<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/opinion"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla opinion Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest opinion News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Tue, 19 May 2026 13:36:52 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[*জুয়ার আগুনে পুড়ছে জীবন, কার্যকর উদ্যোগ শূন্য*]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16612" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16612</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশে জুয়া এখন স্মার্টফোনের পর্দায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর নানা ধরনের নাম থাকলেও একে সবাই অনলাইন জুয়া বলে জানে। এই জুয়া খেলে সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনেকেই।

অনলাইন জুয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে (২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়) বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের সিংহভাগই তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবক।

অনলাইন জুয়া ২০১৮-২০১৯ সালের দিকে শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের সময় মানুষ যখন ঘরে অবরুদ্ধ, সে সময়ে বৃদ্ধি পায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। এই অবসরে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই সর্বনাশা জুয়ায় কত লোক পথে বসেছে, কত লোক নিঃস্ব হয়েছে এর সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষাধিক মানুষ জুয়ায় হেরে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংস্থাগুলোর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৩০% তীব্র মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আইন ও পুলিশের ভূমিকা অপ্রতুল। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০-এর বেশি জুয়ার সাইট এবং অসংখ্য মোবাইল অ্যাপ ব্লক হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার এবং দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার তাদের জমিজমা, ভিটেমাটি এবং শেষ সম্বল বিক্রি করে ঋণগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে পথে বসেছেন।

একসময় জুয়া মানে ছিল তাসের আড্ডা কিংবা গোপন আসর। এখন সেই জুয়া স্মার্টফোনের পর্দায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চলছে। একশ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জুয়ায় জড়াচ্ছে। তারা বিকাশ-নগদের লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি করেছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। কিশোর থেকে বৃদ্ধ বয়সি অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ংকর নেশায়। এ থেকে বাদ থাকছে না স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। এতে কেউ হারাচ্ছেন ব্যবসার মূলধন, কেউ বসতভিটা, কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়া শুধু মানুষকেই সর্বস্বান্ত করছে না, এর মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক ভাঙনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে। ফুটপাতের দোকানি, সিএনজিচালক, নির্মাণশ্রমিক, কলেজশিক্ষার্থী, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পর্যন্ত অনেকেই এখন নিয়মিত জড়াচ্ছেন বেটিং অ্যাপে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সিকে৪৪৪, সিভি৬৬৬, নগদ৮৮, ক্রিক্রিয়া, ওয়ানএক্সবেট, বাবু৮৮, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসক্তি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ জুয়ার জগতে প্রবেশ করতে পারছে। অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হওয়া কক্সবাজার শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, আগে ডলার দিয়ে খেলতে হতো, তাই লোক কম ছিল। এখন বিকাশে টাকা পাঠালেই খেলা যায়। সহজ হওয়ার কারণেই লোভে পড়ে সবাই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে এক সরকারি চাকরিজীবী এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পুরো টাকাই জুয়ায় হারিয়ে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাপে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন। এলাকায় কলেজছাত্র হৃদয় মিয়া বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ২২ হাজার টাকা জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষুব্ধ বন্ধুরা তাকে হত্যা করে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার এসএম পাড়ার ইমরান (২৮) অনলাইন জুয়ার ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। বগুড়ায় অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে খুন, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যশোরেও জুয়া খেলতে গিয়ে ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, অনলাইন অপরাধ দমনে জেলার সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চান না।

স্থানীয়রা বলছেন, অনলাইন জুয়ার কারণে চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহ বাড়ছে। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে স্বর্ণালংকার বিক্রি, পরিবারের টাকা আত্মসাৎ এমনকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই বের হতে চাইলেও পারেন না। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট। মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। খেলোয়াড় হারলে কমিশন পান এজেন্টরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বসে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ করছে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি এমন এলাকাগুলোতে এ নেটওয়ার্ক বেশি সক্রিয়। কক্সবাজার, মেহেরপুর ও যশোরে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের আটক করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার &lsquo;মাস্টারমাইন্ড&rsquo; হিসেবে পরিচিত কমরপুর গ্রামের নবাবকে একসময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তার অনুপস্থিতিতে জুয়ার নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে আসেন মোরশেদুল আলম লিপু গাজী। তিনিও গত বছর অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক জেলায় অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

অসুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া মহামারিতে রূপ নিয়েছে। কয়েকশ তরুণ বিভিন্ন অ্যাপের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। মুজিবনগর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকায় অনেকের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। কেউ দোতলা বাড়ি করেছেন, কেউ বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। অথচ তাদের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় নেই। মেহেরপুর পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়ার অ্যাপ শনাক্ত ও বন্ধ করার কাজ চলছে। তবে মূল হোতারা বিদেশে অবস্থান করায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। একাধিক এমএফএস এজেন্ট জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বড় অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বলে তাদের ধারণা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে পরিচালিত একটি বেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার থেকে ৯ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের আরও অনেক জেলায় জুয়ার এজেন্টদের গ্রেপ্তারের নজির আছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অ্যাপগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, অনলাইন জুয়া, হুন্ডি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে তারা নিজেরাই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালাচ্ছেন। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তারা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন পাঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেখানে টাকার প্রবাহ বেশি সেখানেই অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবার। মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হাব হওয়ায় সেখানে অনলাইনের জুয়ার হাট বেশ চাঙা। আসক্ত হয়ে পড়েছেন ওখানকার শ্রমিকরা।

পুলিশ ও সাইবার ইউনিট বলছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। ফলে মূল চক্র অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন জুয়া দেশের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিকসংকটে পরিণত হতে পারে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 19 May 2026 13:36:52 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানের ৮৫ দিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16562" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16562</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত&mdash;এই ৮৫ দিনের সময়কাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরপর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় এই সময়কে একটি &ldquo;প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণের অধ্যায়&rdquo; হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে প্রথম ৮৫ দিন ছিল মূলত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত দিকনির্দেশনা তৈরি করার সময়।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন

সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ অস্থিরতার পর প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা ছিল মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান &ldquo;নতুন বাংলাদেশ&rdquo; গড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে জনগণের সেবামুখী কাঠামোতে রূপান্তর করা।

এই সময় রাজনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি আনার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা

দেশের অর্থনীতি এই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক চাপ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মুখে ছিল। সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে।

জ্বালানি খাত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সৌর ও বায়ুশক্তি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়।

বিনিয়োগ ও শিল্পনীতি

বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে একক উইন্ডো সেবা চালু এবং করনীতি সহজীকরণ করা হয়। শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রপ্তানি খাত

তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং আইটি রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা হয়। বৈদেশিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করা হয়।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর

এই সময়ে ডিজিটাল অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স এবং স্টার্টআপ খাতকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়।

সরকার ই-গভর্নেন্স সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূমি সেবা, কর প্রদান, লাইসেন্সিং এবং নাগরিক সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। এর ফলে সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন

প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নে সরকার ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে। দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাসে &ldquo;শূন্য সহনশীলতা&rdquo; নীতি বাস্তবায়ন শুরু হয়।

সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। একই সঙ্গে সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য একটি সুশাসন সূচক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ও স্বাস্থ্যখাত

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং টেলিমেডিসিন সেবা সম্প্রসারণ করা হয়। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থা

শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং আধুনিক কারিকুলাম উন্নয়ন শুরু করা হয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।

কর্মসংস্থান

তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হয়, যেখানে আইটি, ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকায়ন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়। শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি আনা হয়।

নারী ও শিশু নিরাপত্তায় বিশেষ ইউনিট এবং জরুরি হটলাইন চালু করা হয়, যা সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সরকার ও বিকেন্দ্রীকরণ

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। এতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর চাপ কমে।

প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক কূটনীতি

প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দ্রুত রেমিট্যান্স ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়।বৈদেশিক নীতিতে অর্থনৈতিক

কূটনীতি প্রধান অগ্রাধিকার পায়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের পথ শক্তিশালী করা হয়।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

এই অগ্রগতির মধ্যেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং বৃহৎ পরিসরে চাকরি তৈরি সময়সাপেক্ষ। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখনো সম্পূর্ণ অর্জিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, যা নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক আস্থা স্থায়ী করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা এখনো একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে এই ৮৫ দিন মূলত একটি রূপান্তরের শুরু, যেখানে কাঠামো তৈরি হয়েছে কিন্তু পূর্ণ ফলাফল এখনো দৃশ্যমান নয়।

পরিশেষে বলতে যায়,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ৮৫ দিন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় এক নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা করেছে। এই সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এই সময়কাল উন্নয়নের চূড়ান্ত পর্যায় নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করবে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের আস্থার ওপর।

লেখক : কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক . প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি , ইমেইল : drmazed96@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 12 May 2026 12:20:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাওর অঞ্চলের বোরো বিপর্যয়; ১২ লাখ টন  খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার কি প্রস্তত?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16535" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16535</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওর জেলা দেয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা তিন কোটি ৮০ থেকে তিন কোটি ৮৫ লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় তিন কোটি ৭৭ লাখ টন। পরের বছরে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে তিন কোটি ৯১ লাখ টনে, ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়বে। এক দশকের বেশি সময় ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি থাকলেও চলতি অর্থবছরেই দেশকে ১২ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছে। এবার প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধানের উৎপাদন হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাবছরের জন্যই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা রয়েছে। চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 09 May 2026 09:18:30 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শিশু কিশোরদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16501" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16501</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আমাদের শিশু কিশোররা এখন এক ভয়াবহ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের বিকাশে এখন সবচেয়ে বড় বাধার নাম সোশ্যাল মিডিয়া। ছোট শিশুদের হাতে আমরা বইয়ের বদলে তুলে দিচ্ছি স্মার্ট ডিভাইস। শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইলে। যা খুশি দেখতে পারছে অবাধে। লেখাপড়ার বদলে সারাক্ষণ তাদের চোখ ডিভাইসে।
এটা একদিকে যেমন তার মানসিক বিকাশের উপর প্রভাব ফেলছে অন্যদিকে তার নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিশোর বয়সে এসে মোবাইল তাকে মাদকে আসক্ত করছে, কিশোরদের প্রলুব্ধ করছে সহিংসতায়।
মোবাইল ডিভাইসে অশ্লীল কনটেন্ট দেখে কিশোররা ইভ টিজিংয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একসময় কিশোর বয়সেই তারা ফেসবুক আর টিকটকের কারণে হয়ে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং। এভাবেই একটার পর একটা প্রজন্ম চলে যাচ্ছে বিপথে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের শিশু কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ।
&lsquo;আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা&rsquo; এ রকম ঘটনার খবর আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি। হামলায় কিশোর নিহতের খবরও নতুন নয়। প্রতিটি হামলার ঘটনায় থাকছে সর্বনিন্ম ৩০-৪০ জনের একটি সংবদ্ধ কিশোর দল।
কোথায়ও কোথাও হামলায় শতাধিক কিশোরও দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন মুহূর্তে এত কিশোর এক সাথে জোর হচ্ছে কিভাবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য! কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার। প্রত্যেক হামলার পেছনেই ব্যবহার হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইমুতে গ্রুপ খুলে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাই মুহূর্তেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে থাকা গ্রপের অন্য সদস্যদের নিকট। যার ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারা এক জায়গায় জড়ো হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও খুনের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উন্মুক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সেখানে নানা ধরনের আচরণ ও কার্যকলাপ শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর। প্রতারণা ও হয়রানি ঝুঁকির পাশাপাশি শিশুরা অনলাইন বুলিংয়েরও শিকার হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে ব্যক্তিগত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মনোযোগ সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখা যায়। ফলে সব বয়সের ব্যবহারকারীই দীর্ঘ সময় ডিভাইসে কাটাতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি বাজে ফলাফল, ঘুমের অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ার কারণও হতে পারে।
এই সমস্যাটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারাবিশ্বে শিশু কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক পথ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একারণেই শিশু কিশোরদের জন্য ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে।
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ,ডেনমার্কের, স্পেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কমবয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাজ্যও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস ২১ জানুয়ারি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর হতে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ফ্রান্স ও ডেনমার্কও বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
নরওয়ে বর্তমান বিধিনিষেধগুলো কাজ করছে না বলে স্বীকার করেছে। দেশটি আরও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে। চীন শিশুদের জন্য সবচেয়ে কঠোর ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাগুলোর একটি প্রয়োগ করে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক স্ক্রিনটাইম ৪০ মিনিটে সীমাবদ্ধ করেছে। তাদের জন্য স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিজিটাল প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসে গত ২৬ জানুয়ারি এই মামলাটি দায়ের হয়, যেখানে এই তিন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচার করে। বাদী পক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মের এলগরিদম এমনভাবে তৈরি করেছে যা শিশুদের আসক্ত করে ফেলে।
বৈশ্বিক এই উদ্যোগগুলো এ কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার পুরো দায় শুধু মা&ndash;বাবার ওপর দেওয়া সঠিক নয়; বরং যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার বিনিময়ে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করছে, এ ক্ষতির দায় তাদেরও বহন করতে হবে।
একসময় ভাবা হতো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশু-কিশোরদের ওপর বাবা-মা ঠিকভাবে নজর রাখলেই সমস্যা হবে না; কিন্তু এখন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে, তুরস্কসহ অনেক দেশেই সরকারগুলো বলছে, শুধু অভিভাবকের তদারকিই যথেষ্ট নয়। এর মানে এটা নয় যে অভিভাবক হিসেবে মা&ndash;বাবা বা সরকার দায়মুক্ত। শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার অনস্বীকার্য। ভূমিকা রয়েছে রাষ্ট্রেরও। তবে এখন স্পষ্ট হচ্ছে যে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার দায় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো এড়াতে পারে না।
আমাদের দেশের অনেক অভিভাবক শিশুদের আবদারপূরণ ও &lsquo;বিরক্ত করা&rsquo; থেকে বাঁচতে শিশুদের হাতে মুঠোফোন তুলে দেন। অনেক সময় তাদের খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব &lsquo;ঝামেলা&rsquo;র শর্টকাট সমাধানের জন্য মুঠোফোন হাতে তুলে দেওয়াই স্বস্তিকর। এটি হয়তো সাময়িক একটি সমাধান; কিন্তু এটিই শিশু-কিশোরের মারাত্মক আসক্তি তৈরির সুযোগ করে দেয়। যা তাকে ভবিষ্যতে এমন একটি জালে আটকে দেয়, যেখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই ডিজিটাল জগৎ তাদের জন্য যতটা আকর্ষণীয়, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, আসক্তি&mdash;এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রশ্ন হলো, এই ক্ষতির দায় কার? এক্ষেত্রে অভিভাবকদের একা দাঁড় করানো বাস্তবসম্মত নয়। একটি পরিবার কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের অ্যালগরিদমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে?
সারাবিশ্ব শিশুদের সুরক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে একেবারেই উদাসীন। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের তথ্য বলছে, ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। সম্প্রতি বাল্যবিবাহ নিয়ে কাজ করা একটি উন্নয়ন সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাল্যবিবাহ বেড়েছে। অন&zwj;্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে নারী বিশেষ করে কিশোরীদের উপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা বাড়ছে। কিশোরদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের অশ্লীল ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে।
গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ২০৯টি। আমাদের শিশু কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। তাদের মনোসংযোগ নষ্ট হয়েছে। প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়া কেড়ে নিচ্ছে আমাদের শিশু কিশোরদের জীবনী শক্তি। এই বিষয়টি আমরা যত উপেক্ষা করবো, সমস্যা ততই ঘনীভূত হবে। তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে এখনই সোশ্যাল মিডিয়াকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এটাই হওয়া উচিত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

লেখক: লেখক ও নাট্যকার
ইমেইলঃ auditekarim@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 03 May 2026 14:00:16 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ব্যবধান ও সমন্বয়ের নতুন রাজনীতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16366" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16366</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছুই লেখার আছে, জানানোর আছে আবার আশাও আছে। আমার যতটুকু জানা, শোনা, দেখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও চাকুরী জীবনের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, ততটুকু অভিজ্ঞতাকে সকলের সাথে ভাগাভাগি করা উচিত বলে মনে করি। আজ অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো। (১) রাজনৈতিক দল বলতে আমরা কী বুঝি? (২) বর্তমানে রাজনৈতিক দল বা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দর্শন নিয়ে দলের নেতা ও কর্মীরা কি ভাবছে বা করছে?

রাজনীতি মানে হলো রাজ্য শাসনের নীতি। যেহেতু রাজা প্রথায় আমাদের বিশ্বাস উঠে গেছে সেহেতু রাজ্য শাসনের জন্য আমরা গঠন করেছি কিছু রাজনৈতিক দল যেগুলো দেশ শাসনের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। যারা এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিবে এবং তাদের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল মানুষকে নিজেদের নীতিমালা এবং আদর্শ সম্পর্কে জনগনকে জানিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করবে। তাদের খোজখবর নিয়ে সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকবে। দেশের এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে এবং উন্নয়নের পথের দিশারি হবে। তারা এই সংগঠনের প্রয়োজনে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়েও বিভিন্ন কমিটি গঠন করবে । সোজাসাপ্টা ভাবে বলতে গেলে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, দেশ শাসন করবে। বাস্তবিক অর্থে রাজনৈতিক দল দুই রকমের। একটি &quot;কুদল&quot; আর একটা &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo;। &quot;কুদল&quot; একটি রাজনীতি বিহীন দল। এর নেতা ও কর্মীরা মনে করে রাজনীতি মানে অমুক ভাই - তমুক ভাই এর পেছনে জিন্দাবাদ আর শুভেচ্ছা শ্লোগান দেওয়া । এরা শুধুমাত্র তাদের সেই দলেরই নেতা-কর্মীদের সকল সুযোগ-সুবিধার জন্যই কাজ করে। সেটির কারণে অন্য কোন নাগরিকের ক্ষতি হলেও তাদের কিছু আসে যায়না। কিন্তু আসল &ldquo;রাজনৈতিক দল&rdquo; ব্যাপক বৃহত্তর স্বার্থে গঠিত হয়। রাজনৈতিক দল জনকল্যাণে গঠিত হয়। দেশের কোন সমস্যা বা বিপদে সেই সংগঠনের নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে। রাজনৈতিক দল তার দেশের মানুষ ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে, সেটা নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে আমাদের এইটার বেশ অভাব হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭,১৮ বছর পর বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ অবশেষে একটা নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। সেই নির্বাচিত সরকারের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা তো অনেক। একসাথে এক্ষুনি সবকিছু পাবোনা, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের যদি টার্গেট ঠিক থাকে, তাহলে আমরা চলতে চলতে একদিন ঠিকই সেই টার্গেটে পৌঁছে যাবো। একটি সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে ক্ষমতায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম-এনসিপি জোট আছে বিরোধী দল হিসেবে। বিরোধী দল গঠন মূলক সমালোচনা করবে এটিই স্বাভাবিক। বিএনপি সরকার খুবই দক্ষতার সাথে সংসদে বিরোধী দলকে সামাল দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তৃণমূলে । &#39;বিএনপি&#39; দেশের সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক দলকে একসাথে করে ফেলেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, দেশ শাসনকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটাকে আলাদা করা উচিত। আমরা যদি দেশ শাসনের জন্য দলের কাছে কিছু আশা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী দলকে দলের স্বার্থ ব্যতিরেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কে আমার আত্মীয়, কে আমার দলের লোক, কে আমার দুঃসময়ে পাশে ছিল এগুলো নিয়ে থাকলে তো সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্ব যেমন এগিয়ে যাচ্ছে একইসাথে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। পুরোনো ধাচে না থেকে আমাদের সকলেরও চিন্তাধারা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে । আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি- শুনেছি-দেখেছি, তিনি ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় উনি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন এবং তার পিতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, তার রাষ্ট্রভাবনা, দেশ পরিচালনার কৌশল, বৈদেশিক কুটনীতি এসবকিছু নিয়ে বেশ চর্চা করেছেন। সেই সাথে সাথে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে দেশনেত্রীর পাশে থেকে তার শাসনকার্য পরিচালনার হাতেখড়ি হয়েছে । একইসাথে একটা ভালো দেশে তিনি ১৭ বছর কাটিয়ে এসেছেন। সেই দেশের শাসন ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক অবস্থা তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখে এসেছেন। আমরা আশাবাদী তিনি সেইসমস্ত অভিজ্ঞতা এবং চর্চার উপরে নির্ভর করে আমাদের দেশকে পরিচালনা করবেন এবং দেশের এই জনগণকে সেবা দিবেন । তাহলে আমরা নিশ্চয়ই একটা ভালো দেশ, ভালো সমাজ পেতে পারি ।

আরেক দিক থেকে আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে যে জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমটা আলাদা ভাবে পরিচালনা করবেন । শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, প্রতিটা রাজনৈতিক দলেরও এলাকাভিত্তিক কমিটি আছে । কমিটির সভাপতি আছে, সেক্রেটারি আছে, সাংগঠনিক সম্পাদক আছে, কৃষি সম্পাদক আছে, সমাজসেবা সম্পাদক আছে, প্রাণিসম্পদ সম্পাদক সহ বিভিন্ন সম্পাদক আছে। কিন্তু দলের কমিটিতে নামমাত্রই এই সম্পাদকগুলো আছে। সম্পাদকগন তাদের নির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব পালন করেন না। একটা দলীয় কমিটির শুধুমাত্র তাদের সভাপতি-সেক্রেটারীর উপরেই সে দল নির্ভর করে। তাই যদি হবে, তাহলে কমিটিতে এত সম্পাদক, এত সদস্য রাখার তো কোনো প্রয়োজন হয় না। একটা দলের যে কৃষি সম্পাদক আছে, সে যদি তৃণমূল থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে তার কৃষির খবরাখবর রাখে, সুবিধা-অসুবিধা, চাহিদা-প্রয়োজন গুলি জানে এবং সে তথ্যগুলো নিয়ে যদি পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটিতে আলোচনা হয়, তাহলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল তৃণমূল থেকে কী দেখছে আর দল সরকার পরিচালনা কীভাবে করছে দুটির মধ্যে ডাটা তুলনা করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়। এবং তুলনা করলেই কিন্তু সরকার বুঝতে পারে যে কোথায় সরকারের ভুল আছে, আর কোথায় সঠিক আছে। সোজা কথা আমরা যে রাজনীতির চর্চা করি, সেটি দেশের কল্যাণের জন্য করি । বাংলাদেশের আপামর জনগনের জন্য কল্যাণের ভাবনাটা ভেবে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এবং বিএনপি রাজনৈতিক দল সমান্তরালভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং একইসাথে বিরোধী দল পজিটিভ গঠনমূলক সমালোচনা করে তবেই আমরা একটা সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারবো যেখানে থাকবে না দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার। আশা করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলি আমাদের দেশকে একটি দূর্নীতি মুক্ত, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।

লেখক: এ, কে, এম শফিউল আযম রুমি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 19 Apr 2026 10:53:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গ্রীষ্মের নীরব আতঙ্ক: ডেঙ্গু কারণ, জটিলতা ও করণীয়]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16255" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16255</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গ্রীষ্মকাল এলেই আমাদের চারপাশে নীরবে ছড়িয়ে পড়ে এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়ংকর হুমকি ডেঙ্গু। একসময় এটি মৌসুমি জ্বর হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিষ্কার পানির জমে থাকা এসব কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ছে। ফলে গরমের সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক নীরব আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরমে কেন বাড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি?

ডেঙ্গু মূলত এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশা নোংরা পানিতে নয়, বরং পরিষ্কার স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। গ্রীষ্মকালে এর বিস্তারের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে;-

উচ্চ তাপমাত্রা মশার জীবনচক্রকে দ্রুততর করে
অল্প পানিতেই ডিম পাড়তে পারে
দিনের বেলাতেই বেশি সক্রিয় থাকে
বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকে
ছাদে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পানিভর্তি ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র এসবই এডিস মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র। তাই গরমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ডেঙ্গুর প্রকারভেদ;-ডেঙ্গু সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে

১. সাধারণ ডেঙ্গু:
হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও হাড়ে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা যায়।

২. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার:
এটি গুরুতর রূপ, যেখানে নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, ত্বকে লাল দাগ এবং প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

৩. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম:
সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা। এতে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে।


লক্ষণ: কখন সতর্ক হবেন

ডেঙ্গু সংক্রমণের ৪&ndash;৭ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে জটিলতা বাড়তে পারে।

সাধারণ লক্ষণ:

জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে ফুসকুড়ি।

সতর্কতামূলক লক্ষণ:

তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ ও অতিরিক্ত দুর্বলতা।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর জটিলতা ডেঙ্গু অবহেলা করলে তা দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে। যেমন ;-

প্লাটিলেট কমে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ

শরীরে তরল জমে শ্বাসকষ্ট
লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়; গ্রীষ্মকালেও এর প্রভাব বাড়ছে। শহরাঞ্চলে আক্রান্তের হার বেশি এবং তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীও উল্লেখযোগ্যভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ডেঙ্গু এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।

প্রতিরোধই প্রধান উপায়

ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকায় প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়;-

পরিবেশগতভাবে:

কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, ড্রাম, টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে:মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু হলে করণীয়;-

পর্যাপ্ত বিশ্রাম
প্রচুর পানি ও তরল গ্রহণ
ডাবের পানি, স্যুপ ও ওরস্যালাইন পান
নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘরোয়া যত্ন,ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ যত্ন সহায়ক হতে পারে;-
পর্যাপ্ত পানি পান
সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার
ফলের রস ও তরল খাবার
শরীর ঠান্ডা রাখা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
তবে এগুলো কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কখন হাসপাতালে যাবেন ? নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে;-
প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া
রক্তক্ষরণ
শ্বাসকষ্ট
অচেতনতা
তীব্র দুর্বলতা

সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ অপরিহার্য। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্রসঙ্গে

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ডেঙ্গু একটি জটিল ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত। নিজে নিজে ওষুধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পরিশেষে;-

গ্রীষ্মের এই নীরব আতঙ্ক ডেঙ্গু আমাদের অসচেতনতার সুযোগ নেয়। তবে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হলো মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগই পারে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 07 Apr 2026 11:28:07 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[প্রত্যাশার নারায়ণগঞ্জ: হতাশার নারায়ণগঞ্জ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16239" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16239</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[উন্নয়নের বেড়াজালে বিপন্ন জনজীবন। শহরের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা আর সীমাহীন দুর্ভোগ। নারায়ণগঞ্জ শহরের বর্তমান হালচিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই যে,এটা শহর না অন্য কিছু ? আপনি যদি জীবনে প্রথম নারায়ণগঞ্জ এসে থাকেন তাহলে চরম হতাশ হতে হবে আপনাকে। শহরে ঢুকলেই মনে প্রশ্ন জাগবে এটা কি নারায়ণগঞ্জ? এটা কেমন নারায়ণগঞ্জ?

জগৎবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডারের দই মিষ্টান্ন খেয়ে মন ভরে যাবে।বোস কেবিনে বসে চপ,কাটলেট,চা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন। তারপর? তারপর আশ্বস্ত হওয়ার মত কিছুই নেই। ডমিনোজ,কে এফ সি,আড়ং,ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড থেকে শুরু করে প্রায় সব ব্রান্ডের শো রুম দাঁড়িয়ে আছে শহরময়। বাণিজ্যিক এলাকা নিতাইগন্জে কর্ম ব্যস্ত সবাই। নয়ামাটি হোসিয়ারী পল্লীতে উৎপাদন এবং বেচাকেনা চলছে সমানতালে। ব্যাস। এরপর আর বলার কিছু নেই।

শহরে প্রবেশ করলেই থমকে যেতে হয় সবাইকে। রাস্তায় চলাচল করতে হলে সাত বার ভাবতে হয় এই ভেবে যে,এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা বলে কিছু আছে কি - না ? সারা শহর ব্যাটারী চালিত রিক্সায় সয়লাব। দেখলে মনে হয় যেন অটো রিক্সার হাট বসেছে। সারা শহর যানজটের ফাঁদে জিম্মি। পথচারীর চলাচলের জায়গা নেই। ফুটপাথ হকারদের দখলে চলে গেছে অনেক আগেই। চাঁদা আদায়ের বিনিময়ে ফুটপাথের দখলদারিত্ব শুধু হাত বদল হয়েছে,কিন্ত ব্যবস্থাপনার কোন পরিবর্তন হয়নি। বলার কেউ নেই,এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথাও নেই। ট্রাফিক পুলিশ,জেলা প্রশাসন,সিটি কর্পোরেশন,রাজনীতিবিদ সবাই চুপ। সংবাদমাধ্যমে দু একটা লেখালেখি দেখা গেলেও বাস্তবে কোন কার্যক্রম দেখা যায় না।

এমন অব্যবস্থাপনা যেন নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অমোঘ নিয়তি। জনপ্রতিনিধিহীন এই শহরে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও কম দায়ী নয়।

সাংবিধানিক ভাবে প্রশাসনের কর্ম পরিধির সু স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও সীমাবদ্ধতার কথা বলে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উন্নয়নমূলক কোন কাজ সঠিক ভাবে এবং যথাসময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না।

উন্নয়নের নামে শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব ক&#39;টি খাল ভরাট করে কার্যত শহরটিকে গলা টিপে মেরে ফেলা হয়েছে। পানি নিস্কাশনের কার্যকর কোন ব্যবস্থা না করেই জলাধার গুলো ভরাট করে উন্নয়নের যে মডেল দাঁড় করানো হয়েছে তা এখন নগরবাসীর কাছে নির্মম প্রহসন বলেই মনে হয়।

গত বর্ষা মৌসুমে দশ মিনিটের বৃষ্টিপাতে চার পাঁচ ঘণ্টার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই দুর্ভোগের কথা ভুলতে না ভুলতেই আরেকটি বৃষ্টিপাতের মৌসুম সামনে হাজির। ড্রেন সংস্কারের নামে শহরের প্রায় সব সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।কিন্ত কাজের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)এর। কিন্ত বাস্তবে রাজউকের কোন ভুমিকা এখানে লক্ষ্য করা যায় না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে,রাজউক মুলত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নারায়ণগঞ্জ আলাদা শহর এবং সিটি কর্পোরেশন হওয়ার কারণে রাজউকের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এমন অবস্থায় জনমনে প্রশ্ন একটাই - এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?

তাই এখন সময়ের দাবী- রাজউকের আদলে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন না করলে বসবাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদক: তারিকুর রহমান রিপন, আমার বাঙলা, নারায়ণগঞ্জ

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 06 Apr 2026 11:03:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফুটপাত দখলের উন্মুক্ত লুটপাট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16142" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/16142</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ফুটপাত-নগরের সবচেয়ে সাধারণ ও মৌলিক নাগরিক পরিসর। অথচ সেই ফুটপাতই আজ কার্যত আইনবহির্ভূত শক্তির নিয়ন্ত্রণে। ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হাঁটার জায়গা নেই, কিন্তু অবৈধ দোকান বসানোর জায়গার অভাব নেই। প্রশ্ন উঠছে-রাষ্ট্রের চোখের সামনে এই দখলদারি কি নিছক অক্ষমতা, নাকি এটি দীর্ঘদিনের লালিত এক ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার ফল?

হাঁটার অধিকার ছিনতাই, চাঁদার বাজার চালু ফুটপাতে দোকান বসানো এখন আর ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অংশ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট লোকের কাছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পৌঁছাতে হয়-না দিলে উচ্ছেদের ভয়, হুমকি, কখনো প্রকাশ্য ভয়ভীতি। এই অর্থ রাষ্ট্র পায় না, নগর কর্তৃপক্ষের কোষাগারে যায় না-যায় এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাতে। ফলাফল একটাই-পথচারী কোণঠাসা, শিশু-বয়স্ক-নারী সবাই ঝুঁকির মুখে। দুর্ঘটনা বাড়ছে, জনভোগান্তি বাড়ছে, অথচ দায় নেওয়ার কেউ নেই। আইন আছে, প্রয়োগ নেই-এই সুযোগেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সিন্ডিকেট

&gt;&gt;ময়মনসিংহ শহরে কার আইন চলছে?

&gt;&gt;ফুটপাত কি ক্ষমতাবানদের &#39;অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত&#39;?

&gt;&gt; জনগণের সরকারের কাছে অসহায় নগরবাসী জানতে চায়।

আইন অনুযায়ী ফুটপাত দখল অবৈধ। তবু বছরের পর বছর ময়মনসিংহ নগরীর একই দৃশ্য চলতে থাকা প্রমাণ করে-আইন প্রয়োগে হয় চরম শৈথিল্য, নয়তো কোথাও গুরুতর গাফিলতি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানের নাটক দেখা যায়, কিন্তু কয়েকদিন পরই ফুটপাত আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে জনমনে স্পষ্ট ধারণা জন্মেছে-এই অভিযান আসলে সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাময়িক প্রদর্শনী।

সুশীল ব্যক্তিদের মতে, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি, দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং কোথাও কোথাও অসাধু স্বার্থের উপস্থিতিই দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এই চাঁদাবাজি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। গ্রাম থেকে কাজের আশায় আসা দরিদ্র মানুষদের সামনে বিকল্প খুব কম সেই বাস্তবতাকে ঢাল বানিয়ে তাদের বাধ্য করা হয় অনিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হতে। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি শোষিত হচ্ছে- এই চিত্র ময়মনসিংহ নগর জীবনের নীরব নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে।

 

নীরব দর্শক রাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ নাগরিক: সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়-এই পরিস্থিতি নতুন নয়। বছরের পর বছর একই অভিযোগ, একই ভোগান্তি, একই প্রতিবেদন। তবু কার্যকর পরিবর্তন নেই। এতে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে-ফুটপাত কি তবে পথচারীর নয়? নাকি এটি ক্ষমতাবানদের &#39;অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত&#39;? দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নাগরিকরা নীরব থাকলে অন্যায় আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। কিন্তু দায় সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রের জনগণের সেবা সুরক্ষায় নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসনের। ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা, বৈধ লাইসেন্স ব্যবস্থা, নির্ধারিত হকার জোন এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সংকট সমাধান হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল অভিযান নয়, স্থায়ী নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের ভেতরে যদি কোথাও প্রশ্রয় বা গাফিলতির অভিযোগ থাকে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়-এটি আইনের শাসন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের সরাসরি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় স্থানীয় সরকার যতদিন স্পষ্ট অবস্থান না নেবে, ততদিন শহরের সবচেয়ে সাধারণ অধিকার নিরাপদে হাঁটার অধিকার-কেবল কাগজেই থেকে যাবে।

আমার বাঙলা/আরএ

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 19 Mar 2026 07:47:49 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আহলান সাহলান মাহে রমজান]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15569" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15569</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের জীবনে আবারও আগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরি। মুসলিম উম্মাহর জন্য এই মাস কেবল একটি সময়ের নাম নয়; বরং এটি আত্মার জাগরণ, নৈতিক সংশোধন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। তাই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় আমরা বলি&mdash; আহলান সাহলান ইয়া শাহরা রমজান, হে বরকতময় রমজান! তুমি আমাদের জীবনে স্বাগত।

রমজানের প্রতিটি দিন রহমতে ভরপুর, প্রতিটি রাত মাগফিরাতে সিক্ত এবং প্রতিটি মুহূর্ত নাজাতের সম্ভাবনায় আলোকিত। এই মাসেই মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন :- রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে:- মানুষের জন্য পথনির্দেশ, হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)

রোজা: তাকওয়া অর্জনের ফরজ বিধান

রমজানের মূল ফরজ ইবাদত হলো রোজা। তবে রোজার উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।&rdquo;

(সুরা আল-বাকারা: ১৮৩) তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা মানুষকে প্রকাশ্য ও গোপনে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানায়। মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরি আমাদের সেই তাকওয়ার পথে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানায়।

রোজা শুধু উপবাস নয়, চরিত্র গঠনের ইবাদত

রোজা মানুষের ভেতরের পশুত্বকে দমন করে এবং মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:- রোজা একটি ঢাল।

তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া করতে চায়, তবে সে বলবে&mdash;আমি রোজাদার।-(সহিহ বুখারি : ১৮৯৪; সহিহ মুসলিম : ১১৫১) এই হাদিস প্রমাণ করে, রোজার প্রকৃত শিক্ষা আচরণগত সংযমে নিহিত। যে রোজা মানুষকে মিথ্যা, পরনিন্দা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে পারে না, সে রোজা তার পূর্ণ ফল দিতে ব্যর্থ হয়।

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের মাস

রমজান হলো কুরআনের মাস। এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত, অনুধাবন ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের এক বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাহাবায়ে কেরাম রমজানে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতেন। কুরআন কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। রমজান সেই সত্যকে নতুন করে উপলব্ধি করার সময়।

তারাবি ও কিয়ামুল লাইল: গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ

রমজানের রাতগুলো ইবাদতের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তারাবির নামাজ মুসলিম সমাজে এক অনন্য ঈমানি আবহ সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:- যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

(সহিহ বুখারি: ২০০৯; সহিহ মুসলিম: ৭৫৯) রাতের নীরবতায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত শ্রবণ ও হৃদয়ে ধারণ করা ঈমানকে নবায়ন করে এবং আত্মাকে প্রশান্ত করে।

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়েও উত্তম

রমজানের সবচেয়ে মহিমান্বিত উপহার হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা বলেন&mdash;লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।&rdquo;

(সুরা আল-কদর: ৩) রাসুলুল্লাহ (সা.( আমাদেরকে এই রাত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়ে বলেন:- তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।(সহিহ বুখারি: ২০১৭; সহিহ মুসলিম : ১১৬৯)

এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের ইবাদতের সমান&mdash;এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অসীম অনুগ্রহ।

দান-সদকা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

রমজান সহমর্মিতা ও মানবিকতার মাস। ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধি করে একজন রোজাদার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন:- রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল; আর রমজানে তাঁর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত।-(সহিহ বুখারি: ৬) জাকাত, ফিতরা ও নফল সদকার মাধ্যমে সমাজে ভারসাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তওবা ও মাগফিরাতের মাস

রমজান হলো তওবা কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন&mdash;যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করা হলো না, সে চরম দুর্ভাগা।&rdquo;

(জামে তিরমিজি: ৩৫৪৫) এই হাদিস আমাদের সতর্ক করে:- রমজানকে অবহেলায় কাটানো মানে আল্লাহর রহমত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা।

রমজান ১৪৪৭ হিজরি: জীবন বদলের আহ্বান

রমজান কোনো আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়; এটি জীবন বদলে দেওয়ার মাস। এই মাস আমাদের শেখায় সংযম, ইখলাস, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতি। যদি রমজান শেষে আমাদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতায় পরিবর্তন না আসে, তবে সেই রমজান আমাদের জীবনে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।

পরিশেষে, আসুন, মাহে রমজান ১৪৪৭ হিজরিকে আমরা কেবল রোজা রাখার মাস হিসেবে নয়; বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার আলোয় জীবন পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এই বরকতময় মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে ইবাদত করার তাওফিক দান করেন এবং রমজানকে আমাদের নাজাতের সোপান বানিয়ে দেন&mdash;আমিন।

আসার বাঙলা/আরএ

লেখক, কলাম লেখক ও ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধকার

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় ইসলামী গবেষণা সেন্টার।

ইমেইল, drmazed96@gmail.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 17 Feb 2026 09:08:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গণরায়ের দায়ভার: ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর শাসন, নৈতিকতা ও প্রত্যাশার হিসাব]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15511" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15511</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ডা.মু.মাহতাব হোসাইন মাজেদ: দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতার পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির বিপুল বিজয় দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের ঘটনা নয়; এটি ছিল সমাজের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, আশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। ভোটের ফলাফল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে&mdash;মানুষ আর প্রতিশ্রুতির বৃত্তে আবদ্ধ থাকতে চায় না, তারা দৃশ্যমান, টেকসই ও ন্যায্য শাসন প্রত্যাশা করে।

নির্বাচনকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি এবং ভোট-পরবর্তী জনপ্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বহুদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ ও প্রত্যাশার একটি নতুন স্রোত দেখা গেছে। এই রায় ছিল একটি সুস্পষ্ট বার্তা&mdash;রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ঘাটতি আর মেনে নেওয়া হবে না। ফলে এই বিপুল বিজয় নতুন সরকারের জন্য যেমন রাজনৈতিক সাফল্য, তেমনি এটি এক বিশাল নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়ভারও বটে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে শক্তিশালী গণম্যান্ডেট অর্জন করেছে, তা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণ তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার তুলে দিয়েছে পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন&mdash;এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, আর নতুন সরকার কতটা দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে।

মানুষের প্রত্যাশার তালিকায় সবার আগে আসে সুশাসন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষের জীবনে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, ঘুষ ও দালালনির্ভরতা এখনো বড় বাস্তবতা। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা&mdash;

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি থাকবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে অন্য সব সংস্কারের পথ অনেকটাই সুগম হবে&mdash;এ কথা মানুষ বিশ্বাস করতে চায়।

এরপরই আসে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন, যা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়&mdash;সব মিলিয়ে মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা&mdash;বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত নীতি। কাগুজে সূচকের উন্নতি নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তিই হবে অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড।

কর্মসংস্থান ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। শিক্ষিত তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। তারা শুধু চাকরি চায় না; চায় সম্মানজনক কাজ, ন্যায্য সুযোগ এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে হতাশা আরও বাড়বে। শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবাখাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে&mdash;এটাই মানুষের প্রত্যাশা।

একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও মানুষের বড় চাওয়া। বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এই খাতে অনিয়ম, প্রতারণা ও কূটনৈতিক দুর্বলতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সরকার চাইলে কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এতে রাষ্ট্রের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি প্রবাসী পরিবারগুলোর জীবনেও স্বস্তি ফিরবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা কম নয়। শিক্ষা যেন কেবল পরীক্ষানির্ভর ও সার্টিফিকেটকেন্দ্রিক না হয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়&mdash;এটাই সাধারণ মানুষের চাওয়া।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা খাত শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না&mdash;এই উপলব্ধি সমাজে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনের আরেকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান, ওষুধের প্রাপ্যতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

মানুষ চায়&mdash;চিকিৎসা যেন পণ্যে পরিণত না হয়, অসুস্থ হলে যেন সর্বস্ব বিক্রি করতে না হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসার মান উন্নত করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন সময়ের দাবি।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। অপরাধ দমনে কেবল দৃশ্যমান অভিযান নয়, প্রয়োজন কার্যকর বিচার ব্যবস্থা।

মামলার দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি এবং বিচার বিলম্ব মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে। নতুন সরকার যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নেয়, তবে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রশাসনের মানবিকতা ও দক্ষতা।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণে অহংকার ও উদাসীনতা থাকলে সরকার পরিবর্তন হলেও মানুষের ভোগান্তি কমে না।

ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতিশীলতা এবং নাগরিকবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনগণ বিভাজনের রাজনীতি নয়, স্থিতিশীলতা ও ঐক্য চায়। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী কণ্ঠকে দমনের সংস্কৃতি থেকে সরে আসাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয়। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে এই বিজয় আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নও মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শহরমুখী উন্নয়ন বৈষম্য বাড়িয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমান গুরুত্ব দিলে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও নতুন সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সবশেষে আসে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল ও দূষণ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করছে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস হলে তার দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে হবে। তাই টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে নীতিনির্ধারণের মূল ধারায় আনাই এখন সময়ের দাবি।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয় মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। মানুষের প্রত্যাশা নতুন সরকারের কাছে আকাশচুম্বী নয়&mdash;তা বাস্তব, ন্যায্য ও সময়োপযোগী। এই প্রত্যাশার দায়ভার সঠিকভাবে বহন করতে পারলেই সরকার মানুষের আস্থা অর্জন করবে। আর আস্থা অর্জিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনার পথ নিজেই অনেকটা মসৃণ হয়ে উঠবে। নতুন সরকারের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাসে ইতিবাচকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকার&mdash;এই সুযোগ কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

লেখক, কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ইমেইল, drmazed96@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 15 Feb 2026 15:14:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[উৎসবের ভোট সহিংসতা মুক্ত হোক]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15350" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15350</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সূর্য ওঠার আগে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা!

দৃশ্যমান নির্বাচন উপভোগ করবেন দেশের ১৭ কোটি জনগণ এবং বিদেশে থাকা এক কোটিরও বেশি মানুষ! এপারে নির্বাচনে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন।
অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যালেট বিপ্লবে ৫০ শতাংশই থাকছে নারী! এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের মন যারা জয় করতে পারবে বিজয়ের পাল্লা তাদের টাই ভারি হবে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজান।

রাত পোহালেই শুরু হবে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ টি আসন সহ সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের ভোট উৎসব।

এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউথ ভয়েস অব বাংলাদেশের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতির উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এনসিপি, খেলাফত মজলিস পৃথক পৃথক ভাষণ দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জরিপে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমন আভাস পাওয়া গেছে অনেক আগে! তবুও ভোটের মাঠে ব্যালেট বিপ্লবে ভয় আশঙ্কা ভর করছে প্রার্থীদের। প্রায় প্রতিটা আসনে জয় নিয়ে সকল প্রার্থীই আশাবাদী! কিন্তু বিজয়ের শেষ হাসি হাসবেন কেবল একজন! কোন আসনে কে জিতবেন এই নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ!

গণভোটে সরকারের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও জনগণের মাঝে তেমন একটা আগ্রহ উদ্দীপনা নেই! গণভোটে হ্যাঁ / না ভোট নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও নিজ নিজ সমর্থক এবং দলের প্রার্থীদের নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভোটারদের! নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা।

এখন প্রচার কার্যক্রম বন্ধ টেনশন শুরু! প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থক ভোটারদেরও বুক ধরফর করছে!

প্রিয় পছন্দের প্রার্থী জিতবে তো?
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভয়ও ভর করছে অনেকেন মাঝে! কেন্দ্র দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত সব দলের সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন এই দেশে রূপকথার গল্প!

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা তথা মুনাফিকি করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে প্রতিবারের নির্বাচনে এবারের নির্বাচনও ব্যতিক্রম হয়নি।একদল অন্য দলকে দোষারোপ করেছেন! সব দলই কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার বিষয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে! প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বাসে নাগরিক ভোটে এত অবিশ্বাস কেন রাজনীতিবিদের?

একদল আরেকদলকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন! বিশ্বাসের ভোটে অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব? সহিংসতা মুক্ত সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নাগরিক কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

রাজনীতিতে সততার জায়গা তৈরী হয়নি বরং সন্দেহ আতঙ্ক ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা পূর্বের মতোই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কারো কারো মতে বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন! আবার কেউ কেউ নতুন দিনের নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছেন।

ভোট একটি নাগরিক আমানত এবং অধিকার।
বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দেশের শান্তি চায়! এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ হোক সকল নাগরিকের। এটাই প্রত্যাশা আজকের বাংলাদেশের। লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা!
দৃশ্যমান নির্বাচন উপভোগ করবেন দেশের ১৭ কোটি জনগণ এবং বিদেশে থাকা এক কোটিরও বেশি মানুষ! এপারে নির্বাচনে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন।
অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যালেট বিপ্লবে ৫০ শতাংশই থাকছে নারী! এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের মন যারা জয় করতে পারবে বিজয়ের পাল্লা তাদের টাই ভারি হবে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজান।

রাত পোহালেই শুরু হবে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ টি আসন সহ সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের ভোট উৎসব।

এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউথ ভয়েস অব বাংলাদেশের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতির উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এনসিপি, খেলাফত মজলিস পৃথক পৃথক ভাষণ দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জরিপে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এমন আভাস পাওয়া গেছে অনেক আগে! তবুও ভোটের মাঠে ব্যালেট বিপ্লবে ভয় আশঙ্কা ভর করছে প্রার্থীদের। প্রায় প্রতিটা আসনে জয় নিয়ে সকল প্রার্থীই আশাবাদী! কিন্তু বিজয়ের শেষ হাসি হাসবেন কেবল একজন! কোন আসনে কে জিতবেন এই নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ!

গণভোটে সরকারের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও জনগণের মাঝে তেমন একটা আগ্রহ উদ্দীপনা নেই! গণভোটে হ্যাঁ / না ভোট নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও নিজ নিজ সমর্থক এবং দলের প্রার্থীদের নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভোটারদের! নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা।

এখন প্রচার কার্যক্রম বন্ধ টেনশন শুরু! প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থক ভোটারদেরও বুক ধরফর করছে!

প্রিয় পছন্দের প্রার্থী জিতবে তো?
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভয়ও ভর করছে অনেকেন মাঝে! কেন্দ্র দখল ও রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত সব দলের সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন এই দেশে রূপকথার গল্প!

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা তথা মুনাফিকি করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে প্রতিবারের নির্বাচনে এবারের নির্বাচনও ব্যতিক্রম হয়নি।একদল অন্য দলকে দোষারোপ করেছেন! সব দলই কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার বিষয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে! প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বাসে নাগরিক ভোটে এত অবিশ্বাস কেন রাজনীতিবিদের?

একদল আরেকদলকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন! বিশ্বাসের ভোটে অবিশ্বাসের রাজনীতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব? সহিংসতা মুক্ত সৃজনশীল রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নাগরিক কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

রাজনীতিতে সততার জায়গা তৈরী হয়নি বরং সন্দেহ আতঙ্ক ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা পূর্বের মতোই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কারো কারো মতে বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন! আবার কেউ কেউ নতুন দিনের নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছেন।

ভোট একটি নাগরিক আমানত এবং অধিকার।
বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দেশের শান্তি চায়! এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ হোক সকল নাগরিকের। এটাই প্রত্যাশা আজকের বাংলাদেশের।

লেখক:
নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যালেন,
সংগঠক ও কলামিস্ট
সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাওসো।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 10 Feb 2026 18:23:15 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক গতিপথের একটি সামগ্রিক বিশ্লেষণ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15308" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15308</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামো আমূল পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো একই দিনে ৩০০ আসনের সংসদ নির্বাচন এবং &#39;জুলাই সনদ&#39; বা জাতীয় সনদের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত হতে যাওয়া সাংবিধানিক গণভোট। এই দ্বিমুখী ভোটপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

​নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারের বৃদ্ধির হার ৪.১৬ শতাংশ, যা পুরুষ ভোটারদের (২.২৯ শতাংশ) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে গাজীপুর-২ আসন ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার নিয়ে বৃহত্তম এবং ঝালকাঠি-১ আসন ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৩১ জন ভোটার নিয়ে ক্ষুদ্রতম নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
​এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশ হলো তরুণ ভোটার বা জেনারেশন জেদ। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ভোটার, অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই হলো ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী তরুণ সমাজ। এই তরুণ প্রজন্মই ছিল জুলাই বিপ্লবের মূল শক্তি এবং এবারের নির্বাচনে তারা &#39;কিং মেকার&#39; হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতিতে এবার তাই বেকারত্ব দূরীকরণ এবং গুণগত শিক্ষা সংস্কারের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে প্রথাগত দলগুলোর ওপর এক ধরণের বিতৃষ্ণা থাকায় এই তরুণ ভোটারদের বড় অংশ নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে।
​সর্বদলীয় ভাবনার জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মাঠের মূল লড়াই এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নাগরিক কমিটির মতো নতুন শক্তিগুলোর মধ্যে। দলগুলো এবার অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার কথা বেশি বলছে। তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর সুফল জনগণ কতটুকু পাবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের স্বচ্ছতা এবং নতুন সাংবিধানিক কাঠামো বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। বিশেষ করে &#39;জুলাই সনদ&#39; বা গণভোটে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রবল উৎসাহ দেখা দিচ্ছে। মানুষ একে দেখছে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির স্থায়ী গ্যারান্টি হিসেবে।
​গণভোটে যদি &#39;হ্যাঁ&#39; জয়ী হয়, তবে তা প্রধান বিচারপতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ বন্ধ করা এবং উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের মতো প্রস্তাবগুলোকে সাংবিধানিক রূপ দেবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, গণভোটে যদি &#39;না&#39; জয়ী হয়, তবে তা বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি গণ-অনাস্থা হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশ নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ভোটার উপস্থিতি বা টার্নআউট কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলটির নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক যদি কেন্দ্রবিমুখ হয়, তবে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে নতুন সরকারকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।
​সবশেষে, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট এবং অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ১৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির ভোট প্রদানের সুযোগ এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার প্রবাসী ভোটার ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যা নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক চরিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং পরিসংখ্যান ও সংস্কারের মিশেলে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তৈরির পরীক্ষা।

-মাসুদ রানা
কলামিস্ট
চেয়ারম্যান-সিএইচডি নিউজ-২৪]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 08 Feb 2026 11:36:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নির্বাচন, সহিংসতা ও নারী: আমরা কোন পথে হাঁটছি?]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15135" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/15135</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অনুষঙ্গ। এটি কেবল ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়; বরং জনগণের মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক সম্মিলিত সুযোগ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে মারামারি, হামলা, সহিংসতা, নারীদের হেনস্তা এবং নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধকে গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

রাজনৈতিক মতভেদ নতুন কিছু নয়। ইতিহাসজুড়েই ক্ষমতার লড়াই হয়েছে, আদর্শের সংঘাত হয়েছে। কিন্তু সেই মতভেদ যখন রাস্তায় রক্ত ঝরায়, যখন ভোটকেন্দ্র যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়, আর যখন নারীর শরীর ও মর্যাদা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তা আর রাজনীতি থাকে না, তা পরিণত হয় সভ্যতার বিরুদ্ধে এক নগ্ন আগ্রাসনে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো নারীদের ওপর ঘটে যাওয়া হেনস্তা ও সামাজিক মাধ্যমে বা প্রকাশ্য সভা&ndash;সমাবেশে নারীদের নিয়ে করা অশালীন মন্তব্য। নারী এখানে কেবল একজন নাগরিক নন, তিনি মা, বোন, কন্যা, সহকর্মী এবং সর্বোপরি তিনি একজন মানুষ। অথচ নির্বাচন এলেই কেন নারীর মর্যাদা সবচেয়ে সস্তা হয়ে যায়? কেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে গিয়ে প্রথম আঘাতটি গিয়ে লাগে নারীর সম্মান ও ব্যক্তিসত্তায়?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের গভীরে তাকাতে হবে। আমরা মুখে মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি, আন্তর্জাতিক দিবস পালন করি, উন্নয়নের গল্প করি। কিন্তু বাস্তবে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে, তখনই দেখা যায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার আসল চেহারা। তখন নারীকে আর সহযোদ্ধা হিসেবে দেখা হয় না, দেখা হয় অপমানের সহজ মাধ্যম হিসেবে। এটি শুধু নারীর বিরুদ্ধে নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অপরাধ।

আরেকটি দিক হলো সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ। নির্বাচন মানেই যেন ভাঙচুর, আগুন, লাঠিচার্জ, পাল্টাপাল্টি হামলা এমন একটি ধারণা আমাদের সমাজে গেঁথে গেছে। তরুণরা বড় হচ্ছে এই দৃশ্য দেখে, শিশুরা শিখছে যে মতের অমিল মানেই শক্তি প্রয়োগ। রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতায় যেতে হলে পেশি শক্তির প্রয়োগ করতে হবে। এর ফল কী হবে? আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা যুক্তির বদলে ঘুষি, মতের বদলে মারধরকে বেছে নেবে?

এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে বড় দুই দল বিএনপি বা জামায়াত অথবা অন্য যেসকল দল রয়েছে, তাদের দায় আছে নিজেদের কর্মী&ndash;সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং প্রকাশ্যে নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের নিন্দা করা। কিন্তু যখন নারীদেরকে কেউ বেশশ্যা বলে মন্তব্য করেছেন আবার কেউ কাপর খুলে নেওয়ার কথা বলছেন তখন দুঃখজনকভাবে,আমরা দেখি নীরবতা। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে কর্মীদের এই বিষয়ে সতর্ক করছেন কিংবা তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার ও শাস্তির মুখোমুখি দাড় করানো হয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এই নীরবতাই হয়েতো এই ধরণের অপরাধকে উৎসাহ দেয়।

রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন সবার কাছেই জনগণের প্রত্যাশা ছিল তারা নির্বাচনকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করবে। কোথাও কোথাও তারা সফল হয়েছে, আবার কোথাও ব্যর্থতার চিত্রও স্পষ্ট। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য।

মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলতে গত দেড় দশকে দেখেছি একটা দলের বা সরকারের গোলামী করতে। কিন্তু ৫ই আগস্টের পরে আশা দেখিছিলাম মিডিয়া হয়তো সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। তবে সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ, কোন একটা দিকে তারা মনোযোগ আকর্ষণ করছেন। নারীর প্রশ্নে মিডিয়া কিছুটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলেও সেটা আবার কোন রাজনৈতিক দলের নারী কর্মী-তার উপর নির্ভর করে সংবাদ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, গুজব ও বিদ্বেষ, কারণ এখানে যে যার মতো করে পারছে নারীকে নিয়ে এমন কোন নোংরা শব্দ নাই যা ব্যবহার করছেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বাধীনতা যদি অন্যের মর্যাদা হরণের হাতিয়ার হয়, তবে সেখানে লাগাম টানার নৈতিক দায় সমাজেরই।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন আসে আমরা কী চাই? আমরা কি কেবল ক্ষমতার পালাবদল চাই, নাকি একটি সুস্থ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ গণতন্ত্র চাই? যদি দ্বিতীয়টি চাই, তবে আমাদের প্রত্যেককে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বলতে হবে সহিংসতা নয়, নারী অবমাননা নয়, অশালীনতা নয়। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পর্যন্ত সর্বত্র নৈতিকতা ও সহনশীলতার চর্চা জরুরি। পরিবারে, বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবখানেই শেখাতে হবে যে ভিন্নমত শত্রুতা নয়। আর নারী কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো অস্ত্র নয়; তিনি সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।

সবশেষে বলব, নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, সরকার আসবে&ndash;যাবে। কিন্তু যে ক্ষত সমাজে তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে নারীর মনে যে ভয় ও অপমানের বোধ জন্ম নিচ্ছে তা সহজে সারে না। সেই ক্ষত সারানোর দায় আমাদের সবার। নইলে ইতিহাস একদিন আমাদের প্রশ্ন করবে গণতন্ত্রের নামে আমরা কীসের চর্চা করেছিলাম?

লেখক: শিক্ষার্থী, মার্সিন ইউনিভার্সিটি,তুরস্ক।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 29 Jan 2026 12:08:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শোষণ-মুক্তির প্রেরনা শহীদ আসাদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14820" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14820</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[।। এম.গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ।।
০১. ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে যে দিনগুলোতে উদ্দীপিত, আলোড়িত এবং অভিভূত হওয়ার আছে তারই অন্যতম একটি দিন ২০ জানুয়ারি। ১৯৬৯ সালে শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা &lsquo;আসাদের শার্ট&rsquo;। আত্মত্যাগের ঘটনায় তিনি লিখেছেন,

&ldquo;গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের

জলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট

উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ....................

আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক

আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।&rdquo;

২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের ৫৬তম মৃত্যু দিবস স্মরণে ভুলে যেতে বসেছি কি আমরা আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের মহানায়কদের? বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার এ পথ পরিক্রমায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান একটি মাইলফলক। রাজধানী শেরেবাংলা নগর পেরিয়ে মোহাম্মদপুরের প্রবেশ দ্বারে রয়েছে একটি বিশাল তোরণ, যা &lsquo;আসাদ গেট&rsquo; নামেই পরিচিত। &lsquo;আসাদ গেট&rsquo; নামটি শোনেনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এমন মানুষ পাওয়া দুর্লভ। কিন্তু তাদের অনেকেই জানেন না শহীদ আসাদ কে? কেনই বা এ গেটটির নামকরণ?

০২. শহীদ আসাদ শুধু একটা নাম নয়। একটি প্রেরনা, একটি সংগ্রাম আর একটি আদর্শের নাম। যার পুরো নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। শহীদ আসাদের নাম জনগণের স্বাধীনতা, জাতীয় মুক্তি, গণতন্ত্র, শোষণমুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পতাকায় উজ্জ্বল হয়ে লিপিবদ্ধ। ষাট দশকে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন, জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়ন এবং শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংগ্রামে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হবার ঘটনা বাংলার সংগ্রামী মানুষের প্রাণে জাগিয়েছিল অমিত সাহস ও প্রচন্ড শক্তিতে। এর পর আসাদের সেই রক্তমাখা শার্ট যেন হয়ে উঠেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদের আজ ৫৩তম শহীদ দিবস। আসাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর গ্রামে। আসাদের কর্মজীবনের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। আসাদুজ্জামান আসাদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সমাবেশ থেকে এগারো দফার বাস্তবায়ন এবং ছাত্র জনতার ওপর পুলিশ ও ইপিআর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি ২০ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছিল। এ ধর্মঘট মোকাবেলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তথাপি বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে প্রায় দশ হাজার ছাত্রের একটি বিশাল মিছিল ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে পা&rsquo;বাড়ায়। মিছিলটি চানখার পুলের নিকটে তখনকার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে এর ওপর পুলিশ হামলা চালায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক সংঘর্ষ চলার পর আসাদসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা মিছিলটিকে ঢাকা হলের পাশ দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে রিভালবারের গুলি ছুড়ে আসাদকে হত্যা করে।

০৩. শহীদ আসাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বরেণ্য প্রয়াত বাম রাজনীতিবিদ ও লেখক কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর। স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, &ldquo;আসাদ শহীদ হওয়ার কিছুদিন আগেও কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে চরমভাবে মার খেয়েছিলেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন অসম্ভব সাহসী ও চরিত্রবান বিপ্লবী। শহীদ আসাদের সঙ্গে আমার পরিচয় ষাটের দশকেই। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। নেতৃস্থানীয় পদেও ছিলেন। আসাদ মনেপ্রাণে বিপ্লবকে ধারণ করতেন। মার্ক্সবাদে বিশ্বাস করতেন সৎ, নিষ্ঠাবান এ মানুষটি। একই সঙ্গে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন, আবার একই সঙ্গে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সংগঠনও করতেন।&rdquo;

শহীদ আসাদের মৃত্যুর পরই প্রতিবাদী মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় ৬৯&rsquo;র গণ-অভ্যুত্থান, সংঘটিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। আর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল জয়ের মধ্য দিয়ে পতন হয় পাকিস্তানের। গণতন্ত্র আর স্বদেশ মুক্তির লড়াইয়ে আসাদ এক সাহসী পথপ্রদর্শক। অন্যদিকে আসাদ আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণার উৎস। আমরা আজকে যখন শহীদ আসাদের কথা স্মরণ করি, তখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে পড়ে। আসাদ শহীদ না হলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হতো না, আসাদের পথ ধরেই মতিউর শহীদ হন। আসাদের আত্মদানেই সেদিন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন হয়েছিল। সেদিন শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সেই চেতনা জনগণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের সংগ্রামে প্রেরণা যোগায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস লিখতে গেলে আসাদকে বাদ দেয়া সম্ভব নয়। যদিও বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে অনেককেই বাদ দেয়া হচ্ছে।

০৪. বর্তমান প্রজন্মকে স্বদেশ মুক্তি আর গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা জানতে হলে আসাদকে পড়তে হবে, জানতে হবে। কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুুতিপর্বে আসাদ একটি বিরল প্রতিবাদী আর সংগ্রামের নাম। তার স্বপ্ন ছিল জনগণতন্ত্র। যা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদ আসাদ স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার স্বপ্ন দেখতেন। &lsquo;৫২ থেকে ৬৯-এর মধ্যে রাজনীতির ধারা আরও স্পষ্ট হয়েছে, মানুষের চেতনা আরও তীব্র হয়েছে, মানুষের আকাঙ্ক্ষা আরও পরিচ্ছন্ন হয়েছে। সেই যে আসাদের আন্দোলনের ধারা, তারই পথ ধরে ১৯৬৯এর গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরে ১৯৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ। আসাদের যে স্বপ্ন, জনগণের যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তার সমস্ত কিছুর মধ্যেই গণতান্ত্রিক পূর্ববঙ্গের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এত বছর পর যখন শহীদ আসাদকে আমরা স্মরণ করি তখন প্রশ্ন জাগে আসাদের স্বপ্ন কি সফল হয়েছে? আদাসের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রতো আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ ছিল শোষণ মুক্তির প্রেরণা। যতদিন শোষণ থাকবে, বঞ্চনা থাকবে, নিপীড়ন থাকবে, ততদিন মৃত্যুঞ্জয়ী আসাদ থাকবে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে এক সাহসী পথপ্রদর্শক হয়ে। কারণ আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন শাসকগোষ্টির অপশাসন আর ক্ষমতার লোভের কারণে বার বার বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে গণতন্ত্র। শাসকগোষ্টির অপরাজনীতির সুযোগে প্রতিক্রিয়াশীল আর দেশবিরোধীরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বার বার।

০৫. যে স্বপ্ন এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ দেখেছে, যার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেই স্বপ্ন লাঞ্ছিত হয়েছে, প্রতিক্রিয়াশীলদের জয় হয়েছে। কাজেই মুক্তিকামী সমগ্র জাতি আসাদকে স্মরণ করে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। শহীদ আসাদ তাই সব সময় জনগণতান্ত্রিক বাংলা প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসেন। ধ্র&aelig;বতারার মতোই তিনি বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে। তাই তো শহীদ আসাদ উত্তাল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় অর্জন। তাই একুশের মতো ঊনসত্তর বাঙালি জাতীয়তা বোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এক একটি শব্দের মধ্যে এসে পুঞ্জীভূত হয়েছে দেশ-জাতির চিন্তা-চেতনা, আশা-আকাঙ্ক্ষার যত অভিব্যক্তি।

বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই সিমিত নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ৬৯এর গণঅভ্যুত্থান প্রকৃত অর্থে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সোপান রচনা করেছিল। &lsquo;৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে ঘরমুখো করেছিল, আর &lsquo;৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সেই বাঙালিকে তার ঘরের ঠিকানা খুঁজে দিয়েছিল। স্বাধিকারের ঢিমেতাল আন্দোলন ঊনসত্তরের ২০ জানুয়ারি আসাদের মৃত্যুর পর সহসাই গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। তাই আসাদকে গণঅভ্যুত্থানের নায়ক বলা হয়। &lsquo;৬৯-এর ধারাবাহিকতায় একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও শহীদ আসাদের চেতনা কখনও ফুরাবার নয়।

০৬. ৬৯এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের &lsquo;লৌহমানব&rsquo; বলে কথিত আইয়ূব খানের একনায়কী শাসনের অবসান ঘটে, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ও পর্লামেন্টারি শাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার। পূর্ববাংলার নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা, শ্রেণি শোষণমুক্ত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ৬৯এর প্রচন্ড গতিবেগই বস্তুত &rsquo;৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। এসকল বিচারে এটা নিঃসন্দেহে বলা চলে এদেশের মানুষের সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় &rsquo;৬৯ একটি বড় মাইলফলক। আসাদ মনে করতেন আমাদের দেশে প্রচলিত গণতন্ত্র হলো শাসক শ্রেণির গণতন্ত্র। তার বিপরীতে কায়েম করতে হবে জনগণতন্ত্র। জনগণের এই গণতন্ত্র বিদ্যমান মুষ্টিমেয় শাসক শোষক শ্রেণির একাধিপত্য অবসান করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবে।

আসাদের জন্ম ১০ জুন ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে। মাত্র ২৬ বছর জীবনকালে তিনি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছেন কেবল আত্মত্যাগের কারণে। মনে রাখতে হবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দেখানো পথে ২০ জানুয়ারি বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে তার মৃত্যুই ছাত্র-গণ আন্দোলনের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দেয় এবং আইয়ূুব শাসন ও তার দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। তার আত্মদানই মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ তৈরি করেছিল। শিবপুরে জন্মগ্রহণকারী আসাদ ১৯৬০ সালে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়) এবং মুরারি চাঁদ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৩ সালের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, ১৯৬৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ওই বছর রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা ও নরসিংদী এলাকায় কৃষক সমিতি গঠনে সচেষ্ট হন। অন্যদিকে ঢাকার সিটি ল কলেজে অধ্যায়ন করার পর আসাদ ১৯৬৮ সালে আরও ভালো ফলাফল করার প্রয়াসে দ্বিতীয় এমএ পরীক্ষায় বসেন। ১৯৬৯ সালে মৃত্যুর সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা হল ইউনিটের সভাপতি এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ঊচঝট, মেনন গ্রুপ) এর ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আসাদ তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীনদের শিক্ষাগত অধিকারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি শিবপুর নাইশা বিদ্যালয় নামে একটি নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্থানীয় জনগণের জন্য একটি কলেজ (শিবপুর কলেজ) স্থাপনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন।

০৭. ৫৬ বছর আগের সেই উত্তাপ না থাকলেও প্রতিবাদের সেই সমাবেশ ও আত্মত্যাগ আজও অবিস্মরণীয়। সম্প্রতি ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের সময়ও শহীদ আসাদ ছিল অনুপ্রেরনা। আজ যদিও &lsquo;অবহেলিত শহীদ আসাদের কবর, মানুষ জানে না তার ইতিহাস&rsquo; প্রভৃতি সংবাদ দেখা যায় পত্রিকায়। নিজ বাড়ির বকুলতলায় কবর শহীদ আসাদের। শিবপুরে আসাদের নামে দুটি স্কুল-কলেজ থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নামটি পরিচিত হলেও তার মৃত্যুর ইতিহাস ও আসাদ দিবসের ব্যাপারটি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অজানা। এজন্যই দরকার আসাদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করে প্রচার করা।কারণ &lsquo;&lsquo;গণতন্ত্রের ইতিহাসে &lsquo;শহীদ আসাদ দিবস&rsquo; একটি অবিস্মরণীয় দিন।&rsquo;&rsquo; গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে শহীদ আসাদের অসামান্য অবদান দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আসাদের রক্তমাখা শার্ট হয়ে ওঠে আন্দোলনের এক দুর্বার প্রতীক। শহীদ আসাদ তাই জনগণের মুক্তির প্রেরণা আর ঊনসত্তর মুক্তির দিশারী।

আমাদের স্বাধীনতার মূল্য বোধ, শপথ নিতে হবে শহীদ আসাদসহ সব শহীদের স্বপ্ন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার। আসাদের স্মৃতি ধরে রাখতে আসাদ গেটের সংস্কার ও শ্রীবৃদ্ধি তথা শহীদ আসাদের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, জীবন সংগ্রামের তথ্য, প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়ে উঠুক সর্বত্রই। আপামর জন সাধারণের এ দাবি সার্বজনীন। মৃত্যুর মাঝে যারা জীবনের সন্ধান পায় তারা মৃত্যুকে বরণ করেও অমর হয়ে থাকে। তাদের বিয়োগ ব্যথার কাহিনী ভবিষ্যত জাতির পক্ষে দ্বীপ শিখা হয়ে সামনে চলার পথ দেখায়। এমন এক বীর সৈনিক ছিলেন শহীদ আসাদ। ছিলেন নির্ভীক ও স্বাধীনতা প্রিয়। নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত বাঙালী জাতির দীপ্ত আলোর মুক্ত আযাদী সংগ্রামের পথ প্রদর্শক ও স্বপ্ন দ্রষ্টা।

(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 11 Jan 2026 12:14:47 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্রিকেটের রাজনীতি: রাজনীতির ক্রিকেট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14770" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14770</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের জানাজার দিন শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল।

জয়শঙ্কর যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক বার্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল যে ১৮ মাসের টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ মনে হয়েছিল তখন। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আমরা মনেপ্রাণে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।

সম্পর্কের বিষয়টি যে শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। উভয় দেশের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের উন্নতি কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই।

যে ক্রিকেট সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বার্তা বহন করে, সেই ক্রিকেট দিয়েই সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে।

এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ ভারতেও কম-বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম &#39;ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস&#39;-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে কিংবা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সাথেও কোনও প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমশ অবনতিশীল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী সকল মানুষ এবং বাংলাদেশের জন্য বেশ অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একমাত্র এমন উপলক্ষ, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ফ্রেমে ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু ভু-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ক্রিকেট এখন স্বাধীন ও সার্বজনীন চরিত্র হারিয়েছে বলাই যায়।

জয়শঙ্কর বিষয়টি এখন কিভাবে দেখছেন তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। তবে তিনি শোক বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে এসে যে উদারতা প্রকাশ করেছিলেন, তা বেশি সময় টিকে থাকলো না। সম্প্রতি তিনি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে নতুন কিছু বলবেন বলে মনে হয় না।

ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এখন আর ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।

কারণ, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ ভারতে গিয়ে খেলা হবে না। এমনকি আইপিএলের খেলা সম্প্রচারও বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভাষ্য অনুযায়ী আইসিসি বলেছে&mdash;বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। কিন্তু বিসিবি বলছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এমন জটিল পরিস্থিতিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইসিসি কী ভূমিকা নেবে, অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

লেখক :সাংবাদিক ও লেখক

আমারবাঙলা/এসএবি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 07 Jan 2026 08:40:37 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্রিকেটের রাজনীতি: রাজনীতির ক্রিকেট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14769" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14769</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের জানাজার দিন শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকায় আগমন বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছিল।

জয়শঙ্কর যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোক বার্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিলেন, তখন মনে হয়েছিল যে ১৮ মাসের টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ মনে হয়েছিল তখন। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আমরা মনেপ্রাণে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারিনি।

সম্পর্কের বিষয়টি যে শুধু আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। উভয় দেশের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থেই সম্পর্কের উন্নতি কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই।

যে ক্রিকেট সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বার্তা বহন করে, সেই ক্রিকেট দিয়েই সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে।

এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, খোদ ভারতেও কম-বেশি সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম &#39;ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস&#39;-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে কিংবা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সাথেও কোনও প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমশ অবনতিশীল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী সকল মানুষ এবং বাংলাদেশের জন্য বেশ অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এই উপমহাদেশে ক্রিকেট একমাত্র এমন উপলক্ষ, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক ফ্রেমে ধরে রাখতে সক্ষম। কিন্তু ভু-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ক্রিকেট এখন স্বাধীন ও সার্বজনীন চরিত্র হারিয়েছে বলাই যায়।

জয়শঙ্কর বিষয়টি এখন কিভাবে দেখছেন তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। তবে তিনি শোক বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে এসে যে উদারতা প্রকাশ করেছিলেন, তা বেশি সময় টিকে থাকলো না। সম্প্রতি তিনি ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে নতুন কিছু বলবেন বলে মনে হয় না।

ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি এখন আর ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।

কারণ, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ ভারতে গিয়ে খেলা হবে না। এমনকি আইপিএলের খেলা সম্প্রচারও বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভাষ্য অনুযায়ী আইসিসি বলেছে&mdash;বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। কিন্তু বিসিবি বলছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এমন জটিল পরিস্থিতিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইসিসি কী ভূমিকা নেবে, অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

লেখক :সাংবাদিক ও লেখক

আমারবাঙলা/এসএবি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 07 Jan 2026 08:36:44 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাদির কণ্ঠ থেমে গেলেও, তার আদর্শে নতুন প্রজন্মের ধ্বনি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14492" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/14492</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ওসমান হাদির পুরো নাম শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার জন্ম ৩০ জুন ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায়। তার বাবা ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও বক্তা। ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস&mdash;ঘাতকরা শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি; হাদির জীবনের পথচলা থামাতে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে হাদি ইন্তেকাল করেন।

এরপর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিটের দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত ২০ ডিসেম্বর বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে গোসলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর আড়াইটার দিকে হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।

তার এমন মৃত্যুতে সরকারসহ শোকে কাতর দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ ঘটনায় শিক্ষক আব্দুল রহিম আমার বাঙলাকে বলেন, &ldquo;ইন্টেরিম সরকারের কাছে একটাই দাবি&mdash;খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলানো হোক।&rdquo;

হাদির জানাজায় অংশগ্রহণ করা ক্যারি বি কুরিয়ারের কর্মী মোহন আমার বাঙলাকে বলেন, &ldquo;জীবনে অনেক নেতার মৃত্যুসংবাদ শুনেছি, কিন্তু এরকম অনুভূতি কারও ব্যাপারেই হয়নি; নিস্তব্ধ হয়ে গেছি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমরা একজন হাদিকে পেয়েছি, আরেকজন হাদি পেতে হয়তো আরও ৫৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে।&rdquo;

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে বলেন, &ldquo;প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি এখানে। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং বাংলাদেশ যতদিন আছে, তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে।&rdquo;

শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তার মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

শরিফ ওসমান বিন হাদির শিক্ষাজীবন:

হাদির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু নলছিটির ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

রাজনীতিতে উত্থান:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওসমান হাদি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ঢাকার রামপুরা এলাকায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হাদিকে অন্যতম ভূমিকায় দেখা যায়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল&mdash;সব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার হবে প্রধান মূল্যবোধ।

ভোটের মাঠে হাদি:

তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামেন এবং প্রচারণা শুরু করেন। তফসিল ঘোষণার দিন (১১ ডিসেম্বর) তিনি কাকরাইল ও সেগুনবাগিচা এলাকায় প্রচারণা চালান। সেদিন দুপুরে দুদক কার্যালয়ের সামনে ভোটারদের উদ্দেশে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য রাখেন হাদি।

পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর কালভার্ট মোড়ে প্রচারণা চালান এবং গুলিবিদ্ধ হন। এটিই ছিল তার শেষ প্রচারণা।

শরিফ ওসমান বিন হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন। তার এই নেতৃত্বের পথকে থামিয়ে দিতেই ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। জাতি হারায় এক সাহসী সৈনিক।

তার মৃত্যুর সংবাদে নিস্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের মানুষ। সে রাতেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয় এবং তার জানাজায় সংসদ ভবন এলাকাসহ আশপাশে দেখা যায় জনস্রোত। ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 20 Dec 2025 15:27:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোন পথে আমাদের গণতন্ত্র]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13908" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13908</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আবুল ফজল আল্লামী তাঁর আইন ই আকবরী গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন&mdash;&ldquo;এখনকার মানুষ আসন চিনে না, ব্যক্তি চিনে।&rdquo; বহু আগের এই মন্তব্য আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। আসনের মর্যাদা অগ্রাহ্য করার কারণেই ব্যক্তির প্রতি ঝোঁক আমাদের সমাজে এত প্রবল।

মূল কথায় আসি&mdash;বাঙালি জাতি স্বভাবগতভাবে বিদ্রোহী। বাঙালির হৃদয়ে দ্রোহের আগুন সব সময়ই জ্বলতে থাকে, যদিও তা সব সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তবে জাতি হিসেবে আমরা যে খুব শান্ত&mdash;তাও বলা যায় না।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশে বহুবার আন্দোলন, বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ এখনো আমরা দেখতে পাইনি। বৃটিশ আমল থেকেই ফকির বিদ্রোহ, তিতুমিরের আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন, &rsquo;৫২&ndash;এর ভাষা আন্দোলন, &rsquo;৬৯&ndash;এর গণঅভ্যুত্থান, &rsquo;৭১&ndash;এর মুক্তিযুদ্ধ, &rsquo;৯০&ndash;এর আন্দোলন, &rsquo;৯৬&ndash;এর তত্ত্বাবধায়ক দাবির আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ &rsquo;২৪&ndash;এর গণঅভ্যুত্থান&mdash;সবই তার উদাহরণ।

১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পূর্ণ মূল্যায়ন ছাড়াই আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাই। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞা&mdash;এটিও আমরা কখনো গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করিনি।

সব সরকারের আমলেই ক্ষমতা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলে ব্যক্তি বন্দনা এবং কাউকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বানানোর প্রবণতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতালিপ্সার কারণে হাজার বছরের গণতন্ত্রের স্বপ্ন আজ রাষ্ট্রের চেয়ে দল, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় হয়ে উঠেছে। ফলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্রের চর্চা কখনোই দৃশ্যমান ছিল না।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের একটি নৈতিক ভিত্তি ছিল&mdash;তার ফল আমরা পূর্ণভাবে পেয়েছি। তেমনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেরও ছিল স্পষ্ট নৈতিক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আমাদের শক্তি হয়ে এসেছিল এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে আমরা স্বাধীনতাও অর্জন করেছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই নৈতিক স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাই বলেছিলেন&mdash;&ldquo;আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক স্বপ্ন আজও অর্জিত হয়নি।&rdquo;

স্বাধীনতার আগে পশ্চিমা শাসকদের জুলুম, নির্যাতন ও গণতন্ত্রহীনতার গল্প নতুন করে টানলাম না। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে অব্যাহত অরাজকতা ও দুর্নীতি দেখে যারা দেশ নিয়ে ভাবেন&mdash;তাদের দুঃখ ও ক্ষোভ স্বাভাবিক।

আজ এমন মানুষ দেখা কঠিন&mdash;যিনি দুর্নীতি ও অন্যায়ের চাপে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। সত্যি বলতে&mdash;বাঙালির নৈতিকতার সুনাম কোন দিনই খুব উজ্জ্বল ছিল না। প্রতিদিনের জীবনে অনৈতিকতার অসংখ্য উদাহরণ আমরা দেখি। যে দেশে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নৈতিক মান প্রশ্নবিদ্ধ&mdash;সে দেশে গণতন্ত্র স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কঠিন।

গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়ার আরেকটি কারণ&mdash;রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন না; তারা বর্তমান নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণেই এ দেশে বারবার আন্দোলন ও অভ্যুত্থান ঘটেছে। প্রতিটি আন্দোলনই বড় ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ক্ষমতার অসম প্রতিযোগিতার কারণে তা টিকে থাকেনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত বিষয়&mdash;সংবিধান। প্রতিটি দলই নিজস্ব ফর্মুলা দিচ্ছে। কেউ সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে, কেউ আবার সংবিধান বাতিল করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলছে। কিন্তু এগুলোতে জনমতের প্রতিফলন ঘটছে কি না&mdash;এটাই বড় প্রশ্ন। কারণ, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতা; আইন বা সংবিধান নয়। আর সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ।

আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে&mdash;তা নিয়ে মতভেদ বিশাল। এত মতভিন্নতার কারণে গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসছে না। ফলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় করার সুযোগ বারবার নষ্ট হচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ মনে রাখতে হবে&mdash;জনগণ নীরব হলেও তারা দুর্বল নয়। ইতিহাস বলে&mdash;পুলিশ, সামরিক বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তির চেয়েও বড় শক্তি হলো জনগণ। অস্ত্র দিয়ে কখনো জনগণের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না।

এখন প্রশ্ন&mdash;অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে, নাকি আমরা একই চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকব?

&mdash;&mdash; সাংবাদিক ও লেখক।
E-mail: tariqur.rahman1106@gmail.com

 

● আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 27 Nov 2025 08:15:24 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[রাজনীতির নোংরা নাটক, দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের ক্ষতির খেলা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13559" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13559</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের রাজনীতি আজ যেন এক অন্তহীন নাট্যমঞ্চ যেখানে গণতন্ত্রের আদর্শ, জনগণের আশা, নৈতিকতার আলো সবই ম্লান হয়ে গেছে দলীয় স্বার্থ, ক্ষমতার লোভ এবং মনোনয়ন নামের এক অদ্ভুত খেলায়। রাজনীতির এই মঞ্চে প্রতিদিনই নতুন চরিত্র আসে, পুরনো চরিত্র সরে যায়; কিন্তু গল্প একই দলীয় টিকিট কে পেল, কে পেল না, আর কে সেই কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর যে চিত্রটি আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখেছি, তা কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র নয়, বরং এটি আমাদের গণতন্ত্রের গভীর অসুস্থতার প্রতিচ্ছবি। একসময় রাজনীতি ছিল মানুষের কল্যাণের লড়াই, সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সংগ্রাম। কিন্তু এখন রাজনীতি যেন কেবল টিকিটের খেলা, যেখানে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আর না পাওয়া মানে এক ধাক্কায় রাজনীতির মৃত্যুঘণ্টা।
বিএনপি যখন ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল, তখন দেখা গেল এক ভয়াবহ বাস্তবতা যেখানে কেউ আনন্দে মিষ্টি বিলাচ্ছেন, আর কেউ টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করছেন। মেহেরপুর, কুমিল্লা, ফরিদগঞ্জ, শিবচর, সাতক্ষীরা, নাটোর, চট্টগ্রাম সবখানেই একই নাটক: কেউ পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে বিক্ষোভ করছে, কেউ আগুন দিচ্ছে, কেউ সড়ক বন্ধ করছে, কেউ আবার হুমকি দিচ্ছে মনোনয়ন না বদলালে কঠোর আন্দোলনে নামবে। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় আগুন জ্বালানো, সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করা, স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে শ্রমজীবী
মানুষের জীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করা এটি কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবমাননা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যদি একজন নেতা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে রাখেন, তবে তিনি কেমন জনপ্রতিনিধি হতে চান? জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিকতা কোথায়? এই প্রশ্নগুলো আজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। রাজনীতির এই নোংরা খেলায় সবচেয়ে বড় পরাজিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা ভোট দেয় উন্নয়নের প্রত্যাশায়, নিরাপত্তার আশায়, আর ন্যায়বিচারের আকাঙ্খায়। কিন্তু যখন সেই রাজনীতিই তাদের জীবনকে অচল করে তোলে, তখন গণতন্ত্রের অর্থই হারিয়ে যায়।
মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা যখন সড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালায়, যানবাহন থামিয়ে জনগণকে জিম্মি করে রাখে তখন তারা আসলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না শুধু, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাকেও অস্থির করছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার কখনোই অন্যের স্বাধীনতা, জীবনযাত্রা বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন করতে পারে না। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, আমাদের দলীয় রাজনীতি এখন গণতান্ত্রিক নয়, বরং আমলাতান্ত্রিক ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর।
মনোনয়ন বণ্টনে যোগ্যতা নয়, বরং তোষামোদ, অর্থবল, আত্মীয়তা ও প্রভাবই মুখ্য হয়ে উঠেছে। যিনি তৃণমূলের সঙ্গে বছরের পর বছর সম্পর্ক গড়েছেন, যিনি রাজপথে নির্যাতিত হয়েছেন, তিনিও বাদ পড়ছেন শুধু এই কারণে যে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রিয় তালিকায় নেই। অন্যদিকে, যিনি অর্থ, প্রতিশ্রুতি বা প্রভাবের জোরে এগিয়ে আসেন,
তিনিই পাচ্ছেন মনোনয়ন। এর ফলে রাজনীতিতে এক প্রকার পেশাদার &lsquo;মনোনয়ন ব্যবসা&rsquo; তৈরি হয়েছে, যা দলের ভেতর নৈতিকতার মৃত্যু ঘটাচ্ছে। মনোনয়নকে ঘিরে এই বিশৃঙ্খলা আসলে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল। দলের ভেতরে গণতন্ত্র নেই, সিদ্ধান্ত হয় গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে। তৃণমূলের মতামত কেবল কাগজে থাকে, বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলে না। এ কারণে যখন সিদ্ধান্ত আসে, তখন যারা বাদ পড়ে তারা নিজেদের &lsquo;অবিচারের শিকার&rsquo; মনে করে। তাদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় সহিংসতায়। এটি শুধু বিএনপির সমস্যা নয় বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেই একই চিত্র। দল মানেই নেতার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যেখানে মতভেদ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা, আর প্রতিবাদ মানেই বিদ্রোহ।

রাজনীতির এই সংস্কৃতি কেবল নৈতিকতাকে হত্যা করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিকৃত বার্তা দিচ্ছে। তরুণরা দেখছে, রাজনীতি মানে এখন আদর্শ নয়, বরং পদ-পদবির জন্য লড়াই। তারা দেখছে, জনপ্রতিনিধি হতে হলে জনগণের পাশে নয়, দলের ক্ষমতাবান নেতার পাশে থাকতে হয়। এর ফলে তরুণদের এক অংশ রাজনীতি থেকে বিমুখ হচ্ছে, আরেক অংশ তা গ্রহণ করছে কৌশল ও সুবিধার খেলায়। এভাবে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি জনসম্পৃক্ততা ক্রমে ক্ষয় হচ্ছে। এখানে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব সবচেয়ে বড়। তারা যদি প্রার্থী বাছাইয়ে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে তাদের দলীয় ঐক্য কখনোই টিকবে না। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থেকে যদি দল কেবল ক্ষমতার লোভে বিভক্ত হয়, তবে সেই দলের পতন অবধারিত। নেতৃত্বকে বুঝতে হবে মনোনয়ন কোনো পুরস্কার নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব। যারা সেই দায়িত্বের মর্যাদা দিতে পারে না, তাদের হাতে দল বা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। বিএনপির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একদিকে দলীয় শৃঙ্খলার সংকট, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহ অবনতি। একজন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর ক্ষোভকে যদি পুলিশ, সেনা বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে সেটি কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক নৈতিকতার দেউলিয়াত্ব। কারণ, সত্যিকারের রাজনীতিক জনগণের ক্ষতি করে কখনো নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে না। তিনি জানেন, জনগণই তাঁর শক্তি, আর তাদের দুর্ভোগ মানেই তাঁর দুর্বলতা।
এখন প্রশ্ন কীভাবে এই নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তি সম্ভব? প্রথমত, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে হবে। প্রতিটি দলের উচিত তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা, যাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে। দ্বিতীয়ত, মনোনয়নপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত উভয়ের জন্যই দলের অভ্যন্তরীণ আপিল বা আলোচনার সুযোগ থাকতে হবে। তৃতীয়ত, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে জনগণের ক্ষতি করা যে অপরাধ, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সর্বোপরি, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
জনগণের দিক থেকেও সচেতনতা জরুরি। যেসব রাজনীতিক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে দলীয় অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে, রাজনীতি মানে সেবা, ত্যাগ ও সততা না যে আগুন, হুমকি ও ক্ষমতার জুলুম। জনগণ যদি এই বার্তা দেয় যে সহিংস রাজনীতিকরা তাদের সমর্থন হারাবে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হবে আচরণ পরিবর্তনে। আমরা যদি গণতন্ত্রকে সত্যিই বাঁচাতে চাই, তবে দলীয় মনোনয়নের সংস্কৃতি বদলাতে হবে।

মনোনয়ন যেন না হয় ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ফল, বরং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। রাজনীতিকদের বুঝতে হবে&Ntilde;মনোনয়ন কোনো যুদ্ধের ট্রফি নয়, এটি এক ধরনের দায়িত্ব, যা জনগণের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করলে শুধু দল নয়, পুরো রাষ্ট্র হারায়। আজ সময় এসেছে দলীয় নেতৃত্বকে নিজস্ব আয়নায় নিজেকে দেখার। প্রশ্ন করার আমরা কি সত্যিই জনগণের জন্য রাজনীতি করছি, নাকি কেবল নিজেদের জন্য? দলীয় কার্যালয়ের টেবিলে বসে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেই কি গণতন্ত্র পূর্ণতা পায়? না, গণতন্ত্র তখনই পূর্ণতা পায়, যখন জনগণের মতামত দলীয় নীতির মূলভিত্তি হয়।
রাজনীতির ইতিহাস বলে যে দেশে দল জনগণের উপরে, সেই দেশে গণতন্ত্র বেঁচে থাকে না। আর যে দেশে জনগণ দলের উপরে, সেই দেশেই রাজনীতি পায় মহত্ত&iexcl;। বাংলাদেশের রাজনীতিকে আজ সেই পথেই ফিরতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, ক্ষমতা মানে নয় আধিপত্য, বরং জনগণের সেবা। দলীয় মনোনয়ন মানে নয় টিকিটের খেলা, বরং জনগণের আস্থা অর্জনের সুযোগ। মনোনয়ন-পরবর্তী আগুন, অবরোধ বা সংঘর্ষ গণতন্ত্রের লজ্জা। এগুলো ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক অরাজকতার প্রতীক।

যে প্রার্থী সত্যিই জনগণের প্রতিনিধি হতে চান, তিনি জনগণকে বিপদে ফেলেন না; বরং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি মনোনয়ন বঞ্চনা মানে দলের ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ মনে করেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি এইভাবে অবক্ষয়ের দিকে যায়, তবে সেই উন্নয়নও টেকসই হবে না। একটি দেশকে টিকিয়ে রাখে রাজনীতির নৈতিকতা, নেতৃত্বের সততা ও জনগণের আস্থা। যদি এই তিনটি হারিয়ে যায়, তবে উন্নয়নের দালান দাঁড়াবে বালুর ওপর। তাই এখনই সময় রাজনীতির নোংরা নাটক বন্ধ করার। দলীয় মনোনয়নের নামে যে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠছে, তা নেভাতে হবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মস্তিষ্ক দিয়ে, প্রতিশোধের আগুন দিয়ে নয়। জনগণকে কষ্ট দিয়ে কোনো দল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এ সত্য ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।
গণতন্ত্রের সত্যিকারের শক্তি দলীয় টিকিটে নয়, জনগণের আস্থায়। সেই আস্থা ফিরে পেতে হলে রাজনীতিকে আবার নীতি, মূল্যবোধ ও দায়িত্বের পথে ফিরতে হবে। দলীয় মনোনয়ন হবে স্বচ্ছ, প্রার্থীরা হবে ত্যাগী ও যোগ্য, আর জনগণ হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু&Ntilde;তবেই রাজনীতি ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা।
আজ যারা সড়কে টায়ার জ্বালাচ্ছেন, আগামীকাল তারা হয়তো নিজেরাই বুঝবেন এই আগুন কেবল তাদের প্রতিবাদের নয়, এটি পুরো জাতির বিবেকের ওপর দাগ ফেলছে। যদি আমরা এখনই এই নোংরা খেলাকে থামাতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। রাজনীতির মানে তখন আর নীতি নয়, কেবল ক্ষমতা হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেই দিনটির ওপর, যেদিন রাজনীতিকরা বুঝবেন&Ntilde;মনোনয়ন পাওয়া নয়, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করাই প্রকৃত বিজয়। এবং সেই দিনই রাজনীতি আবার হবে মহৎ, গণতন্ত্র আবার হবে জনগণের।


	সামিউল আজাদ শামীম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ফুলছড়ি সদর,গাইবান্ধা। ই মেইল: Shamiulajadshamim@gmail.com
]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 05 Nov 2025 11:07:56 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ক্ষমতার ছায়ায় মাদক রাজনীতি: রাষ্ট্র, সমাজ ও নৈতিকতার অদৃশ্য দহন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13433" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/13433</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি আজ এমন এক জটিল বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নৈতিকতার মৃত্যু ঘটছে নিঃশব্দে, আর অপরাধ পরিণত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অলংকারে। মাদক এখন আর কেবল সামাজিক ব্যাধি নয়, এটি এক প্রকার রাজনৈতিক শক্তি&mdash;একটি অদৃশ্য অর্থনীতি, যার শিকড় জড়িয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিটি তন্তুতে। এই মাদক রাজনীতি কেবল যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে না; বরং রাষ্ট্রীয় আদর্শ, প্রশাসনিক ন্যায়নীতি এবং গণতন্ত্রের মৌল কাঠামোকেও ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। যে দেশে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হয়, যে দেশে ক্ষমতাসীনরা মাদক ব্যবসায়ীদের &lsquo;বড় ভাই&rsquo; হয়ে ওঠে, সেখানে আইন কেবল এক নাট্য মঞ্চের চরিত্র। নাগরিক সেখানে দর্শক মাত্র&mdash;যার চোখে ধরা পড়ে ক্ষমতার নির্মম নাটক, কিন্তু যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় না কোনো প্রতিবাদ। এই নৈঃশব্দ্যই মাদক রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

মাদক ও রাজনীতির জৈবিক সম্পর্ক মাদক কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক সমস্যা নয়; এটি রাজনীতির সঙ্গে জৈবিকভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার হলো ভয়। মাদক ব্যবসা এই ভয়কে বাস্তবে রূপ দেয়। স্থানীয় সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল&mdash;সব কিছুর মূলেই থাকে এক অদৃশ্য মাদক অর্থনীতি, যা স্থানীয় রাজনীতির প্রাণরস সরবরাহ করে। নির্বাচন এলেই এই মাদকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো&mdash;সবকিছুতেই তারা &lsquo;দলীয় কর্মী&rsquo; হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিনিময়ে তারা পায় নিরাপত্তা, পায় আইন থেকে অব্যাহতি, পায় অপরাধের বৈধতা। রাজনীতির এই অদ্ভুত সমীকরণে অপরাধী হয়ে ওঠে প্রভাবশালী, আর সৎ মানুষ পরিণত হয় নিঃশব্দ বন্দি। মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য&mdash;ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর রাজনীতি, যেটি মূলত জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত, সেটি আজ পরিণত হয়েছে অপরাধের অভয়ারণ্যে।

ক্ষমতার মনোবিজ্ঞান: ভয়, লোভ ও নির্ভরতার রাজনীতি কখনো শূন্যতায় টিকে থাকে না। ক্ষমতার প্রকৃতি এমন&mdash;যেখানে শূন্যতা থাকে, সেখানে ভয় ও লোভ প্রবেশ করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ভয় ও লোভই মাদকের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। ক্ষমতাসীনরা জানে, সমাজে একটি নিয়ন্ত্রিত ভয় থাকা দরকার&mdash;যাতে জনগণ কখনও প্রশ্ন না তোলে। তাই মাদক ব্যবসা কখনও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয় না। বরং এটি ব্যবহার করা হয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে। একদিকে যুবসমাজকে মাদকাসক্ত করে তাদের প্রতিবাদী শক্তি নিঃশেষ করা হয়, অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে। এই দ্বৈত কৌশল একদিকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী বলে প্রদর্শন করে, অন্যদিকে তার ভেতরের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলে। এমন এক সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে মাদক বিক্রেতা ও জনপ্রতিনিধি একই অনুষ্ঠানে বসে থাকে, যেখানে প্রশাসন অপরাধীকে &lsquo;স্যার&rsquo; বলে সম্বোধন করে। এই পরিহাসই বাংলাদেশের বাস্তবতা&mdash;যেখানে আইন প্রহসনে পরিণত, আর ন্যায়বিচার হয়ে গেছে কল্পকাহিনী।

মাদক অর্থনীতি: অদৃশ্য পুঁজির নেটওয়ার্ক মাদক এখন এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। ইয়াবা, আইস, গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ&mdash;সবকিছু মিলিয়ে এটি এক অদৃশ্য অর্থনৈতিক কাঠামো, যার বার্ষিক লেনদেন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই টাকার হিসাব কোনো অর্থনৈতিক জরিপে পাওয়া যায় না, কারণ এটি চলে গোপন নেটওয়ার্কে&mdash;রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির মেলবন্ধনে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা থেকে যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দিনাজপুর&mdash;সব জায়গায় এই মাদক প্রবাহ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটে। কখনো অভিযান হয়, কয়েকজন ছোটখাটো পাচারকারী ধরা পড়ে, সংবাদপত্রে বড় শিরোনাম হয়&mdash;কিন্তু পরদিনই সব কিছু আগের মতো। কারণ মূল গডফাদাররা থাকে অদৃশ্য, এবং সেই অদৃশ্যতার পেছনে থাকে রাজনৈতিক শক্তি। মাদক ব্যবসার টাকার একটি অংশ রাজনীতিতে প্রবাহিত হয়। নির্বাচনী তহবিল, পার্টি অফিসের খরচ, সভা-সমাবেশের ব্যয়&mdash;সবকিছুতে এই অর্থ ব্যবহৃত হয়। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো নিজের অজান্তেই এই অবৈধ অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়। আর একবার কেউ এই চক্রে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসা যায় না। কারণ মাদক অর্থনীতি একবার ছোঁয়া মানে রাষ্ট্রের অন্তর্নিহিত দুর্নীতিকে পুষ্ট করা।

প্রশাসনিক দুর্নীতি ও আইনের নীরবতা রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কখনো কখনো অভিযান চালায়, কিছু সফলতাও আসে, কিন্তু সমস্যার মূল স্পর্শ করা হয় না। কারণ প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে সেই নীরব অন্ধকার। অনেক সময় দেখা যায়, যেসব অফিসার মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নিতে চান, তাদের বদলি হয়ে যায় অন্য জেলায়। আবার যারা নীরব থাকে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এমন পরিবেশে আইন প্রয়োগ পরিণত হয় প্রদর্শনীতে। জনগণ দেখে &ldquo;অভিযান চলছে&rdquo;, কিন্তু জানে&mdash;এই অভিযান কখনোই মূল সমস্যাকে আঘাত করবে না। কারণ প্রশাসন জানে, অপরাধীদের ছায়ায় রয়েছে ক্ষমতার হাত। আর যেখানে প্রশাসন দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে, সেখানে ন্যায়বিচার অচল হয়ে যায়। রাষ্ট্র তখন নাগরিকের নয়, বরং অপরাধী নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে পরিণত হয়।

সামাজিক অবক্ষয় ও মানসিক ধ্বংস মাদকের প্রভাব শুধু শরীরে নয়, মনেও। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস, চিন্তাশক্তি ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। যখন কোনো সমাজের তরুণ প্রজন্ম মাদক নির্ভর হয়ে পড়ে, তখন তারা আর রাষ্ট্রের পরিবর্তনের শক্তি হতে পারে না। আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, এমনকি স্কুল পর্যন্ত মাদকের বিস্তার ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। তরুণদের মধ্যে এক প্রকার অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে&mdash;তারা বাস্তবতা থেকে পালাতে চায়, অথচ পালানোর পথ মাদকের মধ্যেই খুঁজে পায়। এই অবসাদের সুযোগ নিচ্ছে রাজনীতি। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী&mdash;দুই দিকেরই কিছু অংশ তরুণদের ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে, তাদের হাতিয়ার বানিয়ে। ফলাফল&mdash;একটি হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম, যারা আর রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। যখন যুব সমাজ রাষ্ট্রে আস্থা হারায়, তখন রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ হারায়। আর এভাবেই মাদক ধীরে ধীরে এক নিঃশব্দ রাষ্ট্রবিনাশী শক্তিতে পরিণত হয়।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সংগ্রাম সবচেয়ে দুঃখজনক হলো&mdash;যারা এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলে, তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়। গণমাধ্যমের ওপর চাপ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, বা হুমকি&mdash;সবকিছুই এ দেশের বাস্তবতা। নাগরিক সমাজের যে অংশ এখনো সাহসীভাবে কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে নানা অজুহাতে মামলা হয়। মাদকবিরোধী আন্দোলনকে &lsquo;বিরোধী রাজনীতি&rsquo; বলে অভিযুক্ত করা হয়। ফলে জনগণ বুঝতে পারে না&mdash;কারা সত্য বলছে, কারা নয়। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নাগরিকের কণ্ঠ। কিন্তু যখন সেই কণ্ঠ দমিয়ে রাখা হয়, তখন নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। এই নীরবতার মধ্যেই অপরাধ ফুলে-ফেঁপে ওঠে, আর ক্ষমতা ক্রমে অমানবিক হয়ে যায়।

রাষ্ট্রচিন্তার সংকট: গণতন্ত্র না নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে জনগণের ক্ষমতা ক্ষয়ে গেছে। মাদক রাজনীতি এই ক্ষয়কে আরও গভীর করেছে। গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয়, যখন রাষ্ট্র নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করে। কিন্তু আজ নাগরিক ভীত, ন্যায়বিচার অকার্যকর, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট, আর রাজনীতি স্বার্থান্ধ। এটি গণতন্ত্র নয়&mdash;এটি নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য। এই নৈরাজ্যের অন্যতম জ্বালানি হলো মাদক অর্থনীতি। কারণ মাদক নিয়ন্ত্রণ মানে অর্থ ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণ। ফলে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তারা কখনোই গণতান্ত্রিক শাসন চায় না। তারা চায় বিশৃঙ্খলা, কারণ বিশৃঙ্খল সমাজেই অপরাধ টিকে থাকে।

প্রতিরোধের দর্শন: শিক্ষা, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সমস্যা যত গভীরই হোক, প্রতিরোধের পথ সবসময় থাকে। কিন্তু সেই পথ কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি। মাদকবিরোধী যুদ্ধ কেবল আইন প্রয়োগে জেতা সম্ভব নয়; এটি এক সামাজিক পুনর্জাগরণের লড়াই। প্রথমত, শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পাঠ ফিরিয়ে আনতে হবে। কেবল ডিগ্রি নয়, দরকার সচেতনতা&mdash;যাতে তরুণরা জানে মাদকের আসল ক্ষতি কেবল তাদের শরীরে নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। যে পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপস করে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, দলীয় বিবেচনা ছাড়াই। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থে রাজনীতি টিকতে পারে না&mdash;এটা যতদিন না উপলব্ধি হবে, ততদিন রাষ্ট্র এই দহন থেকে মুক্তি পাবে না।

শেষ কথা: অন্ধকারের ভিতরে আলোর খোঁজ বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে নীরবতা আর সহনশীলতার পার্থক্য বুঝে নিতে হবে। ন্যায়বিচার যখন নীরব হয়, তখন অন্যায়েরই জয় হয়। আর মাদক রাজনীতি হচ্ছে সেই অন্যায়ের চূড়ান্ত রূপ। তবুও আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। ইতিহাস বলে&mdash;যে সমাজ একদিন সাহস করে সত্য উচ্চারণ করেছে, সে সমাজই পুনর্জন্ম লাভ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ যদি একদিন সত্যিকার অর্থে বলে&mdash;&lsquo;আমরা আর ভয় পাই না&rsquo;, তাহলে এই অন্ধকারও ভেদ করা সম্ভব। রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের গুলিতে নয়, বরং তার জনগণের নৈতিক সাহসে। এই সাহসই একদিন মাদক রাজনীতির অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করবে।

&mdash;&mdash;&mdash;অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলাম লেখক গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 28 Oct 2025 05:06:11 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
