুয়ার হাট বেশ চাঙা। আসক্ত হয়ে পড়েছেন ওখানকার শ্রমিকরা।

পুলিশ ও সাইবার ইউনিট বলছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। ফলে মূল চক্র অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন জুয়া দেশের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিকসংকটে পরিণত হতে পারে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 19 May 2026 13:36:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানের ৮৫ দিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16562" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16562</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত&mdash;এই ৮৫ দিনের সময়কাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরপর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় এই সময়কে একটি &ldquo;প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণের অধ্যায়&rdquo; হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে প্রথম ৮৫ দিন ছিল মূলত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত দিকনির্দেশনা তৈরি করার সময়।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন

সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ অস্থিরতার পর প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা ছিল মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান &ldquo;নতুন বাংলাদেশ&rdquo; গড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে জনগণের সেবামুখী কাঠামোতে রূপান্তর করা।

এই সময় রাজনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি আনার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা

দেশের অর্থনীতি এই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক চাপ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মুখে ছিল। সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে।

জ্বালানি খাত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সৌর ও বায়ুশক্তি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়।

বিনিয়োগ ও শিল্পনীতি

বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে একক উইন্ডো সেবা চালু এবং করনীতি সহজীকরণ করা হয়। শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রপ্তানি খাত

তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং আইটি রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা হয়। বৈদেশিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করা হয়।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর

এই সময়ে ডিজিটাল অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স এবং স্টার্টআপ খাতকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়।

সরকার ই-গভর্নেন্স সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূমি সেবা, কর প্রদান, লাইসেন্সিং এবং নাগরিক সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। এর ফলে সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন

প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নে সরকার ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে। দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাসে &ldquo;শূন্য সহনশীলতা&rdquo; নীতি বাস্তবায়ন শুরু হয়।

সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। একই সঙ্গে সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য একটি সুশাসন সূচক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ও স্বাস্থ্যখাত

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং টেলিমেডিসিন সেবা সম্প্রসারণ করা হয়। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থা

শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং আধুনিক কারিকুলাম উন্নয়ন শুরু করা হয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।

কর্মসংস্থান

তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হয়, যেখানে আইটি, ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকায়ন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়। শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি আনা হয়।

নারী ও শিশু নিরাপত্তায় বিশেষ ইউনিট এবং জরুরি হটলাইন চালু করা হয়, যা সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সরকার ও বিকেন্দ্রীকরণ

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। এতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর চাপ কমে।

প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক কূটনীতি

প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দ্রুত রেমিট্যান্স ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়।বৈদেশিক নীতিতে অর্থনৈতিক

কূটনীতি প্রধান অগ্রাধিকার পায়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের পথ শক্তিশালী করা হয়।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

এই অগ্রগতির মধ্যেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং বৃহৎ পরিসরে চাকরি তৈরি সময়সাপেক্ষ। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখনো সম্পূর্ণ অর্জিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, যা নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক আস্থা স্থায়ী করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা এখনো একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে এই ৮৫ দিন মূলত একটি রূপান্তরের শুরু, যেখানে কাঠামো তৈরি হয়েছে কিন্তু পূর্ণ ফলাফল এখনো দৃশ্যমান নয়।

পরিশেষে বলতে যায়,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ৮৫ দিন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় এক নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা করেছে। এই সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এই সময়কাল উন্নয়নের চূড়ান্ত পর্যায় নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করবে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের আস্থার ওপর।

লেখক : কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক . প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি , ইমেইল : drmazed96@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 12 May 2026 12:20:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাওর অঞ্চলের বোরো বিপর্যয়; ১২ লাখ টন  খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার কি প্রস্তত?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16535" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16535</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওর জেলা দেয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা তিন কোটি ৮০ থেকে তিন কোটি ৮৫ লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় তিন কোটি ৭৭ লাখ টন। পরের বছরে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে তিন কোটি ৯১ লাখ টনে, ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়বে। এক দশকের বেশি সময় ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি থাকলেও চলতি অর্থবছরেই দেশকে ১২ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছে। এবার প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধানের উৎপাদন হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাবছরের জন্যই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা রয়েছে। চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 09 May 2026 09:18:30 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
