<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla opinion Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Tue, 07 Apr 2026 11:28:07 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[গ্রীষ্মের নীরব আতঙ্ক: ডেঙ্গু কারণ, জটিলতা ও করণীয়]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16255" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16255</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গ্রীষ্মকাল এলেই আমাদের চারপাশে নীরবে ছড়িয়ে পড়ে এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়ংকর হুমকি ডেঙ্গু। একসময় এটি মৌসুমি জ্বর হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিষ্কার পানির জমে থাকা এসব কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ছে। ফলে গরমের সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক নীরব আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরমে কেন বাড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি?

ডেঙ্গু মূলত এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশা নোংরা পানিতে নয়, বরং পরিষ্কার স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। গ্রীষ্মকালে এর বিস্তারের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে;-

উচ্চ তাপমাত্রা মশার জীবনচক্রকে দ্রুততর করে
অল্প পানিতেই ডিম পাড়তে পারে
দিনের বেলাতেই বেশি সক্রিয় থাকে
বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকে
ছাদে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পানিভর্তি ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র এসবই এডিস মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র। তাই গরমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ডেঙ্গুর প্রকারভেদ;-ডেঙ্গু সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে

১. সাধারণ ডেঙ্গু:
হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও হাড়ে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা যায়।

২. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার:
এটি গুরুতর রূপ, যেখানে নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, ত্বকে লাল দাগ এবং প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

৩. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম:
সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা। এতে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে।


লক্ষণ: কখন সতর্ক হবেন

ডেঙ্গু সংক্রমণের ৪&ndash;৭ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে জটিলতা বাড়তে পারে।

সাধারণ লক্ষণ:

জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে ফুসকুড়ি।

সতর্কতামূলক লক্ষণ:

তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ ও অতিরিক্ত দুর্বলতা।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর জটিলতা ডেঙ্গু অবহেলা করলে তা দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে। যেমন ;-

প্লাটিলেট কমে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ

শরীরে তরল জমে শ্বাসকষ্ট
লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়; গ্রীষ্মকালেও এর প্রভাব বাড়ছে। শহরাঞ্চলে আক্রান্তের হার বেশি এবং তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীও উল্লেখযোগ্যভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ডেঙ্গু এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।

প্রতিরোধই প্রধান উপায়

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকায় প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়;-

পরিবেশগতভাবে:

কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, ড্রাম, টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে:মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু হলে করণীয়;-

পর্যাপ্ত বিশ্রাম
প্রচুর পানি ও তরল গ্রহণ
ডাবের পানি, স্যুপ ও ওরস্যালাইন পান
নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘরোয়া যত্ন,ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ যত্ন সহায়ক হতে পারে;-
পর্যাপ্ত পানি পান
সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার
ফলের রস ও তরল খাবার
শরীর ঠান্ডা রাখা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
তবে এগুলো কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কখন হাসপাতালে যাবেন ? নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে;-
প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া
রক্তক্ষরণ
শ্বাসকষ্ট
অচেতনতা
তীব্র দুর্বলতা

সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ অপরিহার্য। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্রসঙ্গে

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ডেঙ্গু একটি জটিল ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত। নিজে নিজে ওষুধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পরিশেষে;-

গ্রীষ্মের এই নীরব আতঙ্ক ডেঙ্গু আমাদের অসচেতনতার সুযোগ নেয়। তবে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হলো মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগই পারে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 07 Apr 2026 11:28:07 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রত্যাশার নারায়ণগঞ্জ: হতাশার নারায়ণগঞ্জ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16239" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16239</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[উন্নয়নের বেড়াজালে বিপন্ন জনজীবন। শহরের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা আর সীমাহীন দুর্ভোগ। নারায়ণগঞ্জ শহরের বর্তমান হালচিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই যে,এটা শহর না অন্য কিছু ? আপনি যদি জীবনে প্রথম নারায়ণগঞ্জ এসে থাকেন তাহলে চরম হতাশ হতে হবে আপনাকে। শহরে ঢুকলেই মনে প্রশ্ন জাগবে এটা কি নারায়ণগঞ্জ? এটা কেমন নারায়ণগঞ্জ?

জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডারের দই মিষ্টান্ন খেয়ে মন ভরে যাবে।বোস কেবিনে বসে চপ,কাটলেট,চা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন। তারপর? তারপর আশ্বস্ত হওয়ার মত কিছুই নেই। ডমিনোজ,কে এফ সি,আড়ং,ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড থেকে শুরু করে প্রায় সব ব্রান্ডের শো রুম দাঁড়িয়ে আছে শহরময়। বাণিজ্যিক এলাকা নিতাইগন্জে কর্ম ব্যস্ত সবাই। নয়ামাটি হোসিয়ারী পল্লীতে উৎপাদন এবং বেচাকেনা চলছে সমানতালে। ব্যাস। এরপর আর বলার কিছু নেই।

শহরে প্রবেশ করলেই থমকে যেতে হয় সবাইকে। রাস্তায় চলাচল করতে হলে সাত বার ভাবতে হয় এই ভেবে যে,এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা বলে কিছু আছে কি - না ? সারা শহর ব্যাটারী চালিত রিক্সায় সয়লাব। দেখলে মনে হয় যেন অটো রিক্সার হাট বসেছে। সারা শহর যানজটের ফাঁদে জিম্মি। পথচারীর চলাচলের জায়গা নেই। ফুটপাথ হকারদের দখলে চলে গেছে অনেক আগেই। চাঁদা আদায়ের বিনিময়ে ফুটপাথের দখলদারিত্ব শুধু হাত বদল হয়েছে,কিন্ত ব্যবস্থাপনার কোন পরিবর্তন হয়নি। বলার কেউ নেই,এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথাও নেই। ট্রাফিক পুলিশ,জেলা প্রশাসন,সিটি কর্পোরেশন,রাজনীতিবিদ সবাই চুপ। সংবাদমাধ্যমে দু একটা লেখালেখি দেখা গেলেও বাস্তবে কোন কার্যক্রম দেখা যায় না।

এমন অব্যবস্থাপনা যেন নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অমোঘ নিয়তি। জনপ্রতিনিধিহীন এই শহরে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও কম দায়ী নয়।

সাংবিধানিক ভাবে প্রশাসনের কর্ম পরিধির সু স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও সীমাবদ্ধতার কথা বলে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উন্নয়নমূলক কোন কাজ সঠিক ভাবে এবং যথাসময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না।

উন্নয়নের নামে শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব ক&#39;টি খাল ভরাট করে কার্যত শহরটিকে গলা টিপে মেরে ফেলা হয়েছে। পানি নিস্কাশনের কার্যকর কোন ব্যবস্থা না করেই জলাধার গুলো ভরাট করে উন্নয়নের যে মডেল দাঁড় করানো হয়েছে তা এখন নগরবাসীর কাছে নির্মম প্রহসন বলেই মনে হয়।

গত বর্ষা মৌসুমে দশ মিনিটের বৃষ্টিপাতে চার পাঁচ ঘণ্টার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই দুর্ভোগের কথা ভুলতে না ভুলতেই আরেকটি বৃষ্টিপাতের মৌসুম সামনে হাজির। ড্রেন সংস্কারের নামে শহরের প্রায় সব সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।কিন্ত কাজের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)এর। কিন্ত বাস্তবে রাজউকের কোন ভুমিকা এখানে লক্ষ্য করা যায় না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে,রাজউক মুলত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নারায়ণগঞ্জ আলাদা শহর এবং সিটি কর্পোরেশন হওয়ার কারণে রাজউকের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এমন অবস্থায় জনমনে প্রশ্ন একটাই - এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?

তাই এখন সময়ের দাবী- রাজউকের আদলে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন না করলে বসবাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদক: তারিকুর রহমান রিপন, আমার বাঙলা, নারায়ণগঞ্জ

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 06 Apr 2026 11:03:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফুটপাত দখলের উন্মুক্ত লুটপাট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16142" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16142</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ফুটপাত-নগরের সবচেয়ে সাধারণ ও মৌলিক নাগরিক পরিসর। অথচ সেই ফুটপাতই আজ কার্যত আইনবহির্ভূত শক্তির নিয়ন্ত্রণে। ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হাঁটার জায়গা নেই, কিন্তু অবৈধ দোকান বসানোর জায়গার অভাব নেই। প্রশ্ন উঠছে-রাষ্ট্রের চোখের সামনে এই দখলদারি কি নিছক অক্ষমতা, নাকি এটি দীর্ঘদিনের লালিত এক ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার ফল?

হাঁটার অধিকার ছিনতাই, চাঁদার বাজার চালু ফুটপাতে দোকান বসানো এখন আর ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অংশ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট লোকের কাছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পৌঁছাতে হয়-না দিলে উচ্ছেদের ভয়, হুমকি, কখনো প্রকাশ্য ভয়ভীতি। এই অর্থ রাষ্ট্র পায় না, নগর কর্তৃপক্ষের কোষাগারে যায় না-যায় এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাতে। ফলাফল একটাই-পথচারী কোণঠাসা, শিশু-বয়স্ক-নারী সবাই ঝুঁকির মুখে। দুর্ঘটনা বাড়ছে, জনভোগান্তি বাড়ছে, অথচ দায় নেওয়ার কেউ নেই। আইন আছে, প্রয়োগ নেই-এই সুযোগেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সিন্ডিকেট

&gt;&gt;ময়মনসিংহ শহরে কার আইন চলছে?

&gt;&gt;ফুটপাত কি ক্ষমতাবানদের &#39;অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত&#39;?

&gt;&gt; জনগণের সরকারের কাছে অসহায় নগরবাসী জানতে চায়।

আইন অনুযায়ী ফুটপাত দখল অবৈধ। তবু বছরের পর বছর ময়মনসিংহ নগরীর একই দৃশ্য চলতে থাকা প্রমাণ করে-আইন প্রয়োগে হয় চরম শৈথিল্য, নয়তো কোথাও গুরুতর গাফিলতি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানের নাটক দেখা যায়, কিন্তু কয়েকদিন পরই ফুটপাত আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে জনমনে স্পষ্ট ধারণা জন্মেছে-এই অভিযান আসলে সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাময়িক প্রদর্শনী।

সুশীল ব্যক্তিদের মতে, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি, দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং কোথাও কোথাও অসাধু স্বার্থের উপস্থিতিই দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এই চাঁদাবাজি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। গ্রাম থেকে কাজের আশায় আসা দরিদ্র মানুষদের সামনে বিকল্প খুব কম সেই বাস্তবতাকে ঢাল বানিয়ে তাদের বাধ্য করা হয় অনিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হতে। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি শোষিত হচ্ছে- এই চিত্র ময়মনসিংহ নগর জীবনের নীরব নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে।

 

নীরব দর্শক রাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ নাগরিক: সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়-এই পরিস্থিতি নতুন নয়। বছরের পর বছর একই অভিযোগ, একই ভোগান্তি, একই প্রতিবেদন। তবু কার্যকর পরিবর্তন নেই। এতে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে-ফুটপাত কি তবে পথচারীর নয়? নাকি এটি ক্ষমতাবানদের &#39;অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত&#39;? দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নাগরিকরা নীরব থাকলে অন্যায় আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। কিন্তু দায় সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রের জনগণের সেবা সুরক্ষায় নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসনের। ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা, বৈধ লাইসেন্স ব্যবস্থা, নির্ধারিত হকার জোন এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সংকট সমাধান হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল অভিযান নয়, স্থায়ী নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের ভেতরে যদি কোথাও প্রশ্রয় বা গাফিলতির অভিযোগ থাকে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়-এটি আইনের শাসন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের সরাসরি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় স্থানীয় সরকার যতদিন স্পষ্ট অবস্থান না নেবে, ততদিন শহরের সবচেয়ে সাধারণ অধিকার নিরাপদে হাঁটার অধিকার-কেবল কাগজেই থেকে যাবে।

আমার বাঙলা/আরএ

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 19 Mar 2026 07:47:49 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আহলান সাহলান মাহে রমজান]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15569" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15569</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের জীবনে আবারও আগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরি। মুসলিম উম্মাহর জন্য এই মাস কেবল একটি সময়ের নাম নয়; বরং এটি আত্মার জাগরণ, নৈতিক সংশোধন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। তাই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় আমরা বলি&mdash; আহলান সাহলান ইয়া শাহরা রমজান, হে বরকতময় রমজান! তুমি আমাদের জীবনে স্বাগত।

রমজানের প্রতিটি দিন রহমতে ভরপুর, প্রতিটি রাত মাগফিরাতে সিক্ত এবং প্রতিটি মুহূর্ত নাজাতের সম্ভাবনায় আলোকিত। এই মাসেই মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন :- রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে:- মানুষের জন্য পথনির্দেশ, হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)

রোজা: তাকওয়া অর্জনের ফরজ বিধান

রমজানের মূল ফরজ ইবাদত হলো রোজা। তবে রোজার উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।&rdquo;

(সুরা আল-বাকারা: ১৮৩) তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা মানুষকে প্রকাশ্য ও গোপনে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানায়। মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরি আমাদের সেই তাকওয়ার পথে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানায়।

রোজা শুধু উপবাস নয়, চরিত্র গঠনের ইবাদত

রোজা মানুষের ভেতরের পশুত্বকে দমন করে এবং মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:- রোজা একটি ঢাল।

তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া করতে চায়, তবে সে বলবে&mdash;আমি রোজাদার।-(সহিহ বুখারি : ১৮৯৪; সহিহ মুসলিম : ১১৫১) এই হাদিস প্রমাণ করে, রোজার প্রকৃত শিক্ষা আচরণগত সংযমে নিহিত। যে রোজা মানুষকে মিথ্যা, পরনিন্দা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে পারে না, সে রোজা তার পূর্ণ ফল দিতে ব্যর্থ হয়।

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের মাস

রমজান হলো কুরআনের মাস। এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত, অনুধাবন ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের এক বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাহাবায়ে কেরাম রমজানে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতেন। কুরআন কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। রমজান সেই সত্যকে নতুন করে উপলব্ধি করার সময়।

তারাবি ও কিয়ামুল লাইল: গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ

রমজানের রাতগুলো ইবাদতের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তারাবির নামাজ মুসলিম সমাজে এক অনন্য ঈমানি আবহ সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:- যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

(সহিহ বুখারি: ২০০৯; সহিহ মুসলিম: ৭৫৯) রাতের নীরবতায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত শ্রবণ ও হৃদয়ে ধারণ করা ঈমানকে নবায়ন করে এবং আত্মাকে প্রশান্ত করে।

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম

রমজানের সবচেয়ে মহিমান্বিত উপহার হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা বলেন&mdash;লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।&rdquo;

(সুরা আল-কদর: ৩) রাসুলুল্লাহ (সা.( আমাদেরকে এই রাত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়ে বলেন:- তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।(সহিহ বুখারি: ২০১৭; সহিহ মুসলিম : ১১৬৯)

এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের ইবাদতের সমান&mdash;এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অসীম অনুগ্রহ।

দান-সদকা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

রমজান সহমর্মিতা ও মানবিকতার মাস। ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধি করে একজন রোজাদার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন:- রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল; আর রমজানে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।-(সহিহ বুখারি: ৬) জাকাত, ফিতরা ও নফল সদকার মাধ্যমে সমাজে ভারসাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তওবা ও মাগফিরাতের মাস

রমজান হলো তওবা কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন&mdash;যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করা হলো না, সে চরম দুর্ভাগা।&rdquo;

(জামে তিরমিজি: ৩৫৪৫) এই হাদিস আমাদের সতর্ক করে:- রমজানকে অবহেলায় কাটানো মানে আল্লাহর রহমত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা।

রমজান ১৪৪৭ হিজরি: জীবন বদলের আহ্বান

রমজান কোনো আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়; এটি জীবন বদলে দেওয়ার মাস। এই মাস আমাদের শেখায় সংযম, ইখলাস, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতি। যদি রমজান শেষে আমাদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতায় পরিবর্তন না আসে, তবে সেই রমজান আমাদের জীবনে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।

পরিশেষে, আসুন, মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরিকে আমরা কেবল রোজা রাখার মাস হিসেবে নয়; বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার আলোয় জীবন পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এই বরকতময় মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে ইবাদত করার তাওফিক দান করেন এবং রমজানকে আমাদের নাজাতের সোপান বানিয়ে দেন&mdash;আমিন।

আসার বাঙলা/আরএ

লেখক, কলাম লেখক ও ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধকার

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় ইসলামী গবেষণা সেন্টার।

ইমেইল, drmazed96@gmail.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 17 Feb 2026 09:08:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গণরায়ের দায়ভার: ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর শাসন, নৈতিকতা ও প্রত্যাশার হিসাব]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15511" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15511</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা.মু.মাহতাব হোসাইন মাজেদ: দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতার পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির বিপুল বিজয় দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের ঘটনা নয়; এটি ছিল সমাজের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, আশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। ভোটের ফলাফল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে&mdash;মানুষ আর প্রতিশ্রুতির বৃত্তে আবদ্ধ থাকতে চায় না, তারা দৃশ্যমান, টেকসই ও ন্যায্য শাসন প্রত্যাশা করে।

নির্বাচনকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি এবং ভোট-পরবর্তী জনপ্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বহুদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ ও প্রত্যাশার একটি নতুন স্রোত দেখা গেছে। এই রায় ছিল একটি সুস্পষ্ট বার্তা&mdash;রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ঘাটতি আর মেনে নেওয়া হবে না। ফলে এই বিপুল বিজয় নতুন সরকারের জন্য যেমন রাজনৈতিক সাফল্য, তেমনি এটি এক বিশাল নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়ভারও বটে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে শক্তিশালী গণম্যান্ডেট অর্জন করেছে, তা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণ তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার তুলে দিয়েছে পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন&mdash;এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, আর নতুন সরকার কতটা দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে।

মানুষের প্রত্যাশার তালিকায় সবার আগে আসে সুশাসন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষের জীবনে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, ঘুষ ও দালালনির্ভরতা এখনো বড় বাস্তবতা। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা&mdash;

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি থাকবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে অন্য সব সংস্কারের পথ অনেকটাই সুগম হবে&mdash;এ কথা মানুষ বিশ্বাস করতে চায়।

এরপরই আসে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন, যা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়&mdash;সব মিলিয়ে মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা&mdash;বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত নীতি। কাগুজে সূচকের উন্নতি নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তিই হবে অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড।

কর্মসংস্থান ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। শিক্ষিত তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। তারা শুধু চাকরি চায় না; চায় সম্মানজনক কাজ, ন্যায্য সুযোগ এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে হতাশা আরও বাড়বে। শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবাখাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে&mdash;এটাই মানুষের প্রত্যাশা।

একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও মানুষের বড় চাওয়া। বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এই খাতে অনিয়ম, প্রতারণা ও কূটনৈতিক দুর্বলতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সরকার চাইলে কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এতে রাষ্ট্রের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি প্রবাসী পরিবারগুলোর জীবনেও স্বস্তি ফিরবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা কম নয়। শিক্ষা যেন কেবল পরীক্ষানির্ভর ও সার্টিফিকেটকেন্দ্রিক না হয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়&mdash;এটাই সাধারণ মানুষের চাওয়া।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা খাত শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না&mdash;এই উপলব্ধি সমাজে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনের আরেকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান, ওষুধের প্রাপ্যতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

মানুষ চায়&mdash;চিকিৎসা যেন পণ্যে পরিণত না হয়, অসুস্থ হলে যেন সর্বস্ব বিক্রি করতে না হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসার মান উন্নত করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন সময়ের দাবি।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। অপরাধ দমনে কেবল দৃশ্যমান অভিযান নয়, প্রয়োজন কার্যকর বিচার ব্যবস্থা।

মামলার দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি এবং বিচার বিলম্ব মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে। নতুন সরকার যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নেয়, তবে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রশাসনের মানবিকতা ও দক্ষতা।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণে অহংকার ও উদাসীনতা থাকলে সরকার পরিবর্তন হলেও মানুষের ভোগান্তি কমে না।

ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতিশীলতা এবং নাগরিকবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনগণ বিভাজনের রাজনীতি নয়, স্থিতিশীলতা ও ঐক্য চায়। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী কণ্ঠকে দমনের সংস্কৃতি থেকে সরে আসাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয়। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে এই বিজয় আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নও মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শহরমুখী উন্নয়ন বৈষম্য বাড়িয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমান গুরুত্ব দিলে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও নতুন সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সবশেষে আসে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল ও দূষণ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করছে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস হলে তার দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে হবে। তাই টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে নীতিনির্ধারণের মূল ধারায় আনাই এখন সময়ের দাবি।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয় মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। মানুষের প্রত্যাশা নতুন সরকারের কাছে আকাশচুম্বী নয়&mdash;তা বাস্তব, ন্যায্য ও সময়োপযোগী। এই প্রত্যাশার দায়ভার সঠিকভাবে বহন করতে পারলেই সরকার মানুষের আস্থা অর্জন করবে। আর আস্থা অর্জিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনার পথ নিজেই অনেকটা মসৃণ হয়ে উঠবে। নতুন সরকারের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাসে ইতিবাচকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকার&mdash;এই সুযোগ কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

লেখক, কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ইমেইল, drmazed96@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 15 Feb 2026 15:14:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[উৎসবের ভোট সহিংসতা মুক্ত হোক]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15350" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15350</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সূর্য ওঠার আগে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা!

দৃশ্যমান নির্বাচন উপভোগ করবেন দেশের ১৭ কোটি জনগণ এবং বিদেশে থাকা এক কোটিরও বেশি মানুষ! এপারে নির্বাচনে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন।
অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যালেট বিপ্লবে ৫০ শতাংশই থাকছে নারী! এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের মন যারা জয় করতে পারবে বিজয়ের পাল্লা তাদের টাই ভারি হবে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজান।

রাত পোহালেই শুরু হবে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ টি আসন সহ সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের ভোট উৎসব।

এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউথ ভয়েস অব বাংলাদেশের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতির উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এনসিপি, খেলাফত মজলিস পৃথক পৃথক ভাষণ দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জরিপে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমন আভাস পাওয়া গেছে অনেক আগে! তবুও ভোটের মাঠে ব্যালেট বিপ্লবে ভয় আশঙ্কা ভর করছে প্রার্থীদের। প্রায় প্রতিটা আসনে জয় নিয়ে সকল প্রার্থীই আশাবাদী! কিন্তু বিজয়ের শেষ হাসি হাসবেন কেবল একজন! কোন আসনে কে জিতবেন এই নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ!

গণভোটে সরকারের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও জনগণের মাঝে তেমন একটা আগ্রহ উদ্দীপনা নেই! গণভোটে হ্যাঁ / না ভোট নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও নিজ নিজ সমর্থক এবং দলের প্রার্থীদের নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভোটারদের! নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা।

এখন প্রচার কার্যক্রম বন্ধ টেনশন শুরু! প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থক ভোটারদেরও বুক ধরফর করছে!

প্রিয় পছন্দের প্রার্থী জিতবে তো?
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভয়ও ভর করছে অনেকেন মাঝে! কেন্দ্র দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত সব দলের সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন এই দেশে রূপকথার গল্প!

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা তথা মুনাফিকি করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে প্রতিবারের নির্বাচনে এবারের নির্বাচনও ব্যতিক্রম হয়নি।একদল অন্য দলকে দোষারোপ করেছেন! সব দলই কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার বিষয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে! প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বাসে নাগরিক ভোটে এত অবিশ্বাস কেন রাজনীতিবিদের?

একদল আরেকদলকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন! বিশ্বাসের ভোটে অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব? সহিংসতা মুক্ত সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নাগরিক কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

রাজনীতিতে সততার জায়গা তৈরী হয়নি বরং সন্দেহ আতঙ্ক ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা পূর্বের মতোই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কারো কারো মতে বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন! আবার কেউ কেউ নতুন দিনের নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছেন।

ভোট একটি নাগরিক আমানত এবং অধিকার।
বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দেশের শান্তি চায়! এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ হোক সকল নাগরিকের। এটাই প্রত্যাশা আজকের বাংলাদেশের। লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা!
দৃশ্যমান নির্বাচন উপভোগ করবেন দেশের ১৭ কোটি জনগণ এবং বিদেশে থাকা এক কোটিরও বেশি মানুষ! এপারে নির্বাচনে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন।
অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যালেট বিপ্লবে ৫০ শতাংশই থাকছে নারী! এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের মন যারা জয় করতে পারবে বিজয়ের পাল্লা তাদের টাই ভারি হবে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজান।

রাত পোহালেই শুরু হবে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ টি আসন সহ সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের ভোট উৎসব।

এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউথ ভয়েস অব বাংলাদেশের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতির উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এনসিপি, খেলাফত মজলিস পৃথক পৃথক ভাষণ দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জরিপে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমন আভাস পাওয়া গেছে অনেক আগে! তবুও ভোটের মাঠে ব্যালেট বিপ্লবে ভয় আশঙ্কা ভর করছে প্রার্থীদের। প্রায় প্রতিটা আসনে জয় নিয়ে সকল প্রার্থীই আশাবাদী! কিন্তু বিজয়ের শেষ হাসি হাসবেন কেবল একজন! কোন আসনে কে জিতবেন এই নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ!

গণভোটে সরকারের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও জনগণের মাঝে তেমন একটা আগ্রহ উদ্দীপনা নেই! গণভোটে হ্যাঁ / না ভোট নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও নিজ নিজ সমর্থক এবং দলের প্রার্থীদের নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভোটারদের! নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা।

এখন প্রচার কার্যক্রম বন্ধ টেনশন শুরু! প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থক ভোটারদেরও বুক ধরফর করছে!

প্রিয় পছন্দের প্রার্থী জিতবে তো?
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভয়ও ভর করছে অনেকেন মাঝে! কেন্দ্র দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত সব দলের সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন এই দেশে রূপকথার গল্প!

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা তথা মুনাফিকি করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে প্রতিবারের নির্বাচনে এবারের নির্বাচনও ব্যতিক্রম হয়নি।একদল অন্য দলকে দোষারোপ করেছেন! সব দলই কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার বিষয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে! প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বাসে নাগরিক ভোটে এত অবিশ্বাস কেন রাজনীতিবিদের?

একদল আরেকদলকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন! বিশ্বাসের ভোটে অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব? সহিংসতা মুক্ত সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নাগরিক কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

রাজনীতিতে সততার জায়গা তৈরী হয়নি বরং সন্দেহ আতঙ্ক ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা পূর্বের মতোই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কারো কারো মতে বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন! আবার কেউ কেউ নতুন দিনের নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছেন।

ভোট একটি নাগরিক আমানত এবং অধিকার।
বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দেশের শান্তি চায়! এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ হোক সকল নাগরিকের। এটাই প্রত্যাশা আজকের বাংলাদেশের।

লেখক:
নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যালেন,
সংগঠক ও কলামিস্ট
সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাওসো।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 10 Feb 2026 18:23:15 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক গতিপথের একটি সামগ্রিক বিশ্লেষণ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15308" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15308</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামো আমূল পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো একই দিনে ৩০০ আসনের সংসদ নির্বাচন এবং &#39;জুলাই সনদ&#39; বা জাতীয় সনদের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত হতে যাওয়া সাংবিধানিক গণভোট। এই দ্বিমুখী ভোটপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

​নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারের বৃদ্ধির হার ৪.১৬ শতাংশ, যা পুরুষ ভোটারদের (২.২৯ শতাংশ) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে গাজীপুর-২ আসন ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার নিয়ে বৃহত্তম এবং ঝালকাঠি-১ আসন ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৩১ জন ভোটার নিয়ে ক্ষুদ্রতম নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
​এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশ হলো তরুণ ভোটার বা জেনারেশন জেদ। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটার, অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই হলো ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী তরুণ সমাজ। এই তরুণ প্রজন্মই ছিল জুলাই বিপ্লবের মূল শক্তি এবং এবারের নির্বাচনে তারা &#39;কিং মেকার&#39; হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতিতে এবার তাই বেকারত্ব দূরীকরণ এবং গুণগত শিক্ষা সংস্কারের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে প্রথাগত দলগুলোর ওপর এক ধরণের বিতৃষ্ণা থাকায় এই তরুণ ভোটারদের বড় অংশ নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে।
​সর্বদলীয় ভাবনার জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মাঠের মূল লড়াই এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নাগরিক কমিটির মতো নতুন শক্তিগুলোর মধ্যে। দলগুলো এবার অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার কথা বেশি বলছে। তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর সুফল জনগণ কতটুকু পাবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের স্বচ্ছতা এবং নতুন সাংবিধানিক কাঠামো বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। বিশেষ করে &#39;জুলাই সনদ&#39; বা গণভোটে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রবল উৎসাহ দেখা দিচ্ছে। মানুষ একে দেখছে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির স্থায়ী গ্যারান্টি হিসেবে।
​গণভোটে যদি &#39;হ্যাঁ&#39; জয়ী হয়, তবে তা প্রধান বিচারপতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ বন্ধ করা এবং উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের মতো প্রস্তাবগুলোকে সাংবিধানিক রূপ দেবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, গণভোটে যদি &#39;না&#39; জয়ী হয়, তবে তা বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি গণ-অনাস্থা হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশ নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ভোটার উপস্থিতি বা টার্নআউট কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলটির নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক যদি কেন্দ্রবিমুখ হয়, তবে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে নতুন সরকারকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।
​সবশেষে, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট এবং অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ১৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির ভোট প্রদানের সুযোগ এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার প্রবাসী ভোটার ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যা নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক চরিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং পরিসংখ্যান ও সংস্কারের মিশেলে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তৈরির পরীক্ষা।

-মাসুদ রানা
কলামিস্ট
চেয়ারম্যান-সিএইচডি নিউজ-২৪]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 08 Feb 2026 11:36:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নির্বাচন, সহিংসতা ও নারী: আমরা কোন পথে হাঁটছি?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15135" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15135</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অনুষঙ্গ। এটি কেবল ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়; বরং জনগণের মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক সম্মিলিত সুযোগ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে মারামারি, হামলা, সহিংসতা, নারীদের হেনস্তা এবং নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধকে গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

রাজনৈতিক মতভেদ নতুন কিছু নয়। ইতিহাসজুড়েই ক্ষমতার লড়াই হয়েছে, আদর্শের সংঘাত হয়েছে। কিন্তু সেই মতভেদ যখন রাস্তায় রক্ত ঝরায়, যখন ভোটকেন্দ্র যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়, আর যখন নারীর শরীর ও মর্যাদা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তা আর রাজনীতি থাকে না, তা পরিণত হয় সভ্যতার বিরুদ্ধে এক নগ্ন আগ্রাসনে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো নারীদের ওপর ঘটে যাওয়া হেনস্তা ও সামাজিক মাধ্যমে বা প্রকাশ্য সভা&ndash;সমাবেশে নারীদের নিয়ে করা অশালীন মন্তব্য। নারী এখানে কেবল একজন নাগরিক নন, তিনি মা, বোন, কন্যা, সহকর্মী এবং সর্বোপরি তিনি একজন মানুষ। অথচ নির্বাচন এলেই কেন নারীর মর্যাদা সবচেয়ে সস্তা হয়ে যায়? কেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে গিয়ে প্রথম আঘাতটি গিয়ে লাগে নারীর সম্মান ও ব্যক্তিসত্তায়?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের গভীরে তাকাতে হবে। আমরা মুখে মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি, আন্তর্জাতিক দিবস পালন করি, উন্নয়নের গল্প করি। কিন্তু বাস্তবে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে, তখনই দেখা যায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার আসল চেহারা। তখন নারীকে আর সহযোদ্ধা হিসেবে দেখা হয় না, দেখা হয় অপমানের সহজ মাধ্যম হিসেবে। এটি শুধু নারীর বিরুদ্ধে নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অপরাধ।

আরেকটি দিক হলো সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ। নির্বাচন মানেই যেন ভাঙচুর, আগুন, লাঠিচার্জ, পাল্টাপাল্টি হামলা এমন একটি ধারণা আমাদের সমাজে গেঁথে গেছে। তরুণরা বড় হচ্ছে এই দৃশ্য দেখে, শিশুরা শিখছে যে মতের অমিল মানেই শক্তি প্রয়োগ। রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতায় যেতে হলে পেশি শক্তির প্রয়োগ করতে হবে। এর ফল কী হবে? আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা যুক্তির বদলে ঘুষি, মতের বদলে মারধরকে বেছে নেবে?

এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে বড় দুই দল বিএনপি বা জামায়াত অথবা অন্য যেসকল দল রয়েছে, তাদের দায় আছে নিজেদের কর্মী&ndash;সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং প্রকাশ্যে নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের নিন্দা করা। কিন্তু যখন নারীদেরকে কেউ বেশশ্যা বলে মন্তব্য করেছেন আবার কেউ কাপর খুলে নেওয়ার কথা বলছেন তখন দুঃখজনকভাবে,আমরা দেখি নীরবতা। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে কর্মীদের এই বিষয়ে সতর্ক করছেন কিংবা তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার ও শাস্তির মুখোমুখি দাড় করানো হয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এই নীরবতাই হয়েতো এই ধরণের অপরাধকে উৎসাহ দেয়।

রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন সবার কাছেই জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা নির্বাচনকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করবে। কোথাও কোথাও তারা সফল হয়েছে, আবার কোথাও ব্যর্থতার চিত্রও স্পষ্ট। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলতে গত দেড় দশকে দেখেছি একটা দলের বা সরকারের গোলামী করতে। কিন্তু ৫ই আগস্টের পরে আশা দেখিছিলাম মিডিয়া হয়তো সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। তবে সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ, কোন একটা দিকে তারা মনোযোগ আকর্ষণ করছেন। নারীর প্রশ্নে মিডিয়া কিছুটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলেও সেটা আবার কোন রাজনৈতিক দলের নারী কর্মী-তার উপর নির্ভর করে সংবাদ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, গুজব ও বিদ্বেষ, কারণ এখানে যে যার মতো করে পারছে নারীকে নিয়ে এমন কোন নোংরা শব্দ নাই যা ব্যবহার করছেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বাধীনতা যদি অন্যের মর্যাদা হরণের হাতিয়ার হয়, তবে সেখানে লাগাম টানার নৈতিক দায় সমাজেরই।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন আসে আমরা কী চাই? আমরা কি কেবল ক্ষমতার পালাবদল চাই, নাকি একটি সুস্থ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ গণতন্ত্র চাই? যদি দ্বিতীয়টি চাই, তবে আমাদের প্রত্যেককে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বলতে হবে সহিংসতা নয়, নারী অবমাননা নয়, অশালীনতা নয়। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পর্যন্ত সর্বত্র নৈতিকতা ও সহনশীলতার চর্চা জরুরি। পরিবারে, বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবখানেই শেখাতে হবে যে ভিন্নমত শত্রুতা নয়। আর নারী কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো অস্ত্র নয়; তিনি সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।

সবশেষে বলব, নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, সরকার আসবে&ndash;যাবে। কিন্তু যে ক্ষত সমাজে তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে নারীর মনে যে ভয় ও অপমানের বোধ জন্ম নিচ্ছে তা সহজে সারে না। সেই ক্ষত সারানোর দায় আমাদের সবার। নইলে ইতিহাস একদিন আমাদের প্রশ্ন করবে গণতন্ত্রের নামে আমরা কীসের চর্চা করেছিলাম?

লেখক: শিক্ষার্থী, মার্সিন ইউনিভার্সিটি,তুরস্ক।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 29 Jan 2026 12:08:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শোষণ-মুক্তির প্রেরনা শহীদ আসাদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14820" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14820</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[।। এম.গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ।।
০১. ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে যে দিনগুলোতে উদ্দীপিত, আলোড়িত এবং অভিভূত হওয়ার আছে তারই অন্যতম একটি দিন ২০ জানুয়ারি। ১৯৬৯ সালে শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা &lsquo;আসাদের শার্ট&rsquo;। আত্মত্যাগের ঘটনায় তিনি লিখেছেন,

&ldquo;গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের

জলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট

উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ....................

আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক

আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।&rdquo;

২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের ৫৬তম মৃত্যু দিবস স্মরণে ভুলে যেতে বসেছি কি আমরা আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের মহানায়কদের? বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার এ পথ পরিক্রমায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান একটি মাইলফলক। রাজধানী শেরেবাংলা নগর পেরিয়ে মোহাম্মদপুরের প্রবেশ দ্বারে রয়েছে একটি বিশাল তোরণ, যা &lsquo;আসাদ গেট&rsquo; নামেই পরিচিত। &lsquo;আসাদ গেট&rsquo; নামটি শোনেনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এমন মানুষ পাওয়া দুর্লভ। কিন্তু তাদের অনেকেই জানেন না শহীদ আসাদ কে? কেনই বা এ গেটটির নামকরণ?

০২. শহীদ আসাদ শুধু একটা নাম নয়। একটি প্রেরনা, একটি সংগ্রাম আর একটি আদর্শের নাম। যার পুরো নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। শহীদ আসাদের নাম জনগণের স্বাধীনতা, জাতীয় মুক্তি, গণতন্ত্র, শোষণমুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পতাকায় উজ্জ্বল হয়ে লিপিবদ্ধ। ষাট দশকে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন, জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়ন এবং শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংগ্রামে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হবার ঘটনা বাংলার সংগ্রামী মানুষের প্রাণে জাগিয়েছিল অমিত সাহস ও প্রচন্ড শক্তিতে। এর পর আসাদের সেই রক্তমাখা শার্ট যেন হয়ে উঠেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদের আজ ৫৩তম শহীদ দিবস। আসাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর গ্রামে। আসাদের কর্মজীবনের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। আসাদুজ্জামান আসাদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সমাবেশ থেকে এগারো দফার বাস্তবায়ন এবং ছাত্র জনতার ওপর পুলিশ ও ইপিআর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি ২০ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছিল। এ ধর্মঘট মোকাবেলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তথাপি বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে প্রায় দশ হাজার ছাত্রের একটি বিশাল মিছিল ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে পা&rsquo;বাড়ায়। মিছিলটি চানখার পুলের নিকটে তখনকার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে এর ওপর পুলিশ হামলা চালায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক সংঘর্ষ চলার পর আসাদসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা মিছিলটিকে ঢাকা হলের পাশ দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে রিভালবারের গুলি ছুড়ে আসাদকে হত্যা করে।

০৩. শহীদ আসাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বরেণ্য প্রয়াত বাম রাজনীতিবিদ ও লেখক কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর। স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, &ldquo;আসাদ শহীদ হওয়ার কিছুদিন আগেও কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে চরমভাবে মার খেয়েছিলেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন অসম্ভব সাহসী ও চরিত্রবান বিপ্লবী। শহীদ আসাদের সঙ্গে আমার পরিচয় ষাটের দশকেই। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। নেতৃস্থানীয় পদেও ছিলেন। আসাদ মনেপ্রাণে বিপ্লবকে ধারণ করতেন। মার্ক্সবাদে বিশ্বাস করতেন সৎ, নিষ্ঠাবান এ মানুষটি। একই সঙ্গে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন, আবার একই সঙ্গে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সংগঠনও করতেন।&rdquo;

শহীদ আসাদের মৃত্যুর পরই প্রতিবাদী মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় ৬৯&rsquo;র গণ-অভ্যুত্থান, সংঘটিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। আর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল জয়ের মধ্য দিয়ে পতন হয় পাকিস্তানের। গণতন্ত্র আর স্বদেশ মুক্তির লড়াইয়ে আসাদ এক সাহসী পথপ্রদর্শক। অন্যদিকে আসাদ আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণার উৎস। আমরা আজকে যখন শহীদ আসাদের কথা স্মরণ করি, তখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে পড়ে। আসাদ শহীদ না হলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হতো না, আসাদের পথ ধরেই মতিউর শহীদ হন। আসাদের আত্মদানেই সেদিন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন হয়েছিল। সেদিন শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সেই চেতনা জনগণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের সংগ্রামে প্রেরণা যোগায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস লিখতে গেলে আসাদকে বাদ দেয়া সম্ভব নয়। যদিও বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে অনেককেই বাদ দেয়া হচ্ছে।

০৪. বর্তমান প্রজন্মকে স্বদেশ মুক্তি আর গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা জানতে হলে আসাদকে পড়তে হবে, জানতে হবে। কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুুতিপর্বে আসাদ একটি বিরল প্রতিবাদী আর সংগ্রামের নাম। তার স্বপ্ন ছিল জনগণতন্ত্র। যা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদ আসাদ স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার স্বপ্ন দেখতেন। &lsquo;৫২ থেকে ৬৯-এর মধ্যে রাজনীতির ধারা আরও স্পষ্ট হয়েছে, মানুষের চেতনা আরও তীব্র হয়েছে, মানুষের আকাঙ্ক্ষা আরও পরিচ্ছন্ন হয়েছে। সেই যে আসাদের আন্দোলনের ধারা, তারই পথ ধরে ১৯৬৯এর গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরে ১৯৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ। আসাদের যে স্বপ্ন, জনগণের যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তার সমস্ত কিছুর মধ্যেই গণতান্ত্রিক পূর্ববঙ্গের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এত বছর পর যখন শহীদ আসাদকে আমরা স্মরণ করি তখন প্রশ্ন জাগে আসাদের স্বপ্ন কি সফল হয়েছে? আদাসের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রতো আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ ছিল শোষণ মুক্তির প্রেরণা। যতদিন শোষণ থাকবে, বঞ্চনা থাকবে, নিপীড়ন থাকবে, ততদিন মৃত্যুঞ্জয়ী আসাদ থাকবে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে এক সাহসী পথপ্রদর্শক হয়ে। কারণ আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন শাসকগোষ্টির অপশাসন আর ক্ষমতার লোভের কারণে বার বার বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে গণতন্ত্র। শাসকগোষ্টির অপরাজনীতির সুযোগে প্রতিক্রিয়াশীল আর দেশবিরোধীরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বার বার।

০৫. যে স্বপ্ন এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ দেখেছে, যার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেই স্বপ্ন লাঞ্ছিত হয়েছে, প্রতিক্রিয়াশীলদের জয় হয়েছে। কাজেই মুক্তিকামী সমগ্র জাতি আসাদকে স্মরণ করে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। শহীদ আসাদ তাই সব সময় জনগণতান্ত্রিক বাংলা প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসেন। ধ্র&aelig;বতারার মতোই তিনি বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে। তাই তো শহীদ আসাদ উত্তাল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় অর্জন। তাই একুশের মতো ঊনসত্তর বাঙালি জাতীয়তা বোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এক একটি শব্দের মধ্যে এসে পুঞ্জীভূত হয়েছে দেশ-জাতির চিন্তা-চেতনা, আশা-আকাঙ্ক্ষার যত অভিব্যক্তি।

বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই সিমিত নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ৬৯এর গণঅভ্যুত্থান প্রকৃত অর্থে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সোপান রচনা করেছিল। &lsquo;৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে ঘরমুখো করেছিল, আর &lsquo;৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সেই বাঙালিকে তার ঘরের ঠিকানা খুঁজে দিয়েছিল। স্বাধিকারের ঢিমেতাল আন্দোলন ঊনসত্তরের ২০ জানুয়ারি আসাদের মৃত্যুর পর সহসাই গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। তাই আসাদকে গণঅভ্যুত্থানের নায়ক বলা হয়। &lsquo;৬৯-এর ধারাবাহিকতায় একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও শহীদ আসাদের চেতনা কখনও ফুরাবার নয়।

০৬. ৬৯এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের &lsquo;লৌহমানব&rsquo; বলে কথিত আইয়ূব খানের একনায়কী শাসনের অবসান ঘটে, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ও পর্লামেন্টারি শাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার। পূর্ববাংলার নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা, শ্রেণি শোষণমুক্ত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ৬৯এর প্রচন্ড গতিবেগই বস্তুত &rsquo;৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। এসকল বিচারে এটা নিঃসন্দেহে বলা চলে এদেশের মানুষের সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় &rsquo;৬৯ একটি বড় মাইলফলক। আসাদ মনে করতেন আমাদের দেশে প্রচলিত গণতন্ত্র হলো শাসক শ্রেণির গণতন্ত্র। তার বিপরীতে কায়েম করতে হবে জনগণতন্ত্র। জনগণের এই গণতন্ত্র বিদ্যমান মুষ্টিমেয় শাসক শোষক শ্রেণির একাধিপত্য অবসান করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবে।

আসাদের জন্ম ১০ জুন ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে। মাত্র ২৬ বছর জীবনকালে তিনি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছেন কেবল আত্মত্যাগের কারণে। মনে রাখতে হবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দেখানো পথে ২০ জানুয়ারি বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে তার মৃত্যুই ছাত্র-গণ আন্দোলনের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দেয় এবং আইয়ূুব শাসন ও তার দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। তার আত্মদানই মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ তৈরি করেছিল। শিবপুরে জন্মগ্রহণকারী আসাদ ১৯৬০ সালে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়) এবং মুরারি চাঁদ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৩ সালের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, ১৯৬৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ওই বছর রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা ও নরসিংদী এলাকায় কৃষক সমিতি গঠনে সচেষ্ট হন। অন্যদিকে ঢাকার সিটি ল কলেজে অধ্যায়ন করার পর আসাদ ১৯৬৮ সালে আরও ভালো ফলাফল করার প্রয়াসে দ্বিতীয় এমএ পরীক্ষায় বসেন। ১৯৬৯ সালে মৃত্যুর সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা হল ইউনিটের সভাপতি এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ঊচঝট, মেনন গ্রুপ) এর ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আসাদ তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীনদের শিক্ষাগত অধিকারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি শিবপুর নাইশা বিদ্যালয় নামে একটি নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্থানীয় জনগণের জন্য একটি কলেজ (শিবপুর কলেজ) স্থাপনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন।

০৭. ৫৬ বছর আগের সেই উত্তাপ না থাকলেও প্রতিবাদের সেই সমাবেশ ও আত্মত্যাগ আজও অবিস্মরণীয়। সম্প্রতি ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের সময়ও শহীদ আসাদ ছিল অনুপ্রেরনা। আজ যদিও &lsquo;অবহেলিত শহীদ আসাদের কবর, মানুষ জানে না তার ইতিহাস&rsquo; প্রভৃতি সংবাদ দেখা যায় পত্রিকায়। নিজ বাড়ির বকুলতলায় কবর শহীদ আসাদের। শিবপুরে আসাদের নামে দুটি স্কুল-কলেজ থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নামটি পরিচিত হলেও তার মৃত্যুর ইতিহাস ও আসাদ দিবসের ব্যাপারটি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অজানা। এজন্যই দরকার আসাদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করে প্রচার করা।কারণ &lsquo;&lsquo;গণতন্ত্রের ইতিহাসে &lsquo;শহীদ আসাদ দিবস&rsquo; একটি অবিস্মরণীয় দিন।&rsquo;&rsquo; গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে শহীদ আসাদের অসামান্য অবদান দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আসাদের রক্তমাখা শার্ট হয়ে ওঠে আন্দোলনের এক দুর্বার প্রতীক। শহীদ আসাদ তাই জনগণের মুক্তির প্রেরণা আর ঊনসত্তর মুক্তির দিশারী।

আমাদের স্বাধীনতার মূল্য বোধ, শপথ নিতে হবে শহীদ আসাদসহ সব শহীদের স্বপ্ন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার। আসাদের স্মৃতি ধরে রাখতে আসাদ গেটের সংস্কার ও শ্রীবৃদ্ধি তথা শহীদ আসাদের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, জীবন সংগ্রামের তথ্য, প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়ে উঠুক সর্বত্রই। আপামর জন সাধারণের এ দাবি সার্বজনীন। মৃত্যুর মাঝে যারা জীবনের সন্ধান পায় তারা মৃত্যুকে বরণ করেও অমর হয়ে থাকে। তাদের বিয়োগ ব্যথার কাহিনী ভবিষ্যত জাতির পক্ষে দ্বীপ শিখা হয়ে সামনে চলার পথ দেখায়। এমন এক বীর সৈনিক ছিলেন শহীদ আসাদ। ছিলেন নির্ভীক ও স্বাধীনতা প্রিয়। নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত বাঙালী জাতির দীপ্ত আলোর মুক্ত আযাদী সংগ্রামের পথ প্রদর্শক ও স্বপ্ন দ্রষ্টা।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 11 Jan 2026 12:14:47 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্রিকেটের রাজনীতি: রাজনীতির ক্রিকেট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14770" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14770</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের জানাজার দিন শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল।

জয়শঙ্কর যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক বার্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল যে ১৮ মাসের টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ মনে হয়েছিল তখন। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আমরা মনেপ্রাণে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।

সম্পর্কের বিষয়টি যে শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। উভয় দেশের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের উন্নতি কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই।

যে ক্রিকেট সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বার্তা বহন করে, সেই ক্রিকেট দিয়েই সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে।

এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ ভারতেও কম-বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম &#39;ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস&#39;-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে কিংবা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সাথেও কোনও প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমশ অবনতিশীল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী সকল মানুষ এবং বাংলাদেশের জন্য বেশ অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একমাত্র এমন উপলক্ষ, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ফ্রেমে ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু ভু-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ক্রিকেট এখন স্বাধীন ও সার্বজনীন চরিত্র হারিয়েছে বলাই যায়।

জয়শঙ্কর বিষয়টি এখন কিভাবে দেখছেন তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। তবে তিনি শোক বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে এসে যে উদারতা প্রকাশ করেছিলেন, তা বেশি সময় টিকে থাকলো না। সম্প্রতি তিনি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে নতুন কিছু বলবেন বলে মনে হয় না।

ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এখন আর ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।

কারণ, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ ভারতে গিয়ে খেলা হবে না। এমনকি আইপিএলের খেলা সম্প্রচারও বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভাষ্য অনুযায়ী আইসিসি বলেছে&mdash;বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। কিন্তু বিসিবি বলছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এমন জটিল পরিস্থিতিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইসিসি কী ভূমিকা নেবে, অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

লেখক :সাংবাদিক ও লেখক

আমারবাঙলা/এসএবি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 07 Jan 2026 08:40:37 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্রিকেটের রাজনীতি: রাজনীতির ক্রিকেট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14769" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14769</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের জানাজার দিন শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল।

জয়শঙ্কর যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক বার্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল যে ১৮ মাসের টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ মনে হয়েছিল তখন। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আমরা মনেপ্রাণে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।

সম্পর্কের বিষয়টি যে শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। উভয় দেশের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের উন্নতি কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই।

যে ক্রিকেট সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বার্তা বহন করে, সেই ক্রিকেট দিয়েই সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে।

এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ ভারতেও কম-বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম &#39;ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস&#39;-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে কিংবা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সাথেও কোনও প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমশ অবনতিশীল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী সকল মানুষ এবং বাংলাদেশের জন্য বেশ অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একমাত্র এমন উপলক্ষ, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ফ্রেমে ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু ভু-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ক্রিকেট এখন স্বাধীন ও সার্বজনীন চরিত্র হারিয়েছে বলাই যায়।

জয়শঙ্কর বিষয়টি এখন কিভাবে দেখছেন তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। তবে তিনি শোক বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে এসে যে উদারতা প্রকাশ করেছিলেন, তা বেশি সময় টিকে থাকলো না। সম্প্রতি তিনি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে নতুন কিছু বলবেন বলে মনে হয় না।

ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এখন আর ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।

কারণ, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ ভারতে গিয়ে খেলা হবে না। এমনকি আইপিএলের খেলা সম্প্রচারও বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভাষ্য অনুযায়ী আইসিসি বলেছে&mdash;বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। কিন্তু বিসিবি বলছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এমন জটিল পরিস্থিতিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইসিসি কী ভূমিকা নেবে, অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

লেখক :সাংবাদিক ও লেখক

আমারবাঙলা/এসএবি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 07 Jan 2026 08:36:44 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাদির কণ্ঠ থেমে গেলেও, তার আদর্শে নতুন প্রজন্মের ধ্বনি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14492" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14492</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ওসমান হাদির পুরো নাম শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার জন্ম ৩০ জুন ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায়। তার বাবা ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও বক্তা। ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস&mdash;ঘাতকরা শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি; হাদির জীবনের পথচলা থামাতে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে হাদি ইন্তেকাল করেন।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিটের দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত ২০ ডিসেম্বর বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে গোসলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর আড়াইটার দিকে হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।

তার এমন মৃত্যুতে সরকারসহ শোকে কাতর দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ ঘটনায় শিক্ষক আব্দুল রহিম আমার বাঙলাকে বলেন, &ldquo;ইন্টেরিম সরকারের কাছে একটাই দাবি&mdash;খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলানো হোক।&rdquo;

হাদির জানাজায় অংশগ্রহণ করা ক্যারি বি কুরিয়ারের কর্মী মোহন আমার বাঙলাকে বলেন, &ldquo;জীবনে অনেক নেতার মৃত্যুসংবাদ শুনেছি, কিন্তু এরকম অনুভূতি কারও ব্যাপারেই হয়নি; নিস্তব্ধ হয়ে গেছি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমরা একজন হাদিকে পেয়েছি, আরেকজন হাদি পেতে হয়তো আরও ৫৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে।&rdquo;

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে বলেন, &ldquo;প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি এখানে। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং বাংলাদেশ যতদিন আছে, তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে।&rdquo;

শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তার মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

শরিফ ওসমান বিন হাদির শিক্ষাজীবন:

হাদির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু নলছিটির ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

রাজনীতিতে উত্থান:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওসমান হাদি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ঢাকার রামপুরা এলাকায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হাদিকে অন্যতম ভূমিকায় দেখা যায়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল&mdash;সব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার হবে প্রধান মূল্যবোধ।

ভোটের মাঠে হাদি:

তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামেন এবং প্রচারণা শুরু করেন। তফসিল ঘোষণার দিন (১১ ডিসেম্বর) তিনি কাকরাইল ও সেগুনবাগিচা এলাকায় প্রচারণা চালান। সেদিন দুপুরে দুদক কার্যালয়ের সামনে ভোটারদের উদ্দেশে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য রাখেন হাদি।

পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর কালভার্ট মোড়ে প্রচারণা চালান এবং গুলিবিদ্ধ হন। এটিই ছিল তার শেষ প্রচারণা।

শরিফ ওসমান বিন হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন। তার এই নেতৃত্বের পথকে থামিয়ে দিতেই ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। জাতি হারায় এক সাহসী সৈনিক।

তার মৃত্যুর সংবাদে নিস্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের মানুষ। সে রাতেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয় এবং তার জানাজায় সংসদ ভবন এলাকাসহ আশপাশে দেখা যায় জনস্রোত। ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Dec 2025 15:27:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোন পথে আমাদের গণতন্ত্র]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13908" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13908</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আবুল ফজল আল্লামী তাঁর আইন ই আকবরী গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন&mdash;&ldquo;এখনকার মানুষ আসন চিনে না, ব্যক্তি চিনে।&rdquo; বহু আগের এই মন্তব্য আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। আসনের মর্যাদা অগ্রাহ্য করার কারণেই ব্যক্তির প্রতি ঝোঁক আমাদের সমাজে এত প্রবল।

মূল কথায় আসি&mdash;বাঙালি জাতি স্বভাবগতভাবে বিদ্রোহী। বাঙালির হৃদয়ে দ্রোহের আগুন সব সময়ই জ্বলতে থাকে, যদিও তা সব সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তবে জাতি হিসেবে আমরা যে খুব শান্ত&mdash;তাও বলা যায় না।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশে বহুবার আন্দোলন, বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ এখনো আমরা দেখতে পাইনি। বৃটিশ আমল থেকেই ফকির বিদ্রোহ, তিতুমিরের আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন, &rsquo;৫২&ndash;এর ভাষা আন্দোলন, &rsquo;৬৯&ndash;এর গণঅভ্যুত্থান, &rsquo;৭১&ndash;এর মুক্তিযুদ্ধ, &rsquo;৯০&ndash;এর আন্দোলন, &rsquo;৯৬&ndash;এর তত্ত্বাবধায়ক দাবির আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ &rsquo;২৪&ndash;এর গণঅভ্যুত্থান&mdash;সবই তার উদাহরণ।

১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পূর্ণ মূল্যায়ন ছাড়াই আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাই। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞা&mdash;এটিও আমরা কখনো গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করিনি।

সব সরকারের আমলেই ক্ষমতা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলে ব্যক্তি বন্দনা এবং কাউকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বানানোর প্রবণতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতালিপ্সার কারণে হাজার বছরের গণতন্ত্রের স্বপ্ন আজ রাষ্ট্রের চেয়ে দল, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় হয়ে উঠেছে। ফলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্রের চর্চা কখনোই দৃশ্যমান ছিল না।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের একটি নৈতিক ভিত্তি ছিল&mdash;তার ফল আমরা পূর্ণভাবে পেয়েছি। তেমনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেরও ছিল স্পষ্ট নৈতিক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আমাদের শক্তি হয়ে এসেছিল এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে আমরা স্বাধীনতাও অর্জন করেছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই নৈতিক স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাই বলেছিলেন&mdash;&ldquo;আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক স্বপ্ন আজও অর্জিত হয়নি।&rdquo;

স্বাধীনতার আগে পশ্চিমা শাসকদের জুলুম, নির্যাতন ও গণতন্ত্রহীনতার গল্প নতুন করে টানলাম না। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে অব্যাহত অরাজকতা ও দুর্নীতি দেখে যারা দেশ নিয়ে ভাবেন&mdash;তাদের দুঃখ ও ক্ষোভ স্বাভাবিক।

আজ এমন মানুষ দেখা কঠিন&mdash;যিনি দুর্নীতি ও অন্যায়ের চাপে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। সত্যি বলতে&mdash;বাঙালির নৈতিকতার সুনাম কোন দিনই খুব উজ্জ্বল ছিল না। প্রতিদিনের জীবনে অনৈতিকতার অসংখ্য উদাহরণ আমরা দেখি। যে দেশে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নৈতিক মান প্রশ্নবিদ্ধ&mdash;সে দেশে গণতন্ত্র স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন।

গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়ার আরেকটি কারণ&mdash;রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন না; তারা বর্তমান নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণেই এ দেশে বারবার আন্দোলন ও অভ্যুত্থান ঘটেছে। প্রতিটি আন্দোলনই বড় ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ক্ষমতার অসম প্রতিযোগিতার কারণে তা টিকে থাকেনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত বিষয়&mdash;সংবিধান। প্রতিটি দলই নিজস্ব ফর্মুলা দিচ্ছে। কেউ সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে, কেউ আবার সংবিধান বাতিল করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলছে। কিন্তু এগুলোতে জনমতের প্রতিফলন ঘটছে কি না&mdash;এটাই বড় প্রশ্ন। কারণ, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতা; আইন বা সংবিধান নয়। আর সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ।

আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে&mdash;তা নিয়ে মতভেদ বিশাল। এত মতভিন্নতার কারণে গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসছে না। ফলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় করার সুযোগ বারবার নষ্ট হচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ মনে রাখতে হবে&mdash;জনগণ নীরব হলেও তারা দুর্বল নয়। ইতিহাস বলে&mdash;পুলিশ, সামরিক বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তির চেয়েও বড় শক্তি হলো জনগণ। অস্ত্র দিয়ে কখনো জনগণের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না।

এখন প্রশ্ন&mdash;অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে, নাকি আমরা একই চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকব?

&mdash;&mdash; সাংবাদিক ও লেখক।
E-mail: tariqur.rahman1106@gmail.com

 

● আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 27 Nov 2025 08:15:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাজনীতির নোংরা নাটক, দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের ক্ষতির খেলা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13559" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13559</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের রাজনীতি আজ যেন এক অন্তহীন নাট্যমঞ্চ যেখানে গণতন্ত্রের আদর্শ, জনগণের আশা, নৈতিকতার আলো সবই ম্লান হয়ে গেছে দলীয় স্বার্থ, ক্ষমতার লোভ এবং মনোনয়ন নামের এক অদ্ভুত খেলায়। রাজনীতির এই মঞ্চে প্রতিদিনই নতুন চরিত্র আসে, পুরনো চরিত্র সরে যায়; কিন্তু গল্প একই দলীয় টিকিট কে পেল, কে পেল না, আর কে সেই কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর যে চিত্রটি আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখেছি, তা কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র নয়, বরং এটি আমাদের গণতন্ত্রের গভীর অসুস্থতার প্রতিচ্ছবি। একসময় রাজনীতি ছিল মানুষের কল্যাণের লড়াই, সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সংগ্রাম। কিন্তু এখন রাজনীতি যেন কেবল টিকিটের খেলা, যেখানে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আর না পাওয়া মানে এক ধাক্কায় রাজনীতির মৃত্যুঘণ্টা।
বিএনপি যখন ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল, তখন দেখা গেল এক ভয়াবহ বাস্তবতা যেখানে কেউ আনন্দে মিষ্টি বিলাচ্ছেন, আর কেউ টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করছেন। মেহেরপুর, কুমিল্লা, ফরিদগঞ্জ, শিবচর, সাতক্ষীরা, নাটোর, চট্টগ্রাম সবখানেই একই নাটক: কেউ পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে বিক্ষোভ করছে, কেউ আগুন দিচ্ছে, কেউ সড়ক বন্ধ করছে, কেউ আবার হুমকি দিচ্ছে মনোনয়ন না বদলালে কঠোর আন্দোলনে নামবে। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় আগুন জ্বালানো, সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করা, স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে শ্রমজীবী
মানুষের জীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করা এটি কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবমাননা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যদি একজন নেতা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে রাখেন, তবে তিনি কেমন জনপ্রতিনিধি হতে চান? জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিকতা কোথায়? এই প্রশ্নগুলো আজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। রাজনীতির এই নোংরা খেলায় সবচেয়ে বড় পরাজিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা ভোট দেয় উন্নয়নের প্রত্যাশায়, নিরাপত্তার আশায়, আর ন্যায়বিচারের আকাঙ্খায়। কিন্তু যখন সেই রাজনীতিই তাদের জীবনকে অচল করে তোলে, তখন গণতন্ত্রের অর্থই হারিয়ে যায়।
মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা যখন সড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালায়, যানবাহন থামিয়ে জনগণকে জিম্মি করে রাখে তখন তারা আসলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না শুধু, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাকেও অস্থির করছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার কখনোই অন্যের স্বাধীনতা, জীবনযাত্রা বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন করতে পারে না। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, আমাদের দলীয় রাজনীতি এখন গণতান্ত্রিক নয়, বরং আমলাতান্ত্রিক ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর।
মনোনয়ন বণ্টনে যোগ্যতা নয়, বরং তোষামোদ, অর্থবল, আত্মীয়তা ও প্রভাবই মুখ্য হয়ে উঠেছে। যিনি তৃণমূলের সঙ্গে বছরের পর বছর সম্পর্ক গড়েছেন, যিনি রাজপথে নির্যাতিত হয়েছেন, তিনিও বাদ পড়ছেন শুধু এই কারণে যে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রিয় তালিকায় নেই। অন্যদিকে, যিনি অর্থ, প্রতিশ্রুতি বা প্রভাবের জোরে এগিয়ে আসেন,
তিনিই পাচ্ছেন মনোনয়ন। এর ফলে রাজনীতিতে এক প্রকার পেশাদার &lsquo;মনোনয়ন ব্যবসা&rsquo; তৈরি হয়েছে, যা দলের ভেতর নৈতিকতার মৃত্যু ঘটাচ্ছে। মনোনয়নকে ঘিরে এই বিশৃঙ্খলা আসলে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল। দলের ভেতরে গণতন্ত্র নেই, সিদ্ধান্ত হয় গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে। তৃণমূলের মতামত কেবল কাগজে থাকে, বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলে না। এ কারণে যখন সিদ্ধান্ত আসে, তখন যারা বাদ পড়ে তারা নিজেদের &lsquo;অবিচারের শিকার&rsquo; মনে করে। তাদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় সহিংসতায়। এটি শুধু বিএনপির সমস্যা নয় বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেই একই চিত্র। দল মানেই নেতার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যেখানে মতভেদ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা, আর প্রতিবাদ মানেই বিদ্রোহ।

রাজনীতির এই সংস্কৃতি কেবল নৈতিকতাকে হত্যা করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিকৃত বার্তা দিচ্ছে। তরুণরা দেখছে, রাজনীতি মানে এখন আদর্শ নয়, বরং পদ-পদবির জন্য লড়াই। তারা দেখছে, জনপ্রতিনিধি হতে হলে জনগণের পাশে নয়, দলের ক্ষমতাবান নেতার পাশে থাকতে হয়। এর ফলে তরুণদের এক অংশ রাজনীতি থেকে বিমুখ হচ্ছে, আরেক অংশ তা গ্রহণ করছে কৌশল ও সুবিধার খেলায়। এভাবে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি জনসম্পৃক্ততা ক্রমে ক্ষয় হচ্ছে। এখানে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব সবচেয়ে বড়। তারা যদি প্রার্থী বাছাইয়ে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে তাদের দলীয় ঐক্য কখনোই টিকবে না। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থেকে যদি দল কেবল ক্ষমতার লোভে বিভক্ত হয়, তবে সেই দলের পতন অবধারিত। নেতৃত্বকে বুঝতে হবে মনোনয়ন কোনো পুরস্কার নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব। যারা সেই দায়িত্বের মর্যাদা দিতে পারে না, তাদের হাতে দল বা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। বিএনপির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একদিকে দলীয় শৃঙ্খলার সংকট, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহ অবনতি। একজন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর ক্ষোভকে যদি পুলিশ, সেনা বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে সেটি কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক নৈতিকতার দেউলিয়াত্ব। কারণ, সত্যিকারের রাজনীতিক জনগণের ক্ষতি করে কখনো নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে না। তিনি জানেন, জনগণই তাঁর শক্তি, আর তাদের দুর্ভোগ মানেই তাঁর দুর্বলতা।
এখন প্রশ্ন কীভাবে এই নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তি সম্ভব? প্রথমত, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে হবে। প্রতিটি দলের উচিত তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা, যাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে। দ্বিতীয়ত, মনোনয়নপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত উভয়ের জন্যই দলের অভ্যন্তরীণ আপিল বা আলোচনার সুযোগ থাকতে হবে। তৃতীয়ত, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে জনগণের ক্ষতি করা যে অপরাধ, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সর্বোপরি, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
জনগণের দিক থেকেও সচেতনতা জরুরি। যেসব রাজনীতিক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে দলীয় অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে, রাজনীতি মানে সেবা, ত্যাগ ও সততা না যে আগুন, হুমকি ও ক্ষমতার জুলুম। জনগণ যদি এই বার্তা দেয় যে সহিংস রাজনীতিকরা তাদের সমর্থন হারাবে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হবে আচরণ পরিবর্তনে। আমরা যদি গণতন্ত্রকে সত্যিই বাঁচাতে চাই, তবে দলীয় মনোনয়নের সংস্কৃতি বদলাতে হবে।

মনোনয়ন যেন না হয় ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ফল, বরং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। রাজনীতিকদের বুঝতে হবে&Ntilde;মনোনয়ন কোনো যুদ্ধের ট্রফি নয়, এটি এক ধরনের দায়িত্ব, যা জনগণের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করলে শুধু দল নয়, পুরো রাষ্ট্র হারায়। আজ সময় এসেছে দলীয় নেতৃত্বকে নিজস্ব আয়নায় নিজেকে দেখার। প্রশ্ন করার আমরা কি সত্যিই জনগণের জন্য রাজনীতি করছি, নাকি কেবল নিজেদের জন্য? দলীয় কার্যালয়ের টেবিলে বসে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেই কি গণতন্ত্র পূর্ণতা পায়? না, গণতন্ত্র তখনই পূর্ণতা পায়, যখন জনগণের মতামত দলীয় নীতির মূলভিত্তি হয়।
রাজনীতির ইতিহাস বলে যে দেশে দল জনগণের উপরে, সেই দেশে গণতন্ত্র বেঁচে থাকে না। আর যে দেশে জনগণ দলের উপরে, সেই দেশেই রাজনীতি পায় মহত্ত&iexcl;। বাংলাদেশের রাজনীতিকে আজ সেই পথেই ফিরতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, ক্ষমতা মানে নয় আধিপত্য, বরং জনগণের সেবা। দলীয় মনোনয়ন মানে নয় টিকিটের খেলা, বরং জনগণের আস্থা অর্জনের সুযোগ। মনোনয়ন-পরবর্তী আগুন, অবরোধ বা সংঘর্ষ গণতন্ত্রের লজ্জা। এগুলো ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক অরাজকতার প্রতীক।

যে প্রার্থী সত্যিই জনগণের প্রতিনিধি হতে চান, তিনি জনগণকে বিপদে ফেলেন না; বরং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি মনোনয়ন বঞ্চনা মানে দলের ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ মনে করেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি এইভাবে অবক্ষয়ের দিকে যায়, তবে সেই উন্নয়নও টেকসই হবে না। একটি দেশকে টিকিয়ে রাখে রাজনীতির নৈতিকতা, নেতৃত্বের সততা ও জনগণের আস্থা। যদি এই তিনটি হারিয়ে যায়, তবে উন্নয়নের দালান দাঁড়াবে বালুর ওপর। তাই এখনই সময় রাজনীতির নোংরা নাটক বন্ধ করার। দলীয় মনোনয়নের নামে যে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠছে, তা নেভাতে হবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মস্তিষ্ক দিয়ে, প্রতিশোধের আগুন দিয়ে নয়। জনগণকে কষ্ট দিয়ে কোনো দল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এ সত্য ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।
গণতন্ত্রের সত্যিকারের শক্তি দলীয় টিকিটে নয়, জনগণের আস্থায়। সেই আস্থা ফিরে পেতে হলে রাজনীতিকে আবার নীতি, মূল্যবোধ ও দায়িত্বের পথে ফিরতে হবে। দলীয় মনোনয়ন হবে স্বচ্ছ, প্রার্থীরা হবে ত্যাগী ও যোগ্য, আর জনগণ হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু&Ntilde;তবেই রাজনীতি ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা।
আজ যারা সড়কে টায়ার জ্বালাচ্ছেন, আগামীকাল তারা হয়তো নিজেরাই বুঝবেন এই আগুন কেবল তাদের প্রতিবাদের নয়, এটি পুরো জাতির বিবেকের ওপর দাগ ফেলছে। যদি আমরা এখনই এই নোংরা খেলাকে থামাতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। রাজনীতির মানে তখন আর নীতি নয়, কেবল ক্ষমতা হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেই দিনটির ওপর, যেদিন রাজনীতিকরা বুঝবেন&Ntilde;মনোনয়ন পাওয়া নয়, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করাই প্রকৃত বিজয়। এবং সেই দিনই রাজনীতি আবার হবে মহৎ, গণতন্ত্র আবার হবে জনগণের।


	সামিউল আজাদ শামীম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ফুলছড়ি সদর,গাইবান্ধা। ই মেইল: Shamiulajadshamim@gmail.com
]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 05 Nov 2025 11:07:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্ষমতার ছায়ায় মাদক রাজনীতি: রাষ্ট্র, সমাজ ও নৈতিকতার অদৃশ্য দহন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13433" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13433</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি আজ এমন এক জটিল বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নৈতিকতার মৃত্যু ঘটছে নিঃশব্দে, আর অপরাধ পরিণত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অলংকারে। মাদক এখন আর কেবল সামাজিক ব্যাধি নয়, এটি এক প্রকার রাজনৈতিক শক্তি&mdash;একটি অদৃশ্য অর্থনীতি, যার শিকড় জড়িয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিটি তন্তুতে। এই মাদক রাজনীতি কেবল যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে না; বরং রাষ্ট্রীয় আদর্শ, প্রশাসনিক ন্যায়নীতি এবং গণতন্ত্রের মৌল কাঠামোকেও ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। যে দেশে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হয়, যে দেশে ক্ষমতাসীনরা মাদক ব্যবসায়ীদের &lsquo;বড় ভাই&rsquo; হয়ে ওঠে, সেখানে আইন কেবল এক নাট্য মঞ্চের চরিত্র। নাগরিক সেখানে দর্শক মাত্র&mdash;যার চোখে ধরা পড়ে ক্ষমতার নির্মম নাটক, কিন্তু যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় না কোনো প্রতিবাদ। এই নৈঃশব্দ্যই মাদক রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

মাদক ও রাজনীতির জৈবিক সম্পর্ক মাদক কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক সমস্যা নয়; এটি রাজনীতির সঙ্গে জৈবিকভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার হলো ভয়। মাদক ব্যবসা এই ভয়কে বাস্তবে রূপ দেয়। স্থানীয় সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল&mdash;সব কিছুর মূলেই থাকে এক অদৃশ্য মাদক অর্থনীতি, যা স্থানীয় রাজনীতির প্রাণরস সরবরাহ করে। নির্বাচন এলেই এই মাদকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো&mdash;সবকিছুতেই তারা &lsquo;দলীয় কর্মী&rsquo; হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিনিময়ে তারা পায় নিরাপত্তা, পায় আইন থেকে অব্যাহতি, পায় অপরাধের বৈধতা। রাজনীতির এই অদ্ভুত সমীকরণে অপরাধী হয়ে ওঠে প্রভাবশালী, আর সৎ মানুষ পরিণত হয় নিঃশব্দ বন্দি। মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য&mdash;ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর রাজনীতি, যেটি মূলত জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত, সেটি আজ পরিণত হয়েছে অপরাধের অভয়ারণ্যে।

ক্ষমতার মনোবিজ্ঞান: ভয়, লোভ ও নির্ভরতার রাজনীতি কখনো শূন্যতায় টিকে থাকে না। ক্ষমতার প্রকৃতি এমন&mdash;যেখানে শূন্যতা থাকে, সেখানে ভয় ও লোভ প্রবেশ করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ভয় ও লোভই মাদকের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। ক্ষমতাসীনরা জানে, সমাজে একটি নিয়ন্ত্রিত ভয় থাকা দরকার&mdash;যাতে জনগণ কখনও প্রশ্ন না তোলে। তাই মাদক ব্যবসা কখনও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয় না। বরং এটি ব্যবহার করা হয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে। একদিকে যুবসমাজকে মাদকাসক্ত করে তাদের প্রতিবাদী শক্তি নিঃশেষ করা হয়, অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে। এই দ্বৈত কৌশল একদিকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী বলে প্রদর্শন করে, অন্যদিকে তার ভেতরের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলে। এমন এক সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে মাদক বিক্রেতা ও জনপ্রতিনিধি একই অনুষ্ঠানে বসে থাকে, যেখানে প্রশাসন অপরাধীকে &lsquo;স্যার&rsquo; বলে সম্বোধন করে। এই পরিহাসই বাংলাদেশের বাস্তবতা&mdash;যেখানে আইন প্রহসনে পরিণত, আর ন্যায়বিচার হয়ে গেছে কল্পকাহিনী।

মাদক অর্থনীতি: অদৃশ্য পুঁজির নেটওয়ার্ক মাদক এখন এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। ইয়াবা, আইস, গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ&mdash;সবকিছু মিলিয়ে এটি এক অদৃশ্য অর্থনৈতিক কাঠামো, যার বার্ষিক লেনদেন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই টাকার হিসাব কোনো অর্থনৈতিক জরিপে পাওয়া যায় না, কারণ এটি চলে গোপন নেটওয়ার্কে&mdash;রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির মেলবন্ধনে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা থেকে যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দিনাজপুর&mdash;সব জায়গায় এই মাদক প্রবাহ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটে। কখনো অভিযান হয়, কয়েকজন ছোটখাটো পাচারকারী ধরা পড়ে, সংবাদপত্রে বড় শিরোনাম হয়&mdash;কিন্তু পরদিনই সব কিছু আগের মতো। কারণ মূল গডফাদাররা থাকে অদৃশ্য, এবং সেই অদৃশ্যতার পেছনে থাকে রাজনৈতিক শক্তি। মাদক ব্যবসার টাকার একটি অংশ রাজনীতিতে প্রবাহিত হয়। নির্বাচনী তহবিল, পার্টি অফিসের খরচ, সভা-সমাবেশের ব্যয়&mdash;সবকিছুতে এই অর্থ ব্যবহৃত হয়। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো নিজের অজান্তেই এই অবৈধ অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়। আর একবার কেউ এই চক্রে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসা যায় না। কারণ মাদক অর্থনীতি একবার ছোঁয়া মানে রাষ্ট্রের অন্তর্নিহিত দুর্নীতিকে পুষ্ট করা।

প্রশাসনিক দুর্নীতি ও আইনের নীরবতা রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কখনো কখনো অভিযান চালায়, কিছু সফলতাও আসে, কিন্তু সমস্যার মূল স্পর্শ করা হয় না। কারণ প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে সেই নীরব অন্ধকার। অনেক সময় দেখা যায়, যেসব অফিসার মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নিতে চান, তাদের বদলি হয়ে যায় অন্য জেলায়। আবার যারা নীরব থাকে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এমন পরিবেশে আইন প্রয়োগ পরিণত হয় প্রদর্শনীতে। জনগণ দেখে &ldquo;অভিযান চলছে&rdquo;, কিন্তু জানে&mdash;এই অভিযান কখনোই মূল সমস্যাকে আঘাত করবে না। কারণ প্রশাসন জানে, অপরাধীদের ছায়ায় রয়েছে ক্ষমতার হাত। আর যেখানে প্রশাসন দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে, সেখানে ন্যায়বিচার অচল হয়ে যায়। রাষ্ট্র তখন নাগরিকের নয়, বরং অপরাধী নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে পরিণত হয়।

সামাজিক অবক্ষয় ও মানসিক ধ্বংস মাদকের প্রভাব শুধু শরীরে নয়, মনেও। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস, চিন্তাশক্তি ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। যখন কোনো সমাজের তরুণ প্রজন্ম মাদক নির্ভর হয়ে পড়ে, তখন তারা আর রাষ্ট্রের পরিবর্তনের শক্তি হতে পারে না। আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, এমনকি স্কুল পর্যন্ত মাদকের বিস্তার ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। তরুণদের মধ্যে এক প্রকার অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে&mdash;তারা বাস্তবতা থেকে পালাতে চায়, অথচ পালানোর পথ মাদকের মধ্যেই খুঁজে পায়। এই অবসাদের সুযোগ নিচ্ছে রাজনীতি। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী&mdash;দুই দিকেরই কিছু অংশ তরুণদের ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে, তাদের হাতিয়ার বানিয়ে। ফলাফল&mdash;একটি হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম, যারা আর রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। যখন যুব সমাজ রাষ্ট্রে আস্থা হারায়, তখন রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ হারায়। আর এভাবেই মাদক ধীরে ধীরে এক নিঃশব্দ রাষ্ট্রবিনাশী শক্তিতে পরিণত হয়।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সংগ্রাম সবচেয়ে দুঃখজনক হলো&mdash;যারা এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলে, তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়। গণমাধ্যমের ওপর চাপ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, বা হুমকি&mdash;সবকিছুই এ দেশের বাস্তবতা। নাগরিক সমাজের যে অংশ এখনো সাহসীভাবে কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে মামলা হয়। মাদকবিরোধী আন্দোলনকে &lsquo;বিরোধী রাজনীতি&rsquo; বলে অভিযুক্ত করা হয়। ফলে জনগণ বুঝতে পারে না&mdash;কারা সত্য বলছে, কারা নয়। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নাগরিকের কণ্ঠ। কিন্তু যখন সেই কণ্ঠ দমিয়ে রাখা হয়, তখন নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। এই নীরবতার মধ্যেই অপরাধ ফুলে-ফেঁপে ওঠে, আর ক্ষমতা ক্রমে অমানবিক হয়ে যায়।

রাষ্ট্রচিন্তার সংকট: গণতন্ত্র না নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে জনগণের ক্ষমতা ক্ষয়ে গেছে। মাদক রাজনীতি এই ক্ষয়কে আরও গভীর করেছে। গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয়, যখন রাষ্ট্র নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করে। কিন্তু আজ নাগরিক ভীত, ন্যায়বিচার অকার্যকর, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট, আর রাজনীতি স্বার্থান্ধ। এটি গণতন্ত্র নয়&mdash;এটি নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য। এই নৈরাজ্যের অন্যতম জ্বালানি হলো মাদক অর্থনীতি। কারণ মাদক নিয়ন্ত্রণ মানে অর্থ ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণ। ফলে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তারা কখনোই গণতান্ত্রিক শাসন চায় না। তারা চায় বিশৃঙ্খলা, কারণ বিশৃঙ্খল সমাজেই অপরাধ টিকে থাকে।

প্রতিরোধের দর্শন: শিক্ষা, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সমস্যা যত গভীরই হোক, প্রতিরোধের পথ সবসময় থাকে। কিন্তু সেই পথ কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি। মাদকবিরোধী যুদ্ধ কেবল আইন প্রয়োগে জেতা সম্ভব নয়; এটি এক সামাজিক পুনর্জাগরণের লড়াই। প্রথমত, শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পাঠ ফিরিয়ে আনতে হবে। কেবল ডিগ্রি নয়, দরকার সচেতনতা&mdash;যাতে তরুণরা জানে মাদকের আসল ক্ষতি কেবল তাদের শরীরে নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। যে পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপস করে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, দলীয় বিবেচনা ছাড়াই। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থে রাজনীতি টিকতে পারে না&mdash;এটা যতদিন না উপলব্ধি হবে, ততদিন রাষ্ট্র এই দহন থেকে মুক্তি পাবে না।

শেষ কথা: অন্ধকারের ভিতরে আলোর খোঁজ বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে নীরবতা আর সহনশীলতার পার্থক্য বুঝে নিতে হবে। ন্যায়বিচার যখন নীরব হয়, তখন অন্যায়েরই জয় হয়। আর মাদক রাজনীতি হচ্ছে সেই অন্যায়ের চূড়ান্ত রূপ। তবুও আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। ইতিহাস বলে&mdash;যে সমাজ একদিন সাহস করে সত্য উচ্চারণ করেছে, সে সমাজই পুনর্জন্ম লাভ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ যদি একদিন সত্যিকার অর্থে বলে&mdash;&lsquo;আমরা আর ভয় পাই না&rsquo;, তাহলে এই অন্ধকারও ভেদ করা সম্ভব। রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের গুলিতে নয়, বরং তার জনগণের নৈতিক সাহসে। এই সাহসই একদিন মাদক রাজনীতির অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করবে।

&mdash;&mdash;&mdash;অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলাম লেখক গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 28 Oct 2025 05:06:11 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সোশ্যাল মিডিয়া: ভাইরাল নাকি ভাইরাস?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13363" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13363</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত সমাজের বাসিন্দা। এই সমাজে খ্যাতি বা &lsquo;পরিচিতি&rsquo; যেন এক উন্মত্ত নেশা, যা পাওয়ার জন্য মানুষ নিজের মান, হুঁশ, এমনকি ন্যূনতম শালীনতাও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসারে &lsquo;ভাইরাল&rsquo; হওয়া এখন সাফল্যের নতুন মাপকাঠি। কিন্তু এই তথাকথিত &lsquo;ভাইরাল&rsquo; হওয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকা অসুস্থ প্রতিযোগিতা, নির্লজ্জতা আর ব্যক্তিগত জীবনের লাগামহীন প্রদর্শন&mdash;এসব কি স্রেফ পরিচিতি? নাকি ধীরে ধীরে সমাজকে গ্রাস করে নেওয়া এক মারণব্যাধি, এক &#39;ভাইরাস&#39;? বর্তমান যুগে ভাইরাল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কীভাবে মানুষকে নৈতিকতার গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই বিশ্লেষণে তা-ই তুলে ধরা হবে।

খ্যাতির নতুন সংজ্ঞা- &#39;ভাইরাল&#39; হওয়াটাই শেষ কথা

একসময় খ্যাতি অর্জন করতে প্রয়োজন হতো দীর্ঘদিনের সাধনা, মেধা ও প্রতিভার। শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী&mdash;সকলেই পরিচিতি লাভ করতেন নিজেদের সৃষ্টিশীল বা গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে। কিন্তু এখন চিত্রটা পাল্টে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত টিকটক, ইউটিউব, ফেসবুক রিলস-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সস্তা জনপ্রিয়তার এক সহজ রাস্তা খুলে দিয়েছে। রাতারাতি &lsquo;স্টার&rsquo; হয়ে ওঠার হাতছানি পেয়ে বহু মানুষ মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির বদলে বেছে নিচ্ছেন চটকদার, বিতর্কিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে অশ্লীল পথ। একটি সাধারণ বা হাস্যকর ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, আর সেই ভিউ ও লাইকের সংখ্যাই যেন এখন ব্যক্তির আত্মমর্যাদা পরিমাপের নিক্তি। এই পরিচিতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সেই নেশা যেন মরফিন থেকেও তীব্র।

সস্তা বিনোদনের অন্ধকার দিক

ভিডিও কনটেন্ট তৈরি বর্তমানে একটি পেশায় পরিণত হয়েছে। অর্থ উপার্জন, ব্র্যান্ডিং এবং স্রেফ &lsquo;ফলোয়ার&rsquo; বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় কনটেন্ট নির্মাতাদের একটি বড় অংশ নিজেদের সৃজনশীলতা বাদ দিয়ে বেছে নিয়েছেন &#39;লজ্জা ত্যাগ&#39; বা &#39;মান-বিসর্জন&#39;-এর কৌশল। সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ, পারিবারিক ঐতিহ্য বা শালীনতা তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় বোঝা মাত্র। ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি, অশালীন পোশাক বা বিতর্কিত ও অসংলগ্ন বক্তব্যকে তারা পরিণত করেছেন পুঁজি হিসেবে। একজনের মানসম্মানের হানি অন্য অনেকের কাছে সস্তা বিনোদনের খোরাক। একটি ভিডিও কতটা ভাইরাল হবে, তা যেন নির্ভর করে তার &lsquo;শক ভ্যালু&rsquo;-এর ওপর। যত বেশি অরুচিকর, উদ্ভট বা বিতর্কিত, তত বেশি মনোযোগ। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার সামনে সর্বজনীন পণ্যে পরিণত করছেন, যেখানে ভিউয়ারের রুচির স্তরে নেমে আসতে দ্বিধা করছেন না। এটি একদিকে যেমন তাদের নিজেদের ব্যক্তিত্বের অবনমন ঘটাচ্ছে, তেমনি সমাজে এক ধরনের অসুস্থ রুচিকেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

গণ-উন্মাদনা ও অবক্ষয়ের প্ল্যাটফর্ম

টিকটক-এর মতো শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো &#39;ভাইরাল হওয়ার ভাইরাস&#39;-এর অন্যতম প্রধান বাহক। এখানে কিছু মানুষ নিজেদের শারীরিক ভাষা, পোশাক এবং আচরণের চরম নির্লজ্জ প্রদর্শনী করতে দ্বিধা করছেন না। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি জনসমাগমের স্থানেও অদ্ভূত বা যৌন-উত্তেজক নাচের ভঙ্গি, অশালীন সংলাপ এবং বেসামাল কার্যকলাপের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে &lsquo;ট্রেন্ড&rsquo; তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

অ্যাপগুলোর আসক্তি যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে বাস্তব জীবন থেকে দূরে। তারকাখ্যাতি পাওয়ার নিরর্থক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে অনেকে জীবনের ঝুঁকিও নিচ্ছেন, যা প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতা, যৌনতা ও সহিংসতা প্রাধান্য পাওয়ায় এটি পরিণত হয়েছে এক সামাজিক ব্যাধিতে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরনের আসক্তি, যা মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর। সমাজের একটা বিশাল অংশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী এই নেশায় বুঁদ হয়ে তাদের শিক্ষাজীবন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে।

কাপল ভিডিও&rsquo;র নামে ব্যক্তিগত জীবনের নগ্ন প্রদর্শন

সাম্প্রতিক সময়ে &#39;কাপল ভ্লগ&#39; বা দম্পতিদের ভিডিও কনটেন্ট একটি নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত জীবনের নগ্ন প্রদর্শনে পরিণত হচ্ছে। সম্পর্কের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো, বেডরুমের খুনসুটি, এমনকি একান্ত ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোও এখন ক্যামেরার লেন্সে বন্দি হয়ে লক্ষ লক্ষ দর্শকের সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে। বিবাহের মতো পবিত্র বন্ধনকে ব্যবহার করা হচ্ছে স্রেফ ভিউ আর সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। ফুলশয্যার রাতের মতো একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ব্লগিং বা দাম্পত্য কলহকে জনসমক্ষে আনা&mdash;এইগুলো স্রেফ কনটেন্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের পবিত্রতার প্রতি এক চরম উদাসীনতা ও অসম্মানের পরিচায়ক। দর্শকরা মজা পেলেও এই ধরনের ভিডিও সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিপথ, মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ধারণাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এটি প্রমাণ করে যে, খ্যাতির মোহে ব্যক্তিরা সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ও মর্যাদা বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত। এই লাগামহীন প্রদর্শন সমাজে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা &lsquo;প্রাইভেসি&rsquo;-এর মতো মৌলিক ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ভাইরাল নাকি ভাইরাস

ভাইরাল হওয়ার এই উন্মাদনা একটি দ্বিমুখী তলোয়ার। একদিকে এটি মানুষকে পরিচিতি এবং আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু যখন এই পরিচিতি অর্জন করতে গিয়ে মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের নৈতিক মানদণ্ড বিসর্জন দেয়, নির্লজ্জতাকে প্রশ্রয় দেয় এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সর্বজনীন তামাশায় পরিণত করে, তখন তা আর &lsquo;ভাইরাল&rsquo; থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক &lsquo;ভাইরাস&rsquo;। এটি এমন এক ভাইরাস, যা দ্রুত ছড়ায় এবং সমাজের সুস্থ চিন্তাধারাকে পচিয়ে দেয়। এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো হলো&mdash;মান-অপমানবোধহীনতা, সস্তা খ্যাতির প্রতি আসক্তি, নৈতিকতার প্রতি উদাসীনতা এবং বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল লাইক-কমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এর ফলে, সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা, কমে যাচ্ছে মানসম্মত কনটেন্টের কদর, এবং তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে&mdash;ভাবছে যে নির্লজ্জতাই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি।


&#39;ভাইরাল নাকি ভাইরাস&#39;&mdash;এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে ভাইরাসের দিকেই ইঙ্গিত করছে। খ্যাতি বা পরিচিতি অবশ্যই কাম্য, কিন্তু তা যেন আসে গঠনমূলক কাজ, মেধা ও শালীনতার মাধ্যমে। যদি জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য মানসম্মানকে বিসর্জন দিতে হয়, তবে সেই খ্যাতি সমাজকে কোনো ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে না। বরং, তা কেবল সমাজের অভ্যন্তরে একটি ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে। এই &#39;ভাইরাস&#39; থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে কনটেন্ট নির্মাতাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি দর্শকদেরও রুচির মান উন্নত করতে হবে। সস্তা, অশ্লীল ও নির্লজ্জ কনটেন্টকে প্রত্যাখ্যান করতে পারলেই সুস্থ ও শালীন ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নয়তো এই &lsquo;ভাইরাল&rsquo; নেশা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিবে।

&mdash;&mdash;প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 21 Oct 2025 13:33:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে জবাবদিহির রাজনীতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13166" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13166</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মোঃ আয়নুল ইসলামঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার, প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন, এমনকি প্রতিটি সমাবেশের মঞ্চে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয় নানা প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হয়?

আজকে খতিয়ে দেখবো, আমাদের রাজনীতিতে জবাবদিহির অভাব কেন, এবং আমরা কবে সেই কাঙ্ক্ষিত &quot;জবাবদিহির রাজনীতি&quot;-তে পৌঁছাতে পারব।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাচন মানেই ছিল প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি। উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, সুশাসন আসবে, দুর্নীতি কমবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব ঘটবে&mdash;এমন সব প্রতিশ্রুতি জনগণ বারবার শুনেছে।

স্বাধীনতার পরপরই খাদ্য ঘাটতি পূরণ, শিক্ষা বিস্তার, দারিদ্র্য দূরীকরণকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, এমনকি গ্রাম থেকে শহরে অবকাঠামো উন্নয়ন&mdash;সবই নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলো।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, এসব প্রতিশ্রুতির একটি অংশ হয়তো বাস্তবায়ন হয়, কিন্তু বেশিরভাগই থেকে যায় অসম্পূর্ণ বা উপেক্ষিত। ফলাফলস্বরূপ জনগণের মধ্যে জন্ম নেয় হতাশা।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনীতিবিদরা জনগণের প্রতিনিধি। তাদের কাজ হলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই জবাবদিহিতা তেমনভাবে তৈরি হয়নি।

নির্বাচনের পর জনগণ প্রায় ভুলে যায়, কারা কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আবার নেতারাও সচেতনভাবে এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যান। জনগণের সামনে এসে তারা হয়তো নতুন প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পুরোনোগুলোর বাস্তবায়নের হিসাব তেমন দেন না।

এই সংস্কৃতির ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের &quot;অপ্রকাশিত দায়মুক্তি&quot; তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেয়, নেতারা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবতার মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়া যায় না।

জবাবদিহি ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ সবসময় প্রশ্ন তুলতে পারে কেন প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি? কোথায় ব্যর্থতা ছিল? আর সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া রাজনীতিবিদদের নৈতিক দায়িত্ব।

যেখানে জবাবদিহি নেই, সেখানে দুর্নীতি বেড়ে যায়, সুশাসন ভেঙে পড়ে, আর জনগণের আস্থা কমে যায়। এ কারণেই উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাজের রেকর্ড খুব স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। সেখানে প্রতিশ্রুতির সাথে সাথে অর্জন আর ব্যর্থতার সঠিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিশ্রুতির রাজনীতি আবারও জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল আবারও জনগণের সামনে নানা স্বপ্নের বয়ান হাজির করেছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি&mdash;এসব শোনার পাশাপাশি জনগণ দেখতে পাচ্ছে বাস্তবতার ফারাক। বেকারত্বের হার এখনও বেশি, স্বাস্থ্যখাত এখনও সংকটাপন্ন, শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসেনি, আর দুর্নীতি যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তার লাভ করেছে।

বাংলাদেশে জবাবদিহির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখানে উল্লেখ করা হলো:

১.ইশতেহারের অগ্রগতি প্রতিবেদন: প্রতি বছর রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
২. গণমাধ্যমের ভূমিকা: সাংবাদিকদের উচিত প্রতিটি প্রতিশ্রুতির ফলো-আপ করা, এবং জনগণকে জানানো আসল অবস্থা কী।
৩. জনগণের সচেতনতা: ভোট দেওয়ার আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি শোনার পাশাপাশি অতীতের কাজের হিসাব চাইতে হবে।
৪. শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে ইতিবাচক ও জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে।
৫. প্রযুক্তির ব্যবহার: সরকারি প্রকল্প ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি অনলাইনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতি যদি শুধুই প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে জনগণের আস্থা ক্রমেই ক্ষয় হতে থাকবে। আর আস্থাহীন গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হতে পারে না। এখন সময় এসেছে রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবার&mdash;যেখানে প্রতিশ্রুতি থাকবে, তবে তার সাথে থাকবে জবাবদিহির কঠোর সংস্কৃতি।

আমরা সেই দিনটিই দেখতে চাই, যেদিন রাজনীতি আর ক্ষমতার খেলা হবে না, বরং হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সেবার হাতিয়ার। প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে বের হয়ে যখন জবাবদিহির রাজনীতিতে আমরা প্রবেশ করব, তখনই সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের পথে।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 02 Oct 2025 10:39:21 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষিতে খসড়া প্রস্তাবনা : একটি পর্যালোচনা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13088" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13088</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[অধ্যাপক মাহাবুবুল ইসলাম: সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন, দীর্ঘদিন সরকারি সাত কলেজ, তথা ঢাকা কলেজ এবং সরকারি বাঙলা কলেজে চাকরি করার সুযোগ হওয়ায় কাছ থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তার আলোকে একটু পর্যালোচনা করতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি কেন হলো :

১.কোন প্রকার দাবি বা আন্দোলন ছাড়াই বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত খায়েশ এবং সাবেক দুই ভিসির ব্যক্তিগত রেষা-রেষিতে ২০১৭ সালে কোন প্রকার অধ্যাদেশ বা নীতিমালা ছাড়াই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে ৭ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করা হয়।

২. অধিভক্তির পর বিশ্ববিদ্যালয় কোন প্রকার বাজেট বা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তারা তেমন কোন ভূমিকা রাখেননি।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বিল্ডিং এখনো সেকালে ম্যানুয়ালী রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছে যা &#39;লাঞ্চের পরে আসেন&#39; কালচার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শুধু শিক্ষার্থী নয় শিক্ষকদেরও পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

৪. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিমাতাসুলভ আচরণ এবং তাদের নিজস্ব সমস্যায় জর্জরিত থাকায় নিজেদের গুণগত মান উন্নয়নে সামর্থ হয়নি বরং দিন দিন রেংকিংয়ে নিচের দিকে যাচ্ছে।

৫. যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন রেংকিং এ নিচের দিকে যাচ্ছে, শিক্ষার গুণগত মান ও তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছেন না। সেখানে কিভাবে তার চেয়ে তিন /চার গুন বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে এই বিশাল বোঝা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো তা কিছুতেই বোধগম্য নয়। তাছাড়া ঢাবির অনেক শিক্ষক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ইভিনিং কোর্স সহ প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন ।

৬.অধিভুক্তির ফলে তাদের ব্যক্তিগত কিছু লাভ ছাড়া শিক্ষার্থী বা শিক্ষার কোন গুণগত মান উন্নয়ন হয়েছে বলে শিক্ষার্থী এবং স্টেক হোল্ডাররা মনে করেন না।

৭. শিক্ষার্থীদের যে সনদ দেয়া হয়েছে তাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের সাথে মিল নেই।

৮. অধিভুক্তির আগে শিক্ষার্থীরা মনে করেছিলেন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পারবেন এবং সার্টিফিকেট পাবেন । ঢাবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তো তারা হতে পারেননি, বরং ঢাবির ক্যাম্পাসে ঢুকাও সম্ভব ছিল না । এমনকি সমাবর্তন গুলোও বাইরে মাঠে ভার্চুয়ালি করতে হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক!!

৯. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কখনো ওন করেননি, এবং তাদের সাথে সব সময় বৈষম্যমূলক আচরণ করা হতো ।

১০. আর্থিক নীতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে লক্ষ - লক্ষ টাকার নন কলেজিয়েট এবং ডিস কলেজিয়েট ফিস আদায় করে ঢাবিকে দেয়া হতো কিন্তু এই অর্থ কলেজের গরীব শিক্ষার্থীদের কোন উপকারে আসেনি।

১১. সাত কলেজের উত্তরপত্র মূল্যায়নে সিঙ্গেল পরীক্ষক কর্তৃক মূল্যায়ন করা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও বিতরণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা, ফলাফল তৈরিতে দীর্ঘ সূত্রীতা ও ভুল ইত্যাদি নানাবিধ কারণে ফলাফল প্রকাশ্যে বিলম্ব হতো।

যার কারনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চয় হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সমস্যার সমাধান কল্পে বিভিন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেন। বিভিন্ন কলেজ তাদের নিজস্ব নামে কখনো বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়, কখনো ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়, কখনো তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করে। ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পেরে তারা এখন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবের অসঙ্গতির দিকগুলো হলো :
১. স্থান -কাল - পাত্র ভেদে প্রকল্পের উদ্দেশ্য,বাজেট, সম্ভাব্যতা নির্ধারণ হয়েছে বলে মনে হয় না। এস ডি জি ৪: তথা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই প্রকল্প কতটুকু সামর্থ হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ!

২. প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করে ৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরিবর্তে পাঁচ /ছয় হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে যে প্রতিষ্ঠান গঠিত হতে যাচ্ছে তা বাংলাদেশের মতো গরিব জনবহুল দেশের জন্য চাহিদার তুলনায় কতটুকু উপযোগী এবং এটি শিক্ষা সংকোচন নীতির বহিঃপ্রকাশ কিনা তা আলোচনার দাবি রাখে।

৩. প্রস্তাবে শিক্ষার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশের গরিব সাধারণ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাবেন না তারা এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় এবং পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করেন। সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।
৪. বিদ্যমান সাবজেক্ট গুলো অধিকাংশ বাদ দেয়া হয়েছে। সেখানে যে সমস্ত শিক্ষার্থী এই সাবজেক্টগুলো অধ্যায়ন করছেন তাদের ব্যাপারে কি হবে, তার নির্দেশনা নেই।

৫. ভার্চুয়াল ক্লাসের কথা বলা হয়েছে অথচ বিগত করোনার সময় বাস্তবতা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকই সাত কলেজে কোন ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশগ্রহণ করেননি অথবা তাদের লেসন দিয়ে সহযোগিতা করেননি। এমনকি সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। এটি প্রকারান্তরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বলে অনেকে মনে করেন।

৬.এটি মূলত প্রফেশনাল কোর্স মনে হয়েছে যা ঢাবির ইভিনিং এ পড়ানো হয়।

৭. নতুন কোর্সগুলো কারা পড়াবেন, পুরাতন সাবজেক্ট গুলো থাকবে কিনা, শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১৫০০ সদস্য, হাজার হাজার বেসরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা উল্লেখ নাই।

৮. ভৌত অবকাঠামো কোন্ প্রতিষ্ঠানের থাকবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। সাত কলেজের আয়- ব্যয় তাদের নিজস্ব কিনা এ বিষয়ে নির্দেশনা না থাকায় আন্ত:দ্বন্ধ তৈরি হবে।

৯. বর্তমানে সাত কলেজে খুবই স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করেন। শিক্ষার্থী কমিয়ে আনায় এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যেতে বাধ্য হবেন। ফলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় লাভবান হবে।

১০. দেশের সেরা এই সাতটি কলেজ প্রচলিত সাবজেক্টগুলো না থাকায় এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাছাড়া এই নতুন নতুন সাবজেক্ট গুলো পিএসসিতে অন্তর্ভুক্ত নেই।
১১. দুপুর একটা পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকের এবং পরবর্তীতে অনার্স লেভেলে ক্লাস এর কারণে অনার্স --মাস্টার্স এর শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং পরবর্তীতে তারা উচ্চমাধ্যমিকের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদেরকে বের করে দেয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
১২. এখানকার শিক্ষার্থীরা ঢাবির তুলনায় কম মেধাবী থাকবে কিন্তু তাদের ক্লাস মাত্র ৬০% হবে সরাসরি আর বাকি ৪০% ভার্চুয়ালী হবে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বর্তমান প্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল ক্লাসগুলো কতটুকু ইফেকটিভ হবে তা
প্রশ্নসাপেক্ষ।

সাত কলেজে কারা পড়েন :
************************
সমাজের দরিদ্র, নিপীড়িত, অসহায়, গ্রামের কৃষক সহ কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষার্থী এখানে পড়েন। যারা সমাজের ধনী শ্রেণীর, তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করে অল্প খরচে তারা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে কর্ম ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন শিক্ষার সুযোগ। কলেজ বন্ধ করে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় হলে লক্ষ লক্ষ গরিব শিক্ষার্থী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাদেরকে বঞ্চিত করার জন্য সুবিধাভোগী কোন গোষ্ঠী আছে কিনা সেটিও ভেবে দেখা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের ঐতিহ্য: সেরা সাত কলেজ
****-**-************************
ছাত্র-শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনটি মিলেই শিক্ষা প্রক্রিয়া প্রবাহমান। এই তিনটি উপাদানের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব :

১. ঢাকা কলেজ : স্বনামেই খ্যাত, ১৮৪১ সালে যার প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা কলেজ তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।তৈরি করেছে অসংখ্য শ্রেষ্ঠ মানব সম্পদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মহান ভাষা আন্দোলন,মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান এর সাথে প্রতিষ্ঠানটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। শিক্ষা ক্যাডারের স্বপ্নের আবাসস্থল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমাধ্যমিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাস করে বুয়েট মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন। অন্যদিকে এখান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স অর্জন করে শিক্ষার্থীরা বিসিএস সহ সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছেন। এই প্যারালাল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো তৈরি হয়নি বাংলাদেশে।

২. সরকারি তিতুমীর কলেজ : হাজী নেসার আলী ওরফে শহীদ তিতুমীর। যার নাম শুনলে এখনো বীর বাঙালির রক্ত স্রোতধারায় শিহরণ জাগায়। অন্যায় আর অসত্যের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশদের শোষণের বিরুদ্ধে, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদে আপোসহীন এক বীর বাঙালি হাফেজ শহীদ তিতুমীর। তার বাঁশের কেল্লা অন্যায় - অসত্যের বিরুদ্ধে জন্ম ও জন্মান্তর যোগাবে শক্তি, সাহস- প্রেরণা। ২৪ এর গন আন্দোলনে তাই এ কলেজে শিক্ষার্থীদের দেখেছি জীবন বাজি রেখে সংগ্রামে অংশ নিতে। দীর্ঘজীবী হোক শহীদ তিতুমীর কলেজ।

৩. সরকারি বাঙলা কলেজ : মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে যে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি জড়িত সেটি হলো সরকারি বাঙলা কলেজ। ঙ বর্ণ দিয়ে লেখা এ কলেজটি ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ভাষা সংগ্রামী প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আযরফ সহ বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, কবি- সাহিত্যিক স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাংলাকে দাড় করানোর জন্য এ কলেজটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

৪. ইডেন মহিলা কলেজ : নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে ১৮৭৩ সালে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকাসহ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা এ কলেজে অধ্যায়ন করে কর্মজীবনে উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এখনো রানিং কয়েকজন সচিব এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর গণআন্দোলনে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের অবদান অবিস্মরণীয়। যে কলেজের শিক্ষার্থীরা ছেলেদের সাথে পড়বে না বলেই এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। সেখানে কোন যুক্তিতে ছাত্রদের ঢুকাবেন?

৫. কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ। প্রতিটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির অত্যন্ত মেধাবী গরিব হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যায়ন করে। এই প্যারালাল এখনো ঢাকা শহরে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়নি। বুয়েট, মেডিকেল, ঢাবি সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সমস্ত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী
শেষ করে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়।

খসড়া প্রস্তাবনায় সাত কলেজের সমস্যা-
সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা আলোচনা হয়েছে বলে মনে হয় না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, শিক্ষার ব্যাপক প্রসার না হয়ে বরং শিক্ষা সংকোচন হবে বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন। প্রয়োজন সাত কলেজের ঐতিহ্য রক্ষা করে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। প্রয়োজন একটি স্বাধীন শিক্ষা গঠন। জরুরী ভিত্তিতে ক্যাডার সদস্য এবং স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নিয়ে একটি সেমিনার করুন, রুপরেখা তৈরি করুন। আট বছর ঢাবির আন্ডারে শুধু এক্সপেরিমেন্ট চলেছে, ফলাফল হয়নি। আর কোন এক্সপেরিমেন্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, বাজেট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। অর্ধশত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, কতগুলো মানসম্মতভাবে চলছে?
৩৬ জুলাই ছাত্র জনতার- বিপ্লবের প্রেক্ষিতে বলতে চাই, এমন কোন কর্মসূচি নেওয়া ঠিক হবে না যেখানে বৈষম্য তৈরি হয়। যাতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে বাধ্য হয়। যে সমস্ত সাবজেক্ট এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে তা এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পায়নি। সাত কলেজে সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে যে বাজেট, যে শিক্ষক, যে অবকাঠামো, যে ল্যাব, প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই। ঢাকা কলেজ একটি বয়েজ কলেজ, ইডেন কলেজ মেয়েদের কলেজ। প্রত্যেকটি কলেজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা দরকার। ঢাকা বা ঢাকার আশেপাশে পর্যাপ্ত জমি অধিগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক মানের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করুন। দ্রুত স্টেক হোল্ডারদের সাথে বসুন। প্রস্তাবনা করুন, নীতিমালা ও অধ্যাদেশ এর খসড়া পত্রের উপর সেমিনার আয়োজন করুন।
প্রতিটি কলেজের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য রয়েছে যা বাংলাদেশের ভাষা ও রাষ্ট্রের জন্মের সাথে জড়িত। ইতিহাস -ঐতিহ্য নষ্ট করা ভালো কাজ নয়। এক অর্ডারে বিলুপ্ত করা যাবে, কিন্তু গঠন করা যাবে না। এই কঠিন দায়িত্ব পালন দুই একজন বিতর্কিত শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়, এজন্য একটি স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন করুন। যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কাজ না করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে স্বাধীনভাবে গরিব সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে মানবসম্পদে রূপান্তর করার মহান দায়িত্ব পালন করবেন। সেই মহান প্রত্যাশায় --
লেখক শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কলেজের অধ্যাপক

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 27 Sep 2025 05:49:22 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতিতে চাপা পড়ছে মানুষের জীবন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13045" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13045</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&lsquo;চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস কোনো কিছুই আর আগের দামে নেই। প্রতিদিন নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতিতে চাপা পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবন, আটকে যাচ্ছে মানুষের নিঃশ্বাস&rsquo; বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেনে, &lsquo;বাজারে গেলেই চোখে পড়ে মানুষের অসহায়ত্ব। যা অতিতেও যেমন ক্ষমতাসীন শাসকদের হৃদয় স্পর্শ করে নাই, একইভাবে বর্তমান শাসকদের হৃদয়ও স্পর্শ করছে না।&rsquo;

বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, &lsquo;দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে কুপোকাত। সরকার পণ্যের মূল্যের উর্ধ্বগতি থামাতে পারছে না। কেননা সরকার প্রথম দিকে সিন্ডিকেটকে কিছুটা চাপে রাখলে পারলেও বর্তমানে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাজার সিন্ডিকেটের নিকট অসহায় আত্মসমর্পন করেছে। তাই সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বাজার সিন্ডিকেট আবারো নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রন করছে।&rsquo;

তারা আরো বলেন, &lsquo;বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক দুটি শব্দ হলো- &lsquo;দারিদ্র্য&rsquo; ও &lsquo;দ্রব্যমূল্য&rsquo;। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবন যখন ওষ্ঠাগত তখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত হয়ে গেছে নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসে নিজেরাই বাজার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত হতে। কিন্তু যাদের জন্য নির্বাচন সেই সাধারণ জনগন ভালো নেই ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছে। এ সমস্যা নতুন নয় তবে সম্প্রতি তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে চলছে।&rsquo;

বাংলাদেশ ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, &lsquo;দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সর্বদাই অর্থনৈতিক চাপের চক্রে আবদ্ধ। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের মূল্য ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আমজনতা সকল সময়ই চায় দেশটা ভালো চলুক সেইসঙ্গে ভালো চলুক সংসার জীবন। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উত্তাপে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সংসারে টালমাটাল অবস্থা। অস্থির বাজার ব্যবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ বা পণ্যমূল্য যৌক্তিক রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা তেমন একটা নেই বললেই চলে।&rsquo;

তারা বলেন, &lsquo;বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের হাজারো অজুহাত। এ জন্য বাজারসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরো বেশী কার্যকর করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধ করতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। অতীতে রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজির কারণে মূল্যবৃদ্ধি হবার অভিযোগ ছিল। এখনো অনেক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন। বিষয়টি দ্র&aelig;ততম সময়ে ভালোভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে চাঁদাবাজদে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।&rsquo;

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 21 Sep 2025 08:09:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[চক্রাকার অর্থনীতি: টেকসই উন্নয়নের নতুন পথ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/12813" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/12813</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বর্তমান বিশ্বে দ্রুত শিল্পায়ন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্যের পাহাড় জমা হচ্ছে, যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ক্রমশ দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ছে। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় &#39;রৈখিক অর্থনীতি&#39; (Linear Economy)&mdash;অর্থাৎ &#39;ব্যবহার ও ফেলে দেওয়া&#39;র মডেলের পরিবর্তে &#39;চক্রাকার অর্থনীতি&#39; (Circular Economy) বা &#39;পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার&#39; মডেলের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন সময়ের দাবি। এই নতুন মডেল শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বর্জ্যকে একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

ঐতিহ্যগতভাবে, বর্জ্যকে একটি মূল্যহীন পদার্থ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু চক্রাকার অর্থনীতিতে বর্জ্যকে নতুন পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে দেখা হয়। এটি কেবল একটি পরিবেশগত ধারণা নয়, বরং একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক মডেল। এর মূল লক্ষ্য হলো সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বর্জ্যকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এই দর্শনটি তিনটি মৌলিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: পণ্য এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে তা বর্জ্য ও দূষণমুক্ত হয়, পণ্য ও কাঁচামালকে বারবার ব্যবহার করে তাদের জীবনকাল বাড়ানো, এবং প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা।

প্রতিদিনের জীবনে চক্রাকার অর্থনীতি কীভাবে কাজ করে তা আমরা সহজেই দেখতে পাই। বাজার থেকে কেনা প্লাস্টিক বোতল বা প্যাকেট ফেলে না দিয়ে পুনঃব্যবহার করলে এর জীবনচক্র বাড়ে। ভাঙা আসবাবপত্র মেরামত করে আবার ব্যবহার করলে নতুন কাঠ কাটার প্রয়োজন হয় না। পুরোনো কাপড় পুনঃব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরি করা যায়। এমনকি বাড়ির জৈব বর্জ্য আলাদা করে সার বানালে তা কৃষিতে কাজে লাগে। এভাবেই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস চক্রাকার অর্থনীতিকে বাস্তবে রূপ দেয়।

বর্জ্যকে নতুন কাঁচামাল ও সম্পদে রূপান্তরিত করলে শুধু উৎপাদন খরচই কমে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নতুন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি, পুরোনো ইলেকট্রনিক্স থেকে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার, বা জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। একইভাবে ব্যাটারি রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে সীসা, লিথিয়াম এবং নিকেলের মতো মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করা যায়, যা নতুন ব্যাটারি, সোলার এনার্জি স্টোরেজ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এতে পরিবেশ দূষণ কমে, আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।

বাংলাদেশে দ্রুত বাড়তে থাকা শহুরে বর্জ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, এবং রিসাইক্লিং শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ছোট থেকে বড় সব ধরনের উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। পুনর্ব্যবহৃত পণ্য, যেমন গার্মেন্টস শিল্পে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সুতা বা প্লাস্টিক দানা, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

চক্রাকার অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্যের জীবনচক্র। ছোট জীবনচক্রের (short life cycle) পণ্য যেমন প্লাস্টিক বোতল দ্রুত রিসাইক্লিং চেইনে ফেরাতে হবে। আর দীর্ঘ জীবনচক্রের (long life cycle) পণ্য যেমন আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স বা যানবাহন মেরামত, পুনঃউৎপাদন বা আপগ্রেড করে বারবার ব্যবহার করা সম্ভব।

চক্রাকার অর্থনীতি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশকে আরও টেকসই করে তুলবে। দূষণ কমবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সহজ হবে, এবং বৈদেশিক আমদানির ওপর চাপ কমে আসবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে।

তবে চক্রাকার অর্থনীতির পথে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন, বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি, এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা। তাই প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ। সরকারকে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।

রিসাইক্লিং থেকে রাজস্ব আদায় কোনো কল্পনা নয়, বরং একটি বাস্তব অর্থনৈতিক মডেল, যা বাংলাদেশকে টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে। চক্রাকার অর্থনীতির সফল বাস্তবায়ন শুধু অর্থনৈতিক লাভই দেবে না, বরং একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 06 Sep 2025 10:19:09 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
