<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/feature</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/feature"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla feature Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest feature News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Tue, 04 Aug 2026 06:04:45 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[কাঁচামরিচ ৪০০, লাগামহীন সবজির দাম]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/trade-and-commerce/18051" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/trade-and-commerce/18051</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নরসিংদীর মনোহরদীর বিভিন্ন (মনোহরদী, চালাকচর, শেখের বাজার, হাতির দিয়া) বাজারে আবারও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অধিকাংশ সবজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ, মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও চড়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ছোট লেবু প্রতি হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চালকুমড়া আকারভেদে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্যের প্রভাব। প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ২০০ টাকা এবং দেশি ডিম প্রতি হালি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, আগের তুলনায় প্রতিদিনের বাজার করতে এখন অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তারা দ্রুত বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কার্যকর বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কামনা করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 04 Aug 2026 06:04:45 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পানিশূন্য গাজীখালী, বাড়ছে দুর্ভোগ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/18031" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/18031</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ভরা বর্ষা মৌসুমে যেখানে নদী থাকার কথা ছিল পানিতে থইথই, সেখানে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্ষার শুরুতেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক গাজীখালী নদী। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টির পানি জমে থাকলেও তা ঢেকে গেছে কচুরিপানা ও সাটুরিয়া বাজারের বর্জ্যের স্তূপে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।
​গাজীখালীর শুকনো বুকে হেঁটে চলতে চলতে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন নদীপাড়ের কৃষক মোঃ আব্দুল। তিনি বলেন, &quot;গাঙ কাটার পর থিকা পানি আহে না। ছোটবেলায় এই নদীতে ট্রলার আর বড় বড় নৌকা চলতে দেখছি। বর্ষায় নদী ভইরা যাইত, অনেক স্রোত থাকত। কত মাছ মারতাম! কয়েক বছর আগে নদী কাটলেও ঠিকমতো কাটা হয় নাই।&quot;

সাটুরিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গাজীখালী নদীর উৎপত্তি মূলত গোপালপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে। এরপর এটি ধামরাই হয়ে বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে। একসময় বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী থেকে বিপুল পরিমাণ পানি গাজীখালীতে প্রবেশ করত। নদীর এই পানির ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় মানুষের কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও জীবন-জীবিকা পরিচালিত হতো।
​স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় আগে এই গাজীখালী নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় বড় নৌকায় করে ব্যবসায়ীরা আসতেন এই বাজারে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমানে গোপালপুর থেকে সাটুরিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং সাটুরিয়া থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীপথের অধিকাংশ স্থানই প্রায় শুকিয়ে গেছে। পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার জট সৃষ্টি হওয়ায় পানি থাকলেও তা বোঝার উপায় নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, সদর, সিঙ্গাইর এবং ঢাকার ধামরাইয়ের সীমান্তবর্তী প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীখালী নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই চার অংশে নদী খননে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

​এর মধ্যে শুধু সাটুরিয়া অংশেই দুই দফায় নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, নদী দুই মিটার গভীর করে খনন এবং তলদেশে ২৬ মিটার ও ওপরের অংশে স্থানভেদে ৫০ থেকে ৬০ মিটার প্রশস্ত করার কথা ছিল। খননকাজে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহারেরও নির্দেশনা ছিল।

​তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও নদীর নাব্যতা ফেরেনি। একসময় সাটুরিয়া বাজারের খাদ্যগুদাম পর্যন্ত গাজীখালী নদীর বিস্তৃতি থাকলেও নদীটি এখন সংকুচিত হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, নদী খননের নামে যথাযথ কাজ না করে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

​সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, &quot;ছোটবেলায় বর্ষার শুরুতেই গাজীখালীতে নতুন পানি আসত। নতুন পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, নদীতে শুশুকও দেখতাম। কয়েক বছর আগে নদী খনন করে শুধু মাটি বিক্রি করেই অনেকে লাভবান হয়েছে, নদীর কোনো লাভ হয় নাই।&quot;


নদীর বিভিন্ন অংশে পানির প্রবাহ না থাকা এবং কচুরিপানার ঘন স্তরের কারণে নদীনির্ভর স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছেন। মাছ ধরতে না পেরে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
​উপজেলার রাধানগর মাঝিপাড়া এলাকার প্রবীণ জেলে জ্যোতিন রাজবংশী আক্ষেপ করে বলেন, &quot;আগে নদীতে যেমন পানি আইত, তেমন মাছও পাইতাম। শত শত জেলে এই নদীতে মাছ ধইরা সংসার চালাইত। এখন নদীতে পানিই নাই, মাছ মারুম কেমনে? বাধ্য হয়া অনেক জেলে এখন অন্য পেশায় চলে গেছে।&quot;


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, &quot;আমি এই কর্মস্থলে যোগদানের আগে গাজীখালী নদীর পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগের কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। তবে বর্তমানে নদীতে পানি না আসার প্রধান কারণ হলো&mdash;ধলেশ্বরী নদীর গোপালপুর এলাকার উৎসমুখটি যমুনা নদীর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। উৎসমুখটি পুনরায় খনন করা গেলে নদীতে আবারও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।&quot;

​সাটুরিয়ার প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই নদীটিকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত উৎসমুখ খননসহ কার্যকর টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আমার বাঙলা/ রাব্বি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 03 Aug 2026 06:55:20 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[গাইবান্ধার কাগজের তৈরী প্লেট ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ সারাদেশে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17847" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17847</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় দেশজুড়ে যখন ওয়ান-টাইম পণ্যের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কাগজ বা পেপার প্লেট তৈরির শিল্প। কম খরচ, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় গাইবান্ধার তৈরি কাগজের প্লেট বা থালা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাইকারি বাজারে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। পরিবেশের কথা চিন্তা না করে আধুনিকতার বেড়াজালে প্লাস্টিকের থালা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষে যেখানে ডাস্টবিন, ড্রেন কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়াই যেন আমাদের অভ্যাস, এমন এক পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার এক তরুণ উদ্যোক্তা দেখাচ্ছেন ভিন্ন পথ।

কারখানাটির উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এমন একটি পণ্য তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন, যা একদিকে হবে পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড পেপার প্লেট।

তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধু সচেতনতায় নয়, কার্যকর বিকল্প তৈরির মধ্যেই নিহিত। সেই বিশ্বাস থেকেই গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ায় গড়ে তুলেছেন পরিবেশবান্ধব পেপার প্লেট তৈরির একটি ক্ষুদ্র কারখানা। গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়ার সরু গলির শেষপ্রান্তে ছোট্ট একটি কারখানা। বড় শিল্পকারখানার কোলাহল নেই, নেই কোন বিশাল যন্ত্রপাতির গর্জন। তবু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট ছোট মেশিনের ছন্দে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য পেপার প্লেট। প্রতিটি প্লেট যেন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশের একেকটি প্রতিশ্রুতি।

মানসম্মত জিএসএম বোর্ড পেপার ও ফুড-গ্রেড ল্যামিনেশন ব্যবহারের কারণে গরম ভাত,তেল-ঝোল কিংবা অন্যান্য খাবার পরিবেশনেও প্লেটের গুণগত মান অটুট থাকে। ব্যবহারের পর সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় বলে পরিবেশের ওপর পড়ে না কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব।

উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। আমরা চাই মানুষ এমন একটি বিকল্প ব্যবহার করুক, যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। আমাদের পেপার প্লেট যেমন মানসম্মত, তেমনি দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, পিকনিক, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং সেবায় এর চাহিদা বাড়ছে। শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ারও খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন নারী কারখানায় কাজ করে নিজের আয় দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করছেন।

একসময় যারা শুধুই গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন তারা উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে।

রেজাউন্নবী রাজুর স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। তখন গাইবান্ধা থেকেই সারা দেশে পেপার প্লেট সরবরাহ করা যাবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান, উপকৃত হবে স্থানীয় অর্থনীতি।

বিশ্বজুড়ে যখন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, তখন গাইবান্ধার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক এটাই প্রত্যাশা। আদর্শপাড়ার ছোট্ট কারখানা থেকে প্রতিদিন বের হওয়া প্রতিটি পেপার প্রেট শুধু খাবার পরিবেশনের উপকরণ নয়; এটি একটি সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন, একজন উদ্যোক্তার সাহসিকতার গল্প এবং বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতীক।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 30 Jul 2026 06:49:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মনোহরদীর পানের বরজে বদলাচ্ছে অর্থনীতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/17742" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/bangladesh/17742</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পান চাষ এখন আর শুধু একটি কৃষিপণ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলার শতাধিক কৃষক পান চাষ ও বিপণনকে কেন্দ্র করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

অনেক কৃষকের কাছে পানের বরজ যেন একটি চলমান ব্যাংক। বছরের যেকোনো সময় বরজ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করলেই হাতে আসে নগদ অর্থ।

বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে পানের গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে, ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এক খিলি পান আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই মনোহরদীতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের পান চাষ হয়ে আসছে।

এ অঞ্চলে গোয়ালেশ্বর, লাল ডিঙি, হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের পানের পাশাপাশি বিশেষ ঔষধিগুণসম্পন্ন মিষ্টি সাঁচি পানেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাঁশের খুঁটি, কাঠি ও খড়ের ছাউনি দিয়ে তৈরি ছায়াঘেরা বরজে নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে পানের লতা।

তুলনামূলক কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন উদ্যোক্তারা এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। কৃষকদের ভাষায়, একটি ভালো পানের বরজ মানেই সারা বছরের আয়ের নিশ্চয়তা। প্রয়োজনের মুহূর্তে বরজ থেকে পান তুলে বাজারে বিক্রি করলেই হাতে চলে আসে নগদ অর্থ, যা তাদের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনোহরদী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় দশ হাজার মেট্রিক টন পান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়নই কমবেশি পান চাষ হলেও লেবুতলা ও খিদিরপুর ইউনিয়নে উৎপাদনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

এই দুই ইউনিয়নে প্রায় ৯০% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাণ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনেকের মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে পানের বরজ গড়ে তুলেছেন। বরজের চারপাশ ঘেরা ও উপরে ছাউনি থাকায় পরিবারের নারীর সদস্যরা ও গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি পানের পরিচর্যায় অংশ নিতে পারেন।

ফলে পারিবারিকভাবেই এই কৃষি কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়। পশ্চিম রামপুর গ্রামের সফল পান চাষী সুমন মিয়া জানান, প্রায় দশ বছর আগে মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে পান চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। প্রথমদিকে লাভ তুলনামূলক কম হলেও গত ৬-৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।

সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বরজের পরিধিও বাড়িয়েছেন।রোগবালায় নিয়ন্ত্রণে তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করেন। একই এলাকার আরেক পান চাষী কাশেম জানান, গত ১৫ বছর ধরে পান চাষ করেছেন। বর্তমানে তার ৪০ শতাংশ জমিতে বরজ রয়েছে।

বছরে প্রায় ২ লাখ টাকা উৎপাদন ব্যয় হলেও বাজারদর অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুনা আক্তার বলেন, জি আই পণ্য হিসেবে পান একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও ঔষধি গুনসম্পন্ন অর্থকরী ফসল। কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ থাকায় কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এক সময় মনহরদী থেকে বিদেশে পান রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হবেন।

কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে চাষীদের পাশে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিদেশে রপ্তানি সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে মনোহরদীর পান দেশের অর্থনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হাজারো কৃষকের জীবন- জীবিকায় আসবে নতুন সমৃদ্ধির সম্ভাবনা ।

আমার বাঙলা/ রাব্বি]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 28 Jul 2026 08:17:05 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[বেড়েছে উৎপাদন কিন্তু সংকটে দেশের চা-শিল্প]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17725" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17725</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ব্রিটিশ আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১৭০ বছর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চা-শিল্প বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরিসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই শিল্প এখন আর্থিক সংকটে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২ লাখ কেজি, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৩০ লাখ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়ছে খরচ। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা। বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ১২ পয়সা। গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। একই সময়ে ২০০২ সালের পর চা রপ্তানি কমেছে ৭৯ শতাংশ।

চা-বাগান মালিকদের দাবি, চা-শিল্পকে কৃষিখাতের পরিবর্তে শিল্পখাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। অনেক বাগান আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন ঋণও পাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের মজুরি এখনও অপর্যাপ্ত।

চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বাড়লেও অধিকাংশ বাগানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো মানের চা উৎপাদন করতে পারলে নিলামে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজড়া বলেন, বর্তমানে চা উৎপাদনের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। উৎপাদন বাড়ছে, তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে ৫৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চা-বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ৬ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ঋণ পুনর্গঠন, ভ্যাট কমানো, চা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

চা-শিল্পের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার &lsquo;টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড&rsquo; গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চা পুন:রোপণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জাতীয় চা ব্র্যান্ড তৈরি, জিআই স্বীকৃতি অর্জন এবং পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পানিসংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা না গেলে চা-শিল্পের সংকট কাটবে না বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে টাস্কফোর্সের ৫৯টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের চা-শিল্প আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।

আমার বাঙলা/ হুমায়রা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 14:30:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কিশোরগঞ্জের আমিনুল হক সাদীর অনুপ্রেরণার সাফল্যগাথা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17683" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/17683</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[কিশোরগঞ্জের একজন সাধারণ বেকার তরুণ থেকে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমিনুল হক সাদী। আত্মকর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে দীর্ঘদিনের নিরলস কাজের মাধ্যমে তিনি আজ কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং হাজারো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণার নাম।

২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় কর্মসংস্থানের সন্ধানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যান। সেখানে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন, সরকার বেকার যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, ডেইরি ফার্ম, কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে তিন মাসব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানের পথই তৈরি করেননি; বরং সেই অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য বেকার যুবকদেরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। আত্মকর্মী হিসেবে সফল হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি যুব নেতৃত্ব ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০১০ সালে কিশোরগঞ্জে যুব জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; নামে একটি সামাজিক ও যুবকল্যাণমূলক সংগঠন। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সমাজকল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ২০২০ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে আমিনুল হক সাদী সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি আত্মকর্মসংস্থানকে বেছে নেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;সাদী সমন্বিত কৃষি খামার&rsquo;। ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ বর্তমানে একটি সফল কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়ে যুব উন্নয়ন পরিষদ সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালেও তিনি ছিলেন মানুষের পাশে। জাতীয় যুব দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবস উদযাপন এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি নিজ এলাকার ছাত্র-যুবকদের সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পুলিশের গুলিতে পা হারানো শিক্ষার্থী জুনায়েদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ সমাজকর্মী ও যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ এবং আহত জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম নাঈমসহ আহতদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে যুব উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ পর্যন্ত শতাধিক গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব কল্যাণ তহবিল থেকে যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে সংগঠনটি ৪০ হাজার টাকার অনুদান লাভ করে। সেই অর্থ দিয়ে সাদী তাঁর কৃষি খামারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করেন। প্রকল্পের আওতায় মাছ চাষের পাশাপাশি পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

আমিনুল হক সাদীর উদ্যোগে ধাপে ধাপে প্রায় তিন হাজার বেকার যুবক ও যুব নারী বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে তিন শতাধিক ব্যক্তি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় অন্তত ১০ জন বেকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন এবং আরও ১০ জন বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দুইজন এবং প্রকল্পভিত্তিক আরও পাঁচজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাজার অসচ্ছল মানুষের বিনামূল্যে করোনা টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি ১০ হাজার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সম্প্রতি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকার নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া গ্রামে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি কয়েক শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার, ১০ জন নারীকে সেলাই মেশিন এবং অসহায় মানুষের মাঝে কয়েক লাখ টাকার নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া ১০ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।

শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। পাঁচ শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওই পাঠাগারে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার বই রয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কৃষি উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন &lsquo;কৃষক পার্টনার ফিল্ড স্কুল&rsquo;। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি শতাধিক সনদ অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিট-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য হিসেবেও যুব উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবনে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্য, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে শতাধিক পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেছেন আমিনুল হক সাদী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেস্ট ও তিন হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড লাভ করেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টিরও বেশি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। যুব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তিনবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রম ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর সফলতা দেখে অনেক বেকার তরুণ আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে আসছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, &ldquo;আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত &lsquo;যুব উন্নয়ন পরিষদ&rsquo; বর্তমান যুবসমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। তাঁর কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অসংখ্য বেকার তরুণের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমি তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।&rdquo;

আমার বাঙলা/ জামান]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 27 Jul 2026 09:20:19 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভার্চুয়াল জগৎ যখন অপরাধের ফাঁদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/16673" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/16673</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন: একসময় কিশোরদের আড্ডা, গল্প আর খেলাধুলা সীমাবদ্ধ ছিল পাড়া-মহল্লা বা স্কুলের মাঠে। যুগের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আড্ডা এখন বন্দি হয়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার চ্যাট, টিকটক লাইভ কিংবা অনলাইন গেমিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোই নতুন প্রজন্মের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তির আশীর্বাদের আড়ালেই ডালপালা মেলছে এক অন্ধকার অধ্যায়। যার নাম কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। অপরাধের নীলনকশা তৈরি থেকে শুরু করে মারাত্মক মোবাইল আসক্তি, সবকিছু মিলিয়ে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে বর্তমান প্রজন্ম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংগুলোর দল গঠন, সদস্য সংগ্রহ, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া এবং অপরাধের পরিকল্পনা করার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

র্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, গত ছয় বছরে দেশে প্রায় ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশই ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা মূলত ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত।

কোথাও কোথাও গ্যাংয়ের প্রভাব জাহির করতে, অস্ত্রের ছবি প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এবং নতুন সদস্য সংগ্রহেও ব্যবহার করা হয়েছে এই সামাজিক মাধ্যমগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকটক বা ফেসবুকে সস্তা ও সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতাই অনেক কিশোরকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধমূলক পথের দিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটেরব সহকারী অধ্যাপক &mdash; ড. মো. তৌহিদুল হক বলেছেন &quot;আমাদের দেশে এখন যার যেমন খুশি সেভাবেই মোবাইল বা ডিভাইস ব্যবহার করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থীও অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পেয়ে যাচ্ছে।&quot;

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে কিশোরদের আচরণে মারাত্মক নেতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তারা ক্রমে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে তাদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এখন নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ঐতিহাসিক আইন পাস করেছে। আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ফ্রান্সও ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য একই ধরনের বিল পাস করেছে। এ ছাড়া স্পেন, ব্রিটেন, নরওয়ে ও চীনসহ বহু দেশে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ বা &lsquo;মাইনর মোড&rsquo; চালু রয়েছে।

ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৯টি দেশে (৪০ শতাংশ শিক্ষা ব্যবস্থায়) স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাসে ফোনের একটিমাত্র নোটিফিকেশনের কারণে মনোযোগ হারালে, শিক্ষার্থীদের পুনরায় পাঠে ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা সবসময় যৌক্তিক বা কার্যকর নয়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনলাইন শিক্ষা, জরুরি যোগাযোগ ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এই বাস্তবতায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর আইনের দেশেও ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার কিডস এবং গুগল ক্লাসরুমকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেছেন, অনেক শিশু মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং বা বই পড়ার মতো গঠনমূলক কাজও করে। তাই জেন-জি পরবর্তী প্রজন্মের বিকাশকে অস্বীকার না করে তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। ঢালাও নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

এই সংকট থেকে বাঁচতে শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 10 Jun 2026 12:07:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[চরের পথে ঘোড়ার জাহাজ,  চরের মানুষের নিরব সংগ্রাম]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/16640" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/16640</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&lrm;ভোরের কুয়াশা তখনও কাটেনি। তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচরের ওপর দিয়ে একটি ঘোড়ার গাড়ি ছুটে চলেছে। গাড়িতে বোঝাই ভুট্টার বস্তা, পাশে বসা কৃষক, চোখে-মুখে ক্লান্তি, তবু এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। এই দৃশ্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়ের চর অঞ্চলের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
&lrm;
&lrm;যেখানে আধুনিক সভ্যতার চাকা থামে, সেখান থেকেই শুরু হয় ঘোড়ার গাড়ির পথচলা।
&lrm;
&lrm;বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদীবেষ্টিত ও দুর্গম চর অঞ্চলগুলোতে বিশেষত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যোগাযোগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য বাহন হলো ঘোড়ার গাড়ি। পাকা সড়ক নেই, বর্ষায় জলমগ্ন পথ, শুকনো মৌসুমে ধুধু বালুচর, এই প্রতিকূল পরিবেশে মোটরযান চলার কোনো উপায় নেই। তাই স্থানীয় মানুষ আদর করে এই বাহনকে বলেন &quot;চরের জাহাজ&quot;।
&lrm;
&lrm;বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি, এই দুটি বাহনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় লক্ষাধিক চরবাসীর জীবন।
&lrm;
&lrm;&lrm;তিস্তার চরে ধান, গম, ভুট্টা, মরিচ, পিয়াজ, তামাক, পাঠ ও সবজির ভালো ফলন হয়। কিন্তু উৎপাদিত ফসল হাটে নিয়ে যাওয়াই এখানকার কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ঘোড়ার গাড়ি না থাকলে সেই ফসল চরেই পড়ে থাকত।
&lrm;
&lrm;স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম বলেন &mdash;
&lrm;&quot;আমাদের চর অঞ্চলের একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা হল ঘোড়ার গাড়ি। এখানে যে ধরনের ফসল ফলে, ভালো রাস্তাঘাট ও যাতায়াত ব্যবস্থা থাকলে আরো ভালো দাম পেতাম। এখন আদামাঙনা দামে দিতে হয়।
&lrm;
&lrm;তরুণ কৃষক আতিকুর রহমান জানান-
&lrm;আমার প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মণ ভুট্টা হবে। কিন্তু যোগাযোগের সংকটের কারণে প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হবে, কিছু করার নাই, সরকার আসবে সরকার যাবে প্রতিনিধিরা ওয়াদা দিবে কিন্তু পড়ে আর আমাদের দিকে কেউ দেখে না।রাস্তা ও যাতায়াত ভালো হলে আরো ভালো দাম পেতাম। এখন বাধ্য হয়ে কম দামে দিতে হচ্ছে।&quot;
&lrm;
&lrm;শুধু ফসল নয় শহরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, এমনকি নির্মাণ সামগ্রীও চরে পৌঁছায় এই ঘোড়ার গাড়িতে করেই। মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ও ঘোড়ার গাড়ি।
&lrm;
&lrm;ঘোড়ার গাড়ি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি অনেক পরিবারের আয়ের উৎসও। তিস্তার চর অঞ্চলে বহু তরুণ ও বেকার যুবক ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। একজন দক্ষ চালক প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা আয় করতে পারেন যা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি সম্মানজনক রোজগার হিসেবেই বিবেচিত।
&lrm;
&lrm;গাড়িগুলো তৈরিতেও রয়েছে স্থানীয় বুদ্ধিমত্তার ছাপ। পুরোনো মোটরগাড়ি চাকা ব্যবহার করে কাঠ ও বাঁশের কাঠামোয় তৈরি হয় এই গাড়ি কম খরচে টেকসই সমাধান।
&lrm;
&lrm;চরের জীবনে বিপদ আসে হঠাৎ। নদী ভাঙন, অসুস্থ রোগী, প্রসূতি মা এই সংকটের মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছানোর একমাত্র ভরসাও এই ঘোড়ার গাড়ি। কোনো অ্যাম্বুলেন্স আসে না এই বালুচরে। তাই জরুরি মুহূর্তে ঘোড়ার গাড়িই হয়ে ওঠে চরবাসীর &rdquo;অ্যাম্বুলেন্স&quot;।
&lrm;
&lrm;চরাঞ্চলে কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ক্লিনিক নেই বললেই চলে। সামান্য জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে গুরুতর দুর্ঘটনা, সব ক্ষেত্রেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয় মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে। সেই দীর্ঘ পথের একমাত্র সঙ্গী এই ঘোড়ার গাড়ি।
&lrm;
&lrm;স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন &mdash;
&lrm;&quot;গত বছর আমার ছেলের হঠাৎ জ্বর-খিঁচুনি উঠল রাত তিনটায়। কোনো গাড়ি নাই, রাস্তা নাই পাড়ার লোকজন ঘোড়ার গাড়িতে করেই হাসপাতালে নিয়ে গেল। ওই গাড়ি না থাকলে কী যে হতো ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।&quot;
&lrm;
&lrm;প্রসূতি মায়েদের অবস্থা আরও করুণ। প্রতি বছর বহু মা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন। দক্ষ ধাত্রী বা চিকিৎসক না থাকায় মা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি এই অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ঘোড়ার গাড়ি সেই ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমায় তবে একটি পাকা রাস্তা ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দাবি এখানকার মানুষের বুকে বহু বছরের পুরোনো।
&lrm;
&lrm;চরের শিশুদের কাছে স্কুলে যাওয়া মানেই একটি দীর্ঘ সংগ্রাম। বালুচর, মাঠ আর খাল পেরিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে বিদ্যালয়ে যাওয়া এখানকার ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিনের রুটিন। বর্ষায় পথ ডুবে গেলে স্কুলই বন্ধ। অনেক পরিবার এই কষ্টের কথা ভেবে মেয়েশিশুদের স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত থাকেন ফলে ঝরে পড়ার হার এখানে উদ্বেগজনক।
&lrm;
&lrm;এই পরিস্থিতিতে ঘোড়ার গাড়ি কোনো কোনো পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে &quot;স্কুলবাস&quot;। সকালে একই গাড়িতে চড়ে কয়েকজন শিশু একসাথে বিদ্যালয়ে যায়, বিকেলে ফেরে। যে পরিবারগুলো সামান্য ভাড়া দিতে পারেন, তাদের সন্তানরা এই সুবিধা পান।
&lrm;
&lrm;স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন &mdash;
&lrm;&quot;আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনেক শিশু বছরের মাঝপথে আসা বন্ধ করে দেয়। কারণ দূরত্ব, আর বর্ষায় পথ বন্ধ হয়ে যায়। ঘোড়ার গাড়ি চলে এমন দিনগুলোতে উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে।&quot;
&lrm;
&lrm;চরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই বললেই চলে। অষ্টম শ্রেণির পর উপজেলা শহরে গিয়ে পড়তে হয়। সেই খরচ ও দূরত্ব বহন করার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই, তাই বহু মেধাবী শিশুর পড়াশোনা প্রাথমিকেই থেমে যায়। শিক্ষকরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার অনেকটাই কমে আসত।
&lrm;
&lrm;স্থানীয়রা বলছেন, সরকার যদি চরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, তাহলে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, শিশুরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাবে তেমনি এই অঞ্চলের সামগ্রিক জীবনমানও উন্নত হবে।
&lrm;
&lrm;উন্নয়নের ঢেউ যখন শহরে-বন্দরে আছড়ে পড়ছে, তিস্তার বুকের এই চরগুলো তখনও অপেক্ষায়। ঘোড়ার গাড়ির খুরের শব্দ সেই অপেক্ষার নিরব ভাষা। এই মানুষগুলোর সংগ্রাম, তাদের স্বপ্ন সবকিছুই বাঁধা পড়ে আছে বালুচরের বুকে ছুটে চলা সেই পুরোনো গাড়ির সাথে।
&lrm;
&lrm;চরের মানুষ চায় উন্নয়নের ছোঁয়া, একটু ভালো রাস্তা, একটু ভালো চিকিৎসা, একটু ভালো শিক্ষা, একটু ভালো জীবন। কবে লাঘব হবে অঞ্চলের মানুষের কষ্ট আর দুংখের গ্লানি, এখন এটায় প্রশ্ন, নাকি চর অঞ্চলের মানুষেরা মানুষ নয়, নাকি তারা এদেশের মানুষ নয়, যদি সবাই মানুষ হয় তা হলে তাদের জীবন মানের উন্নয়ন কোথায়?
&lrm;আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 01 Jun 2026 10:16:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মৌলভীবাজারে রোমিওর কপালে রোমান্টিক’ ধোলাই]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15509" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15509</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মানেই ফুল, চকলেট আর রোমান্টিক ডিনার। কিন্তু মৌলভীবাজারে আজকের চিত্রনাট্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেমের সন্ধ্যানে বের হয়ে এক যুবক যা পেলেন, তা হয়তো তার ১৪ পুরুষের কেউ কখনো কল্পনাও করেননি। ফুলের বদলে তার কপালে জুটল হিল জুতা পিঠা আর বোনাস হিসেবে &lsquo;গণ-কিল&rsquo;।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে শহরের পরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়াক ওয়েতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,দুই তরুণী বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওয়াক ওয়েতে হাঁটছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে আবির্ভাব ঘটে এক &lsquo;স্বঘোষিত রোমিওর&rsquo;।

সূত্রের খবর, ওই যুবক আজকের দিনে &lsquo;সিঙ্গেল&rsquo; থাকার বেদনা সইতে না পেরে একজন সঙ্গীর খোঁজে শিকারে নেমেছিলেন। দুই তরুণীকে দেখে তিনি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। সিনেমার কায়দায় &lsquo;রোমান্টিক ওয়েতে&rsquo; উত্ত্যক্ত বা ইভটিজিং শুরু করেন তিনি। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো একটি মন গলে যাবে।

কিন্তু হায়! মন তো গললই না, বরং তরুণীদের পায়ের জুতা খুলে গেল। মুহূর্তের মধ্যে রোমান্টিক দৃশ্যটি অ্যাকশন মুভিতে রূপ নেয়। দুই তরুণী মিলে ওই যুবককে &lsquo;জুতা-পেটা&rsquo; শুরু করেন।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বাঙালির চিরায়ত স্বভাব অনুযায়ী, ঝটলা দেখে সেখানে আভির্ভাব ঘটে স্থানীয় কিছু &lsquo;হিরো&rsquo; বা উৎসুক জনতার। ঘটনা বোঝা মাত্রই তারাও যোগ দেন এই মহৎ কর্মে। শুরু হয় &lsquo;গণজোয়ারে বেদরক কেলানি&rsquo;। কেউ কিল, কেউ চড়, আবার কেউ শুধুই হাত সাফাই করার জন্য ভিড় ঠেলে দুই-একটা বসিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, &quot;ভাইটি এসেছিলেন গার্লফ্রেন্ড খুঁজতে, কিন্তু এখন তাকে খুঁজতে হবে ভালো কোনো হাড় ভাঙা ডাক্তার। পাবলিকের মাইর আর জুতার বাড়ি খেয়ে তিনি ভালোবাসা দিবসের আসল মর্ম বুঝে গেছেন।&quot;

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ওই রোমিও যুবক ভিড়ের ফাঁকে কোনোমতে নিজের প্রাণ (এবং অবশিষ্ট মান-সম্মান) নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 15 Feb 2026 12:35:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোনো অবস্থায় ভোটের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত: মাহবুব জুবায়ের]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/15378" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/15378</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাহবুব জুবায়ের বলেন, &lsquo;বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, আঘাত করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে গতকাল রাতে ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে। আমরা ইসিকে বিষগুলো জানিয়েছে, বলেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। এর আগেও একটা ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ওই আসনে লিফলেটে কে বা কারা ছেড়েছে, বিকাশে টাকা দেয়া হবে, আপাতত অ্যাডভান্স তো দিলাম। এগুলা কাউকে বলবেন না বলে আবার লিফলেট ছাপানো হয়।&rsquo;]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 11 Feb 2026 15:02:07 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ, যেন আরেক ঈদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15349" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15349</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। অনেকের কাছে এই &lsquo;ভোটের ছুটি&rsquo; যেন আরেকটি ঈদের আনন্দ বয়ে এনেছে। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।

নির্বাচন উপলক্ষে সরকারিভাবে ছুটি দেওয়া হলেও, ভোট প্রদান বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক নয়। তবুও নাগরিক দায়িত্ববোধ ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার জায়গা থেকে বহু মানুষ নিজ উদ্যোগে, নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ভোট দেওয়ার জন্য। সময় ও খরচের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়েই তারা অংশ নিতে চান এই জাতীয় উৎসবে।

এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চতুর্থবারের মতো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের সাধারণ নির্বাচন। একই দিনে একাধিক ভোটগ্রহণের কারণে মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিশেষ করে জুলাই মাসের আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু হওয়ার পথ সুগম হবে। সেই প্রত্যাশা ও আশার জায়গা থেকেই ভোটকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

সব মিলিয়ে, ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফেরা শুধু একটি ভ্রমণ নয় এটি এখন গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ, পরিবারে ফেরা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের এক সম্মিলিত অনুভূতি।

আমারবাঙলা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 10 Feb 2026 13:04:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফাগুন উৎসব: বসন্তের রঙে বাঙালির প্রাণের জাগরণ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15170" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15170</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আসছে বাংলা বর্ষপঞ্জির এক অনন্য মাস ফাল্গুন। শীতের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে, তখনই আসে বসন্ত ও তার সঙ্গে ফাগুন উৎসব। প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের এই মিলন থেকেই জন্ম নেয় বাঙালির প্রাণের উৎসব-ফাগুন।

ফাগুন উৎসবের সূচনা প্রাচীন বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থা ও ঋতুচক্রের ধারাবাহিকতা থেকে। শীত শেষে গাছে গাছে নতুন পাতা, শিমুল-পলাশের রঙিন উপস্থিতি এবং বাতাসে মধুময় আমেজ মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার করে। সেই আনন্দ প্রকাশের মধ্য দিয়েই বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার রীতি গড়ে ওঠে, যা কালক্রমে ফাগুন উৎসব হিসেবে পরিচিতি পায়।

বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বসন্তের গুরুত্ব অপরিসীম। বসন্ত এসেছে প্রেম, সৃজনশীলতা ও নবজাগরণের প্রতীক হয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তকে মানবজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন গভীর আবেগে।

কবির ভাষায়-&ldquo;ওরে ভিখারি সাজায়ে দে তোর বসন্তের মালা।&rdquo;

বাঙালির কাছে ফাগুন উৎসব এত প্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো-এই উৎসব ভালোবাসার বার্তা বহন করে। ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকেই বসন্তবরণ, আর এই মাসজুড়েই ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের আবহ বিরাজ করে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের এই সাযুজ্য বাঙালিকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

আজও ফাগুন মানেই হলুদ-কমলা রঙের শাড়ি, ফুলের মালা, বসন্তের গান ও কবিতার আসর। গ্রামবাংলা থেকে শহরের শিক্ষাঙ্গন&mdash;সর্বত্রই বসন্ত উৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে।

ফাগুন এলো হেথায়, পাতায় পাতায় প্রাণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাগুন উৎসবের আয়োজন বদলালেও এর মূল চেতনা অটুট রয়েছে। ফাগুন আজও বাঙালির কাছে কেবল একটি ঋতু নয়, বরং জীবন ও অনুভূতির উদযাপন।

ফাগুন তাই শুধু প্রকৃতির নয়;-

এটি বাঙালির সংস্কৃতি,
বাঙালির কবিতা
এবং বাঙালির প্রাণের উৎসব।

আমারবাঙলা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 01 Feb 2026 10:30:57 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাওর ও নদীর মাছ বাজারে আনতেই উধাও]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13997" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13997</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[শীতের সকাল। লালচে আলোয় চারপাশ তখনো রঙিন। সারারাত হাওর&ndash;নদীতে মাছ ধরে ভোরের আলো ফুটতেই মাছের খলুই কাঁধে নিয়ে হাটের দিকে ছুটছেন মৎস্যজীবীরা। হাট শুরু হতেই চোখের পলকে ফুরিয়ে যায় হাওর&ndash;নদীর টাটকা মাছ।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছ নিয়ে শীতের সকালে বসে দুই ঘণ্টার একটি হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ওয়াপদা&ndash;কাশিমপুর হাটের বয়স প্রায় অর্ধশতকের। তবে প্রতিদিন সকালে মাছের এই হাট বসছে প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে।

প্রতিদিন সকালে লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এখানে। মূলত কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর দেশি মাছই এই বাজারে আসে। টাটকা হাওর&ndash;নদীর মাছের চাহিদা থাকায় ভোরবেলা মৌলভীবাজার শহরসহ দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন।

সকাল ছয়টার দিকে হাট এলেই দেখা যায়, বাজার ইতোমধ্যে জমে গেছে। কেউ হাতে মাছভরা খলুই, কেউ আবার কাঁধে ডালা নিয়ে দ্রুত হাটের দিকে দৌড়চ্ছেন। আগে এলে আগে বিক্রির সুযোগ&mdash;এই তাড়াই তাঁদের চলার প্রেরণা।

হাটে ঢুকেই বিক্রেতারা দুই আড়তের যেকোনো একটিতে মাছ জমা দেন। এরপর শুরু হয় নিলাম। ক্রেতারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ডাক ওঠার অপেক্ষায় থাকেন। সর্বোচ্চ দাম বললেই মাছটি ক্রেতার হাতে চলে যায়। বিক্রেতারা টাকা গুনে বাড়ির পথে রওনা দেন।

হাটে শুধু নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ কিনতে আসা মানুষই নন, বড় অংশই খুচরা বিক্রেতা। তাঁরা এখান থেকে মাছ কিনে মৌলভীবাজার শহর, বিভিন্ন গ্রামীণ বাজার কিংবা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। মাছের মধ্যে পাওয়া যায় কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা, কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চিংড়ি, চাঁদা ও নানা ধরনের দেশি মাছ।

মাছের পাশাপাশি হাটে হাঁস&ndash;মুরগি, সবজি, পান&ndash;সিগারেটের দোকানও বসে। চায়ের দোকানে কাপে কাপে ধোঁয়া উঠছে, প্লেটে ভরে পরিবেশন করা হচ্ছে পরোটা ও আখনি&mdash;হাটজুড়ে মেলা-মেলার পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, &ldquo;এই বাজারে সব হাওরের মাছ। কাউয়াদীঘি বা কুশিয়ারার মাছ ছাড়া অন্য কোথাও থেকে মাছ আসে না। এখানে একটাও চাষের মাছ নাই।&rdquo;

সকালে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া হাট আটটার মধ্যেই গুটিয়ে যায়। তবে শুক্রবারে ভিড় হয় বেশি। আশির দশকে মনু নদ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পরই হাওরকে কেন্দ্র করে এই হাটের বিকাশ ঘটে। আগে মৎস্যজীবীরা দূরের হাটে মাছ বেচতে যেতেন, এখন প্রতিদিন সকালে এখানেই বিক্রি করে ফেলতে পারেন।

হাটের আড়তদার আকলু মিয়া বলেন, &ldquo;হাটের দুই আড়তে প্রতিদিন লাখ টাকার মতো মাছ বিক্রি হয়। তবে সব মাছ আড়তে আসে না&mdash;অনেকেই আড়তের বাইরে সরাসরি বিক্রি করেন।&rdquo;

হাওর&ndash;নদীর তাজা মাছের এই সকালের হাট শুধু বাণিজ্যই নয়, মানুষের জীবনযাত্রা আর শীতের সকালের এক অনন্য রঙিন অনুষঙ্গ।

● আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 02 Dec 2025 09:23:22 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী: অনন্য তুমি মওলানা ভাসানী]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13675" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13675</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া : উপমহাদেশ তথা বাংলার কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন গ্রাম-গঞ্জের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের নয়নমনি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সারা জীবনই যার সংগ্রাম ছিল মেহনতির মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে। মওলানা ভাসানী তার সুদীর্ঘ জীবনে জনসাধারণের সাথে এত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন যে, শুধু বাংলাদেশেই নয়; সারা ভারতেও তার কোনো তুলনা নেই। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত &lsquo;রাজনৈতিক গুরু&rsquo;। রাজনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির সর্বক্ষেত্রেই তিনি মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে তা মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োগ করেছেন। তাই দেখা যাচ্ছে, তার ভক্ত-মুরিদের মধ্যে মওলানা, রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-শিক্ষক যেমন ছিলেন, লোকসঙ্গীতশিল্পী, লাঠি খেলোয়াড় এবং যাত্রাপালাগানের শিল্পীরাও ছিলেন।

১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৮০ সালে তৎকালীন পাবনার সিরাজগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেয়া মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পিতা হাজি শরাফত আলী খান ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

অনকে নেতাদের নেতা মওলানা ভাসানী তথাকথিত প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, তিনি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। আধ্যাত্বিক শিক্ষায় তার অন্তর ছির পরিপূর্ণ। ভারতের ইসলামী শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র দেওবন্দ মাদরাসার ছাত্র হয়েও তিনি ছিলেন মুক্তিকামী মানুষের নেতা। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদবিরোধী প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির ধারণ করে নেতৃত্ব দিযৈছৈন। সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে মওলানা ভাসানী সর্বভারতীয় রাজনীতি, জাতীয় কংগ্রেস দল, খিলাফত আন্দোলন এবং মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনেরও নেতাতে পরিনত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শেষ করেননি তিনি, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক শ্রেনীর হাত থেকে গণমানুষের মুক্তির রক্ষে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আওয়ামী মুসলীম লীগ যার পরবর্তী রুপ হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা্র মাত্র এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যেই তিনি পাকিস্তানের একটি বিশেষ গোষ্টি ও শ্রেনীর রাজনীতি এবং শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং তার কিছুদিন পরই পূর্ব বাংলার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের বীজ বপিত করেছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ব্যর্থ শাসকগোষ্টি মুলিম লীগের পরাজয় ঘটিয়েছিলেন। আবার সেই যুক্তফ্রন্টের সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করেছিলেন আঞ্চলিক সায়ত্বশাসন ও পূর্ব বাংলার জনগনের অধিকারের প্রশ্নে। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে গঠন করেছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টি-ন্যাপ।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হলেও পাকিস্তান সরকার তাদের দেখতে না আসলে তার প্রতিবাদ জানান। স্বাধীনতা ছাড়া বাংলার মানুষের মুক্তি নাই। ভোটের বাক্সে লাথি মার পূর্ব বাংলা স্বাধীন কর। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন মওলানা ভাসানী। পাকিস্তানের অপশাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তিনি বেছে নিয়েছিলেন স্বাধীনতার পথ।

৭০&#39;র ঘূর্ণিদূর্গত বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চল ঘুরে এসে ভাসানী পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। তাঁর বর্ণনা শুনে সভায় উপস্থিত সাহসী কবি ও সাংবাদিক সাংবাদিক শামসুর রাহমান লিখেছিলেন &lsquo;সফেদ পাঞ্জাবী&rsquo; কবিতা। মওলানা ভাসানী নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। কিন্তু কেন বর্জন করলেন তা কখনো কেউ বলতে চায় না। তবে বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য &lsquo;ভোটের আগে ভাত চাই, নইলে এবার রক্ষা নেই&rsquo; স্লোগানের কথা বলেন অনেকেই। সত্যতো বলেনই না বরং এক শ্রেনীর দালাল ও সুবিধাবাদী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা অনেক সময় মওলানা ভাসানীকে &lsquo;জনগণবিরোধী&rsquo; প্রমাণের জন্যই চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু, সত্যটা হলো, সামরিক শাসনের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর স্বার্থে মওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন &lsquo;শেখ মুজিবুর রহমান&rsquo; নির্বাচনে পূর্ণ বিজয় লাভ করুক। অথচ এই সত্যটা বিরুদ্ধ প্রচারকারীরা স্বাভাবিক কারণেই চেপে যায়।

এ কথা দিবালোকের মত সত্য যে, মওলানা ভাসানীই পূর্ববঙ্গে মুসলিম লীগ রাজনীতির বিপরীতে প্রথম বিরোধিতা করে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন যার নাম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এই কৃতিত্বময় নেতৃত্ব মওলানা ভাসানীর, এটা ইতিহাসের নির্মোহ সত্য, ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়। অতচ কেউ কেউ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে এই কৃতিত্ব দেবার চেষ্টা করেন। যারা এই চেষ্টা করেন তারা ভুলে যান ইতিহাস ও সময় সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী মুসলিম লীগ যখন গঠন হয় তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন করাচীতে &lsquo;নেহরু হাউস&rsquo;-এ বসবাস করছিলেন এবং তিনি গঠন করেছিলেন &lsquo;জিন্না মুসলিম লীগ&rsquo;। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, সেখানেই &lsquo;আওয়ামী মুসলিম লীগ&rsquo; গঠিত হয় এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।

এখানে ইতিহাস বলে, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম কমিটির তালিকা যখন করা হচ্ছিল তখন মওলানা ভাসানীর আদরের &lsquo;মুজিবুর&rsquo; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টাঙ্গাইলের শামসুল হকের নাম লেখার পর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখেন। সে যাই হোক ১৯৭০ এর নির্বাচন মওলানা ভাসানী বর্জন করলেন যর ফলশ্রুতিতে সে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো। কিন্তু, পাকিস্তানী শাসকগোষ্টি সংখ্যাগরিষ্ট দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করলো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী তাঁর প্রিয় উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুর গণ-আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন।

২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকল জায়গায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল। মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন মওলানা ভাসানী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবং বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তখন মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটির সভাপতি। নেতৃত্বের প্রশ্নে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী কখনো বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষের ভূমিকা গ্রহন করেন নাই। এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধুর জীবনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকশিত হয়েছিল মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্নেহের ছায়ায়। তার সুদীর্ঘ জীবনকালের সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ভূমিকা জীবন সায়াহ্নের কিছু ভূমিকা কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদকে চিনিয়েছেন মওলানা ভাসানী। সাম্প্রদায়িকতার আপসহীন ভূমিকা পালন করেন মওলানা ভাসানী, সমাজতন্ত্রকে এদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করেছিলেন মওলানা ভাসানী।

মওলানা তার রাজনীতির জীবন শুরু করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন দিয়ে। ব্রিটিশদের কারাগারে দশ মাস কাটিয়েছেন রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই। কংগ্রেসে বেশ কিছুকাল যুক্ত থাকলেও এক সময়ে কংগ্রেসই তাকে ছেড়ে যায়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তৎকালীন ভারতবর্ষের প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্ব ছিল জমিদার শ্রেণীর হাতে। জমিদারদের বড় অংশ সম্প্রদায়গতভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ কৃষকরা তাদের হাতে নির্যাতিত হতেন। ভাসানী এই সাধারণ কৃষকের পক্ষে একের পর এক কর্মসূচি দেওয়ার কারণে কংগ্রেসের সঙ্গে তার স্থায়ী ছাড়াছাড়ি ঘটল ১৯৩৭ সালে। বহু জমিদার তাদের এলাকায় ভাসানীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালানা। এরপর যোগ দেন মুসলিম লীগে।

সাধারণ কৃষকের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে যেমন কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন, তেমনি আমলা-সামরিকতন্ত্র-জোতদারতন্ত্র আর বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানীদের জাতিগত শোষণের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি অনায়াসে মুসলিম লীগ ত্যাগ করেছিলেন আওয়ামী লীগ গড়ে তুলতে। এই আওয়ামী লীগকে যখন কৃষকের স্বার্থরক্ষায় অগ্রণী মনে হয়নি, এবং সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে দলটিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে যখন তৎপর দেখা গেল, নিজের হাতে গড়া আওয়ামী লীগও ত্যাগ করে তিনি গড়লেন নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ।

&lsquo;মজলুম জননেতা&rsquo; হিসেবে পরিচিত মওলানা ভাসানীকে প্রথাগত ক্ষমতার রাজনীতি কোনো দিনই আকর্ষন করে নাই। তিনি গ্রাম-গঞ্জের কৃষককুল কিংবা শহর-নগরের ব্যাপক শ্রমিক শ্রেণি ও অন্যান্য মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এ দেশের প্রেক্ষাপটে অনেক পথের সন্ধান করেছেন। &lsquo;কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের রাজ&rsquo; প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। বস্তুবাদী রাজনৈতিক জগতে আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন। সে কারণে জীবনের শেষ দিকে ইসলামী সমাজতন্ত্রের রূপরেখা প্রণয়নে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। আফ্রো-এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কোটি কোটি মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সোচ্চার ছিলেন মওলানা ভাসানী। সে কারণে জনগন তাঁকে আফ্রো-এশিয়া, লাতিন আমেরিকার শোষিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের নেতা বলেই মনে করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন মওলানা ভাসানীর রাজনীতি ছিল তাঁর সমকালীন যুগের তুলনায় খুব বেশী অগ্রসর। পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববাংলার গণমানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন তিনি। আর সেই কারণেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন রাজপথে গণ-অসন্তোষ প্রকাশ এবং সর্বোপরি গণ-অভ্যুত্থানের পথ। ৫২&#39;র ভাষা আন্দোলন থেকে ৫৪&#39;র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিংবা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে &lsquo;আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা&rsquo; এবং পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ৬৯&#39;র গণ-অভ্যুত্থানে মওলানা ভাসানীর অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছিল বিশ্ববাসী। আর সে কারণে ১৯৬৯&#39;র গণ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাদের কভারে (প্রচ্ছদে) মওলানা ভাসানীকে তুলে ধরেছিল &lsquo;প্রফেট অব ভায়োলেন্স&rsquo; (প্রচণ্ড বিক্ষোভ কিংবা সহিংসতার নবী) হিসেবে। আর ২০০৪ সালে অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর বহু পরে তাঁকে সর্বকালের অষ্টম শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিবিসি।

উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মওলানা ভাসানীকে চিত্রিত করেছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ হিসেবে। আবার কোন কোন বিশ্লেষকগন তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন একজন ক্ষণজন্মা রাজনীতিক হিসেবে। ব্রিটিশ শাসনামলে আসামে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন ও উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী হয়ে উঠেন আন্দোলনের প্রতীক। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি ফ্যাসিবাদী সরকারের বন্দিশালায় কাটিয়েছেন। কিন্তু কখনোই গণমাণুষের এই &lsquo;মজলুম জননেতা&rsquo; মেহনতি ও ভুখানাঙা মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কারো সঙ্গে আপস করেননি।

এ বাংলার স্বাধীনতা ছিল মওলানা ভাসানীর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। তাই মওলানা ভাসানীর বুকে একটি স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন সংগ্রামী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যখনই জনতার এই দুই অবিসংবাদিত নেতা মিলিত হয়েছেন, তখনই দেখা গেছে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর পিতৃতুল্য এই বর্ষীয়ান নেতাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর বুকে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাথা রেখেছেন। যা ছিল এক বিরল দৃশ্য। মওলানা ভাসানী প্রায়ই এবং জীবনে শেষ প্রান্তে কখনো কখনো প্রকাশ্য সভায় নির্দ্বিধায় বলতেন, পাকিস্তান ও পরবর্তী সময়ে তাঁর আধাডজন সেক্রেটারির মধ্যে (দলের সাধারণ সম্পাদক) শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য ও কর্মক্ষম, মাঠপর্যায়ে জনগণের সাথে যার সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এ প্রবীণ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং তাঁর দেখাশোনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য একটা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সকল সময়ই মওলানা ভাসানীকে একান্তভাবেই তাদের নিজস্ব সম্পদ হিসাবে কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করতেন। নানা সুবিধাবাদি গোষ্টি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে অনেকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে তাঁর জীবনসায়াহ্নে এমনকি তার মৃত্যুর পরও। যার ফলশ্রুততে এ মহান নেতার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি কখনো। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী মত একজন জাতীয় নেতার জন্ম কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না জাতীয়ভাবে। যা অত্যান্ত দু:খজনক ও লজ্জাজনক।

মওলানা আজকে কতখানি প্রাসঙ্গিক? নূরুল কবীরের লেখা &#39;রেড মাওলানা&#39; কিংবা সৈয়দ আবুল মকসুদ তার &#39;ভাসানীর জীবনী&#39;তে তাকে অমর করে রেখেছেন, এছাড়া আছে সৈয়দ ইরফানুল বারীর অনেকগুলো গ্রন্থ। তার পরও বলা যায়, মওলানার জীবনের বহুক্ষেত্র আজও অনালোচিত, অনালোকিত। মওলানার বিবৃতি ও বক্তৃতার সংকলনে কিংবা তার চীন ভ্রমণের স্মৃতিচারণে রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে তার যে গভীর দার্শনিক বোধের সাক্ষাত মেলে, তা নিয়ে যথেষ্ট চর্চা আমাদের দেশে নেই, কিংবা বলা যায় উলটো ম্রিয়মান হয়েছে। কৃষকের মুক্তির যে কর্মসূচি মওলানা দিয়েছিলেন, তা এখনকার অর্থনীতির চিন্তায় খুবই অনুপস্থিত, অথচ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আজও কৃষক। জাতীয় মুক্তির রাজনীতি তিনি করেছেন, কিন্তু কখনোই উগ্রজাতীয়বাদের খপ্পড়ে পরেননি। বরং আন্তর্জাতিকতা আর বিশ্বমানবতার বোধই তার মাঝে প্রবল। ভাসানীর এই রাজনীতিই তাকে সমকালীন আফ্রো-এশীয়-লাতিন আমেরিকান রাজনীতিতে অন্যতম ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। এদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক সংগ্রামেও মওলানা ভাসানী প্রেরণা হিসেবে থেকেছেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের একজন অনন্য রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, সাধীনতা সংগ্রামী। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার জীবন চলাকালে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলার নিপীড়িত, বঞ্চিত এবং শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মওলানা ভাসানী বেচে থাকবেন অনাদিকালজুড়ে। এই দেশ ও এই জাতি যত দিন টিকে থাকবে, মওলানা ভাসানীকে কেউ অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবে না। তাঁর সংগ্রামী আদর্শের কোন মৃত্যু নাই। ইতিহাসই তাঁর সঠিক মূল্যায়ন করবে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। মাওলানা ভাসানী চিরকাল সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে থাকবেন। বিপ্লবী রাজনীতির সাথে গণমানুষের দূরত্ব ঘুচিয়ে, একইসাথে প্রবলভাবে দেশীয় চরিত্রের কিন্তু আন্তর্জাতিকতা বোধের সংগ্রামের দিশা তিনি দিয়ে গিয়েছেন। প্রয়াণ দিবসে লাল মাওলানার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন। ভাসানী স্মৃতি অমর হোক। যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী।
লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক , E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 13 Nov 2025 11:45:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ষষ্ঠ বর্ষে দৈনিক আমার বাঙলা — সত্যের পথে এক নিরলস যাত্রা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13636" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13636</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&ldquo;সত্যের পথে ছয় বছরের নিরন্তর যাত্রা।
জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে &lsquo;দৈনিক আমার বাঙলা&rsquo; আজ ষষ্ঠ বর্ষে।
শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, প্রিয় দৈনিক আমার বাঙলা।&rdquo;

সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূল্য কখনো কমে না। সেই বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ থেকেই দৈনিক আমার বাঙলা আজ পদার্পণ করছে তার গৌরবময় ষষ্ঠ বর্ষে। ছয় বছরের এই পথচলা শুধু সময়ের পরিক্রমা নয়&mdash;এটি এক নিষ্ঠা, এক নীতির অবিচল অনুসরণ, আর মানুষের পাশে থেকে সত্য তুলে ধরার নিরন্তর প্রয়াসের গল্প।

প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই দৈনিক আমার বাঙলা সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পাঠককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। পত্রিকাটি বিশ্বাস করে&mdash;সংবাদ কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আর সেই শক্তিকেই ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সম্পাদকীয় ও রিপোর্টিং টিম।

সম্পাদক এম. এম. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সম্পাদকীয় বোর্ড পত্রিকাটিকে নিয়ে এসেছে একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক সংবাদমাধ্যমের পর্যায়ে।

দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পরিবেশ&mdash;সব ক্ষেত্রেই পত্রিকাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে নির্ভরযোগ্য ও যাচাই-বাছাইকৃত সংবাদ।

এই ছয় বছরে দৈনিক আমার বাঙলা যেমন পাঠকের ভালোবাসা অর্জন করেছে, তেমনি তরুণ সাংবাদিকদের জন্য হয়ে উঠেছে শেখার এক অনুপ্রেরণার প্ল্যাটফর্ম। সংবাদপেশার নৈতিকতা, তথ্যের যথার্থতা এবং মানবিক সংবেদনশীলতা&mdash;এই তিন মূল্যবোধের মেলবন্ধনই পত্রিকাটির মূল শক্তি।

দেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার নতুন যুগে দৈনিক আমার বাঙলা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সংবাদ পরিবেশনের পথে। অনলাইন সংস্করণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পত্রিকাটি সক্রিয়ভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ।
তথ্যপ্রবাহের এ দ্রুত যুগে যখন ভুয়া খবর ও গুজবের প্রভাব বেড়ে চলছে, তখন &lsquo;আমার বাঙলা&rsquo; সত্য যাচাই ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে।

পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি সবসময়ই স্পষ্ট &ldquo;সত্যের পথে অবিচল থাকা।&rdquo; এই নীতির প্রতিফলন দেখা যায় প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি বিশ্লেষণে এবং প্রতিটি কলামে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতি বিশ্লেষণসহ সব জায়গায় &lsquo;দৈনিক আমার বাঙলা&rsquo; দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করছে।

ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণের এই মুহূর্তে পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সংবাদকর্মী, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। তাদের সহযোগিতা ও বিশ্বাসই এই যাত্রাকে করেছে অনুপ্রেরণাময়।

আগামী দিনে দৈনিক আমার বাঙলা আরও আধুনিক, পাঠকবান্ধব এবং তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমানুষের পাশে থাকবে&mdash;এই অঙ্গীকারেই আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই।

সত্যের পথে এই নিরলস যাত্রা অব্যাহত থাকুক, এই কামনাই রইল।

&mdash; ফয়সাল হাবিব
সাব-এডিটর, দৈনিক আমার বাঙলা

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Nov 2025 08:56:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের অভিজ্ঞতা আমলে নিতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13215" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13215</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ কেবল একটি প্রজাতি নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পান্তা-ইলিশ এখন যেমন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও ইলিশের অবদান বিশাল। বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে, এবং লাখো মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই মাছের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই রূপালি ইলিশ এখন নানা ঝুঁকির মুখে। অতিরিক্ত আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর দূষণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কারণে ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার প্রতিবছর মা ইলিশ রক্ষার জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ সবকিছুই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্দেশ্য একটাই&mdash;মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া, যাতে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন বাড়ে।

তবে বাস্তবতার চিত্রটি এর চেয়ে অনেক জটিল। উপকূলীয় এলাকার অভিজ্ঞ জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণে তাদের মতামত বা বাস্তব অভিজ্ঞতা কোনোভাবে আমলে নেওয়া হয় না। ফলে প্রজননকাল সঠিকভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায়। তাদের দাবি, এখন যে সময় সরকার নিষেধ ঘোষণা করেছে, তখন ইলিশের পেটে পুরোপুরি ডিম তৈরি হয় না। বরং নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরই ডিম পরিপক্ক হয়ে যায় এবং তখনই নদীতে নামলে মা ইলিশ ধরা পড়ে জালে। এতে করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও মা ইলিশ বাঁচে না, বরং আরও ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে, মৎস্য গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয় বহু বছরের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তাদের মতে, ইলিশের পেটে ডিম তৈরি হওয়ার পর তা পরিপক্ক হতে প্রায় ১৮ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। আর এই সময়েই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলে সর্বাধিক সুফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, সরকার ও গবেষকদের দৃষ্টিতে সময় নির্ধারণ সঠিক। কিন্তু এখানে তৈরি হয়েছে এক মৌলিক দ্বন্দ্ব। গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা কাগজ-কলমে নিখুঁত হলেও, নদীর বুকে প্রতিদিন জীবন কাটানো জেলেদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীপাড়ের জেলেরা বলেন, প্রকৃতির চরিত্র এখন বদলে গেছে। আগে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় ছিল মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম। কিন্তু এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই সময় পিছিয়ে গেছে। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে ইলিশ ডিম ছাড়ছে এমন প্রমাণ তারা নিজের চোখে দেখছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কেবল ইলিশের জীবনচক্রে নয়, নদীর ওপরেও পড়েছে ভয়াবহভাবে। নদীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, লবণাক্ততার মাত্রা পাল্টে গেছে, স্রোতের দিক বদলে গেছে, এমনকি বৃষ্টিপাতের ধরনও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় এখন অনেক জায়গায় পানির গভীরতা কমে গেছে, পলি জমে নৌপথ সরু হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে নদীর অগভীর অংশে মা ইলিশ ডিম ছাড়ত, এখন সে জায়গা হারিয়ে গেছে। ফলে তারা তুলনামূলক গভীর ও ঠান্ডা পানিতে চলে যাচ্ছে, যা প্রজননের সময়ও পিছিয়ে দিচ্ছে।

ইলিশ হলো অ্যানাড্রোমাস প্রজাতির মাছ, অর্থাৎ এটি সমুদ্রে বাস করলেও প্রজননের সময় নদীতে উঠে আসে। প্রজননের জন্য প্রয়োজন মিঠা পানি, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও প্রবাহমান স্রোত। কিন্তু সাগরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ও নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের এই অভ্যাসে এসেছে পরিবর্তন। আগে চাঁদপুর, ভোলা ও পটুয়াখালীর নদীগুলো ছিল মূল প্রজননক্ষেত্র, এখন দেখা যাচ্ছে অনেক ইলিশ আর নদীতে ঢুকছেই না, সাগরসংলগ্ন মোহনাতেই ডিম ছাড়ছে। অর্থাৎ তাদের আচরণগত পরিবর্তন ঘটেছে, যা পুরোনো গবেষণার পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

এমন অবস্থায় সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যদি প্রকৃত প্রজনন সময়ের সঙ্গে না মেলে, তাহলে এর সুফলও পাওয়া যাবে না। বরং বিপরীতে, মা ইলিশ রক্ষার নামে জেলেরা কষ্ট পাবেন, কিন্তু মাছ বাঁচবে না। তাই এখন সময় এসেছে সরকার, গবেষক ও জেলেদের অভিজ্ঞতাকে একত্রে বিবেচনা করার।

জেলেদের অভিজ্ঞতা কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নদীর বুকে জন্ম নেওয়া বাস্তব জ্ঞান। তারা জানেন কখন নদীর স্রোত বাড়ে, কখন পানির তাপমাত্রা কমে, কখন বাতাসের দিক পাল্টায় এবং এর প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে ইলিশের আচরণের সম্পর্ক কী। এক জেলে হয়তো কোনো গবেষক নয়, কিন্তু প্রতিদিন নদীর বুকে লড়াই করে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে প্রকৃতির এক বিশেষ পাঠক বানিয়েছে। এই বাস্তব জ্ঞানকে অগ্রাহ্য করা মানে প্রকৃতিকে অস্বীকার করা।

ভোলার এক প্রবীণ জেলে বলেছিলেন, &ldquo;আমরা নদীর পানি দেখে বুঝে যাই ইলিশ আসবে কি না। নদীর ঘোলা ভাব, স্রোতের গতি, বাতাসের দিক&mdash;সবই বলে দেয়। এখন সরকার যেই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ করে, তখন নদীতে ইলিশের পেটে ডিমই থাকে না। পরে যখন নিষেধ উঠে যায়, তখনই ডিম ছাড়ার সময় হয়। তখন আমরা জাল ফেললে মা ইলিশ ধরা পড়ে।&rdquo; এই কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে বাস্তবতার কঠিন সত্য। প্রকৃতি স্থির নয়, তাই কোনো নীতিও স্থির হতে পারে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই গবেষণার সময়সীমা ও প্রেক্ষাপটকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ইলিশের প্রজননকাল যদি পরিবর্তিত হয়, তাহলে পুরোনো সময়সূচির ওপর নির্ভর করা অবাস্তব।

এখন প্রশ্ন হলো&mdash;এই নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জেলেদের অভিজ্ঞতাকে কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়? বিশ্বের অনেক দেশেই ইতিমধ্যে &ldquo;কমিউনিটি বেসড ফিশারি ম্যানেজমেন্ট&rdquo; বা জনগণনির্ভর মৎস্যব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় জেলেদের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে। তারা মাঠ পর্যায়ে যা পর্যবেক্ষণ করেন, সেটি গবেষকদের হাতে যায়, আর গবেষকদের তা বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। ফলে নীতিটি হয় বাস্তবভিত্তিক, মানবিক ও বৈজ্ঞানিক। বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

ইলিশ সংরক্ষণের সময় শুধু প্রজননকেই নয়, জেলেদের মানবিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ তারা নদীতে না নামলে তাদের পরিবার উপার্জনহীন হয়ে পড়ে। সরকার যদিও প্রতি বছর খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়, বাস্তবে তা সব জেলে পান না। অনেক সময় সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হয়, কোথাও আবার অনিয়ম হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে আইন ভাঙেন। রাতের অন্ধকারে তারা মাছ ধরতে যান, ধরা পড়লে জাল, নৌকা ও মাছ জব্দ হয়, মামলা হয়, জেল খাটতে হয়। এতে শুধু একজন জেলের নয়, পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

যদি সরকারের উদ্দেশ্য সত্যিই মা ইলিশ রক্ষা হয়, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য জেলেদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। যদি দেখা যায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুম পরিবর্তিত হয়েছে, তাহলে সেই অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময়ও সমন্বয় করতে হবে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রজননকাল সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের কোনো টেকসই ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। কিছু গবেষক নদীতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলেও তা এককালীন এবং সীমিত পরিসরের। অথচ যদি জেলেদের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়&mdash;যেমন প্রতি সপ্তাহে তারা রিপোর্ট করবে নদীর পানির তাপমাত্রা, স্রোতের দিক, ইলিশের পেটের অবস্থা ইত্যাদি&mdash;তাহলে একটি বাস্তবভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অবদান রাখে। রপ্তানিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু উৎপাদন কমে গেলে এই অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তাই মা ইলিশ রক্ষা কেবল পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও প্রশ্ন। যদি প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মারা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাছও হারিয়ে যাবে। আর তার প্রভাব পড়বে জেলেদের জীবিকা থেকে শুরু করে জাতির খাদ্যনিরাপত্তা পর্যন্ত।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাছের প্রজননকাল পরিবর্তিত হচ্ছে&mdash;এমন উদাহরণ অনেক। জাপানে সালমন মাছ এখন আগে বা পরে ডিম ছাড়ছে, ভারতীয় সমুদ্রতটে সার্ডিন মাছের প্রজনন সময়ও বদলে গেছে। বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটছে। তাই পুরোনো ক্যালেন্ডার ধরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলে তা কার্যকারিতা হারাবে।

এখন সময় এসেছে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় করার। মৎস্য বিভাগ যদি প্রতিটি উপকূলীয় জেলাপর্যায় &ldquo;ইলিশ পর্যবেক্ষক দল&rdquo; গঠন করে, যেখানে স্থানীয় জেলেরা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধি একসঙ্গে কাজ করবেন, তাহলে তথ্যের সঠিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুই-ই বাড়বে।

মা ইলিশ বাঁচানো মানে শুধু একটি প্রজাতি সংরক্ষণ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। ইলিশ আমাদের সংস্কৃতির অংশ, আমাদের উৎসবের আনন্দের অংশ। পান্তা-ইলিশের আনন্দের পেছনে রয়েছে নদীর তীরে এক জেলের ঘাম, তার পরিবারের আশা। যদি সেই জেলে নদীতে নামতে না পারে, যদি তার অভিজ্ঞতা অগ্রাহ্য হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থে ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়।

ইলিশ সংরক্ষণে তাই প্রয়োজন নীতির মানবিকীকরণ। কেবল আইন দিয়ে নয়, হৃদয়ের সহানুভূতি দিয়ে এই কাজ করতে হবে। সরকারকে জেলেদের সহায়তা বাড়াতে হবে, যেন তারা নিষেধাজ্ঞার সময় ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা পান। একই সঙ্গে গবেষণার সময়সীমা ও পদ্ধতিতেও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করতে হবে&mdash;স্যাটেলাইট ডেটা, নদীর তাপমাত্রা সেন্সর, ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণ একত্রে ব্যবহার করলে প্রজননকাল আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সবশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে&mdash;ইলিশ বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। মা ইলিশ রক্ষা কেবল সরকার বা গবেষকের একার কাজ নয়, এটি জেলে, সমাজ, গবেষক ও প্রশাসন&mdash;সবার যৌথ দায়িত্ব। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞান একসাথে কাজ করলেই ইলিশ সংরক্ষণ হবে সফল।

মা ইলিশ বাঁচানো মানে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করা, প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণপ্রবাহকে টিকিয়ে রাখা। তাই এখনই সময়&mdash;জেলেদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে, এক বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই ইলিশ সংরক্ষণ নীতি গড়ে তোলা। কেবল আইনের প্রয়োগে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সত্যিকারের ইলিশ রক্ষা সম্ভব হবে। মা ইলিশ বাঁচলে বাংলাদেশও বাঁচবে&mdash;এই উপলব্ধিটাই হোক আমাদের নীতির ভিত্তি।

--- শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 07 Oct 2025 10:04:27 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণে বাড়ছে প্রবৃদ্ধির গতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12969" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12969</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সামাজিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন&mdash;এসবই বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের &lsquo;উন্নয়ন বিস্ময়&rsquo; হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে এক নিরবচ্ছিন্ন শক্তি&mdash;দেশের বিশাল যুবগোষ্ঠী। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যার পেছনে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। কর্মসংস্থানের খোঁজে নিজেদের আটকে না রেখে, নিজেরাই সৃষ্টি করছে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র (ecosystem)।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো যখন আমাদের সামনে উপস্থিত, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো যেন এক ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে। আউটসোর্সিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের আইটি ও আইটি-সক্ষম (ITES) খাত থেকে বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ আসে তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। এই সংখ্যা চলতি বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং জগতে অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্ক (Upwork)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হচ্ছে এবং বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে মূলত তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতার কারণে।

ই-কমার্স খাতও তরুণদের অংশগ্রহণে অভাবনীয় গতি লাভ করেছে। BASIS-এর তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০-এরও বেশি ই-কমার্স সাইট এবং ফেসবুক-ভিত্তিক এফ-কমার্স পেজ রয়েছে, যার অধিকাংশই পরিচালনা করছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন প্রচলিত ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোই অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে আইটি পার্কের বাস্তবায়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৯টি হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলোর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত আইটি অবকাঠামো প্রদান করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরি করা।

তবে এই পার্কগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। যেমন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এর ব্যবহারকে আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে আইটি পার্কগুলোকে আরও টেকসই করা সম্ভব। এছাড়া, বিদ্যুৎ সংযোগের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সেখানে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না, যা পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আইটি পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমানো একটি জরুরি পদক্ষেপ। এটি আমাদের স্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি করতে সাহায্য করবে, যা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ, করছাড় এবং সহজ ব্যবসায়িক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Building and Development) ডিজিটাল বিপ্লবের মূল ভিত্তি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা পূরণ করতে পারে। কোডিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়গুলোতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। এই নীতিমালায় স্টার্টআপদের জন্য সহজ ঋণ প্রাপ্তি, ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ডিং-এর সুবিধা এবং ট্যাক্স হলিডের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

একইসাথে, কৌশলগত পেটেন্ট উন্নয়ন (Strategic Patent Development) ডিজিটাল অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। আমাদের উদ্ভাবন ও মেধাসম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী পেটেন্ট আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এটি শুধু আমাদের উদ্ভাবকদের উৎসাহিতই করবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, বরং এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়ক হচ্ছে। সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সঠিক নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন আমাদের এই পথচলাকে আরও মসৃণ করতে পারে। তরুণদের অদম্য শক্তি ও উদ্ভাবনী মেধার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 14 Sep 2025 08:41:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পায়ে তেল মালিশের যত উপকারিতা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/7020" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/7020</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সারাদিন পরিশ্রম শেষে যদি ঘুমটা ভালোমতো না হয়, তাহলে পরের দিন নিজের কাছে খুবই অস্বস্তি অনুভব হয়। আর ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক এর থেকে মুক্তির উপায়। দিনশেষে ঘুমানোর আগে যদি কিছুটা সময় নিয়ে পায়ে তেল মালিশ করা হয়, তা হলে তা শুধু আরামই দেয় না বরং শরীর ও মনের উপর পড়ে চমৎকার প্রভাব। অনিদ্রা, মানসিক চাপ, শারীরিক ক্লান্তি এমনকি ঠাণ্ডা লাগা&mdash;সবকিছুতেই পায়ের ম্যাসাজ কার্যকর ভূমিকা রাখে। চলুন, জেনে নিই কেন পায়ে তেল মালিশ করা উচিত এবং কোন তেল ব্যবহার করবেন।

গভীর ও আরামদায়ক ঘুম

যারা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের জন্য পায়ে তেল ম্যাসাজ হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান। এটি শরীর ও স্নায়ু শিথিল করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুমানোর আগে মন শান্ত করে দেয়। ফলে ঘুম গভীর ও শান্ত হয়।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে

দিনভর হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে পায়ে যে ক্লান্তি জমে, ম্যাসাজ তা দূর করে। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ বাড়ে এবং শীতকালে পায়ে ঠাণ্ডা লাগাও অনেকাংশে রোধ করা যায়।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়

পায়ের বিভিন্ন একিউপ্রেশার পয়েন্ট উদ্দীপিত হওয়ার ফলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণ হয়, যা মেজাজ ভালো করে এবং উদ্বেগ কমায়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নিয়মিত তেল ম্যাসাজ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

তেল মালিশ লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ সক্রিয় করে, যা শরীর থেকে টক্সিন ও বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। এটি শরীরকে আরো সুস্থ ও সতেজ রাখে।

ত্বক নরম ও আর্দ্র রাখে

শুষ্ক ও ফাটা গোড়ালি মেরামতে তেল ম্যাসাজ অত্যন্ত কার্যকর। নারকেল, বাদাম বা অলিভ অয়েলের মতো পুষ্টিকর তেল ব্যবহার করলে ত্বক আরো কোমল, উজ্জ্বল ও সংক্রমণমুক্ত থাকে।

মাংসপেশির ব্যথা ও টান কমায়

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার কারণে পায়ের ব্যথা বা পেশির টান দূর করতে পায়ে তেল মালিশ অত্যন্ত উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী তেল আরাম এনে দেয়।

গোড়ালি ও জয়েন্ট শক্তিশালী করে

নিয়মিত ম্যাসাজ পেশী ও জয়েন্টকে নমনীয় করে এবং ব্যথা কমায়। এর ফলে হাঁটা, দৌড়ানো বা চলাফেরা আরও স্বচ্ছন্দ হয়।

কোন তেল ব্যবহার করবেন?

১। সরিষার তেল: আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত। উষ্ণ গুণসম্পন্ন ও ব্যথা কমাতে কার্যকর।

২। নারকেল তেল: হালকা, আর্দ্রতাদায়ক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। শুষ্ক ত্বকের জন্য আদর্শ।

 

৩। বাদাম তেল: ভিটামিন ই-তে সমৃদ্ধ, যা ত্বককে পুষ্টি ও কোমলতা দেয়।

৪। ল্যাভেন্ডার তেল: ঘুমের আগে মানসিক প্রশান্তি আনে ও মানসিক চাপ কমায়। অন্যান্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

৫। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেল: প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর জন্য দারুণ কার্যকর।

রাতে ঘুমের আগে মাত্র ১০ মিনিট পায়ে তেল মালিশ করতে পারলেই শরীর ও মনের ওপর পড়ে আশ্চর্যজনক প্রভাব। এটি একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাভাবিক পদ্ধতি। যা দীর্ঘমেয়াদে ভালো ঘুম, সুস্থ ত্বক এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

সূত্র : এশিয়া নেট

আমারবাঙলা/এমআর/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 25 Aug 2025 07:07:23 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোরআনের সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগ গড়তে কোরআন জার্নালিং]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12143" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12143</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

অনেকে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করেন, কিন্তু যখন তাঁদের প্রশ্ন করা হয়, &lsquo;আপনি কি কোরআন জার্নালিং করেন?&rsquo; তখন বেশিরভাগ মানুষ বিষয়টি বুঝেই উঠতে পারেন না। অনেকেই প্রথমবার শুনলে অবাক হন&mdash;&lsquo;এটা আবার কী?&rsquo;


কোরআন জার্নালিং মানে হলো একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি বা নোটবুক রাখা, যেখানে কোরআনের আয়াত থেকে পাওয়া শিক্ষা, অনুভব এবং জীবনে তার ব্যবহারযোগ্য দিকগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়। এটি একান্তই আত্মিক একটি অভ্যাস, যা কোরআনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে।


যাঁরা নিয়মিত কোরআন বুঝে পড়তে চান, কিন্তু মাদ্রাসা বা ইসলামিক ক্লাসে সময় দিতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর পদ্ধতি। একটা ছোট কোরআন নোটবুক রাখুন&mdash;এই ছোট প্রয়াসই আপনার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।

 

কীভাবে জার্নালিং করবেন?

কোরআন পড়ার সময় শুধু তিলাওয়াতে থেমে না থেকে অর্থ অনুধাবনে মন দিন। অর্থ পড়তে পড়তে যেসব শব্দ বা আয়াতে আপনি থেমে যান, চোখে জল আসে বা মন স্পর্শ করে&mdash;সেগুলো লিখে রাখুন। সেই সঙ্গে জীবনের যে কোনো স্মৃতি বা বাস্তবতা যা ওই আয়াতের সঙ্গে মিলে যায়, তাও লিখে নিন। যদি কোনো আয়াতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পড়ে শান্তি অনুভব করেন, সেটিও নোট করুন।

এই লেখাগুলো আত্মিক চিকিৎসার মতো কাজ করে। কোরআন থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনা অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।

 

শুরুর উপযুক্ত সময় ও সুরা

জীবনে যদি কোনো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে কোরআন জার্নালিং শুরু করার এটাই হতে পারে সেরা সময়। আপনি চাইলে নিজেকে আত্মিকভাবে উন্নত করার সংকল্প নিয়ে এই চর্চা শুরু করতে পারেন, যাতে আল্লাহর ওয়াদার ওপর মনোযোগী থাকা যায়। তাঁর কালাম আপনাকে সান্ত্বনা দেবে এবং একসময় আপনি অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে পাবেন।

শুরুর জন্য সুরা দুহা একটি আদর্শ সুরা। এতে রয়েছে আশা, আশ্বাস ও আল্লাহর রহমতের বাণী। সুরাটি সেই সময় নাজিল হয়েছিল, যখন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) কিছু সময় ওহি না পেয়ে উৎকণ্ঠিত ছিলেন। তখন আল্লাহ বলেন:


&ldquo;তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি, তিনি তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও নন।&rdquo;
(সুরা দুহা, আয়াত: ৩)



&ldquo;আখিরাত তোমার জন্য এই দুনিয়ার চেয়ে অনেক ভালো।&rdquo;
(আয়াত: ৪)



&ldquo;তিনি কি তোমাকে অভাবী পাননি এবং তারপর তোমার অভাব পূরণ করেননি?&rdquo;
(আয়াত: ৮)


 

কোরআন জার্নালিংয়ের সুফল

কঠিন সময়ে আমরা অনেক প্রশ্ন করি&mdash;&lsquo;আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে&rsquo;, &lsquo;আল্লাহ কি আমায় ভুলে গেছেন&rsquo;, &lsquo;আমি কি পারব এগিয়ে যেতে?&rsquo; এই জার্নালিং আপনাকে মনে করিয়ে দেবে&mdash;আল্লাহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে আছেন, এবং আশা ও আস্থার আলো এখনো নিভে যায়নি। এটি আত্মবিশ্বাস, মানসিক প্রশান্তি এবং ঈমানের দৃঢ়তা এনে দেয়।

উপকারিতাগুলো সংক্ষেপে:

১. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত হয়:
তাফসির পড়ে আয়াত বুঝে তা লিখলে আপনি কোরআনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন।

২. কষ্টের সময় মনে শান্তি আসে:
আয়াতের প্রতিফলনে জীবনের সমস্যাগুলোর জন্য আপনি কোরআন থেকে উত্তর খুঁজে পাবেন।

৩. চিন্তায় গভীরতা বাড়ে, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার অভ্যাস তৈরি হয়।

 

জার্নালিংয়ের সহজ নিয়ম

জার্নালিং করার কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তবে সহজ কয়েকটি ধাপ মেনে আপনি শুরু করতে পারেন:


	
	সৃষ্টিশীল শিরোনাম দিন: প্রতিটি জার্নাল সেশনের শুরুতে সুরা বা আয়াতের নাম সুন্দর করে লিখুন।
	
	
	পাঠ ও প্রেক্ষাপট বোঝা: আয়াতটি কবে, কোথায়, কী পরিস্থিতিতে নাজিল হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করুন।
	
	
	হৃদয় ছোঁয়া আয়াত বাছুন: এমন আয়াত লিখুন, যা আপনার মনে রেখাপাত করে। অর্থ নিয়ে ভাবুন।
	
	
	নিজের উপলব্ধি লিখুন: আয়াত থেকে আপনি কী শিখলেন বা কীভাবে তা আপনার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত&mdash;তা লিখে রাখুন।
	
	
	দোয়ার মাধ্যমে শেষ করুন: আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও সাহায্য প্রার্থনা করুন।
	


 

জার্নালিং থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি

১. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব:


&ldquo;আল্লাহ কীভাবে উপমা দেন, তা কি দেখ না? একটি পবিত্র কথা এমন একটি ভালো গাছের মতো, যার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উঁচু, যা তার রবের ইচ্ছায় সব সময় ফল দেয়।&rdquo;
(সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৪)


২. কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর পরিকল্পনা:


&ldquo;আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।&rdquo;
(সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)


৩. ভরসার বিনিময়ে অপ্রত্যাশিত সাহায্য:


&ldquo;যে আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করেনি।&rdquo;
(সুরা তালাক, আয়াত: ২&ndash;৩)
&ldquo;আমি আমার বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তার বান্দাদের সম্পর্কে সব জানেন।&rdquo;
(সুরা গাফির, আয়াত: ৪৪)


৪. নির্বাচনের স্বাধীনতা:


&ldquo;মানুষ কি মনে করে, তারা বলবে &lsquo;আমরা বিশ্বাস করেছি&rsquo; এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?&rdquo;
(সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২)


৫. কষ্ট মানেই ব্যর্থতা নয়:


&ldquo;তিনি মহিমান্বিত, যিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন; যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।&rdquo;
(সুরা মুলক, আয়াত: ১&ndash;২)


 

কোরআন জার্নালিং এমন একটি অভ্যাস, যা আমাদের হৃদয় আল্লাহর বাণীর সঙ্গে যুক্ত করে। এটি আমাদের জীবনে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও আশার বীজ বপন করে। আপনার জীবন যদি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যায়, কিংবা আপনি নিজেকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যেতে চান&mdash;তাহলে আজ থেকেই শুরু করুন এই সফর।

আমারবাঙলা /এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 24 Jul 2025 07:54:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নীল মেঘের রাজ্য নীলাচল]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12082" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12082</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

পাহাড়ের প্রেম বড়ই অদ্ভত। একবার যে এই প্রেমে পড়ে, তার আর মুক্তি নেই। পাহাড়ের নিরবতা, মেঘের আলিঙ্গন আর নীল আকাশের ছোঁয়ায় জীবন যেন এক নতুন অর্থ খুঁজে পায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবান&mdash;দেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের নাম।

বান্দরবান মানেই শ&rsquo;খানেক পর্যটনস্থল। তবে তার মধ্যেও এক অপার মোহময়তার নাম নীলাচল।

শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘ, পাহাড় আর শূন্যতার এক নিঃশব্দ মিলনমেলা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে উপরে উঠতেই চোখের সামনে খুলে যায় স্বর্গীয় এক দৃশ্যপট। মেঘ যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায়।

নীলাচলে পা রাখলেই প্রথম যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা হলো&mdash;সীমাহীন দিগন্তজোড়া আকাশ আর ভেসে বেড়ানো মেঘের ছায়া। সকালের সূর্যোদয়, দুপুরে মেঘের খেলা আর বিকেলে লালচে-কমলা আভায় রাঙা আকাশ&mdash;প্রতিটি মুহূর্তই একেকটি চিত্রপট যেন।

মাঝেমধ্যে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারদিক। কিন্তু হঠাৎই পরিষ্কার আকাশ থেকে দেখা মেলে বান্দরবান শহরের ছোট ছোট ঘরবাড়ি, বৌদ্ধ মন্দির, হোটেল আর ঘন সবুজ পাহাড়ের স্তর বিন্যাস।

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, পর্যটকদের মন কাড়ে নীলাচলের ব্যবস্থাপনাও। রয়েছে বসার জায়গা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাবারের দোকান, এমনকি থাকার জন্য ছোট ছোট কটেজও। পরিবার, বন্ধু কিংবা একান্তে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি একেবারে উপযুক্ত।

স্থানীয় সিএনজি চালক হাসান বললেন, &ldquo;সকালের সূর্যোদয় আর বিকেলের সূর্যাস্তের সময়টা সবচেয়ে সুন্দর। এখানে কয়েক ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকলেই জীবনের অর্ধেক ক্লান্তি ভুলে যাওয়া যায়।&rdquo;



নীলাচল যাওয়ার পথটাও বেশ সহজ। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে সেখানকার নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বান্দরবানগামী বাসে চেপে বসা যায়। চাইলে সরাসরি ঢাকা থেকে বান্দরবানের বাসেও যাওয়া যায়। বান্দরবান শহর থেকে সিএনজি কিংবা জনপ্রিয় &lsquo;চাঁদের গাড়ি&rsquo; ভাড়া করেই সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় নীলাচলে।

ভ্রমণের আদর্শ সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ। এ সময়টায় আকাশ পরিষ্কার থাকে, দেখা মেলে মেঘের খেলা আর রোদের ছায়াপথ।

শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে, নীল মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে প্রকৃতির নিঃশব্দ ভাষা অনুভব করতে হলে একবার হলেও যেতে হবে নীলাচলে। কারণ, সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করারও।

 

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 21 Jul 2025 06:25:41 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
