<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/oithijho-o-krishthi</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/oithijho-o-krishthi"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla oithijho-o-krishthi Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest oithijho-o-krishthi News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Fri, 22 May 2026 07:59:28 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[কুমিল্লায় ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/16619" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/16619</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&quot;ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার&quot; এ শ্লোগান সামনে রেখে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

এ উপলক্ষে গত ২০ মে বুধবার বিকেলবেলা কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় লাকসাম রোডস্থ মাধুরি-ননীকুঞ্জ ভবনের পঞ্চম তলায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।

ওই সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- জেলা ঐক্য পরিষদ সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য হারাধন শীল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস বকসী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রতন চন্দ্র দাস ও উত্তম আচার্য্য, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট দীলিপ চন্দ, আইসিটি সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস, সদস্য এডভোকেট প্রহ্লাদ চন্দ্র পাল, অধ্যাপক শ্রীধর বণিক ও গৌতম দাস এবং মহানগর ঐক্য পরিষদ নেতা সুকেন সরকার, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুণ্ড, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাস, আদর্শ সদর উপজেলা ঐক্য পরিষদ সভাপতি শান্তি রঞ্জন দেবনাথ, জেলা যুব ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে, ছাত্র ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উল্লাস দে ও জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ আহবায়ক প্রান্ত দে প্রমুখ।

সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর ঐক্য পরিষদ আহবায়ক কমল চন্দ খোকন।

ওই সভায় বক্তারা বলেন- স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

বক্তারা আরও বলেন- &ldquo;হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর সকল ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।&quot; তারা আরও বলেন- &quot;ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার&quot; &mdash;এই চেতনা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই আসুন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তুলি এবং অন্যায়, নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হই। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সকল মানুষ সমমর্যাদা, সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, শান্তি, সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি সংগঠনের বয়স বৃদ্ধির দিন নয়, এটি আদর্শ, ঐক্য ও মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেইসব মানুষদের, যাদের ত্যাগ, শ্রম ও সাহসিকতায় সংগঠনটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক এটাই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল প্রত্যাশা। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 22 May 2026 07:59:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পাহাড়-সমুদ্র-নগর: এক শহরের তিন রূপ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/environment/16499" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/environment/16499</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নেজাম উদ্দিন আবির: এক শহর- তিন রূপ। একদিকে পাহাড়ের সবুজ ঢাল, অন্যদিকে বিস্তৃত নীল সমুদ্র, মাঝখানে ব্যস্ত নগরজীবন। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের এমন অনন্য সমন্বয় খুব কম শহরের ভাগ্যেই জোটে। এই বৈশিষ্ট্যই চট্টগ্রামকে আলাদা করে, সম্ভাবনাময় করে তোলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর হিসেবে।
চট্টগ্রামের উত্তর-পূর্ব প্রান্তজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল। সীতাকুণ্ড থেকে শুরু করে নগরের আশপাশের অনেক এলাকায় ছোট-বড় পাহাড় ও টিলা ছড়িয়ে আছে। বর্ষায় এই পাহাড় সবুজে মোড়া থাকে, আর শীতকালে পর্যটকদের জন্য হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় গন্তব্য। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে সমুদ্র- পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, পারকি সৈকতসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রতিদিন টানে অসংখ্য দর্শনার্থীকে।
এই দুই প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝখানে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগরী- বন্দর, শিল্প, ব্যবসা ও আবাসনের এক ব্যস্ত কেন্দ্র। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দিনভর যানজট, কর্মচাঞ্চল্য আর নাগরিক চাপের ভেতর দিয়েই এগিয়ে চলে এই নগর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়-সমুদ্র-নগরের এই সমন্বয় চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের সুযোগ এনে দিয়েছে। পাহাড়ি ট্রেইল, সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন, ইকো-ট্যুরিজম&mdash;সবকিছু একসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে এ শহর হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
তবে এই সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে উদ্বেগও। অপরিকল্পিত নগরায়ন, পাহাড় কাটা, জলাধার ভরাট এবং উপকূলীয় এলাকায় অব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে নষ্ট করছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। পরিবেশবিদদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে এই বৈচিত্র্যই একসময় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা, জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় ক্ষয়- এসব সমস্যার পেছনেও দায়ী অপরিকল্পিত উন্নয়ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ছাড়া এই শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাসযোগ্যতা দুটোই সংকটে পড়বে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে পাহাড় সংরক্ষণ, জলাধার রক্ষা এবং উপকূল ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একইসঙ্গে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবু ঈসা আনছারী বলেন, চট্টগ্রামের পাহাড়, সমুদ্র, নদী-এই তিনটা সমন্বিত করে টুরিজম ফ্যাসিলিটি করার দরকার ছিল। পাহাড়কেন্দ্রিক টুরিজম করতে পারি। সমুদ্রকেন্দ্রিক সি-বিচকে মোর ফাংশনাল করতে পারি। নদীকেন্দ্রিক যেমন হালদা নদী এবং কর্ণফুলী নদী-এই দুইকে নিয়ে টুরিজম করতে পারি। ঢাকায় কিন্তু রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ওসমানী উদ্যান মতো বড় বড় উদ্যান রয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে সেই রকম কোনো উদ্যান নেই। চট্টগ্রামে বড় ধরণের জাতীয় উদ্যান করতে পারি। একটি নয়, চট্টগ্রামের জন্য বাস্তবসম্মত একাধিক বড় উদ্যান করা যেতে পারে। পাহাড়গুলোকে কেন্দ্র করে অভয়ারণ্য টাইপে কিছু করা যেতে পারে। ফয়েজ লেক আরেকটা ন্যাচারাল এলিমেন্টস, ইনক্লুডিং লেক। আমার মনে হয়, এটার ওপর এরকম যান্ত্রিকতা ভর করছে। এটার আরও ন্যাচারাল করা যায় কিনা। চট্টগ্রাম কয়টি পাহাড়, জলধার আছে তা চিহ্নিত করে সংরক্ষণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। প্রথম বারের চট্টগ্রাম নগরীর জলাশয় পুকুর নিয়ে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরী করা হচ্ছে। যেখানে আমাদের মাস্টার প্ল্যান এলাকায় বিএসে কয়টা পুকুর ছিল বর্তমান কয়টা আছে তা আমরা চিহ্নিত করছি। এতে পুকুর সংরক্ষণের যে নীতিমালা করতেছি, যার মাধ্যমে আমরা পুকুরগুলো সংরক্ষণ করতে পারব এবং পাশাপাশি কিছু বড় পুকুর যেমন জলাশয়কেন্দ্রিক ওয়াটারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট করা যেতে পারে, যা বিনোদনের একটি উপাদান হিসেবেও কাজ করবে।

পাহাড়, সমুদ্র আর নগর- এই তিন রূপের ভারসাম্যই চট্টগ্রামের শক্তি। এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই শহরটি হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতি ও উন্নয়নের এক সফল উদাহরণ। অন্যথায়, সম্ভাবনার এই শহর হারাতে পারে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 02 May 2026 13:05:04 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গুপ্তধনের খোঁজে খনন, হুমকিতে জমিদার বাড়ি ও বউঘাট]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/16431" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/16431</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন বাইশরশি জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক &lsquo;বউঘাট&rsquo; এখন লুটপাট ও অবৈধ খননের কবলে পড়েছে। গুপ্তধনের লোভে একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যেই স্থাপনাটির নিচের অংশ খুঁড়ে মাটি সরিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার সুযোগে কিছু ব্যক্তি দিনের বেলাতেই বউঘাট এলাকায় মাটি খুঁড়ে তা পাশের পুকুরে ধুয়ে বিভিন্ন পুরোনো সামগ্রী সংগ্রহ করছে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের ভাঙা মূর্তি, প্রাচীন তৈজসপত্রের অংশ, পাথরের থালা এবং পূজার সামগ্রীর ভগ্নাংশ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খননকারীদের কাছে অলংকার, পাথরের দাবার ঘুঁটি, গোলাকার বল এবং তামা-রুপার মুদ্রার মতো সামগ্রী দেখা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকা থেকে আসা বলে পরিচয় দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বাইশরশি জমিদার বাড়ি একসময় ফরিদপুর ও বরিশালসহ ২২টি পরগনার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। &lsquo;জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র বায় চৌধুরীর বাড়ি&rsquo; নামেও পরিচিত এ স্থাপনাটি ১৮০০ শতকের দিকে লবণ ব্যবসায়ী উদয় চন্দ্র সাহা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে জমিদারি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ পরিবার বিশাল প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে। একসময় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এ জমিদার বাড়িতে বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১৪টি দালানকোঠা ছিল। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর এলাকা অবশিষ্ট থাকলেও বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

যে বউঘাটটি এখন খননের শিকার, সেটি জমিদার পরিবারের নারীদের স্নানঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্নানের সময় হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান রত্ন বা অলংকারের লোভেই এই খননকাজ চালানো হচ্ছে। তবে জমিদার বাড়ির ভেতরেই উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে হেরিটেজ ফরিদপুরের সদস্য সচিব ফারাহ দিবা আহমেদ বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তিনি অবিলম্বে খনন বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, যথাযথ সংরক্ষণ ও নজরদারির অভাবে ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। বাইশরশি জমিদার বাড়ির বউঘাটে চলমান এ খনন কার্যক্রম বন্ধ না হলে মূল্যবান প্রত্নসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 25 Apr 2026 12:13:29 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শত খাবারের ভিড়ে টিকে আছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘পিঠালি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15985" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15985</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[শেরপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী খাবারের নাম &lsquo;পিঠালি&rsquo; বা &lsquo;মেন্দা&rsquo;। অনেকেই আবার মেলানি, মিলানি বা মিল্লি বলেও চিনে থাকে। এই পিঠালির উৎপত্তি জামালপুর জেলায় হলেও শেরপুর জেলার চরাঞ্চলসহ শহরেও এর প্রচলন ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। পিঠালি ডাল-ভাতের মতো প্রতিদিনের খাবার নয়। এটি মূলত উৎসবের খাবার।

পিঠালির প্রচলন কীভাবে বা এটি প্রথম চালু হয় কখন&mdash;এর সঠিক কোনো ইতিহাস না থাকলেও প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঠারো শতকের প্রথম দিকে জামালপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে টাঙ্গাইল এবং আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ এসে বিচ্ছিন্ন জনবসতি গড়ে তোলে। সে সময় ইংরেজ শাসনামলে গ্রাম্য সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। ধারণা করা যায়, সে সময়েই পিঠালি এক বিশেষ খাবার হিসেবে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

পিঠালি তৈরির প্রধান উপকরণ গরুর মাংস, চালের গুঁড়া, পেঁয়াজ, রসুন, জিরাসহ প্রায় ১০ প্রকারের মশলা। সুস্বাদু এই খাবারের বিশেষত্ব হলো এর নরম মাংস, চর্বি ও হাড়&mdash;যা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে কলাপাতায় পরিবেশন করা হয়।

পিঠালি তৈরির জন্য প্রথমেই দরকার হয় মাংস। গরু, ছাগল, মহিষ বা মুরগির মাংস দিয়ে খুব সহজেই রান্না করা যায়। এ ক্ষেত্রে গরুর মাংস ভিন্ন স্বাদ এনে দেয়। মাঝারি বা বড় করে মাংস কেটে এরপর হাড়িতে লবণ ও মরিচ দিয়ে সেটি সেদ্ধ করা হয়। এরপর চালের গুঁড়া দেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মশলা যোগ করে বাগাড় দিতে হয়। এভাবে কিছু সময় পর তৈরি হয়ে যায় ধোঁয়া ওঠা লোভনীয় পিঠালির চেহারা। গরম হাড়িতে পিঠালির ঘ্রাণ যেকোনো মানুষের জিভে জল এনে দিতে সক্ষম।

শেরপুর জেলার চরাঞ্চলের মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলা ও শ্রীবরদী উপজেলায় এক সময় এর প্রচলন থাকলেও বর্তমানে এই পিঠালির প্রচলন শহরেও দেখা যাচ্ছে। আধুনিক যুগে তরুণ প্রজন্মের মেয়েরা ঘরে বসে ইউটিউব ঘেঁটে নানা রেসিপি বানাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তৈরি করা হচ্ছে নানা রকম বাহারি স্বাদের খাবার। তাই অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো।

এমতাবস্থায় এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়েছে। এক সময় শুধু উৎসবে পরিবেশন করা হলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পিঠালি বিক্রি করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লায় নিজামুল নামে এক ব্যক্তি পিঠালি তৈরি করে বিক্রির উদ্যোগ নেন। ওই এলাকায় প্রতিবছরই এভাবে একদিন পিঠালি তৈরি করে বিক্রি করা হয়।

ওইদিন সকাল থেকেই মাইকিং করে প্রচার করা হয় পিঠালি বিক্রির কথা। মাইকিং শুনে এলাকার মানুষ দুপুরের পর কিনে নেয় ঐতিহ্যবাহী এই খাবার পিঠালি।

পিঠালি কেবল মানুষের প্রতিদিনের খাবার নয়। এটি সাধারণত আকিকা, বিয়ে, মৃত্যুবার্ষিকী, খতনা, চল্লিশা/লিল্লা, নির্বাচনী প্রচারণাসহ বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠানে খাবার হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। এই খাবার না থাকলে অনুষ্ঠানের প্রাণই থাকে না। তাই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা পিঠালিকেই গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন করেন।

এ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ কোনো অনুষ্ঠানে ধনী-গরিব সবাই মাটিতে বসে কলাপাতায় গরম ভাত আর সুস্বাদু পিঠালি খায়। কলাপাতা ছাড়া অন্য পাত্রে পিঠালির প্রকৃত মজা পাওয়া যায় না। এলাকা ভেদে পিঠালির ভিন্ন নাম রয়েছে। শত বছরের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে পিঠালি প্রচলিত রয়েছে।

১৯৭১ সালের আগেও এই পিঠালির জনপ্রিয়তা ছিল অনেক। প্রতিটি উৎসবে খাবারের প্রধান আকর্ষণ ছিল পিঠালি। এখন আধুনিক যুগের নানা রেসিপির আওয়াজ থাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে পিঠালি খুব একটা জনপ্রিয় নয়। তবে এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এখনো অনেকেই প্রতিবছর শীত মৌসুমে বিশেষ আয়োজন করে রান্নার মাধ্যমে পিঠালি বিক্রি করছেন।

জেলার শ্রীবরদী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামের বাজারে এখনো সপ্তাহের হাটের দিন নির্ধারিত দু-একটি হোটেলে এই পিঠালি বিক্রি করা হয়। স্বাধীনতার আগেও এই অঞ্চলে বিচার-সালিশ বা বিয়েবাড়িতে এই খাবার পরিবেশন করার রেওয়াজ ছিল।

তবে পিঠালিকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এই খাবার জামালপুর ও শেরপুরবাসীর সকলেরই প্রিয়। পিঠালি খেলেই শুধু বোঝা যায়&mdash;কেন এই পিঠালির নাম শুনলেই জিভে পানি চলে আসে।

আমারবাঙলা/এসএবি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 05 Mar 2026 09:33:21 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পিরামিড ও ফেরাউনের দেশ: ইসলামের আলোকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষ্য]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15881" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15881</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[কায়রো, মিশর: বিশ্বের প্রাচীনতম ও বিস্ময়কর স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম গিজার পিরামিড আজও মানবসভ্যতার এক অনন্য প্রতীক। বিশেষ করে Great Pyramid of Giza পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। প্রায় ৪,৫০০ বছর আগে ফেরাউন খুফুর শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনা ছিল রাজকীয় সমাধি, যেখানে মমি সংরক্ষণ করা হতো। হাজার হাজার শ্রমিক ও দক্ষ কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই পিরামিড আজও প্রকৌশল বিজ্ঞানের এক বিস্ময়।

ইসলামের ইতিহাসে মিশর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পবিত্র কুরআনে মিশরের কথা একাধিকবার উল্লেখ হয়েছে, বিশেষ করে Musa (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও কুরআনে সরাসরি &ldquo;পিরামিড&rdquo; শব্দটি নেই, তবে ফেরাউনের অহংকার, অত্যাচার এবং তার করুণ পরিণতির বর্ণনা ইসলামী ইতিহাসে সুস্পষ্টভাবে এসেছে। অনেক আলেম মনে করেন, পিরামিডসমূহ সেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার নিদর্শন, যার সময়ে নবী মুসা (আ.) দাওয়াত প্রদান করেছিলেন।

তবে ইসলাম পিরামিডকে ধর্মীয় নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করে না; বরং এটি ইতিহাসের একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, পিরামিড ছিল সমাধি স্থাপনা যা প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরকাল ধারণার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে মুসলিম গবেষকরাও কুরআনিক বর্ণনা ও ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছেন, যাতে অতীতের ঘটনাবলি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

সব মিলিয়ে, পিরামিড শুধু ইট-পাথরের বিশাল কাঠামো নয়; এটি মানব ইতিহাস, সভ্যতা ও বিশ্বাসের এক নীরব সাক্ষী। ইসলামের আলোকে দেখলে, এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভ চিরস্থায়ী নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 02 Mar 2026 07:03:34 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের বাসিন্দাদের  শ্রদ্ধা নিবেদন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15656" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15656</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন, জোন এ থেকে জোনাল সমন্বয় কমিটির ব্যানারে কমিটির সেক্রেটারী ড. দিদারুর আলমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন, জোন এ এলাকার ভবন নং ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং ভবনের বাসিন্দারা র&zwnj;্যালী করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শহীদদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আমার বাঙলা/আএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 21 Feb 2026 04:47:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মাহে রমাদান: নাজাতের মাসে ৩০ আমলের দিশা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15653" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/15653</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[পবিত্র রমাদান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। এই মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, &ldquo;রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথপ্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে&rdquo; (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাত&mdash;লাইলাতুল কদর।

তবে রমাদানের ফজিলত পেতে হলে দুটি শর্ত অপরিহার্য&mdash;ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং সুন্নাহর অনুসরণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমল করতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথেই চলতে হবে।

নিম্নে রমাদান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি আমল তুলে ধরা হলো&mdash;


১. সিয়াম পালন

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। আল্লাহ বলেন, &ldquo;তোমাদের মধ্যে যে এই মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে&rdquo; (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে রোজা রাখলে পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয় (সহিহ বুখারি)।

২. সময়মতো সালাত আদায়

&ldquo;নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ&rdquo; (সূরা আন-নিসা: ১০৩)। সময়মতো নামাজ জান্নাতের নিকটবর্তী করে।

৩&ndash;৪. কুরআন শেখা ও শেখানো

রমাদান কুরআনের মাস। হাদিসে এসেছে, &ldquo;তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়&rdquo; (সহিহ বুখারি)।

৫. সাহরি খাওয়া

সাহরিতে বরকত রয়েছে। এক ঢোক পানি হলেও সাহরি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে (মুসনাদ আহমাদ)।

৬. সালাতুত তারাবিহ আদায়

ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবিহ আদায় করলে গুনাহ মাফ হয় (সহিহ বুখারি)। ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আদায় করলে পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায় (সুনান আবু দাউদ)।

৭. বেশি বেশি তিলাওয়াত

প্রতি হরফে ১০ নেকির প্রতিশ্রুতি রয়েছে (সুনান তিরমিজি)। রাসুল (সা.) রমাদানে অধিক তিলাওয়াত করতেন।

৮. শুকরিয়া আদায়

রমাদান পাওয়া বড় নিয়ামত। আল্লাহ বলেন, &ldquo;যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, আমি অবশ্যই বাড়িয়ে দেব&rdquo; (সূরা ইবরাহিম: ৭)।

৯. নেক কাজ বৃদ্ধি

রমাদানে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। প্রতি রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় (সুনান তিরমিজি)।

১০. তাহাজ্জুদ আদায়

ফরজের পর শ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতের সালাত (সহিহ মুসলিম)।

১১. দান-সদাকাহ

রাসুল (সা.) রমাদানে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন (সহিহ বুখারি)।

১২. উত্তম চরিত্র গঠন

রোজা অবস্থায় অশালীনতা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে (সহিহ মুসলিম)।

১৩. ইতিকাফ

রমাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ সুন্নাহ (সহিহ বুখারি)।

১৪. দাওয়াতে দ্বীন

মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা উত্তম কাজ (সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৩)।

১৫. উমরা পালন

রমাদানে একটি উমরা, রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হজের সমতুল্য সওয়াব (সহিহ বুখারি)।

১৬. লাইলাতুল কদর তালাশ

&ldquo;কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম&rdquo; (সূরা কদর: ৩)। বিশেষ দোয়া: &ldquo;আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন&hellip;&rdquo;

১৭. বেশি বেশি দোয়া

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়&mdash;এমন সুসংবাদ রয়েছে।

১৮&ndash;১৯. সময়মতো ইফতার ও ইফতার করানো

খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার সুন্নাহ। অন্যকে ইফতার করালে সমপরিমাণ সওয়াব (সুনান ইবনে মাজাহ)।

২০. তাওবা ও ইস্তিগফার

খাঁটি তাওবা গুনাহ মাফের মাধ্যম (সূরা আত-তাহরিম: ৮)। &lsquo;সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার&rsquo; পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে (সহিহ বুখারি)।

২১. তাকওয়া অর্জন

রোজার মূল লক্ষ্য তাকওয়া (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)।

২২. ফজরের পর ইবাদত

ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলে হজ-উমরার সমান সওয়াব (সুনান তিরমিজি)।

২৩. ফিতরা প্রদান

ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ রয়েছে (সহিহ বুখারি)।

২৪. খাদ্য বিতরণ

ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো উত্তম কাজ (সহিহ বুখারি)।

২৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইবাদত (সূরা আন-নিসা: ১)।

২৬. কুরআন হিফজ

আল্লাহ নিজেই কুরআনের হিফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন (সূরা আল-হিজর: ৯)।

২৭. বেশি বেশি জিকির

আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়।

২৮. মিসওয়াক ব্যবহার

মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও রবের সন্তুষ্টি আনে।

২৯. পরস্পরকে কুরআন শোনানো

জিবরাইল (আ.) রমাদানে রাসুল (সা.)-কে কুরআন শোনাতেন (সহিহ বুখারি)।

৩০. কুরআন বুঝে আমল

শুধু তিলাওয়াত নয়, কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গঠনই মূল লক্ষ্য।

আমারবাঙলা/এবিএস/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 21 Feb 2026 03:44:38 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[১২ডিসেম্বর, নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস পালিত]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/14263" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/14263</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হাবিব আহম্মদ মোল্লা: নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে নরসিংদীতে এক বিজয় র&zwnj;্যালি বের করা হয়। নরসিংদী জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই র&zwnj;্যালিতে নেতৃত্বদেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকতা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। র&zwnj;্যালিটি নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
জানা গেছে,বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালির অহংকার ও গৌরবের মাস। আজ থেকে ঠিক ৫৪ বছর আগে ১২ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয়েছিল নরসিংদী। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে গোটা নরসিংদী শত্রুমুক্ত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি তাই নরসিংদীবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও স্মরণীয় দিন ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ওই খণ্ড যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন জেলার ১১৬ জন বীর সন্তান। এর মধ্যে নরসিংদী সদরের ২৭, মনোহরদীর ১২, পলাশে ১১, শিবপুরের ১৩, রায়পুরায় ৩৭ ও বেলাবো উপজেলার ১৬ জন। সশস্ত্র যুদ্ধে জেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত নারী-পুরুষকে নির্বিচারে হত্যা করে গণকবর দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা মনে হলে এখনও শিউরে ওঠে এলাকাবাসী। এ ছাড়া বহু মা-বোনের নীরব আত্মত্যাগের বিনিময়ে নরসিংদী হানাদারমুক্ত হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত নরসিংদীতেও মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে থাকেনি। দেশ মাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জেলার আপামর জনসাধারণ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিল তারা স্বাধীন মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্চ মাস থেকেই সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে পাকবাহিনীর অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেয় তারা। মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী পাক হানাদার মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে নরসিংদীতে ইপিআর, আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং এ সময় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা তাদের স্বাগত জানায়। নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে শত শত যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়; কিন্তু এ খবর পৌঁছে যায় পাকবাহিনীর কাছে।

৪ এপ্রিল পাকবাহিনীর বোমারু বিমান নরসিংদী শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। গোটা শহরে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণে শহীদ হন আবদুল হক ও নারায়ণ চন্দ্র সাহাসহ নাম না জানা আরও আটজন।
২৩ মে তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মিয়া আবদুল মজিদ মুক্তি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। পরে শুরু হয় প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও চোরাগুপ্তা হামলা। এরমধ্যে পাকবাহিনী নরসিংদী টেলিফোন ভবনে ঘাঁটি স্থাপন করে। স্থানীয় টাউট, দালাল ও রাজাকারদের যোগসাজশে হানাদার বাহিনীরা প্রতিদিন চালায় ধর্ষণ, নরহত্যা ও লুটতরাজ। অন্যদিকে বাংলার স্বাধীনতাকামী তরুণরা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয় এবং আঘাত হানে শত্রু শিবিরে। নরসিংদী সদর উপজেলায় নেহাব গ্রামের নেভাল সিরাজের নেতৃত্বে হানাদার প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তোলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদী জেলা ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ। নরসিংদীকে ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে নেওয়া হলে কামান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ এন এম নুরুজ্জামান। নরসিংদীকে মুক্ত করতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা যেসব স্থানে যুদ্ধ করেছে, সে স্থানগুলো হলো-নরসিংদীর সদর উপজেলার বাঘবাড়ী, পালবাড়ী, আলগী, পাঁচদোনা, পুটিয়া, চলনদীয়া, মনোহরদী উপজেলার হাতিরদীয়া বাজার, রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর বাজার, রামনগর, মেথিকান্দা, হাঁটুভাঙ্গা, বাঙালীনগর, খানাবাড়ী, বেলাব উপজেলার বেলাব বাজার, বড়িবাড়ী, নারায়ণপুর ও নীলকুঠি।

এ সময় আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে বেলাব বড়িবাড়ীর নীলকুঠির যুদ্ধে হানাদারদের হাতে শহীদ হন সুবেদার আবুল বাশার, মমতাজ উদ্দিন, আব্দুস সালাম ও আব্দুল বারী। এ ছাড়া পাক হানাদার বাহিনীরা বড়িবাড়ী বাজনাবরের নিরীহ ৮ থেকে ১০ জনকে ধরে এনে এক সঙ্গে গুলি করে হত্যা করে এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও এখন তা অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Fri, 12 Dec 2025 13:51:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইতিহাস ও ঐতিহ্য: কালের স্বাক্ষী হাজীগঞ্জ দুর্গ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13996" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13996</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নারায়ণগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত হাজীগঞ্জ দুর্গ একসময় খিজিরপুর দুর্গ নামে পরিচিত ছিল। মুঘল আমলে নির্মিত এ দুর্গ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

ষোড়শ শতকে জাহাঙ্গীর নগর (বর্তমান ঢাকা) রক্ষার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর কৌশলগত তীরে তিনটি জলদুর্গ নির্মাণ করা হয়। সেগুলো হলো&mdash;হাজীগঞ্জ দুর্গ, সোনাকান্দা দুর্গ এবং মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর দুর্গ। রাজধানী ঢাকা থেকে হাজীগঞ্জ দুর্গের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

জনশ্রুতি আছে, মুঘল সুবাদার ইসলাম খান ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পরই শীতলক্ষ্যার সঙ্গে পুরোনো বুড়িগঙ্গার সংযোগস্থলে এই জলদুর্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নদীপথে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করাই ছিল দুর্গটির মূল উদ্দেশ্য।

দুর্গের ভেতরে খালি প্রাঙ্গণ ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নেই। ধারণা করা হয়, বর্ষাকালে জলদস্যুদের আক্রমণ ঠেকাতে সৈন্যরা এখানে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করত। তিনটি জলদুর্গকে ঘিরে গড়ে ওঠে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার &lsquo;ট্রায়াঙ্গেল অব ওয়াটার ফোর্টস&rsquo;&mdash;যার একটি হাজীগঞ্জ দুর্গ।

দুর্গ নিয়ে গবেষকদের মতভিন্নতা রয়েছে। কেউ বলেন, এটি ১৬১০ সালের দিকে নির্মিত। আবার কেউ মনে করেন, মির জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করেন। দুর্গের চার কোণে চারটি বুরুজ এবং পঞ্চভুজ আকৃতির সীমানাপ্রাচীরের দেয়ালে বন্দুক তাক করার জন্য ফাঁকা অংশ রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন অন্তর্ভুক্ত এ দুর্গটি কয়েকবার সংস্কার করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বেশ জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঐতিহাসিক এ জলদুর্গের সৌন্দর্য ও গুরুত্ব ধরে রাখতে সংরক্ষণ কার্যক্রম জরুরি হয়ে উঠেছে।

● আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 02 Dec 2025 09:19:00 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ইতিহাস-ঐতিহ্যের বেদনাবহ ধ্বংসস্মৃতি নীলকুঠি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13741" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13741</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) থেকে:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গড়ে উঠা ঐতিহাসিক নিদর্শন রবার্ট মোরেল এর ইংরেজ নীলকুঠি কুঠিবাড়ী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে । অযত্ন অবহেলা আর সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ না থাকায় দেড় শ&rsquo; বছর আগের এ নিদর্শন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। রহস্যে ঘেরা আর কালের সাক্ষী কুঠিবাড়ীর অস্বিত্ব বিলুপ্তির পথে। ১৮৪৯ সালে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি মিসেস মোরেল তার দুই ছেলে রবার্ট মোরেল ও হেনরি মোরেল এর নামে এ অঞ্চলের পত্তনি গ্রহণ করেন এবং পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় সুন্দরবন বন্দোবস্ত নিয়ে বন আবাদ করে বসতি গড়ে নীল চাষ শুরু করেন। বরিশাল থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে বন আবাদ করে গড়ে তোলেন বিশাল আবাসস্থল &lsquo;কুঠিবাড়ী&rsquo;। নির্মান করা হয় আস্তাবল, পিলখানা, নাচঘর, গুদামঘর, কাচারিবাড়ি, লাঠিয়াল বাহিনীর জন্য পৃথক ঘর এবং নির্যাতন কক্ষ। সুন্দরবনের হিংস্র প্রাণী ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হাত থেকে রক্ষা পেতে কুঠিবাড়ীর চতুর্দিকে সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।

এ কুঠিবাড়িটি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও দীর্ঘ কয়েক বছর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলেছে। বর্তমানে এ ঐতিহাসিক ইংরেজ নীল কুঠি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও রয়েছে &lsquo;কুঠিবাড়ি&rsquo; নামে পরিচিত মোরেলদের &lsquo;নীলকুঠি&rsquo;র ধ্বংসাবশেষ। &lsquo;কুঠিবাড়ি&rsquo; ভবনের পুরানো আমলের সেই দরজা, জানালা, গ্রীল, সিন্দুক, সিড়িসহ বহু মূল্যবান মালামাল ধীরে ধীরে বেহাত হয়ে গেছে। স্মৃতিস্তম্ভ থেকেও চুরি হয়ে গেছে অনেক মালামাল । তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র

কৃষকের এই শহীদের খবর পৌঁছে যায় তাঁর সহপাঠী তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, মামলা গ্রহণ করেন এবং বহু আসামিকে কলকাতায় নিয়ে বিচার শুরু করেন। হেনরি মোরেল ধরা পড়েন বোম্বেতে, দুর্গাচরণ বৃন্দাবনে। রবার্ট মোরেল অসুস্থ অবস্থায় বরিশালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ১৮৬৮ সালের ১৩ মে মারা যান।

মোরেলদের পতন ও স্মৃতিস্তম্ভ

রহিমুল্লাহ হত্যার জের ধরে ১৮৭৮ সালে মোরেল পরিবার গুটিয়ে নেয় তাদের শাসন। তবে তাদের নির্মাণ&mdash;&lsquo;কুঠিবাড়ি&rsquo;&mdash;আজও দাঁড়িয়ে আছে সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে। ইংরেজ অপশাসকের স্মরণে তাঁদের অনুসারীরা নির্মাণ করেছিলেন একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যার সাদা পাথরে খোদাই করা আছে রবার্ট মোরেলের মৃত্যুবার্তা ও নির্মাতাদের নাম।

পরিত্যক্ত ঐতিহ্যের শোচনীয় অবস্থা

দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে কুঠিবাড়িটি পরিত্যক্ত। মূল্যবান দরজা-জানালা, গ্রীল, সোনা-রূপার অলংকার, পুরনো সিন্দুক, সিঁড়ি&mdash;সবই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটিও আজ বিকৃত, বেশ কিছু অংশ চুরি হয়ে গেছে। কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের স্পর্শ না পেয়ে ইতিহাসের এই মহামূল্য স্মৃতিচিহ্ন ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ঐতিহ্যবাহী এই কুঠিবাড়িকে নিয়ে গবেষক প্রাক্তন অধ্যক্ষ ম্যাটস্ বাগেরহাট ডা. মো. শিব্বির আহেমদ বলেন, কুঠিবাড়ি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি আজ ধংসের দ্বারপ্রান্তে। ইতিপূর্বে অনেক জমি অবৈধ দখলদারের হাতে চলে গেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষণ করে দেখভালের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি কুঠিবাড়ির এ জমিতে শিশু পার্ক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শিশুদের বিনোদনের চাহিদা লাঘব হবে। আয়ের উত্স্য থেকে সরকারিভাবে রাজস্বও আসবে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ জানান, কুঠিবাড়ি সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও এখানে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাসহ দৃষ্টি আকর্ষণে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করা হবে। ঐতিহাসিক এ ইংরেজ শাসনামলের &lsquo;কুঠিবাড়ি&rsquo; সংরক্ষণে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।
মোরেলগঞ্জের ইতিহাসের সূতিকাগার হিসেবেকুঠিবাড়িটি সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে প্রত&oelig;তত্ত্ব অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারিভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। ঐতিহাসিক এ ইংরেজ শাসনামলের &lsquo;কুঠিবাড়ি&rsquo; সংরক্ষনে প্রত্মতত্ত বিভাগে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।

কৃষক নেতা রহিমুল্লাহর অবিস্মরণীয় বিদ্রোহ

নীলকরের অত্যাচার বাড়তে থাকলে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান সুন্দরবনের কৃষক নেতা রহিমুল্লাহ। কলকাতা থেকে ইংরেজি শেখার চেষ্টা ছেড়ে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং ভাইদের নিয়ে ১৪শ&rsquo; বিঘা জমি আবাদ করেন। খবর পেয়ে রবার্ট মোরেল খাজনা দাবি করলে রহিমুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন। পুনরায় খাজনা চাইতে পিয়াদা পাঠানো হলে তিনি কাঠের বাক্সে ছেঁড়া জুতা পাঠিয়ে জানান দেন তাঁর প্রতিবাদ।

কূটচালে মোরেল রহিমুল্লাহর সহযোগী গুনী মামুনকে পত্তনি দেন, এবং ১৮৬১ সালের ২১ নভেম্বর রাতে শতাধিক লাঠিয়াল নিয়ে রহিমুল্লাহকে আক্রমণ করেন। পাল্টা লড়াইয়ে মোরেল বাহিনীর রামধন মালোসহ ৭&ndash;৮ জন নিহত হয়। হেনরি মোরেল ও ম্যানেজার হেইলি ধরা পড়ে রহিমুল্লাহর হাতে। অনুতাপ প্রকাশ করলে তাঁদের ছেড়ে দেন তিনি।

তবে তিনদিন পর, ২৫ নভেম্বর রাতে অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী নিয়ে আবারও আক্রমণ করে মোরেল পরিবার। দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সারা রাত লড়াই করেন রহিমুল্লাহ। ভোরের আলো ফুটতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 17 Nov 2025 09:43:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[১৮৩তম মণিপুরী  মহারাসলীলা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13562" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/13562</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[তিমির বনিক,মৌলভীবাজার থেকে: অপেক্ষার প্রহর শেষ করে আজ হতে যাচ্ছে ১৮৩তম মহারাসলীলা। পূর্ণিমার আলোয় মহারাস উৎসবে মেতে উঠবেন মণিপুরিরা। এটিই তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। মণিপুরি পাড়াগুলোতে বিগত ক&#39;দিন থেকেই মৃদঙ্গের তালে মণিপুরি গান ভেসে বেড়ায়। গান আর মৃদঙ্গের তাল অনুসরণ করে একটু এগিয়ে গেলেই চোঁখে পড়ে মণিপুরিদের নাচের প্রস্তুতি। মণিপুরি-অধ্যুষিত গ্রাম ও পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। চলছে শেষ মুহূর্তের গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য এবং রাসনৃত্যের মহড়া।

বৃহত্তর সিলেটের আদিবাসী মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহারাসলীলা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অন্যান্য বছরের মতো এবারও মণিপুরিদের পৃথক দুটি গ্রামে রাস উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার মাধবপুরের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রাসপূর্ণিমার আলোয় ভেসে যাওয়ার জন্য মাত্র সময়ের অপেক্ষা।

স্থানীয় মণিপুরী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে কমলগঞ্জের মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাস উৎসবে সকালবেলা &lsquo;গোষ্ঠলীলা&rsquo; বা &lsquo;রাখাল নৃত্য&rsquo; হয়। গোধূলি পর্যন্ত চলে এই রাখাল নৃত্য। এরপর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রাস উৎসবের মূল পর্ব শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ। মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পোশাকে নেচে গেয়ে কৃষ্ণবন্দনা পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে রাসলীলা। রাসনৃত্যে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও প্রায় ৫০ জনের মতো গোপী থাকেন। গোপীর সংখ্যা অনেক সময় কম-বেশি হয়।

গতকাল দুপুরে ও সন্ধ্যায় কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝের গাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাড়াগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের রাস উৎসবের মহড়ার আয়োজন। প্রায় ১৫ দিন ধরে এখানে রাস উৎসবের মহড়া চলছে। মহড়ায় আসা মণিপুরি ছেলেমেয়েদের রাসনৃত্যের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুন শিখিয়ে দিচ্ছিলেন রাসনৃত্যের শিক্ষক অজিত কুমার সিংহ। সঙ্গে সজল কুমার সিংহ মৃদঙ্গ বাজিয়ে ও রীনা সিংহা গান গেয়ে সেই মহড়ার তাল দিচ্ছিলেন। রাস উৎসবে এই গান ও তালের সঙ্গেই সারারাত ধরে নাচতে হবে শিল্পীদের। প্রায় ১৫-২০ জন ছেলেমেয়ে শিক্ষকদের কথা অনুযায়ী মহড়া দিচ্ছিলেন।

মহড়ায় আসা কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রিথি সিংহা বলেন, &lsquo;আমরা ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখি। কিন্তু সবাই রাস উৎসবে অংশ নিতে পারে না। এ জন্য আমাদের অনেক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এখন প্রায় ১৫ দিন ধরে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন মহরায় অংশ নিচ্ছি। রাস উৎসব নিয়ে আমাদের ভালো প্রস্তুতি আছে। আমরা চাই আমাদের এই উৎসবে সবাই আসুক।&rsquo;

মহড়ায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নিশা মনি সিনহা বলেন, &lsquo;মহারাস উৎসব আমাদের বড় অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে অনেক দর্শক থাকেন। আমাদেরও সেই রকম প্রস্তুতি নিতে হয়। রাসধারী আমাদের সবকিছু শিখিয়ে দেন। রাস উৎসবে অংশ নিতে পরিবার থেকে অনেক সাপোর্ট পাই আমরা। এই রাস উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারি। আমাদের চর্চা অব্যাহত থাকে।&rsquo;

শিক্ষক অজিত কুমার সিংহ বলেন, &lsquo;মূলত রাস উৎসবের প্রায় এক মাস আগ থেকেই মহড়া শুরু করি। রাস উৎসবে অংশ নেওয়া মণিপুরি ছেলেমেয়েদের অনেকেই নতুন। আবার অনেকে পুরোনো। আমরা এক মাস প্রস্তুতি নিয়ে তাদের প্রস্তুত করি। প্রতিদিন নিয়ম মেনে সবাই আসেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ মহড়া চলছে।&rsquo;

রাস নৃত্যের আরেক শিক্ষক সজল কুমার সিংহ বলেন, আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাখাল নৃত্য শুরু।# সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে মুল রাস নৃত্য। এই রাসনৃত্যের জন্যই মহড়া হচ্ছে। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এই রাস উৎসব দেখতে এখানে ভিড় করেন। এটা মণিপুরিদের ঐহিত্যবাহী উৎসব।&rsquo;

মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘ এর সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, &lsquo;রাস উপলক্ষে আমাদের পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি শেষে উপস্থাপন করার পালা। প্রতি বছরের মতো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় ১৮৩তম শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। এই মহোৎসব উপলক্ষ্যে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। রাসলীলা মণিপুরিদের আয়োজন হলেও সকলের আগমনে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাপর সকল জাতিগোষ্ঠীর মাঝে সম্প্রীতির বাঁধনে বেধে চলেছে এই উৎসব রাসলীলা, গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রেমপ্রীতির ঐতিহ্য দর্শন।&rsquo;

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 05 Nov 2025 11:22:04 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[লাঠিটিলায় বিলুপ্তির পথে হাতি !]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/environment/13479" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/environment/13479</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[তিমির বনিক,মৌলভীবাজার থেকে:

মৌলভীবাজারে জুড়ীতে সিলেট বিভাগের একমাত্র প্রাকৃতিক বন-পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্গত লাঠিটিলা বনে এখন বেঁচে আছে মাত্র পাঁচটি বন্য মাদী হাতি। পুরুষ হাতি না থাকায় প্রজনন বন্ধ হয়ে গেছে বহু বছর আগেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খুব শিগগিরই বিলুপ্ত হতে পারে লাঠিটিলার এই হাতির দলটি&mdash;আর তার সঙ্গে হারিয়ে যাবে বনের একটি অনন্য প্রাণবৈচিত্র্য।

পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের আওতায় লাঠিটিলা, সমনভাগ, বড়লেখা ও মাধবছড়া&mdash;এ চারটি বিট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত লাঠিটিলা বনবিটের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ৬৩১ একর। একসময় এই বনে নিয়মিত বিচরণ করত নয় সদস্যের একটি হাতির দল&mdash;আটটি মাদী ও একটি পুরুষ হাতি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে জানা যায়, প্রায় চার দশক আগে ভারতের আসাম রাজ্যের দুহালিয়া হিল বিট এলাকা থেকে এ হাতির দল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসে। বনভূমি ও বাঁশবনের সমৃদ্ধির কারণে তারা লাঠিটিলাকেই নিজেদের আশ্রয়স্থল তৈরি করে নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আসা-যাওয়া করলেও এখন মূলত বাংলাদেশের দিকেই বসবাসরত আছে।

তবে, সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। বাঁশবন উজাড় ও গাছবাগান সম্প্রসারণের ফলে হাতিদের খাদ্য ও আশ্রয় উভয়ই সংকুচিত হয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে তারা মাঝে-মধ্যে লোকালয়ে প্রবেশ করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধান ও কাঁঠালের মৌসুমে হাতির দল গ্রামে ঢুকে পড়লেও এখন সেই উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।

২০১৯ সালে ভারতের করিমগঞ্জ জেলার চম্পাবাড়ী এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে মারা যায় দলের একটি হাতি। আরেকটি গুরুতর আহত হয়, পরে চিকিৎসার পর তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে সাত সদস্যের দলটি নেমে আসে পাঁচটিতে। যে হাতিগুলো সবই মাদী হাতি।

লাঠিটিলা বনবিট কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, &lsquo;গত ছয় মাসে হাতিগুলো বাংলাদেশে আসেনি। আগে ধান বা কাঁঠালের মৌসুমে এরা আসতো। কিন্তু এখন ভারতের দিকেই বেশি সময় কাটাচ্ছে, হয়তো সেখানে নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করছে।&rsquo;

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, &lsquo;আমাদের তথ্য অনুসারী জানা মতে লাঠিটিলায় এখন পাঁচটি মাদী হাতি আছে। এদের দলে একটি পুরুষ হাতি আনতে পারলে প্রজননের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা করছি।&rsquo;

তিনি আরও বলেন, &lsquo;স্থানীয় জনগণ তুলনামূলক শান্ত স্বভাবের। তারা হাতিকে আঘাত করে না। আমরা ইতিমধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়েছি, যাতে লোকালয়ে হাতি ঢুকলেও কেউ ক্ষতি না করে।&rsquo; পরিবেশবিদদের মতে, হাতিরা শুধু বন নয়, পুরো প্রতিবেশ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তাদের বিলুপ্তি মানে এক বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটার সামিল।

বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, &lsquo;এত বড় প্রাণী যদি বিলুপ্তির মুখে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গভীর ত্রুটি রয়েছে। হাতিদের জন্য নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করা জরুরি।&rsquo;

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ. খান বলেন, &lsquo;লঠিটিলার হাতিরা এখনও টিকে আছে, কিন্তু পুরুষ হাতি না থাকায় প্রজনন বন্ধ আছে। অন্য কোথাও থেকে একটি পুরুষ হাতি এনে বা স্থানীয় পোষা পুরুষ হাতির সঙ্গে মিশ্রণের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো প্রজনন সম্ভব হতো।&rsquo;

পরিবেশ কর্মীরা বলেন, &lsquo;লাঠিটিলা একসময় হাতিদের জন্য ছিল সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন বনবিভাগের বনায়ন প্রকল্প ও মানবীয় হস্তক্ষেপে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। হাতি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে বনকে প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনতে হবে।&rsquo;

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 01 Nov 2025 12:13:55 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সাহাবিরা মহানবীর (সা.) আনুগত্য প্রদর্শনে অনন্য সব দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10912" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10912</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মহানবী হজরত মোহাম্মদের (সা.) আনুগত্য প্রদর্শনে সাহাবিরা অনন্য সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রথমত তার আনুগত্য মানে আল্লাহর আদেশ পালন। দ্বিতীয়ত তাদের অন্তরে নবীজির প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, সেই ভালোবাসার আহ্বানে তারা সাড়া দিয়েছেন। মানুষ তার সহজে মানে, যাকে সে ভালোবাসে।

মাত্র তিনটি উদাহরণ হলো-

১. জুমার দিন মসজিদের মিম্বরে উঠে নবীজি (সা.) বললেন, &lsquo;বসো তোমরা।&rsquo; আবদুলাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শোনামাত্র মসজিদের দরজায় বসে গেলেন। তিনি &lsquo;বসো&rsquo; শব্দটি শুনে নিজেকে আর এক পা এগোনোর অনুমতি দেননি; যেখানে ছিলেন, সেখানেই বসে গেলেন। নবীজি তাকে দেখলেন যে, তিনি দরজার মুখে বসে গেছেন। বললেন, &lsquo;আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, এগিয়ে এসো।&rsquo; (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১,০৯১)

২. আবু আবদুর রহমান ফাহরি (রা.) বলেন, নবীজির (সা.) সঙ্গে আমি হোনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। গ্রীষ্মের দিনে আমরা প্রচণ্ড রোদের মধ্য দিয়ে চলছিলাম। একসময় সকলে গাছের ছায়ায় বসলাম। সূর্য হেলে পড়লে আমার বর্মটি পরলাম এবং ঘোড়ায় চড়ে নবীজির কাছে এলাম। তিনি তার তাঁবুতে ছিলেন। তাকে সালাম দিয়ে বললাম, আল্লাহর রাসুল, &lsquo;আমাদের যাওয়ার সময় হয়েছে কি?&rsquo; তিনি বললেন, &lsquo;হ্যাঁ।&rsquo; এরপর তিনি &lsquo;বেলাল&rsquo; বলে ডাক দিলেন। বেলাল (রা.) সামুরা গাছের নীচ থেকে ছুটে এলেন। তার ছায়া দেখে মনে হচ্ছিল যেন পাখির ছায়া। তিনি বললেন, &lsquo;আমি হাজির।&rsquo; (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫,২৩৩)

&lsquo;পাখির ছায়া&rsquo; বলার কারণ হলো, নবীজির আওয়াজ শোনামাত্র বেলাল (রা.) এত দ্রুত এসেছেন, যেন তার দু&rsquo;পা মাটিতে ছিল না, ছায়া দেখে মনে হচ্ছিল পাখির ছায়া।

৩. উসাইদ ইবনে জহির (রা.) বলেন, রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) আমাদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমাদের একটি বিষয় নিষেধ করেছেন, যা তোমাদের জন্য উপকারী। তবে মনে রেখো, আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করা আরো বেশি উপকারী। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩,৮৯৭)

অর্থাৎ, আল্লাহর রাসুল যা বলেছেন, তাতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে উপকারী বিষয় গ্রহণে নিষেধ করেছেন বোঝা গেলেও তাতে দ্বিধায় পড়েননি সাহাবিরা। বরং বুঝে নিয়েছেন যে, নিশ্চয় রাসুলের কথা মেনে নিলে আল্লাহ এর চেয়ে বেশি উপকার দেবেন।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 30 Apr 2025 05:00:49 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পোপ নির্বাচিত হন যেভাবে ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10880" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10880</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রোমান ক্যাথলিক চার্চের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেছে নিতে রক্ষণশীল আর প্রগতিশীল কার্ডিনালদের তৎপরতা বেড়েছে। চলছে বিভিন্ন পর্যায়ের লবিং। প্রায় এক দশমিক চার বিলিয়ন ক্যাথলিকের নতুন নেতা বেছে নিতে ১৩৫ জন কার্ডিনাল সিস্টিন চ্যাপেলে গোপন বৈঠকে বসবেন। এবারের পোপ নির্বাচনের ফলাফল আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চিত।

এবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া কার্ডিনালদের বেশির ভাগই আগে কোনো পোপ নির্বাচনে অংশ নেননি। তাদের ৮০ শতাংশই গত ১২ বছর পোপ ফ্রান্সিসের হাতে নিয়োগ পেয়েছেন। চার্চের বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টায় ইরান, আলজেরিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কার্ডিনাল নিয়োগ দেন পোপ ফ্রান্সিস। ফলে কার্ডিনাল কলেজে ইউরোপ-আমেরিকার একক আধিপত্য কিছুটা কমেছে। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় কার্ডিনালের হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি, এখন যা নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে। এশিয়া আর লাতিন আমেরিকা থেকেও এখন ১৮ শতাংশ করে প্রতিনিধি আছেন।

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যের পর এখন রোমান ক্যাথলিক চার্চে চলছে &lsquo;নোভেনদিয়ালি&rsquo; নামে নয় দিনের আনুষ্ঠানিক শোক পালন। ভ্যাটিকানের নিয়ম অনুযায়ী, পোপের মৃত্যুর পর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কনক্লেভ শুরু করতে হয়। সব কার্ডিনাল আগেভাগে পৌঁছে গেলে কনক্লেভ আগেও শুরু করা যায়। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে কনক্লেভ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এরই মধ্যে ভ্যাটিকানের করিডোর, বাগান আর ডাইনিং রুমে শুরু হয়েছে গোপন আলোচনা আর লবিং।

কনক্লেভ শুরু হওয়ার পর দ্রুত প্রথম ভোট হবে। প্রতিদিন সকাল আর বিকালে ভোট হবে, যতক্ষণ না কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে জিতে যান। ১৩০০ শতকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ কনক্লেভ চলেছিল দুই বছর নয় মাস।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 28 Apr 2025 07:22:07 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ইস্টার সানডে আজ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10679" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10679</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব &lsquo;ইস্টার সানডে&rsquo; বা যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস আজ রবিবার (২০ এপ্রিল)। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল এবং আনন্দের।

খ্রিষ্টান ধর্ম মতে, এই দিনে ঈশ্বরপুত্র যিশু মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়ে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। পুণ্য শুক্রবার বা গুড ফ্রাইডেতে বিপৎগামী ইহুদি শাসকগোষ্ঠী তাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে যিশুকে অন্যায়ভাবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিবস রবিবার তিনি মৃত্যু থেকে জেগে ওঠেন। তাই যিশুর পুনরুত্থানের এই রবিবারকে ইস্টার সানডে বলা হয়।

আজকের দিনে, বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টানরা বিশেষ প্রার্থনা সভা ও উপাসনায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন চার্চ সেজে উঠেছে রঙিন আলো ও ফুলে। এদিন যিশুর পুনরুত্থানের বার্তা পাঠ করা হয় এবং সকলে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ইস্টার সানডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হলো ইস্টার ডিম এবং ইস্টার বানি। ডিম নতুন জীবন ও উর্বরতার প্রতীক, অন্যদিকে ইস্টার বানি (খরগোশ) আনন্দ ও প্রাচুর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশুরা আজ রঙিন ডিম খুঁজে বের করার খেলায় মেতে উঠেছে এবং ইস্টার বানির কাছ থেকে মিষ্টি ও উপহার পাচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে ইস্টার সানডে উদযাপনের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। কোথাও বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে, আবার কোথাও শোভাযাত্রা ও লোকনৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে, উৎসবের মূল সুর একই - যিশুর পুনরুত্থানের আনন্দ এবং মানবজাতির জন্য নতুন আশা।

ইস্টার সানডে উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও এবং মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বের সব খ্রিষ্টান ভাইবোন ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইস্টার সানডের চেতনা বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

দিনটি উপলক্ষে আজ সকালে মিরপুর ১০ নম্বরে ঢাকা আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চে প্রাতঃকালীন প্রার্থনা করেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। এরপর প্রার্থনাসংগীত, বাইবেল পাঠ, আশীর্বচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় হচ্ছে বিশেষ প্রার্থনা। এ ছাড়া রাজধানীর কাকরাইল ও তেজগাঁওয়ের ক্যাথলিক চার্চ মিশনসহ সব গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইস্টার সানডে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মিলন ও ভালোবাসার দিন। এই দিনে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলে একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয় এবং নতুন করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 20 Apr 2025 04:49:16 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ-বেত শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10560" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10560</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, বাঁশের চাষাবাদ কমে যাওয়া ও বাঁশ-বেত সামগ্রীর চাহিদা না থাকায় হারাতে বসেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প। ফলে এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কয়েকশ পরিবার চলছে আর্থিক টানাপোড়নে। অনেকে বংশ পরম্পরায় করে আসা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন ভিন্ন পেশায়।

জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী, পূবেরকান্দা, চাতালচরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ-বেত শিল্পের প্রসার ঘটে। এসব গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা বাঁশ-বেত শিল্প নির্ভর হওয়ায় আশপাশে দ্রুত এ শিল্পের নামে পরিচিতি লাভ করে পুরো এলাকা। এখানকার বাঁশ-বেত শিল্পীরা তাদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করতো শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী।

তাদের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে ছিল- বিছানার পাটি, চাটাই, ডোল, জাবার, হাতপাখা, ডুলা, খলই, ওড়া, পইছা, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, মুড়া, চাই ইত্যাদি নানা বাহারি জিনিস।

পরিবারের ছেলে, বুড়ো, নারী, শিশু সবাই মিলে করতেন এ কাজ। এতে তাদের জীবন চলতো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। ফলে এ কুটির শিল্পের কাজ দ্রুত প্রসারিত হয় ভৈরবের পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামেও। এ শিল্পের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হিসেবে বাঁশের চাষও হতে থাকে বাড়ি বাড়ি।

কিন্তু ওইসব এলাকার বাঁশ-বেত শিল্পের সে ঐতিহ্য বর্তমানে আর নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন আবাসন তৈরিতে ভূমি ব্যবহার হতে থাকায় বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয় ভূমি যায় কমছে। অপরদিকে বাজারে এ শিল্প সামগ্রীর বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের নানা জিনিসের সহজলভ্যতা ও সেসব সামগ্রী তুলনামূলকভাবে দামে কম হওয়ায় ধীরে ধীরে এ শিল্পে ধস নেমে আসে। ফলে অধিক পরিশ্রমে এসব সামগ্রী তৈরি করেও সংসার চালানো কষ্টকর। ফলে অনেকে এ কর্ম ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে অন্য কাজে মানিয়ে নিতে না পারায় আঁকড়ে ধরে আছেন এ পেশা।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মানিকদি পুরানগাঁও গ্রামের রেনু মিয়া। তিনি বলেন, আগে আমাদের বাপ দাদারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করতেন। তাদের কাছ থেকেই আমরা শিখেছি। এভাবেই এই কাজ করে আমাদের সংসার চালাই। তবে বর্তমানে আমাদের ছেলে মেয়েরা এই কাজ করতে আগ্রহী না। তারা এই পেশা ছেড়ে অন্যান্য কাজ করে।

একই গ্রামের ছিদ্দিক মিয়া, আবু ছালেক, মোহাম্মদ আলী, সায়দুল্লাহ মিয়া, খোরশেদ মিয়া, মিশ্রী মিয়া, সাদু মিয়া বলেন, আগে বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র নিজেরা বাড়িতে তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেছি, তখন অনেক চাহিদা ছিল বেশ লাভও হতো। কিন্তু এখন তেমন লাভ হয় না। রাত-দিন খেঁটে যা তৈরি করি বাজারে সে তুলনায় চাহিদা নেই। এখন বাড়ি থেকে অল্প লাভে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকি। সেই উপার্জন দিয়ে কোনোরকম সংসার চালাচ্ছি।

তারা আরো বলেন, আমরা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। অনেক দুঃখ কষ্টে দিন কাটছে। অভাবের তাড়নায় অনেকে অন্য পেশায় চলে গেছেন। উপযুক্ত ও অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা অন্য পেশায় যেতে পারিনি।

মানিকদী গ্রামের বাসিন্দা জিল্লু মিয়া বলেন, এই পেশা ছেড়ে এখন ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের গোত্রের দুই-তিনটি পরিবার ছাড়া সবাই পেশা পরিবর্তন করেছে। একসময় গ্রামে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও বেত ঝাড় থাকায় বাঁশের তৈরি শিল্পের প্রচুর ব্যবহার ছিল। কিন্তু আগের মতো এখন বাঁশ ঝাড় আর বেত চোখে পড়ে না। দুষ্প্রাপ্যতার কারণে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনই নিঃস্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী পরিবারগুলো।

গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম শাহারিয়ার বলেন, আমাদের এলাকায় প্রাচীনকাল থেকে প্রতিটি বসতবাড়ির পাশে পর্যাপ্ত বাঁশ ও বেত ছিল। যার ফলে গ্রামগুলোতে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প গড়ে উঠে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে প্রতিটি কৃষক পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী ছিল এ শিল্পে তৈরি সামগ্রী। কৃষি শস্য সংরক্ষণ এবং প্রতিদিন ব্যবহার্য এসবের বিকল্প কখনোই প্লাস্টিক সামগ্রী হতে পারে না। পরিবেশবান্ধব এ কুটির শিল্পটিকে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভৈরবের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন জানান, বাঁশ-বেত শিল্প বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বর্তমান সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখবো। যেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের কারিগর ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 13 Apr 2025 05:27:49 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বাঁশি তৈরিতে ১৫০ বছরের ইতিহাস আছে শ্রীমুদ্দি গ্রামের]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10512" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10512</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[দেশের নানা অঞ্চল সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। এমনই একটি অঞ্চল কুমিল্লা। জেলার হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রাম ঐতিহ্যে অনন্য। বাঁশের বাঁশি তৈরিতে প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস রয়েছে গ্রামটির। দেশে-বিদেশে এখানকার বাঁশির বেশ সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে।

বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাঁশি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

বাংলা নববর্ষের আর অল্প দিন বাকি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে কারিগররা বাঁশি তৈরিতে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কারিগরদের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে সাংস্কৃতিক বিকাশের এই সরঞ্জাম তৈরি করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুদমুক্ত ঋণ কোনোটাই পাচ্ছেন না তারা। সরকারি সহযোগিতা পেলে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বাঁশি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে যুগের পুর যুগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোমনা উপজেলা সদর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে তিতাস নদীর পাশে শ্রীমুদ্দি গ্রাম। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাঁশির কারিগররা ব্যস্ততম সময় পার করছেন। প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও অলিগলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হরেকরকমের বাঁশি। কেউ বাঁশ কেটে ছিদ্র করছেন, কেউবা ধোয়া-মোছা শেষে রোদে শুকাচ্ছেন। কেউ আবার সেই বাঁশিতে নকশা করছেন। সবশেষে পাইকারদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বাঁশিগুলো বান্ডেল করা হচ্ছে। বড়দের পাশাপাশি তাদের সন্তানেরাও এই কাজে পিছিয়ে নেই। বাবা-মাকে সহযোগিতা করছেন। এ যেন এক বাঁশির রাজ্য!

কথা হয় বাঁশি তৈরির কারিগর জজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাঁশি তৈরি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। ১০-১৫ বছর বয়সে আমি এই শিল্প রপ্ত করেছি। প্রায় ৫০ বছর বয়সে তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ বাঁশি তৈরি করি।

তিনি জানান, ফাল্গুন থেকে বৈশাখী মাস পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যস্ততা তাদের। এ ছাড়া সারা বছরই গ্রামের মানুষ বাঁশি তৈরি করেন। বিশেষ করে মুখ বাঁশি বা থোতা বাঁশি বেশি তৈরি হয়। এটি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দরে বিক্রি হয়। আঁড় বাঁশির চাহিদাও প্রচুর। এর দাম ২০-৫০ টাকা। এ ছাড়া মোহন বাঁশি, চৌদ্দ বাঁশি, নাগিনী বাঁশি, বেলুন বাঁশি, পাখি বাঁশি, রিং বাঁশি, হুইসাল বাঁশি, ফেন্সি বাঁশি তৈরি করা হয়; যা বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়ে থাকে। দুই ইঞ্চি থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা আকারের বাঁশের বাঁশির দাম ডিজাইন ও গুণাগুণ ভেদে ১০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাঁশির কারিগর সবিতা রানী মজুমদার বলেন, ৩৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছে এই গ্রামে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে বাঁশি তৈরির কাজ করছি। এই কাজ তেমন কষ্টের না। দুই-একবার বার দেখলেই যে কেউ বানাতে পারবে। বিক্রিও সহজ। ঢাকার চকবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা বাড়িতে এসে বাঁশি কিনে নিয়ে যান। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে আমাদের আয় ১০-১৫ হাজার টাকা।

আরেক কারিগর আবুল কাশেম বলেন, প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহ্য পূর্ব পুরুষদের পেশা এখনো ধরে রেখেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরাও এই কাজে মনোযোগী হয়েছে। গর্বের বিষয় হলো, প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের তৈরি বাঁশি ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্তত ২০-২৫টি দেশে যাচ্ছে। এ ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে হোমনার বাঁশির কদর একটু বেশি। তবে শ্রম অনুসারে লাভ কম। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে তিনি সরকারের সহযোগিতা চাই।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার উপমহাব্যবস্থাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ সুদে ৫০ থেকে এক লাখ পর্যন্ত লোনের ব্যবস্থা রয়েছে। তারা চাইলে যেকোনো সময় এই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা হলে আমরা সেখানে এই বাঁশি গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপনের দিয়ে আহ্বান জানাই।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 10 Apr 2025 05:25:02 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অস্তিত্ব বিলিনের পথে ৫০০ বছরের চারটি শিব মন্দির]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10152" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/10152</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার প্রায় ৫০০ বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সমৃদ্ধ হিন্দু ধর্মীয় চারটি শিব-মন্দির এখন অযত্ন-অবহেলায় অস্তিত্ব বিলিনের পথে। বর্তমান মন্দিরগুলোতে শ্যাওলা ও বিভিন্ন গাছ-গাছড়াসহ আগাছা জন্মেছে; ঢেকে গেছে নানান গাছের শেকড় ও লতাপাতা দিয়ে। এর বেশির ভাগ জমি ইতোমধ্যে অবৈধ দখলে চলে গেছে। চুরি আর লুটপাট হয়েছে মন্দিরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শিবলিঙ্গসহ মূল্যবান বহু মালামাল। ধ্বসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা ও ইট। ফলে যে কোন সময় পথচারিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

ইতোমধ্যে উপজেলার কয়েকটি মন্দিরের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। গবেষকদের মতে, উপজেলায় যেকয়টি প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে, সঠিক সময়ে সেগুলোর সুপরিকল্পিত সংস্কার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনী শিবমন্দির, কালাইয়ের হাট এলাকার শিবমন্দির এবং জামুরা-বাসুরা গ্রামের দুটি শিব-মন্দির বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ওইসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অযত্ন-অবহেলায় দিনের পর দিন বিলুপ্তির প্রহর গুনছে। আগের দিনে মন্দিরগুলোতে সুন্দর সুন্দর পোড়ামাটির ফলক, লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি উপাদান দ্বারা সুশোভিত ছিল। বর্তমানে ওই উপাদানগুলো বিলুপ্ত হয়েছে।

এদিকে উপজেলার যে কয়টি শিব-মন্দিরের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে গেছে, সে তালিকায় আছে-দেওগ্রামের একটি শিব-মন্দির, জগডুম্বর গ্রামের একটি শিবমন্দির, বলিগ্রামের একটি শিব-মন্দির এবং শিমরাইল গ্রামের একটি শিব-মন্দির। এলাকার সচেতন হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, ঐতিহ্যবাহী ওইসব শিব-মন্দির সংরক্ষণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এসব মন্দিরের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিলীন হবে।

কালাই উপজেলার জামুরা-বাসুরা গ্রামের শ্রী রতন চন্দ্র, গনেশ, ও উপজেলার বাইগুনী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুনীষ চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, ইতোমধ্যেই ওইসব শিব-মন্দির থেকে চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান মূর্তি, টেরাকোটা সমৃদ্ধ ইট, কষ্টিপাথর সহ উপাসনার নানান উপকরণ। এখনও যেটুকু অস্তিত্ব টিকে আছে, অযত্ন আর অবহেলায় দিনের পর দিন সেগুলো বিলুপ্তির পথে।

উপজেলার পুনট গ্রামের লোক গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল মজিদ বলেন, তালোড়া-বাইগুনীর শিব-মন্দিরসহ উপজেলার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সমূহ সরকারিভাবে চিহ্নিতকরণসহ সেগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কালাই উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কালাই এম.ইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমীর কুন্ডু আক্ষেপ করে বলেন, কালাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরাতন মন্দিরসহ আসপাশের জমিগুলো অবৈধ দখলে আছে। সেগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। নিতে হবে সংস্কারের উদ্যোগ।

এই বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, উপজেলার ওইসব শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সেগুলো সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে সুপারিশ পাঠানো হবে।

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 24 Mar 2025 07:22:30 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পাকুড়ের শিকড় জড়ানো প্রাচীন স্থাপনা, সম্প্রতি জানা গেল এটি মসজিদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/9689" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/9689</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বগুড়ার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোরতা গ্রাম। এ গ্রামের গুন্নিপাড়া জঙ্গলের পথ ধরে হাঁটলে চোখে পড়বে বিশাল পাকুড়গাছ। কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলে, গাছটির শিকড়-বাকড়ে ঢাকা প্রাচীন এক স্থাপনার দেখা মিলবে। প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় এক দেখায় বোঝা মুশকিল, প্রাচীন স্থাপত্যটি আসলে কী কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে ছাদের ওপরে পাকুড়ের শিকড়-বাকড়ের মধ্যে তিনটি গম্বুজ এখনো বোঝা যায়। প্রাচীন মসজিদটির ঠিক উপরেই বেড়ে উঠে বুড়ো হয়েছে পাকুড়গাছটি। ঝোপজঙ্গলের ভেতরে থাকায় কয়েক বছর আগেও কারও নজরে আসেনি এই প্রাচীন স্থাপনাটি।

আসলে এটি যে একটি মসজিদ, তা এতকাল জানতই না স্থানীয়রা। অনেকে প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে চিনলেও সংরক্ষণ বা দেখভালের গুরুত্ব ছিল না। সম্প্রতি মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে গ্রামবাসীসহ আশপাশের মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। বর্তমানে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন মসজিদটি একনজর দেখতে।

কয়েক বছর আগে ঝোপজঙ্গল কেটে ফেলা হলে সবার নজরে আসে তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ। গুন্নিপাড়া জঙ্গলের এই প্রাচীন মসজিদের কথা স্থানীয়ভাবে প্রচার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, যে কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা মসজিদটি দেখতে কাহালুতে যাচ্ছেন।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে বোরতা-সিন্দুরাইল গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে মসজিদটির অবস্থান। তবে, কখন, কীভাবে কে মসজিদটি নির্মাণ করেছে, সে ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেই কারো। অনেকে বলছেন, ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের স্বর্ণযুগে এই মসজিটি নির্মাণ হতে পারে। ১২ ফুট দৈর্ঘ্য আর আট ফুট প্রস্থের স্থাপনাটির দেয়ালগুলো প্রায় দুই ফুটের মতো পুরু। মসজিদের গাঁথুনি পাতলা ইটের ওপর চুনসুরকির। মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকতে হয়। মসজিদে সাত থেকে আট জন ব্যক্তির নামাজের জায়গা রয়েছে। তবে এখন আর নামাজ পড়ার পরিবেশ নেই।

বোরতা গ্রামের কোব্বাত, মন্টু ফকির এবং শাকোহালী গ্রামের মিন্টু খান জানান, গুন্নিপাড়া জঙ্গল এলাকা ঝোপজঙ্গল আর উঁচু ঢিবির মতো ছিল। মানুষের তেমন যাওয়া-আসাও ছিল না। সময়ের প্রয়োজনে কয়েক বছর আগে সেখানকার ঝোপজঙ্গল কেটে উঁচু মাটি সমান করে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করা হয়। তবে মসজিদের ওপর তিনটি বিশাল পাকুড় গাছ কেটে ফেলার সাহস আজও কেউ পাননি। আগে কারো আগ্রহ না থাকলেও প্রাচীনকালের এই মসজিদ দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে।

জানা গেছে, আগে এই মসজিদে যাওয়ার মতো কোনো রাস্তা ছিল না। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ঈদগাহ নির্মাণ করার পর দর্শনার্থীদের মসজিদে যাওয়ার জন্য সরু রাস্তা করা হয়েছে।

আমারবাঙলা/এমআরইউ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sat, 08 Mar 2025 04:06:28 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বগুড়ায় মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে, এই শিল্পের সাথে থেকে চলছে না সংসার]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/9633" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/oithijho-o-krishthi/9633</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বগুড়ায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরী তৈজসপত্রের চাহিদা শহরের পাশাপাশি গ্রামেও কমে গেছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত পাল সম্প্রদায়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অনেকেই ইতোমধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন। পালপাড়ায় আগে যে ব্যস্ততা দেখা যেতো,সে ব্যস্ততা এখন আর নেই। সারি সারি মাটির তৈজসপত্র এখন আর তেমনভাবে নজরে পড়ে না। মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা আগের মত না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্র।

গ্রাম-বাংলার অতীত ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে মৃৎশিল্প। এমন একসময় ছিল যখন পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল কাজে মাটির তৈরি জিনিসের বিকল্প ছিল না। মৃৎশিল্পীরা একসময়ে শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে শুকনা খড়, লাকড়ি, মাটি, বালি ও পানির সাহায্যে তৈরি করতেন দধির পাত্র, পিঠাখোলা, ভাতের পাতিল, পাতিলের ঢাকনা, তরকারি কড়াই, রসের হাড়ি, ধুপ জ্বালানি পাত্র, মুড়ির পাতিল, বাতি জ্বালানি পাত্র, জলকান্দা শিশুদের জন্য বিভিন্ন রকমের মাটির তৈরি খেলনা।

কিন্তু কালের পরিক্রমায় বাহারি ডিজাইনের প্লাস্টিক, মেলামাইন, ষ্টিল, বিদ্যুৎ চালিত রাইসকুকার, সিরামিক ও সিলভারের জিনিষ ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। যার কারণে এই শিল্পের সাথে জড়িত মানুষের একদিকে যেমন কমে গেছে কাজের পরিধি,তেমনি কমেছে উপার্জন। জীবন-জীবিকার জন্য বাধ্য হয়ে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত। আধুনিক জিনিসপত্রের ভিড়ে মাটির দাম বৃদ্ধিসহ নানা সংকট এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে বলে জানান মৃৎশিল্পীরা। পেশার চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় মৃৎশিল্পীদের বর্তমান প্রজন্মের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করেছে।

মাটির অভাব এবং জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির ফলে এ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা পাল সম্প্রদায়ের মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বগুড়ার নন্দীগ্রামের ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের হাটকড়ই গ্রামের পালপাড়ার প্রায় এক শতাধিক পাল পরিবার মৃৎশিল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। চল্লিশটি পরিবার এখনও এ পেশার সাথে যুক্ত রয়েছেন। এ পেশাকে আশ্রয় করে জীবন-জীবিকা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগান দিয়ে আসছেন।

এই পালপাড়ায় একশো বছরেরও অধিক সময় ধরে এই মৃৎশিল্পের কাজ চলে আসছে। পালপাড়ায় আগে যে ব্যস্ততা দেখা যেতো সেই ব্যস্ততা এখন আর নেই। সারি সারি মাটির তৈজসপত্র এখন তেমন নজরে পড়ে না।

সরেজমিনে পালপাড়ায় দেখা যায়,৪০ টা পরিবার এখনও বাপ-দাদার এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন। কেউ দইয়ের পাতিল তৈরি করছেন। কেউ হাঁড়ি-পাতিল সহ ২০_২৫ রকমের মাটির জিনিসের কাজ করছেন। আর দইয়ের পাতিল হাঁড়ি পাতিল রোদে শুকানো সহ সব ধরনের কাজে পুরুষদের সহযোগীতা করছেন পরিবারের নারী ও শিশুরা।

এদিকে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়ায় ১০০ টি পরিবারের বসবাস। প্রত্যেক পরিবারেই কেউ না কেউ ধরে রেখেছেন তাদের বাপ দাদার আদি ব্যবসা। উপজেলার আড়িয়া পালপাড়া ঘুরে দেখা গেছে । মাটি দিয়ে দইয়ের সরা আর গ্লাস সহ বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরি করছে হাটকড়ই গ্রামের পালপাড়ার নির্মলা রাণী পাল, পারুল রাণী, মাধুরী পাল। শ্রী গঙ্গা পাল বলেন, আমাদের মূল সমস্যা মাটি পাওয়া যায় না। মাটি কষ্ট করে ম্যানেজ করতে হয়, আর জিনিসপাতি তৈরি করেই লাভ কি, আগের মত বিক্রি হয় না। শুধুমাত্র এখন বাপ দাদার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। এই কাজ করে এখন আমাদের সংসার চলে না। পাশাপাশি অনেক ধরনের কাজ করতে হয় আমাদের। আগে মাটির জিনিস খুব ভালো চলত এখন আর তেমন ভাবে চলে না।

কারণ বাজারে এখন প্লাস্টিক সহ বিভিন্ন রকমের পণ্য পাওয়া যায়। এই কারণেই কেউ নিতে চায় না। আগে পালপাড়ার অনেক পরিবারে এই শিল্পর সাথে যুক্ত ছিল। এখানকার অর্ধেক পরিবার এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে। মৃৎশিল্পর দিকে যদি সরকার ও বগুড়ার ডিসি নজর দিত, সহযোগিতা করতো, তাহলে এই কাজ করে দুটা ডাল ভাত খেতে পারতাম আমরা। এই পেশার সাথে থেকে যদি সংসারই না চলে তাহলে এই পেশা বাধ্য হয়েই ছেড়ে দিতে হবে।

আড়িয়া পালপাড়া উদয়ন পাল জানান, তার বাবা মৃত ভুপেন পাল একসময় ফেরি করে বিভিন্ন মেলায় খেলনা থেকে শুরু করে সংসারের বিভিন্ন তৈজস পত্র বিক্রি করতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাটির তৈরি জিনিসের স্থান দখল করেছে প্লাস্টিক। দাম কম হওয়ার কারণে মানুষ এখন প্লাস্টিকের জিনিস বেশি ব্যবহার করেন। একারণে পাল পাড়ার অনেকেই আর মাটি দিয়ে খেলনা তৈরি করেন না।

বাবার হাত ধরে শেখা খেলনা এবং শো-পিস তৈরির কাজটি ধরে রেখেছেন উদয়ন পাল। তিনি ১৫-২০ আইটেমের খেলনা এবং শো-পিস তৈরি করছেন। তৈজস পত্র বিক্রি করেন মহাস্থান, ভিন্ন জগত, স্বপ্নপুরি, রাজশাহী, কুয়াকাটা এলাকায় পিকনিক স্পটগুলোতে মাটির তৈরি খেলনা এবং শো-পিস সরবরাহ করে থাকেন।

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 05 Mar 2025 13:34:18 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
