<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom">
                        <id>http://www.amarbanglabd.com/feed/feature</id>
                                <link href="http://www.amarbanglabd.com/feed/feature"></link>
                                <title><![CDATA[Amarbangla feature Feed]]></title>
                                <description>Amarbangla Latest feature News Feeds</description>
                                <language>bn-BD</language>
                                <updated>Sun, 15 Feb 2026 12:35:18 +0000</updated>
                        <entry>
            <title><![CDATA[মৌলভীবাজারে রোমিওর কপালে রোমান্টিক’ ধোলাই]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15509" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15509</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মানেই ফুল, চকলেট আর রোমান্টিক ডিনার। কিন্তু মৌলভীবাজারে আজকের চিত্রনাট্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেমের সন্ধ্যানে বের হয়ে এক যুবক যা পেলেন, তা হয়তো তার ১৪ পুরুষের কেউ কখনো কল্পনাও করেননি। ফুলের বদলে তার কপালে জুটল হিল জুতা পিঠা আর বোনাস হিসেবে &lsquo;গণ-কিল&rsquo;।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে শহরের পরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়াক ওয়েতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,দুই তরুণী বেশ ফুরফুরে মেজাজে ওয়াক ওয়েতে হাঁটছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে আবির্ভাব ঘটে এক &lsquo;স্বঘোষিত রোমিওর&rsquo;।

সূত্রের খবর, ওই যুবক আজকের দিনে &lsquo;সিঙ্গেল&rsquo; থাকার বেদনা সইতে না পেরে একজন সঙ্গীর খোঁজে শিকারে নেমেছিলেন। দুই তরুণীকে দেখে তিনি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। সিনেমার কায়দায় &lsquo;রোমান্টিক ওয়েতে&rsquo; উত্ত্যক্ত বা ইভটিজিং শুরু করেন তিনি। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো একটি মন গলে যাবে।

কিন্তু হায়! মন তো গললই না, বরং তরুণীদের পায়ের জুতা খুলে গেল। মুহূর্তের মধ্যে রোমান্টিক দৃশ্যটি অ্যাকশন মুভিতে রূপ নেয়। দুই তরুণী মিলে ওই যুবককে &lsquo;জুতা-পেটা&rsquo; শুরু করেন।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বাঙালির চিরায়ত স্বভাব অনুযায়ী, ঝটলা দেখে সেখানে আভির্ভাব ঘটে স্থানীয় কিছু &lsquo;হিরো&rsquo; বা উৎসুক জনতার। ঘটনা বোঝা মাত্রই তারাও যোগ দেন এই মহৎ কর্মে। শুরু হয় &lsquo;গণজোয়ারে বেদরক কেলানি&rsquo;। কেউ কিল, কেউ চড়, আবার কেউ শুধুই হাত সাফাই করার জন্য ভিড় ঠেলে দুই-একটা বসিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, &quot;ভাইটি এসেছিলেন গার্লফ্রেন্ড খুঁজতে, কিন্তু এখন তাকে খুঁজতে হবে ভালো কোনো হাড় ভাঙা ডাক্তার। পাবলিকের মাইর আর জুতার বাড়ি খেয়ে তিনি ভালোবাসা দিবসের আসল মর্ম বুঝে গেছেন।&quot;

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ওই রোমিও যুবক ভিড়ের ফাঁকে কোনোমতে নিজের প্রাণ (এবং অবশিষ্ট মান-সম্মান) নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 15 Feb 2026 12:35:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোনো অবস্থায় ভোটের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত: মাহবুব জুবায়ের]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/15378" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/sodesh/15378</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[মাহবুব জুবায়ের বলেন, &lsquo;বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, আঘাত করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে গতকাল রাতে ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে। আমরা ইসিকে বিষগুলো জানিয়েছে, বলেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। এর আগেও একটা ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ওই আসনে লিফলেটে কে বা কারা ছেড়েছে, বিকাশে টাকা দেয়া হবে, আপাতত অ্যাডভান্স তো দিলাম। এগুলা কাউকে বলবেন না বলে আবার লিফলেট ছাপানো হয়।&rsquo;]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 11 Feb 2026 15:02:07 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ, যেন আরেক ঈদ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15349" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15349</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। অনেকের কাছে এই &lsquo;ভোটের ছুটি&rsquo; যেন আরেকটি ঈদের আনন্দ বয়ে এনেছে। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।

নির্বাচন উপলক্ষে সরকারিভাবে ছুটি দেওয়া হলেও, ভোট প্রদান বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক নয়। তবুও নাগরিক দায়িত্ববোধ ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার জায়গা থেকে বহু মানুষ নিজ উদ্যোগে, নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ভোট দেওয়ার জন্য। সময় ও খরচের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়েই তারা অংশ নিতে চান এই জাতীয় উৎসবে।

এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চতুর্থবারের মতো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের সাধারণ নির্বাচন। একই দিনে একাধিক ভোটগ্রহণের কারণে মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

বিশেষ করে জুলাই মাসের আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু হওয়ার পথ সুগম হবে। সেই প্রত্যাশা ও আশার জায়গা থেকেই ভোটকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

সব মিলিয়ে, ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফেরা শুধু একটি ভ্রমণ নয় এটি এখন গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ, পরিবারে ফেরা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের এক সম্মিলিত অনুভূতি।

আমারবাঙলা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 10 Feb 2026 13:04:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ফাগুন উৎসব: বসন্তের রঙে বাঙালির প্রাণের জাগরণ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15170" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/15170</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আসছে বাংলা বর্ষপঞ্জির এক অনন্য মাস ফাল্গুন। শীতের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে, তখনই আসে বসন্ত ও তার সঙ্গে ফাগুন উৎসব। প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের এই মিলন থেকেই জন্ম নেয় বাঙালির প্রাণের উৎসব-ফাগুন।

ফাগুন উৎসবের সূচনা প্রাচীন বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থা ও ঋতুচক্রের ধারাবাহিকতা থেকে। শীত শেষে গাছে গাছে নতুন পাতা, শিমুল-পলাশের রঙিন উপস্থিতি এবং বাতাসে মধুময় আমেজ মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার করে। সেই আনন্দ প্রকাশের মধ্য দিয়েই বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার রীতি গড়ে ওঠে, যা কালক্রমে ফাগুন উৎসব হিসেবে পরিচিতি পায়।

বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বসন্তের গুরুত্ব অপরিসীম। বসন্ত এসেছে প্রেম, সৃজনশীলতা ও নবজাগরণের প্রতীক হয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তকে মানবজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন গভীর আবেগে।

কবির ভাষায়-&ldquo;ওরে ভিখারি সাজায়ে দে তোর বসন্তের মালা।&rdquo;

বাঙালির কাছে ফাগুন উৎসব এত প্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো-এই উৎসব ভালোবাসার বার্তা বহন করে। ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকেই বসন্তবরণ, আর এই মাসজুড়েই ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের আবহ বিরাজ করে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের এই সাযুজ্য বাঙালিকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

আজও ফাগুন মানেই হলুদ-কমলা রঙের শাড়ি, ফুলের মালা, বসন্তের গান ও কবিতার আসর। গ্রামবাংলা থেকে শহরের শিক্ষাঙ্গন&mdash;সর্বত্রই বসন্ত উৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে।

ফাগুন এলো হেথায়, পাতায় পাতায় প্রাণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাগুন উৎসবের আয়োজন বদলালেও এর মূল চেতনা অটুট রয়েছে। ফাগুন আজও বাঙালির কাছে কেবল একটি ঋতু নয়, বরং জীবন ও অনুভূতির উদযাপন।

ফাগুন তাই শুধু প্রকৃতির নয়;-

এটি বাঙালির সংস্কৃতি,
বাঙালির কবিতা
এবং বাঙালির প্রাণের উৎসব।

আমারবাঙলা]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 01 Feb 2026 10:30:57 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[হাওর ও নদীর মাছ বাজারে আনতেই উধাও]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13997" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13997</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[শীতের সকাল। লালচে আলোয় চারপাশ তখনো রঙিন। সারারাত হাওর&ndash;নদীতে মাছ ধরে ভোরের আলো ফুটতেই মাছের খলুই কাঁধে নিয়ে হাটের দিকে ছুটছেন মৎস্যজীবীরা। হাট শুরু হতেই চোখের পলকে ফুরিয়ে যায় হাওর&ndash;নদীর টাটকা মাছ।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছ নিয়ে শীতের সকালে বসে দুই ঘণ্টার একটি হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ওয়াপদা&ndash;কাশিমপুর হাটের বয়স প্রায় অর্ধশতকের। তবে প্রতিদিন সকালে মাছের এই হাট বসছে প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে।

প্রতিদিন সকালে লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এখানে। মূলত কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর দেশি মাছই এই বাজারে আসে। টাটকা হাওর&ndash;নদীর মাছের চাহিদা থাকায় ভোরবেলা মৌলভীবাজার শহরসহ দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন।

সকাল ছয়টার দিকে হাট এলেই দেখা যায়, বাজার ইতোমধ্যে জমে গেছে। কেউ হাতে মাছভরা খলুই, কেউ আবার কাঁধে ডালা নিয়ে দ্রুত হাটের দিকে দৌড়চ্ছেন। আগে এলে আগে বিক্রির সুযোগ&mdash;এই তাড়াই তাঁদের চলার প্রেরণা।

হাটে ঢুকেই বিক্রেতারা দুই আড়তের যেকোনো একটিতে মাছ জমা দেন। এরপর শুরু হয় নিলাম। ক্রেতারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ডাক ওঠার অপেক্ষায় থাকেন। সর্বোচ্চ দাম বললেই মাছটি ক্রেতার হাতে চলে যায়। বিক্রেতারা টাকা গুনে বাড়ির পথে রওনা দেন।

হাটে শুধু নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ কিনতে আসা মানুষই নন, বড় অংশই খুচরা বিক্রেতা। তাঁরা এখান থেকে মাছ কিনে মৌলভীবাজার শহর, বিভিন্ন গ্রামীণ বাজার কিংবা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। মাছের মধ্যে পাওয়া যায় কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা, কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চিংড়ি, চাঁদা ও নানা ধরনের দেশি মাছ।

মাছের পাশাপাশি হাটে হাঁস&ndash;মুরগি, সবজি, পান&ndash;সিগারেটের দোকানও বসে। চায়ের দোকানে কাপে কাপে ধোঁয়া উঠছে, প্লেটে ভরে পরিবেশন করা হচ্ছে পরোটা ও আখনি&mdash;হাটজুড়ে মেলা-মেলার পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, &ldquo;এই বাজারে সব হাওরের মাছ। কাউয়াদীঘি বা কুশিয়ারার মাছ ছাড়া অন্য কোথাও থেকে মাছ আসে না। এখানে একটাও চাষের মাছ নাই।&rdquo;

সকালে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া হাট আটটার মধ্যেই গুটিয়ে যায়। তবে শুক্রবারে ভিড় হয় বেশি। আশির দশকে মনু নদ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পরই হাওরকে কেন্দ্র করে এই হাটের বিকাশ ঘটে। আগে মৎস্যজীবীরা দূরের হাটে মাছ বেচতে যেতেন, এখন প্রতিদিন সকালে এখানেই বিক্রি করে ফেলতে পারেন।

হাটের আড়তদার আকলু মিয়া বলেন, &ldquo;হাটের দুই আড়তে প্রতিদিন লাখ টাকার মতো মাছ বিক্রি হয়। তবে সব মাছ আড়তে আসে না&mdash;অনেকেই আড়তের বাইরে সরাসরি বিক্রি করেন।&rdquo;

হাওর&ndash;নদীর তাজা মাছের এই সকালের হাট শুধু বাণিজ্যই নয়, মানুষের জীবনযাত্রা আর শীতের সকালের এক অনন্য রঙিন অনুষঙ্গ।

● আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 02 Dec 2025 09:23:22 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী: অনন্য তুমি মওলানা ভাসানী]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13675" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13675</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া : উপমহাদেশ তথা বাংলার কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন গ্রাম-গঞ্জের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের নয়নমনি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সারা জীবনই যার সংগ্রাম ছিল মেহনতির মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে। মওলানা ভাসানী তার সুদীর্ঘ জীবনে জনসাধারণের সাথে এত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন যে, শুধু বাংলাদেশেই নয়; সারা ভারতেও তার কোনো তুলনা নেই। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত &lsquo;রাজনৈতিক গুরু&rsquo;। রাজনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির সর্বক্ষেত্রেই তিনি মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে তা মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োগ করেছেন। তাই দেখা যাচ্ছে, তার ভক্ত-মুরিদের মধ্যে মওলানা, রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-শিক্ষক যেমন ছিলেন, লোকসঙ্গীতশিল্পী, লাঠি খেলোয়াড় এবং যাত্রাপালাগানের শিল্পীরাও ছিলেন।

১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৮০ সালে তৎকালীন পাবনার সিরাজগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেয়া মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পিতা হাজি শরাফত আলী খান ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

অনকে নেতাদের নেতা মওলানা ভাসানী তথাকথিত প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, তিনি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। আধ্যাত্বিক শিক্ষায় তার অন্তর ছির পরিপূর্ণ। ভারতের ইসলামী শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র দেওবন্দ মাদরাসার ছাত্র হয়েও তিনি ছিলেন মুক্তিকামী মানুষের নেতা। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদবিরোধী প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির ধারণ করে নেতৃত্ব দিযৈছৈন। সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে মওলানা ভাসানী সর্বভারতীয় রাজনীতি, জাতীয় কংগ্রেস দল, খিলাফত আন্দোলন এবং মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনেরও নেতাতে পরিনত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শেষ করেননি তিনি, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক শ্রেনীর হাত থেকে গণমানুষের মুক্তির রক্ষে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আওয়ামী মুসলীম লীগ যার পরবর্তী রুপ হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা্র মাত্র এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যেই তিনি পাকিস্তানের একটি বিশেষ গোষ্টি ও শ্রেনীর রাজনীতি এবং শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং তার কিছুদিন পরই পূর্ব বাংলার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের বীজ বপিত করেছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ব্যর্থ শাসকগোষ্টি মুলিম লীগের পরাজয় ঘটিয়েছিলেন। আবার সেই যুক্তফ্রন্টের সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করেছিলেন আঞ্চলিক সায়ত্বশাসন ও পূর্ব বাংলার জনগনের অধিকারের প্রশ্নে। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে গঠন করেছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টি-ন্যাপ।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হলেও পাকিস্তান সরকার তাদের দেখতে না আসলে তার প্রতিবাদ জানান। স্বাধীনতা ছাড়া বাংলার মানুষের মুক্তি নাই। ভোটের বাক্সে লাথি মার পূর্ব বাংলা স্বাধীন কর। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন মওলানা ভাসানী। পাকিস্তানের অপশাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তিনি বেছে নিয়েছিলেন স্বাধীনতার পথ।

৭০&#39;র ঘূর্ণিদূর্গত বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চল ঘুরে এসে ভাসানী পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। তাঁর বর্ণনা শুনে সভায় উপস্থিত সাহসী কবি ও সাংবাদিক সাংবাদিক শামসুর রাহমান লিখেছিলেন &lsquo;সফেদ পাঞ্জাবী&rsquo; কবিতা। মওলানা ভাসানী নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। কিন্তু কেন বর্জন করলেন তা কখনো কেউ বলতে চায় না। তবে বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য &lsquo;ভোটের আগে ভাত চাই, নইলে এবার রক্ষা নেই&rsquo; স্লোগানের কথা বলেন অনেকেই। সত্যতো বলেনই না বরং এক শ্রেনীর দালাল ও সুবিধাবাদী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা অনেক সময় মওলানা ভাসানীকে &lsquo;জনগণবিরোধী&rsquo; প্রমাণের জন্যই চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু, সত্যটা হলো, সামরিক শাসনের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর স্বার্থে মওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন &lsquo;শেখ মুজিবুর রহমান&rsquo; নির্বাচনে পূর্ণ বিজয় লাভ করুক। অথচ এই সত্যটা বিরুদ্ধ প্রচারকারীরা স্বাভাবিক কারণেই চেপে যায়।

এ কথা দিবালোকের মত সত্য যে, মওলানা ভাসানীই পূর্ববঙ্গে মুসলিম লীগ রাজনীতির বিপরীতে প্রথম বিরোধিতা করে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন যার নাম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এই কৃতিত্বময় নেতৃত্ব মওলানা ভাসানীর, এটা ইতিহাসের নির্মোহ সত্য, ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়। অতচ কেউ কেউ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে এই কৃতিত্ব দেবার চেষ্টা করেন। যারা এই চেষ্টা করেন তারা ভুলে যান ইতিহাস ও সময় সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী মুসলিম লীগ যখন গঠন হয় তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন করাচীতে &lsquo;নেহরু হাউস&rsquo;-এ বসবাস করছিলেন এবং তিনি গঠন করেছিলেন &lsquo;জিন্না মুসলিম লীগ&rsquo;। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, সেখানেই &lsquo;আওয়ামী মুসলিম লীগ&rsquo; গঠিত হয় এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।

এখানে ইতিহাস বলে, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম কমিটির তালিকা যখন করা হচ্ছিল তখন মওলানা ভাসানীর আদরের &lsquo;মুজিবুর&rsquo; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টাঙ্গাইলের শামসুল হকের নাম লেখার পর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখেন। সে যাই হোক ১৯৭০ এর নির্বাচন মওলানা ভাসানী বর্জন করলেন যর ফলশ্রুতিতে সে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো। কিন্তু, পাকিস্তানী শাসকগোষ্টি সংখ্যাগরিষ্ট দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করলো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী তাঁর প্রিয় উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুর গণ-আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন।

২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকল জায়গায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল। মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন মওলানা ভাসানী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবং বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তখন মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটির সভাপতি। নেতৃত্বের প্রশ্নে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী কখনো বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষের ভূমিকা গ্রহন করেন নাই। এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধুর জীবনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকশিত হয়েছিল মওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্নেহের ছায়ায়। তার সুদীর্ঘ জীবনকালের সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ভূমিকা জীবন সায়াহ্নের কিছু ভূমিকা কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদকে চিনিয়েছেন মওলানা ভাসানী। সাম্প্রদায়িকতার আপসহীন ভূমিকা পালন করেন মওলানা ভাসানী, সমাজতন্ত্রকে এদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করেছিলেন মওলানা ভাসানী।

মওলানা তার রাজনীতির জীবন শুরু করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন দিয়ে। ব্রিটিশদের কারাগারে দশ মাস কাটিয়েছেন রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই। কংগ্রেসে বেশ কিছুকাল যুক্ত থাকলেও এক সময়ে কংগ্রেসই তাকে ছেড়ে যায়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তৎকালীন ভারতবর্ষের প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্ব ছিল জমিদার শ্রেণীর হাতে। জমিদারদের বড় অংশ সম্প্রদায়গতভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ কৃষকরা তাদের হাতে নির্যাতিত হতেন। ভাসানী এই সাধারণ কৃষকের পক্ষে একের পর এক কর্মসূচি দেওয়ার কারণে কংগ্রেসের সঙ্গে তার স্থায়ী ছাড়াছাড়ি ঘটল ১৯৩৭ সালে। বহু জমিদার তাদের এলাকায় ভাসানীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালানা। এরপর যোগ দেন মুসলিম লীগে।

সাধারণ কৃষকের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে যেমন কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন, তেমনি আমলা-সামরিকতন্ত্র-জোতদারতন্ত্র আর বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানীদের জাতিগত শোষণের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি অনায়াসে মুসলিম লীগ ত্যাগ করেছিলেন আওয়ামী লীগ গড়ে তুলতে। এই আওয়ামী লীগকে যখন কৃষকের স্বার্থরক্ষায় অগ্রণী মনে হয়নি, এবং সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে দলটিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে যখন তৎপর দেখা গেল, নিজের হাতে গড়া আওয়ামী লীগও ত্যাগ করে তিনি গড়লেন নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ।

&lsquo;মজলুম জননেতা&rsquo; হিসেবে পরিচিত মওলানা ভাসানীকে প্রথাগত ক্ষমতার রাজনীতি কোনো দিনই আকর্ষন করে নাই। তিনি গ্রাম-গঞ্জের কৃষককুল কিংবা শহর-নগরের ব্যাপক শ্রমিক শ্রেণি ও অন্যান্য মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এ দেশের প্রেক্ষাপটে অনেক পথের সন্ধান করেছেন। &lsquo;কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের রাজ&rsquo; প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। বস্তুবাদী রাজনৈতিক জগতে আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন। সে কারণে জীবনের শেষ দিকে ইসলামী সমাজতন্ত্রের রূপরেখা প্রণয়নে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। আফ্রো-এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কোটি কোটি মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সোচ্চার ছিলেন মওলানা ভাসানী। সে কারণে জনগন তাঁকে আফ্রো-এশিয়া, লাতিন আমেরিকার শোষিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের নেতা বলেই মনে করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন মওলানা ভাসানীর রাজনীতি ছিল তাঁর সমকালীন যুগের তুলনায় খুব বেশী অগ্রসর। পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববাংলার গণমানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন তিনি। আর সেই কারণেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন রাজপথে গণ-অসন্তোষ প্রকাশ এবং সর্বোপরি গণ-অভ্যুত্থানের পথ। ৫২&#39;র ভাষা আন্দোলন থেকে ৫৪&#39;র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিংবা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে &lsquo;আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা&rsquo; এবং পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ৬৯&#39;র গণ-অভ্যুত্থানে মওলানা ভাসানীর অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছিল বিশ্ববাসী। আর সে কারণে ১৯৬৯&#39;র গণ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাদের কভারে (প্রচ্ছদে) মওলানা ভাসানীকে তুলে ধরেছিল &lsquo;প্রফেট অব ভায়োলেন্স&rsquo; (প্রচণ্ড বিক্ষোভ কিংবা সহিংসতার নবী) হিসেবে। আর ২০০৪ সালে অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর বহু পরে তাঁকে সর্বকালের অষ্টম শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিবিসি।

উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মওলানা ভাসানীকে চিত্রিত করেছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ হিসেবে। আবার কোন কোন বিশ্লেষকগন তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন একজন ক্ষণজন্মা রাজনীতিক হিসেবে। ব্রিটিশ শাসনামলে আসামে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন ও উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী হয়ে উঠেন আন্দোলনের প্রতীক। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি ফ্যাসিবাদী সরকারের বন্দিশালায় কাটিয়েছেন। কিন্তু কখনোই গণমাণুষের এই &lsquo;মজলুম জননেতা&rsquo; মেহনতি ও ভুখানাঙা মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কারো সঙ্গে আপস করেননি।

এ বাংলার স্বাধীনতা ছিল মওলানা ভাসানীর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। তাই মওলানা ভাসানীর বুকে একটি স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন সংগ্রামী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যখনই জনতার এই দুই অবিসংবাদিত নেতা মিলিত হয়েছেন, তখনই দেখা গেছে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর পিতৃতুল্য এই বর্ষীয়ান নেতাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর বুকে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাথা রেখেছেন। যা ছিল এক বিরল দৃশ্য। মওলানা ভাসানী প্রায়ই এবং জীবনে শেষ প্রান্তে কখনো কখনো প্রকাশ্য সভায় নির্দ্বিধায় বলতেন, পাকিস্তান ও পরবর্তী সময়ে তাঁর আধাডজন সেক্রেটারির মধ্যে (দলের সাধারণ সম্পাদক) শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য ও কর্মক্ষম, মাঠপর্যায়ে জনগণের সাথে যার সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এ প্রবীণ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং তাঁর দেখাশোনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য একটা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সকল সময়ই মওলানা ভাসানীকে একান্তভাবেই তাদের নিজস্ব সম্পদ হিসাবে কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করতেন। নানা সুবিধাবাদি গোষ্টি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে অনেকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে তাঁর জীবনসায়াহ্নে এমনকি তার মৃত্যুর পরও। যার ফলশ্রুততে এ মহান নেতার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি কখনো। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী মত একজন জাতীয় নেতার জন্ম কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না জাতীয়ভাবে। যা অত্যান্ত দু:খজনক ও লজ্জাজনক।

মওলানা আজকে কতখানি প্রাসঙ্গিক? নূরুল কবীরের লেখা &#39;রেড মাওলানা&#39; কিংবা সৈয়দ আবুল মকসুদ তার &#39;ভাসানীর জীবনী&#39;তে তাকে অমর করে রেখেছেন, এছাড়া আছে সৈয়দ ইরফানুল বারীর অনেকগুলো গ্রন্থ। তার পরও বলা যায়, মওলানার জীবনের বহুক্ষেত্র আজও অনালোচিত, অনালোকিত। মওলানার বিবৃতি ও বক্তৃতার সংকলনে কিংবা তার চীন ভ্রমণের স্মৃতিচারণে রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে তার যে গভীর দার্শনিক বোধের সাক্ষাত মেলে, তা নিয়ে যথেষ্ট চর্চা আমাদের দেশে নেই, কিংবা বলা যায় উলটো ম্রিয়মান হয়েছে। কৃষকের মুক্তির যে কর্মসূচি মওলানা দিয়েছিলেন, তা এখনকার অর্থনীতির চিন্তায় খুবই অনুপস্থিত, অথচ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আজও কৃষক। জাতীয় মুক্তির রাজনীতি তিনি করেছেন, কিন্তু কখনোই উগ্রজাতীয়বাদের খপ্পড়ে পরেননি। বরং আন্তর্জাতিকতা আর বিশ্বমানবতার বোধই তার মাঝে প্রবল। ভাসানীর এই রাজনীতিই তাকে সমকালীন আফ্রো-এশীয়-লাতিন আমেরিকান রাজনীতিতে অন্যতম ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। এদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক সংগ্রামেও মওলানা ভাসানী প্রেরণা হিসেবে থেকেছেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের একজন অনন্য রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, সাধীনতা সংগ্রামী। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার জীবন চলাকালে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলার নিপীড়িত, বঞ্চিত এবং শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মওলানা ভাসানী বেচে থাকবেন অনাদিকালজুড়ে। এই দেশ ও এই জাতি যত দিন টিকে থাকবে, মওলানা ভাসানীকে কেউ অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবে না। তাঁর সংগ্রামী আদর্শের কোন মৃত্যু নাই। ইতিহাসই তাঁর সঠিক মূল্যায়ন করবে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। মাওলানা ভাসানী চিরকাল সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে থাকবেন। বিপ্লবী রাজনীতির সাথে গণমানুষের দূরত্ব ঘুচিয়ে, একইসাথে প্রবলভাবে দেশীয় চরিত্রের কিন্তু আন্তর্জাতিকতা বোধের সংগ্রামের দিশা তিনি দিয়ে গিয়েছেন। প্রয়াণ দিবসে লাল মাওলানার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন। ভাসানী স্মৃতি অমর হোক। যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী।
লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক , E-mail : gmbhuiyan@gmail.com

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 13 Nov 2025 11:45:36 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ষষ্ঠ বর্ষে দৈনিক আমার বাঙলা — সত্যের পথে এক নিরলস যাত্রা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13636" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13636</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[&ldquo;সত্যের পথে ছয় বছরের নিরন্তর যাত্রা।
জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে &lsquo;দৈনিক আমার বাঙলা&rsquo; আজ ষষ্ঠ বর্ষে।
শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, প্রিয় দৈনিক আমার বাঙলা।&rdquo;

সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূল্য কখনো কমে না। সেই বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ থেকেই দৈনিক আমার বাঙলা আজ পদার্পণ করছে তার গৌরবময় ষষ্ঠ বর্ষে। ছয় বছরের এই পথচলা শুধু সময়ের পরিক্রমা নয়&mdash;এটি এক নিষ্ঠা, এক নীতির অবিচল অনুসরণ, আর মানুষের পাশে থেকে সত্য তুলে ধরার নিরন্তর প্রয়াসের গল্প।

প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই দৈনিক আমার বাঙলা সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পাঠককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। পত্রিকাটি বিশ্বাস করে&mdash;সংবাদ কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আর সেই শক্তিকেই ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সম্পাদকীয় ও রিপোর্টিং টিম।

সম্পাদক এম. এম. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সম্পাদকীয় বোর্ড পত্রিকাটিকে নিয়ে এসেছে একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক সংবাদমাধ্যমের পর্যায়ে।

দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পরিবেশ&mdash;সব ক্ষেত্রেই পত্রিকাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে নির্ভরযোগ্য ও যাচাই-বাছাইকৃত সংবাদ।

এই ছয় বছরে দৈনিক আমার বাঙলা যেমন পাঠকের ভালোবাসা অর্জন করেছে, তেমনি তরুণ সাংবাদিকদের জন্য হয়ে উঠেছে শেখার এক অনুপ্রেরণার প্ল্যাটফর্ম। সংবাদপেশার নৈতিকতা, তথ্যের যথার্থতা এবং মানবিক সংবেদনশীলতা&mdash;এই তিন মূল্যবোধের মেলবন্ধনই পত্রিকাটির মূল শক্তি।

দেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার নতুন যুগে দৈনিক আমার বাঙলা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সংবাদ পরিবেশনের পথে। অনলাইন সংস্করণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পত্রিকাটি সক্রিয়ভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ।
তথ্যপ্রবাহের এ দ্রুত যুগে যখন ভুয়া খবর ও গুজবের প্রভাব বেড়ে চলছে, তখন &lsquo;আমার বাঙলা&rsquo; সত্য যাচাই ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে।

পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি সবসময়ই স্পষ্ট &ldquo;সত্যের পথে অবিচল থাকা।&rdquo; এই নীতির প্রতিফলন দেখা যায় প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি বিশ্লেষণে এবং প্রতিটি কলামে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতি বিশ্লেষণসহ সব জায়গায় &lsquo;দৈনিক আমার বাঙলা&rsquo; দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করছে।

ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণের এই মুহূর্তে পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সংবাদকর্মী, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। তাদের সহযোগিতা ও বিশ্বাসই এই যাত্রাকে করেছে অনুপ্রেরণাময়।

আগামী দিনে দৈনিক আমার বাঙলা আরও আধুনিক, পাঠকবান্ধব এবং তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমানুষের পাশে থাকবে&mdash;এই অঙ্গীকারেই আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই।

সত্যের পথে এই নিরলস যাত্রা অব্যাহত থাকুক, এই কামনাই রইল।

&mdash; ফয়সাল হাবিব
সাব-এডিটর, দৈনিক আমার বাঙলা

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 11 Nov 2025 08:56:48 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের অভিজ্ঞতা আমলে নিতে হবে]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13215" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/13215</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ কেবল একটি প্রজাতি নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পান্তা-ইলিশ এখন যেমন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও ইলিশের অবদান বিশাল। বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে, এবং লাখো মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই মাছের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই রূপালি ইলিশ এখন নানা ঝুঁকির মুখে। অতিরিক্ত আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর দূষণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কারণে ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার প্রতিবছর মা ইলিশ রক্ষার জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ সবকিছুই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্দেশ্য একটাই&mdash;মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া, যাতে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন বাড়ে।

তবে বাস্তবতার চিত্রটি এর চেয়ে অনেক জটিল। উপকূলীয় এলাকার অভিজ্ঞ জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণে তাদের মতামত বা বাস্তব অভিজ্ঞতা কোনোভাবে আমলে নেওয়া হয় না। ফলে প্রজননকাল সঠিকভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায়। তাদের দাবি, এখন যে সময় সরকার নিষেধ ঘোষণা করেছে, তখন ইলিশের পেটে পুরোপুরি ডিম তৈরি হয় না। বরং নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরই ডিম পরিপক্ক হয়ে যায় এবং তখনই নদীতে নামলে মা ইলিশ ধরা পড়ে জালে। এতে করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও মা ইলিশ বাঁচে না, বরং আরও ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে, মৎস্য গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয় বহু বছরের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তাদের মতে, ইলিশের পেটে ডিম তৈরি হওয়ার পর তা পরিপক্ক হতে প্রায় ১৮ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। আর এই সময়েই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলে সর্বাধিক সুফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, সরকার ও গবেষকদের দৃষ্টিতে সময় নির্ধারণ সঠিক। কিন্তু এখানে তৈরি হয়েছে এক মৌলিক দ্বন্দ্ব। গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা কাগজ-কলমে নিখুঁত হলেও, নদীর বুকে প্রতিদিন জীবন কাটানো জেলেদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীপাড়ের জেলেরা বলেন, প্রকৃতির চরিত্র এখন বদলে গেছে। আগে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় ছিল মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম। কিন্তু এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই সময় পিছিয়ে গেছে। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে ইলিশ ডিম ছাড়ছে এমন প্রমাণ তারা নিজের চোখে দেখছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কেবল ইলিশের জীবনচক্রে নয়, নদীর ওপরেও পড়েছে ভয়াবহভাবে। নদীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, লবণাক্ততার মাত্রা পাল্টে গেছে, স্রোতের দিক বদলে গেছে, এমনকি বৃষ্টিপাতের ধরনও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় এখন অনেক জায়গায় পানির গভীরতা কমে গেছে, পলি জমে নৌপথ সরু হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে নদীর অগভীর অংশে মা ইলিশ ডিম ছাড়ত, এখন সে জায়গা হারিয়ে গেছে। ফলে তারা তুলনামূলক গভীর ও ঠান্ডা পানিতে চলে যাচ্ছে, যা প্রজননের সময়ও পিছিয়ে দিচ্ছে।

ইলিশ হলো অ্যানাড্রোমাস প্রজাতির মাছ, অর্থাৎ এটি সমুদ্রে বাস করলেও প্রজননের সময় নদীতে উঠে আসে। প্রজননের জন্য প্রয়োজন মিঠা পানি, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও প্রবাহমান স্রোত। কিন্তু সাগরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ও নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের এই অভ্যাসে এসেছে পরিবর্তন। আগে চাঁদপুর, ভোলা ও পটুয়াখালীর নদীগুলো ছিল মূল প্রজননক্ষেত্র, এখন দেখা যাচ্ছে অনেক ইলিশ আর নদীতে ঢুকছেই না, সাগরসংলগ্ন মোহনাতেই ডিম ছাড়ছে। অর্থাৎ তাদের আচরণগত পরিবর্তন ঘটেছে, যা পুরোনো গবেষণার পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

এমন অবস্থায় সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যদি প্রকৃত প্রজনন সময়ের সঙ্গে না মেলে, তাহলে এর সুফলও পাওয়া যাবে না। বরং বিপরীতে, মা ইলিশ রক্ষার নামে জেলেরা কষ্ট পাবেন, কিন্তু মাছ বাঁচবে না। তাই এখন সময় এসেছে সরকার, গবেষক ও জেলেদের অভিজ্ঞতাকে একত্রে বিবেচনা করার।

জেলেদের অভিজ্ঞতা কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নদীর বুকে জন্ম নেওয়া বাস্তব জ্ঞান। তারা জানেন কখন নদীর স্রোত বাড়ে, কখন পানির তাপমাত্রা কমে, কখন বাতাসের দিক পাল্টায় এবং এর প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে ইলিশের আচরণের সম্পর্ক কী। এক জেলে হয়তো কোনো গবেষক নয়, কিন্তু প্রতিদিন নদীর বুকে লড়াই করে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে প্রকৃতির এক বিশেষ পাঠক বানিয়েছে। এই বাস্তব জ্ঞানকে অগ্রাহ্য করা মানে প্রকৃতিকে অস্বীকার করা।

ভোলার এক প্রবীণ জেলে বলেছিলেন, &ldquo;আমরা নদীর পানি দেখে বুঝে যাই ইলিশ আসবে কি না। নদীর ঘোলা ভাব, স্রোতের গতি, বাতাসের দিক&mdash;সবই বলে দেয়। এখন সরকার যেই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ করে, তখন নদীতে ইলিশের পেটে ডিমই থাকে না। পরে যখন নিষেধ উঠে যায়, তখনই ডিম ছাড়ার সময় হয়। তখন আমরা জাল ফেললে মা ইলিশ ধরা পড়ে।&rdquo; এই কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে বাস্তবতার কঠিন সত্য। প্রকৃতি স্থির নয়, তাই কোনো নীতিও স্থির হতে পারে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই গবেষণার সময়সীমা ও প্রেক্ষাপটকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ইলিশের প্রজননকাল যদি পরিবর্তিত হয়, তাহলে পুরোনো সময়সূচির ওপর নির্ভর করা অবাস্তব।

এখন প্রশ্ন হলো&mdash;এই নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জেলেদের অভিজ্ঞতাকে কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়? বিশ্বের অনেক দেশেই ইতিমধ্যে &ldquo;কমিউনিটি বেসড ফিশারি ম্যানেজমেন্ট&rdquo; বা জনগণনির্ভর মৎস্যব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় জেলেদের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে। তারা মাঠ পর্যায়ে যা পর্যবেক্ষণ করেন, সেটি গবেষকদের হাতে যায়, আর গবেষকদের তা বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। ফলে নীতিটি হয় বাস্তবভিত্তিক, মানবিক ও বৈজ্ঞানিক। বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

ইলিশ সংরক্ষণের সময় শুধু প্রজননকেই নয়, জেলেদের মানবিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ তারা নদীতে না নামলে তাদের পরিবার উপার্জনহীন হয়ে পড়ে। সরকার যদিও প্রতি বছর খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়, বাস্তবে তা সব জেলে পান না। অনেক সময় সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হয়, কোথাও আবার অনিয়ম হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে আইন ভাঙেন। রাতের অন্ধকারে তারা মাছ ধরতে যান, ধরা পড়লে জাল, নৌকা ও মাছ জব্দ হয়, মামলা হয়, জেল খাটতে হয়। এতে শুধু একজন জেলের নয়, পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

যদি সরকারের উদ্দেশ্য সত্যিই মা ইলিশ রক্ষা হয়, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য জেলেদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। যদি দেখা যায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুম পরিবর্তিত হয়েছে, তাহলে সেই অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময়ও সমন্বয় করতে হবে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রজননকাল সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের কোনো টেকসই ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। কিছু গবেষক নদীতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলেও তা এককালীন এবং সীমিত পরিসরের। অথচ যদি জেলেদের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়&mdash;যেমন প্রতি সপ্তাহে তারা রিপোর্ট করবে নদীর পানির তাপমাত্রা, স্রোতের দিক, ইলিশের পেটের অবস্থা ইত্যাদি&mdash;তাহলে একটি বাস্তবভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অবদান রাখে। রপ্তানিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু উৎপাদন কমে গেলে এই অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তাই মা ইলিশ রক্ষা কেবল পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও প্রশ্ন। যদি প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মারা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাছও হারিয়ে যাবে। আর তার প্রভাব পড়বে জেলেদের জীবিকা থেকে শুরু করে জাতির খাদ্যনিরাপত্তা পর্যন্ত।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাছের প্রজননকাল পরিবর্তিত হচ্ছে&mdash;এমন উদাহরণ অনেক। জাপানে সালমন মাছ এখন আগে বা পরে ডিম ছাড়ছে, ভারতীয় সমুদ্রতটে সার্ডিন মাছের প্রজনন সময়ও বদলে গেছে। বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটছে। তাই পুরোনো ক্যালেন্ডার ধরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলে তা কার্যকারিতা হারাবে।

এখন সময় এসেছে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় করার। মৎস্য বিভাগ যদি প্রতিটি উপকূলীয় জেলাপর্যায় &ldquo;ইলিশ পর্যবেক্ষক দল&rdquo; গঠন করে, যেখানে স্থানীয় জেলেরা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধি একসঙ্গে কাজ করবেন, তাহলে তথ্যের সঠিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুই-ই বাড়বে।

মা ইলিশ বাঁচানো মানে শুধু একটি প্রজাতি সংরক্ষণ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। ইলিশ আমাদের সংস্কৃতির অংশ, আমাদের উৎসবের আনন্দের অংশ। পান্তা-ইলিশের আনন্দের পেছনে রয়েছে নদীর তীরে এক জেলের ঘাম, তার পরিবারের আশা। যদি সেই জেলে নদীতে নামতে না পারে, যদি তার অভিজ্ঞতা অগ্রাহ্য হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থে ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়।

ইলিশ সংরক্ষণে তাই প্রয়োজন নীতির মানবিকীকরণ। কেবল আইন দিয়ে নয়, হৃদয়ের সহানুভূতি দিয়ে এই কাজ করতে হবে। সরকারকে জেলেদের সহায়তা বাড়াতে হবে, যেন তারা নিষেধাজ্ঞার সময় ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা পান। একই সঙ্গে গবেষণার সময়সীমা ও পদ্ধতিতেও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করতে হবে&mdash;স্যাটেলাইট ডেটা, নদীর তাপমাত্রা সেন্সর, ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণ একত্রে ব্যবহার করলে প্রজননকাল আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সবশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে&mdash;ইলিশ বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। মা ইলিশ রক্ষা কেবল সরকার বা গবেষকের একার কাজ নয়, এটি জেলে, সমাজ, গবেষক ও প্রশাসন&mdash;সবার যৌথ দায়িত্ব। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞান একসাথে কাজ করলেই ইলিশ সংরক্ষণ হবে সফল।

মা ইলিশ বাঁচানো মানে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করা, প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণপ্রবাহকে টিকিয়ে রাখা। তাই এখনই সময়&mdash;জেলেদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে, এক বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই ইলিশ সংরক্ষণ নীতি গড়ে তোলা। কেবল আইনের প্রয়োগে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সত্যিকারের ইলিশ রক্ষা সম্ভব হবে। মা ইলিশ বাঁচলে বাংলাদেশও বাঁচবে&mdash;এই উপলব্ধিটাই হোক আমাদের নীতির ভিত্তি।

--- শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা।]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 07 Oct 2025 10:04:27 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণে বাড়ছে প্রবৃদ্ধির গতি]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12969" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12969</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সামাজিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন&mdash;এসবই বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের &lsquo;উন্নয়ন বিস্ময়&rsquo; হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে রয়েছে এক নিরবচ্ছিন্ন শক্তি&mdash;দেশের বিশাল যুবগোষ্ঠী। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যার পেছনে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। কর্মসংস্থানের খোঁজে নিজেদের আটকে না রেখে, নিজেরাই সৃষ্টি করছে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র (ecosystem)।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো যখন আমাদের সামনে উপস্থিত, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো যেন এক ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে। আউটসোর্সিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের আইটি ও আইটি-সক্ষম (ITES) খাত থেকে বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ আসে তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। এই সংখ্যা চলতি বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং জগতে অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্ক (Upwork)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হচ্ছে এবং বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে মূলত তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতার কারণে।

ই-কমার্স খাতও তরুণদের অংশগ্রহণে অভাবনীয় গতি লাভ করেছে। BASIS-এর তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০-এরও বেশি ই-কমার্স সাইট এবং ফেসবুক-ভিত্তিক এফ-কমার্স পেজ রয়েছে, যার অধিকাংশই পরিচালনা করছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন প্রচলিত ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোই অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে আইটি পার্কের বাস্তবায়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৯টি হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলোর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত আইটি অবকাঠামো প্রদান করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরি করা।

তবে এই পার্কগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। যেমন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এর ব্যবহারকে আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে আইটি পার্কগুলোকে আরও টেকসই করা সম্ভব। এছাড়া, বিদ্যুৎ সংযোগের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সেখানে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে না, যা পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আইটি পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমানো একটি জরুরি পদক্ষেপ। এটি আমাদের স্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি করতে সাহায্য করবে, যা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ, করছাড় এবং সহজ ব্যবসায়িক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Building and Development) ডিজিটাল বিপ্লবের মূল ভিত্তি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা পূরণ করতে পারে। কোডিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়গুলোতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। এই নীতিমালায় স্টার্টআপদের জন্য সহজ ঋণ প্রাপ্তি, ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ডিং-এর সুবিধা এবং ট্যাক্স হলিডের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

একইসাথে, কৌশলগত পেটেন্ট উন্নয়ন (Strategic Patent Development) ডিজিটাল অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। আমাদের উদ্ভাবন ও মেধাসম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী পেটেন্ট আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এটি শুধু আমাদের উদ্ভাবকদের উৎসাহিতই করবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, বরং এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়ক হচ্ছে। সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সঠিক নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন আমাদের এই পথচলাকে আরও মসৃণ করতে পারে। তরুণদের অদম্য শক্তি ও উদ্ভাবনী মেধার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Sun, 14 Sep 2025 08:41:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[পায়ে তেল মালিশের যত উপকারিতা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/7020" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/7020</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[সারাদিন পরিশ্রম শেষে যদি ঘুমটা ভালোমতো না হয়, তাহলে পরের দিন নিজের কাছে খুবই অস্বস্তি অনুভব হয়। আর ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক এর থেকে মুক্তির উপায়। দিনশেষে ঘুমানোর আগে যদি কিছুটা সময় নিয়ে পায়ে তেল মালিশ করা হয়, তা হলে তা শুধু আরামই দেয় না বরং শরীর ও মনের উপর পড়ে চমৎকার প্রভাব। অনিদ্রা, মানসিক চাপ, শারীরিক ক্লান্তি এমনকি ঠাণ্ডা লাগা&mdash;সবকিছুতেই পায়ের ম্যাসাজ কার্যকর ভূমিকা রাখে। চলুন, জেনে নিই কেন পায়ে তেল মালিশ করা উচিত এবং কোন তেল ব্যবহার করবেন।

গভীর ও আরামদায়ক ঘুম

যারা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের জন্য পায়ে তেল ম্যাসাজ হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান। এটি শরীর ও স্নায়ু শিথিল করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুমানোর আগে মন শান্ত করে দেয়। ফলে ঘুম গভীর ও শান্ত হয়।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে

দিনভর হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে পায়ে যে ক্লান্তি জমে, ম্যাসাজ তা দূর করে। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ বাড়ে এবং শীতকালে পায়ে ঠাণ্ডা লাগাও অনেকাংশে রোধ করা যায়।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়

পায়ের বিভিন্ন একিউপ্রেশার পয়েন্ট উদ্দীপিত হওয়ার ফলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণ হয়, যা মেজাজ ভালো করে এবং উদ্বেগ কমায়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নিয়মিত তেল ম্যাসাজ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

তেল মালিশ লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ সক্রিয় করে, যা শরীর থেকে টক্সিন ও বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। এটি শরীরকে আরো সুস্থ ও সতেজ রাখে।

ত্বক নরম ও আর্দ্র রাখে

শুষ্ক ও ফাটা গোড়ালি মেরামতে তেল ম্যাসাজ অত্যন্ত কার্যকর। নারকেল, বাদাম বা অলিভ অয়েলের মতো পুষ্টিকর তেল ব্যবহার করলে ত্বক আরো কোমল, উজ্জ্বল ও সংক্রমণমুক্ত থাকে।

মাংসপেশির ব্যথা ও টান কমায়

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার কারণে পায়ের ব্যথা বা পেশির টান দূর করতে পায়ে তেল মালিশ অত্যন্ত উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী তেল আরাম এনে দেয়।

গোড়ালি ও জয়েন্ট শক্তিশালী করে

নিয়মিত ম্যাসাজ পেশী ও জয়েন্টকে নমনীয় করে এবং ব্যথা কমায়। এর ফলে হাঁটা, দৌড়ানো বা চলাফেরা আরও স্বচ্ছন্দ হয়।

কোন তেল ব্যবহার করবেন?

১। সরিষার তেল: আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত। উষ্ণ গুণসম্পন্ন ও ব্যথা কমাতে কার্যকর।

২। নারকেল তেল: হালকা, আর্দ্রতাদায়ক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। শুষ্ক ত্বকের জন্য আদর্শ।

 

৩। বাদাম তেল: ভিটামিন ই-তে সমৃদ্ধ, যা ত্বককে পুষ্টি ও কোমলতা দেয়।

৪। ল্যাভেন্ডার তেল: ঘুমের আগে মানসিক প্রশান্তি আনে ও মানসিক চাপ কমায়। অন্যান্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

৫। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেল: প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর জন্য দারুণ কার্যকর।

রাতে ঘুমের আগে মাত্র ১০ মিনিট পায়ে তেল মালিশ করতে পারলেই শরীর ও মনের ওপর পড়ে আশ্চর্যজনক প্রভাব। এটি একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাভাবিক পদ্ধতি। যা দীর্ঘমেয়াদে ভালো ঘুম, সুস্থ ত্বক এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

সূত্র : এশিয়া নেট

আমারবাঙলা/এমআর/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 25 Aug 2025 07:07:23 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[কোরআনের সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগ গড়তে কোরআন জার্নালিং]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12143" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12143</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

অনেকে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করেন, কিন্তু যখন তাঁদের প্রশ্ন করা হয়, &lsquo;আপনি কি কোরআন জার্নালিং করেন?&rsquo; তখন বেশিরভাগ মানুষ বিষয়টি বুঝেই উঠতে পারেন না। অনেকেই প্রথমবার শুনলে অবাক হন&mdash;&lsquo;এটা আবার কী?&rsquo;


কোরআন জার্নালিং মানে হলো একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি বা নোটবুক রাখা, যেখানে কোরআনের আয়াত থেকে পাওয়া শিক্ষা, অনুভব এবং জীবনে তার ব্যবহারযোগ্য দিকগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়। এটি একান্তই আত্মিক একটি অভ্যাস, যা কোরআনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে।


যাঁরা নিয়মিত কোরআন বুঝে পড়তে চান, কিন্তু মাদ্রাসা বা ইসলামিক ক্লাসে সময় দিতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর পদ্ধতি। একটা ছোট কোরআন নোটবুক রাখুন&mdash;এই ছোট প্রয়াসই আপনার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।

 

কীভাবে জার্নালিং করবেন?

কোরআন পড়ার সময় শুধু তিলাওয়াতে থেমে না থেকে অর্থ অনুধাবনে মন দিন। অর্থ পড়তে পড়তে যেসব শব্দ বা আয়াতে আপনি থেমে যান, চোখে জল আসে বা মন স্পর্শ করে&mdash;সেগুলো লিখে রাখুন। সেই সঙ্গে জীবনের যে কোনো স্মৃতি বা বাস্তবতা যা ওই আয়াতের সঙ্গে মিলে যায়, তাও লিখে নিন। যদি কোনো আয়াতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পড়ে শান্তি অনুভব করেন, সেটিও নোট করুন।

এই লেখাগুলো আত্মিক চিকিৎসার মতো কাজ করে। কোরআন থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনা অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।

 

শুরুর উপযুক্ত সময় ও সুরা

জীবনে যদি কোনো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে কোরআন জার্নালিং শুরু করার এটাই হতে পারে সেরা সময়। আপনি চাইলে নিজেকে আত্মিকভাবে উন্নত করার সংকল্প নিয়ে এই চর্চা শুরু করতে পারেন, যাতে আল্লাহর ওয়াদার ওপর মনোযোগী থাকা যায়। তাঁর কালাম আপনাকে সান্ত্বনা দেবে এবং একসময় আপনি অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে পাবেন।

শুরুর জন্য সুরা দুহা একটি আদর্শ সুরা। এতে রয়েছে আশা, আশ্বাস ও আল্লাহর রহমতের বাণী। সুরাটি সেই সময় নাজিল হয়েছিল, যখন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) কিছু সময় ওহি না পেয়ে উৎকণ্ঠিত ছিলেন। তখন আল্লাহ বলেন:


&ldquo;তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি, তিনি তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও নন।&rdquo;
(সুরা দুহা, আয়াত: ৩)



&ldquo;আখিরাত তোমার জন্য এই দুনিয়ার চেয়ে অনেক ভালো।&rdquo;
(আয়াত: ৪)



&ldquo;তিনি কি তোমাকে অভাবী পাননি এবং তারপর তোমার অভাব পূরণ করেননি?&rdquo;
(আয়াত: ৮)


 

কোরআন জার্নালিংয়ের সুফল

কঠিন সময়ে আমরা অনেক প্রশ্ন করি&mdash;&lsquo;আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে&rsquo;, &lsquo;আল্লাহ কি আমায় ভুলে গেছেন&rsquo;, &lsquo;আমি কি পারব এগিয়ে যেতে?&rsquo; এই জার্নালিং আপনাকে মনে করিয়ে দেবে&mdash;আল্লাহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে আছেন, এবং আশা ও আস্থার আলো এখনো নিভে যায়নি। এটি আত্মবিশ্বাস, মানসিক প্রশান্তি এবং ঈমানের দৃঢ়তা এনে দেয়।

উপকারিতাগুলো সংক্ষেপে:

১. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত হয়:
তাফসির পড়ে আয়াত বুঝে তা লিখলে আপনি কোরআনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন।

২. কষ্টের সময় মনে শান্তি আসে:
আয়াতের প্রতিফলনে জীবনের সমস্যাগুলোর জন্য আপনি কোরআন থেকে উত্তর খুঁজে পাবেন।

৩. চিন্তায় গভীরতা বাড়ে, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার অভ্যাস তৈরি হয়।

 

জার্নালিংয়ের সহজ নিয়ম

জার্নালিং করার কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তবে সহজ কয়েকটি ধাপ মেনে আপনি শুরু করতে পারেন:


	
	সৃষ্টিশীল শিরোনাম দিন: প্রতিটি জার্নাল সেশনের শুরুতে সুরা বা আয়াতের নাম সুন্দর করে লিখুন।
	
	
	পাঠ ও প্রেক্ষাপট বোঝা: আয়াতটি কবে, কোথায়, কী পরিস্থিতিতে নাজিল হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করুন।
	
	
	হৃদয় ছোঁয়া আয়াত বাছুন: এমন আয়াত লিখুন, যা আপনার মনে রেখাপাত করে। অর্থ নিয়ে ভাবুন।
	
	
	নিজের উপলব্ধি লিখুন: আয়াত থেকে আপনি কী শিখলেন বা কীভাবে তা আপনার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত&mdash;তা লিখে রাখুন।
	
	
	দোয়ার মাধ্যমে শেষ করুন: আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও সাহায্য প্রার্থনা করুন।
	


 

জার্নালিং থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি

১. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব:


&ldquo;আল্লাহ কীভাবে উপমা দেন, তা কি দেখ না? একটি পবিত্র কথা এমন একটি ভালো গাছের মতো, যার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উঁচু, যা তার রবের ইচ্ছায় সব সময় ফল দেয়।&rdquo;
(সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৪)


২. কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর পরিকল্পনা:


&ldquo;আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।&rdquo;
(সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)


৩. ভরসার বিনিময়ে অপ্রত্যাশিত সাহায্য:


&ldquo;যে আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করেনি।&rdquo;
(সুরা তালাক, আয়াত: ২&ndash;৩)
&ldquo;আমি আমার বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তার বান্দাদের সম্পর্কে সব জানেন।&rdquo;
(সুরা গাফির, আয়াত: ৪৪)


৪. নির্বাচনের স্বাধীনতা:


&ldquo;মানুষ কি মনে করে, তারা বলবে &lsquo;আমরা বিশ্বাস করেছি&rsquo; এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?&rdquo;
(সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২)


৫. কষ্ট মানেই ব্যর্থতা নয়:


&ldquo;তিনি মহিমান্বিত, যিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন; যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।&rdquo;
(সুরা মুলক, আয়াত: ১&ndash;২)


 

কোরআন জার্নালিং এমন একটি অভ্যাস, যা আমাদের হৃদয় আল্লাহর বাণীর সঙ্গে যুক্ত করে। এটি আমাদের জীবনে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও আশার বীজ বপন করে। আপনার জীবন যদি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যায়, কিংবা আপনি নিজেকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যেতে চান&mdash;তাহলে আজ থেকেই শুরু করুন এই সফর।

আমারবাঙলা /এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 24 Jul 2025 07:54:50 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[নীল মেঘের রাজ্য নীলাচল]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12082" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12082</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ 

পাহাড়ের প্রেম বড়ই অদ্ভত। একবার যে এই প্রেমে পড়ে, তার আর মুক্তি নেই। পাহাড়ের নিরবতা, মেঘের আলিঙ্গন আর নীল আকাশের ছোঁয়ায় জীবন যেন এক নতুন অর্থ খুঁজে পায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবান&mdash;দেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের নাম।

বান্দরবান মানেই শ&rsquo;খানেক পর্যটনস্থল। তবে তার মধ্যেও এক অপার মোহময়তার নাম নীলাচল।

শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘ, পাহাড় আর শূন্যতার এক নিঃশব্দ মিলনমেলা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে উপরে উঠতেই চোখের সামনে খুলে যায় স্বর্গীয় এক দৃশ্যপট। মেঘ যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায়।

নীলাচলে পা রাখলেই প্রথম যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা হলো&mdash;সীমাহীন দিগন্তজোড়া আকাশ আর ভেসে বেড়ানো মেঘের ছায়া। সকালের সূর্যোদয়, দুপুরে মেঘের খেলা আর বিকেলে লালচে-কমলা আভায় রাঙা আকাশ&mdash;প্রতিটি মুহূর্তই একেকটি চিত্রপট যেন।

মাঝেমধ্যে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারদিক। কিন্তু হঠাৎই পরিষ্কার আকাশ থেকে দেখা মেলে বান্দরবান শহরের ছোট ছোট ঘরবাড়ি, বৌদ্ধ মন্দির, হোটেল আর ঘন সবুজ পাহাড়ের স্তর বিন্যাস।

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, পর্যটকদের মন কাড়ে নীলাচলের ব্যবস্থাপনাও। রয়েছে বসার জায়গা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাবারের দোকান, এমনকি থাকার জন্য ছোট ছোট কটেজও। পরিবার, বন্ধু কিংবা একান্তে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি একেবারে উপযুক্ত।

স্থানীয় সিএনজি চালক হাসান বললেন, &ldquo;সকালের সূর্যোদয় আর বিকেলের সূর্যাস্তের সময়টা সবচেয়ে সুন্দর। এখানে কয়েক ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকলেই জীবনের অর্ধেক ক্লান্তি ভুলে যাওয়া যায়।&rdquo;



নীলাচল যাওয়ার পথটাও বেশ সহজ। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে সেখানকার নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বান্দরবানগামী বাসে চেপে বসা যায়। চাইলে সরাসরি ঢাকা থেকে বান্দরবানের বাসেও যাওয়া যায়। বান্দরবান শহর থেকে সিএনজি কিংবা জনপ্রিয় &lsquo;চাঁদের গাড়ি&rsquo; ভাড়া করেই সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় নীলাচলে।

ভ্রমণের আদর্শ সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ। এ সময়টায় আকাশ পরিষ্কার থাকে, দেখা মেলে মেঘের খেলা আর রোদের ছায়াপথ।

শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে, নীল মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে প্রকৃতির নিঃশব্দ ভাষা অনুভব করতে হলে একবার হলেও যেতে হবে নীলাচলে। কারণ, সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করারও।

 

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 21 Jul 2025 06:25:41 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[শহীদ আবু সাঈদ ছিল আশার আলো — নতুন ঘরে নেই শান্তি, কেবল হাহাকার]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12034" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/12034</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বছর দেড়েক আগেও তিনি ছিলেন শুধুই এক মেধাবী ছাত্র, সতীর্থ আর আন্দোলনের সহযাত্রীদের কাছে পরিচিত। আজ সেই আবু সাঈদ রংপুরের প্রত্যন্ত বাবনপুর গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে এক প্রতীকের নাম&mdash;জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। দেয়ালে দেয়ালে, সভা-সেমিনারে, পোস্টারে তাঁর মুখ; আর মায়ের চোখে জল।

রংপুর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি। গ্রামের প্রবেশপথে এখন ইট-বালির কাজ চলছে। সামনে পিচ ঢালার প্রস্তুতি চলছে&mdash;জানালেন পাশের এক নির্মাণকর্মী।

সরু পথ ধরে কিছুদূর এগোলে চোখে পড়ে নতুন একটি ইটের ঘর&mdash;চকচকে গোলাপি রঙের দেয়াল, চওড়া বারান্দা। ঠিক সেই ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মনোয়ারা বেগম, শহীদ আবু সাঈদের মা। মাথায় গামছা, ভেজা চুলে রোদ লেগে মুখটা উজ্জ্বল হলেও চোখের কোণে লেগে আছে অশ্রু।
ধীরে ধীরে বললেন, &ldquo;নতুন ঘর হয়েছে ঠিকই, সবাই আছে&hellip; কিন্তু আমার সাঈদ তো নেই। বুক খালি করে চলে গেছে। এই শূন্য বুকের হাহাকার কি আর থামে?&rdquo;

মায়ের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। দু&rsquo;চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।
&ldquo;সংসারটা ছিল খুব অভাবের। ও ছোট থেকেই খুব ভালো ছাত্র ছিল। কোনোদিন এক টাকাও হাতে দিতে পারিনি। নিজের খরচ নিজেই চালাতো। পড়াশোনার শেষদিকে ওকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। সে হাসত, বলত, &lsquo;নিজের থাকার জায়গা নেই মা, বউকে রাখব কোথায়&rdquo;?

আবু সাঈদের বাবা, কৃষক মকবুল হোসেন, অনেক আগে থেকেই ঘরের জন্য ভিত দিয়েছিলেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই ঘর আর ওঠেনি।
গত বছরের ১৬ জুলাই, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশ গুলিতে প্রাণ হারান আবু সাঈদ। শহীদ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সহায়তায় উঠেছে নতুন এই ঘর। কিন্তু সেই ঘরের পেছনেই মাটির নিচে চিরঘুমে শুয়ে আছেন আবু সাঈদ।

তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ। ১৬ জুলাই ২০২৫, তাঁর প্রথম শাহাদতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম।

গত বছরের ১৬ জুলাই, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র, মাত্র ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ।
তিনি ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন অন্যতম সমন্বয়ক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়&mdash;আন্দোলনের সময় দুই হাত প্রসারিত করে, বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পুলিশের খুব কাছ থেকে ছোড়া গুলি লাগে সেই বুকেই। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

সেই প্রতিরোধের মুহূর্ত&mdash;দুই হাত ছড়িয়ে বুক পেতে দাঁড়ানো আবু সাঈদের ছবি আজও আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে। সাহসের অনুপ্রেরণা।

আজ দেশের শাসনব্যবস্থা পাল্টে গেছে। স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে। তবু, সহজ-সরল মনোয়ারা বেগম আজও বিশ্বাস করতে পারেন না&mdash;তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ছেলেটা আর কোনোদিন বাড়ি ফিরবে না।

&ldquo;কবে, কীভাবে ওর বুকের মধ্যে এত সাহস জমেছিল, আমি তো জানতামই না&rdquo;, বলেন তিনি।
আরও বলেন, &ldquo;আন্দোলনের খবর যদি জানতাম&hellip; ওকে ফোন করে বলতাম, &lsquo;বাড়ি আয় বাবা&rsquo;। তাহলে হয়তো ও বেঁচে থাকত&rdquo;।

তিনদিন আগে ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন মনোয়ারা বেগম। কথা হয়নি, শুধু একটা কল এসেছিল&mdash;কী বলেছিল, তাও আর শোনা হয়নি।

বাড়ির পুরোনো মাটির ঘরের বারান্দায় বসে কথা হচ্ছিল সন্তানের শোকে বিভোর এই বাবা-মায়ের সঙ্গে।
আবু সাঈদের বাবা বললেন, &ldquo;সরকার বলেছিল, জুলাই শহীদদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দেবে। আজও সেই টাকার কোনো খবর নেই&rdquo;।
মনোয়ারা বেগম বলেন, &ldquo;অন্যান্য জায়গা থেকে কিছু সাহায্য পেয়েছি বলেই নতুন ঘরটা উঠেছে। জমি বর্গা রাখা হয়েছে ছেলেরা। কিছু সচ্ছলতাও এসেছে&rdquo;।

সাঈদের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, &ldquo;ও ছিল আমার ছোট ছেলে। কিন্তু কোনোদিন চোখে চোখে রাখতে হয়নি। কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। শান্ত, মেধাবী, দায়িত্ববান ছেলে ছিল। সবচেয়ে ছোট হয়েও সাঈদই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় আশার আলো&rdquo;।

সাঈদের স্মৃতি আজও তাদের ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশন করে নিজের খরচ চালাতেন। নিজের খরচ ছাড়াও মায়ের চিকিৎসা, ছোটবোনের খরচ&mdash;সবই সামলাতেন।

মাঝেমধ্যে বাড়ি এলেই পাশের বাড়িতে বিয়ে হওয়া বোন সুমিকে ডাকতেন রান্নার জন্য। গভীর রাতে পড়াশোনা শেষে এক কাপ লাল চা খেলেই খুশি থাকতেন সাঈদ। বাজার করতেন, সবাই মিলে খেতেন।

মা বলেন, &ldquo;ওর মতো সন্তান ক&rsquo;জনের হয়? রায়হানকে নিয়ে চিন্তা করতাম, সাঈদকে নয়। কিন্তু বন্দুকের সামনে সাঈদ বুক পেতে দেবে&mdash;এটা তো ভাবতেই পারিনি&rdquo;।

বর্তমানে বড় ছেলে রায়হানকে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসেছে। এখন ঘরে মানুষ অনেক, সংসারে একটু স্বচ্ছলতাও এসেছে। তবু সাঈদের শূন্যতা পূরণ হয় না।

&ldquo;সাঈদের বয়সী কাউকে দেখলেই মনে হয়&mdash;এটা যদি আমার সাঈদ হতো&rdquo;, বলেই চোখের জল মুছেন মনোয়ারা বেগম।

সেদিনের স্মৃতি মনে করে বলেন, &ldquo;পাশের বাড়ির একজন এসে কাঁদতে কাঁদতে বলল, সাঈদের কিছু হয়েছে। পরে শুনলাম গুলি লেগেছে। লাশ এলো। আমি শুধু মুখটা দেখলাম। শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছিল আমার সাঈদ&rdquo;।

বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পাশেই সাঈদের কবর। সেই কবরের পাশে গাছ লাগানো হয়েছে।
মনোয়ারা বেগম বলেন, &ldquo;শুনেছি, গাছ সবসময় আল্লাহর জিকির করে। ওপারে যেন ভালো থাকে আমার বুকের ধন শহীদ আবু সাঈদ&rdquo;।

সেই কথায় যেন প্রকৃতিও স্তব্ধ হয়ে থাকে।
মকবুল হোসেন বলেন, &ldquo;সন্তানের হাতে মা-বাবার কবর হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা আজ সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছি&rdquo;।

আমারবাঙলা/এফএইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 17 Jul 2025 04:55:10 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[তপু ও ধলা পাহাড়ের ভালবাসা]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/12018" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/opinion/12018</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র:) মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরের সম্পর্কে। মাজারের দিঘীর পাশেই বসবাস করে তপু নামের এক যুবক নিয়মিত কুমিরের খোঁজখবর নেয়, ডাকে, খাওয়ায় এবং কুমিরও তার ডাকে সাড়া দেয়।হাজারো মানুষ যেখানে ভয়ে কুমির থেকে দূরে থাকে, সেখানে এক যুবক গড়ে তুলেছেন ভালোবাসার অনন্য নজির কুমির দেখলে যেখানে মানুষ দৌড়ে পালায়, সেখানে কিনা কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বাগেরহাটের মেহেদী হাসান তপু নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিরের সাথে তপুর খুনসুটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা সকলের নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। বলছিলাম

ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে থাকা ধলা পাহাড় নামের কুমির টি কে শান্তভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করছেন। কুমিরটিকে থামতে এবং চলতে আদেশ করছেন। কুমিরটিও তপুর কথা মতো পানি দিয়ে চলছে, থামছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করছে, মুরগি খাচ্ছে, উপরে উঠতে বললে উঠছে। তবে অনেকে তার এ কাজের প্রশংসা করেছে। আবার কেউ কেউ খুবই বিপদজ্জনক বলে সমালোচনা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান ,তপু ছোটবেলা থেকেই মাজার এলাকায় বড় হয়েছে। তার কুমিরের প্রতি একটা আলাদা টান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে সে মাজারে গিয়ে ধলাপাহাড় নামে পরিচিত কুমিরদের ডাক দেয়। তপুর ডাক শুনলেই কুমিরগুলো পানির উপর ভেসে উঠে, এমনকি তপুর হাতে খাবার খেতেও এগিয়ে আসে। এভাবেই এই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তুলেছেন তপু।

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে দিঘির কুমির দেখে আসছি। আমরা কখনো ভাবিনি কেউ এত কাছ থেকে কুমিরের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে। তপুর সাহস আর মমতা দেখে মুগ্ধ আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেছি ওর কথা শুনে চলে এই ধলা পাহাড় কুমির।

তুষার ফকির বলেন, মেহেদী হাসান তপু ভাই যে সাহসিকতা ও ভালোবাসা দেখাচ্ছে, তা আমাদের গর্বিত করছে। কুমিরের মতো ভয়ংকর প্রাণীর সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই আসলে দেখা যায় না। আমার মাজারের পাশে বাড়ি কিন্তু আমি কখনো এতো সাহস করে কাছে গিয়ে খাবার দিতে পারি নাই। কাছে গেলে মনে হয় কখন জানি কামড়ে ধরে মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।

খুলনা থেকে আসা শুভ দাস বলেন, আমি ইন্টারনেটে ভিডিওটি দেখে কৌতূহল নিয়ে আসলাম। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এটা শুধু একটা ভিডিও না, বরং প্রাণীর সাথে এতো টা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে। আসলে না আসলে বুঝতে পারতাম না।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাজিদুর রহমান বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি। ও কুমির দেখে খুবই উৎসাহী। তপুকে দেখে বোঝা যায় ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। আমার ছেলে দেখে খুব খুশি হয়েছে। এতো কাছ থেকে । আমি একটা মুরগি কিনে দিয়ে ছিলাম সুন্দর করে খেয়ে ফেললো।

মেহেদী হাসান তপু বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই খান জাহান আলী মাজারের কুমির দেখাশোনা করে আসছি। সেই থেকেই কুমিরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।কুমির টি অনেক বার এই দিঘীর বাইরে চলে গেছে আমি আর আমার ছোট মামা ধরে এনে আবার দিঘীতে ছেড়ে দিয়েছি । প্রতি দিন বিকাল হলে ধলা পাহাড় মাজারের ঘাটে চলে আসে। দেখতে মানুষের ভিড় করে। আমি এই ধলা পাহাড় কুমিরের সাথে খেলা করি কখনো কখনো চুমু খায় সে আবার আমার কথা শুনে চলে এই মাদার কুমির। খান জাহান আলী মাজারের রেখে যাওয়া পীর সাহেব এর সেই ধলা পাহাড় এবং কালা পাহাড় না। এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।

আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাদি কুমিরকে বলা হয় ধলা পাহাড় আর পুরুষ কুমির কে বলা হয় কালা পাহাড়।ও হচ্ছে মাদি কুমির ওকে আমরা ধলা পাহাড় বলে ডাকি ডাকলেই চলে আসে। এই কুমিরের সাথেই আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উঠেছে ।আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি ডাক দিলেই ও চলে আসছে। প্রতি দিন এই মাজারের হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখা যায়। কেউ মাজারে এসে মনের আশা পূরণের জন্য মানদ করে । কেউ কেউ আবার কুমির কে মুরগি খাওয়ানোর জন্য মুরগি নিয়ে আসে। আমি ধলা পাহাড় কে নিজের বন্ধু ভাবি। অনেক সময় ওরা আমাকে চিনে আসে, এটা দেখে ভালো লাগে।

খান জানান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, তপুর মতো একজন যুবক কুমিরের সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো। তপু তার নিয়মিত খাওয়ায়, কুমিরের সাথে খেলা করে, ওর ডাকে ছুটে চলে আসে, ছোট বেলা থেকেই তপুর কুমির প্রতি টান রয়েছে।আর যখন এই ধলা পাহাড় নামের কুমির টিকে দিঘীতে ছাড়া হয়েছিল এইটা ইন্ডিয়া থেকে ২০০৫ সালে ছয়টি কুমির আনা হয়েছিল তার একটি অবশিষ্ট । আর কালা পাহাড় ২০২৩ সালে মারা যায়।তখন থেকেই ওর সাথে কেমন জানি বন্ধু হয়ে গেছে তপুর।এই বন্ধুত্বের দেখে অনেক পর্যটক এখন দিঘির পাশে ভিড় করে। অনেকে বলছে, কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক সত্যিই দেখা যায় না।এখন সবাই বলে মানুষ আর কুমিরের মাঝেও বন্ধুত্ব হতে পারে, তার প্রমাণ তপু।

আমার বাঙলা/আরএ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 16 Jul 2025 05:55:59 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[তালপাতায় জ্ঞানের আলো]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/education/11975" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/education/11975</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[একসময় শিশুশিক্ষার হাতেখড়িতে তালপাতা, বাঁশের কঞ্চি আর কয়লার কালি ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন বাগেরহাটের চিতলমারীর কালিপদ বিশ্বাস। বয়স ৮২ পেরিয়েছে, তবু তালপাতায় অ,আ,ক,খ শেখান গ্রামের শিশুদের।

চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত তাঁর পাঠশালার নাম&mdash;&lsquo;ডুমুরিয়া দক্ষিণ পাড়া শিশুবিদ্যা নিকেতন&rsquo;। ২১ বছর ধরে তিনি তালপাতার পাঠশালায় শিশুদের হাতে অক্ষরের জ্ঞান তুলে দিচ্ছেন।

প্রতিদিন হাজিরা দেন গড়ে ৩০ জন শিশু। বিনা পারিশ্রমিকে তাদের পড়ান কালিপদ বিশ্বাস, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত &lsquo;পণ্ডিত মহাশয়&rsquo; নামে। অভিভাবকরা সামান্য যা দেন, তা-ই গ্রহণ করেন। আয় রোজগারের ভরসা বলতে নিজের মাছের ঘের ও ছেলেমেয়েদের সহযোগিতা।

তাঁর মতে, &ldquo;তালপাতায় হাতের লেখা পরিস্কার হয়, শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ে। আমাদের সময়ও তো তাই শিখতাম।&rdquo;

অভিভাবকদের ভাষ্য, তালপাতার লেখায় শিশুদের অক্ষরজ্ঞান মজবুত হয়, ধৈর্য বাড়ে। প্রতিদিন ১২টি তালপাতায় লেখা দেখাতে হয়। বছর শেষে পরীক্ষা দিয়ে তারা শিশু ওয়ানে ওঠে।

কালিপদ বিশ্বাস আজও শিশুশিক্ষায় এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর মতো নিবেদিত মানুষের হাতে শিক্ষার আলো পায় গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

আমার বাঙলা/এফ এইচ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Mon, 14 Jul 2025 06:12:31 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির জন্মদিন আজ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11354" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11354</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[হুমায়ূন ফরীদি (২৯ মে ১৯৫২ - ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে আগমন করেন। তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। তিনি মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন। তিনি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অভিনেতা হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

হুমায়ূন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ১৯৬৫ সালে পিতার চাকুরীর সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় মাদারীপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। তার নাট্যঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। তখন নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের &#39;ত্রিরত্ন&#39; নাটকে &#39;রত্ন&#39; চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর এই সংগঠনের সদস্য হয়ে &#39;টাকা আনা পাই&#39;, &#39;দায়ী কে&#39;, &#39;সমাপ্তি&#39;, &#39;অবিচার&#39;সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন।

অবশেষে ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর পিতার চাকুরীর সুবাদে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। যদিও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর ফিরে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল দীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

কর্মজীবন

১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলতঃ এ উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন।

ফরীদি ১৯৮৪ সালে তানভীর মোকাম্মেলের হুলিয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে শেখ নিয়ামত আলীর দহন (১৯৮৫) চলচ্চিত্র দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত সংশপ্তক নাটকে &#39;কানকাটা রমজান&#39; চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন।

 

২০০৪ সালে ফরীদি দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, সেগুলো হল হুমায়ূন আহমেদের শ্যামল ছায়া ও তৌকীর আহমেদের জয়যাত্রা। এই বছর তিনি মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু

ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ূন ফরীদি দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০&#39;র দশকে। শারারাত ইসলাম দেবযানী নামের তার এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে। পরবর্তীতে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেন। ২০০৮ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।

তিনি ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডিতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। এর পূর্বে তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাকে ঢাকার মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসার পর তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া


আমারবাঙলা/ইউকে

 

 ]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 29 May 2025 07:22:09 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ ইবনে খালদুন- এর জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11306" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11306</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[ইবনে খালদুন ( মে ২৭, ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দ /৭৩২ হিজরি &ndash; মার্চ ১৯, ১৪০৬ খ্রিষ্টাব্দ/৮০৮ হিজরি) ছিলেন একজন আরব মুসলিম পণ্ডিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতি শাস্ত্রের জনকদের মধ্যে তিনি অন্যতম বিবেচিত হন।

তবে ইবনে খালদুন তাঁর বই মুকাদ্দিমার জন্য অধিক পরিচিত। এই বই ১৭ শতকের উসমানীয় ইতিহাসবিদ কাতিপ চেলেবি ও মোস্তফা নাইমাকে প্রভাবিত করে। তাঁরা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে এই বইয়ের তত্ত্ব ব্যবহার করেন। ১৯ শতকের ইউরোপীয় পণ্ডিতরা এই বইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং ইবনে খালদুনকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করেন।

ইবনে খালদুনের জীবন তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নথিভুক্ত, কারণ তিনি একটি আত্মজীবনী লিখেছেন &quot;প্রেজেন্টিং ইবন এবং পশ্চিম খালদুন&quot; যার মধ্যে তাঁর জীবন সম্পর্কিত অসংখ্য নথি শব্দে শব্দে উদ্ধৃত হয়েছে।

আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন জাবির বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন ইবন খালদুন আল-হাদরামি, যিনি একজন দূরবর্তী পূর্বপুরুষের পরে সাধারণত &quot;ইবন খালদুন&quot; নামে পরিচিত, তিউনিসে ১৩৩২ খ্রিস্টাব্দে (৭৩২ হিজরি) জন্মগ্রহণ করেন। আরব বংশোদ্ভূত একটি উচ্চ-শ্রেণীর আন্দালুসিয়ান পরিবার, এই পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন হাধরামি যিনি ইসলামি নবী মুহাম্মদের একজন সহচর ওয়াইল ইবনে হুজরের সাথে আত্মীয়তা ভাগ করে নিয়েছিলেন। তার পরিবার, যারা আল-আন্দালুসে অনেক উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিল, ১২৪৮ খ্রিস্টাব্দে সেভিলের পতনের পর তিউনিসিয়ায় চলে যায়। তার পিতা এবং পিতামহ, তবে, রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে এসে একটি রহস্যময় আদেশে যোগ দেন।

তার ভাই ইয়াহিয়া খালদুনও একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন যিনি আবদালওয়াদিদ রাজবংশের উপর একটি বই লিখেছিলেন এবং আদালতের সরকারী ইতিহাসবিদ হওয়ার কারণে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বারা তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তার আত্মজীবনীতে, খালদুন একজন আরবের মাধ্যমে মুহাম্মদের সময় থেকে তার বংশধরের সন্ধান করেছেন। ইয়েমেনের উপজাতি, বিশেষ করে হাদরামাউত, যেটি ৮ম শতাব্দীতে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে এসেছিল, ইসলামিক বিজয়ের শুরুতে: &quot;এবং আমাদের পূর্বপুরুষ হাদরামাউত থেকে এসেছে, ইয়েমেনের আরবদের কাছ থেকে, ওয়াইল ইবনে হুজর হয়েও পরিচিত। হুজর ইবনে আদী, আরবদের মধ্যে সেরা, সুপরিচিত এবং সম্মানিত।&quot;

যাইহোক, আধুনিক জীবনীকার মোহাম্মদ এনান ইবনে খালদুনের অস্পষ্ট উত্সের উপর জোর দিয়েছিলেন যে আরবদের সম্পর্কে ইবনে খালদুনের সমালোচনা তার আরব উত্স সম্পর্কে সন্দেহ জাগানোর একটি বৈধ কারণ হতে পারে। যদিও বারবার রাজবংশের আধিপত্যের সময়ে আরব বংশের দাবির প্রতি ইবনে খালদুনের জোরাজুরি এবং সংযুক্তিও তার দাবি বিশ্বাস করার একটি বৈধ কারণ।

তার পরিবারের উচ্চ পদমর্যাদা ইবনে খালদুনকে মাগরেবে বিশিষ্ট শিক্ষকদের সাথে পড়াশোনা করতে সক্ষম করেছিল। তিনি একটি ধ্রুপদী ইসলামী শিক্ষা লাভ করেন, কুরআন অধ্যয়ন করেন, যা তিনি হৃদয় দিয়ে মুখস্থ করেছিলেন, আরবি ভাষাবিদ্যা; কোরান, হাদিস, শরিয়া (আইন) এবং ফিকাহ (আইনশাস্ত্র) বোঝার ভিত্তি। তিনি ঐ সকল বিষয়ের জন্য সনদ (ইজাযাহ) পেয়েছিলেন। টেমসেনের গণিতবিদ এবং দার্শনিক আল-আবিলি তাকে গণিত, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তিনি বিশেষ করে অ্যাভেরোস, ইবনে সিনা, রাজি এবং তুসির কাজ অধ্যয়ন করেন। ১৭ বছর বয়সে, ইবনে খালদুন তার পিতামাতা উভয়কেই ব্ল্যাক ডেথের কাছে হারান, প্লেগের একটি আন্তঃমহাদেশীয় মহামারি যা ১৩৪৮-১৩৪৯ সালে তিউনিসে আঘাত করেছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে, তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মজীবনের জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন। উত্তর আফ্রিকার একটি টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে, সেই সময়ের স্বল্পস্থায়ী শাসনব্যবস্থার সাথে পতন এড়াতে বিচক্ষণতার সাথে জোট গঠন এবং বাদ দেওয়ার জন্য উচ্চ মাত্রার দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। ইবনে খালদুনের আত্মজীবনী একটি দুঃসাহসিক কাজের গল্প, যেখানে তিনি কারাগারে সময় কাটান, সর্বোচ্চ পদে পৌঁছান এবং আবার নির্বাসনে পতিত হন।

পরবর্তী জীবন: ইবনে খালদুন মিশর সম্পর্কে বলেছেন, &quot;যে এটা দেখেনি সে ইসলামের শক্তি জানে না।&quot; অন্যান্য ইসলামিক অঞ্চলে সীমান্ত যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ কলহ মোকাবেলা করার সময়, মামলুক মিশর সমৃদ্ধি এবং উচ্চ সংস্কৃতি উপভোগ করেছিল। ১৩৮৪ সালে, মিশরীয় সুলতান, আল-মালিক উধ-দাহির বারকুক, খালদুনকে কামহিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং মালিকি স্কুল অফ ফিকহের গ্র্যান্ড কাদি (চারটি স্কুলের মধ্যে একটি, মালিকি স্কুলটি প্রাথমিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকায় ব্যাপক ছিল) নিযুক্ত করেন। সংস্কারে তার প্রচেষ্টা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়, এবং এক বছরের মধ্যে তাকে তার বিচারক পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। এছাড়াও ১৩৮৪ সালে, খালদুনের স্ত্রী এবং সন্তানদের বহনকারী একটি জাহাজ আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ডুবে যায়।

১৩৮৮ সালের মে মাসে মক্কায় তীর্থযাত্রা থেকে ফিরে আসার পর, ইবনে খালদুন কায়রোর বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেন। মামলুক আদালতে তিনি সমর্থন থেকে পড়ে যান কারণ বারকুকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময়, তিনি স্পষ্টতই কায়রোর অন্যান্য আইনবিদদের সাথে বারকুকের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন। পরে বারকুকের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং তাকে আবার মালিকি কাদি বলা হয়। সব মিলিয়ে, তাকে ছয়বার ডাকা হয়েছিল সেই উচ্চপদে, যেটা, বিভিন্ন কারণে, তিনি কখনোই বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি।

ইবনে খালদুন পরবর্তীতে কায়রোতে তার আত্মজীবনী এবং তার বিশ্বের ইতিহাস সম্পূর্ণ করতে এবং শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে কাজ করেন। ইতোমধ্যে, তিনি রিজাল হাওয়া রিজাল নামে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিতে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল, যার সংস্কার-ভিত্তিক ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বৃদ্ধ ইবনে খালদুনকে গ্রেফতার করা হয়। মালিকি কাদি (বিচারক) পদে ষষ্ঠ নির্বাচনের এক মাস পর ১৪০৬ সালের ১৭ মার্চ তিনি মারা যান।

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 27 May 2025 07:08:18 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের জন্মদিন আজ]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11241" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11241</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[রাজা রামমোহন রায় (২২ মে ১৭৭২ &ndash; ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩) একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক। তিনি ১৮২৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ব্রাহ্মসভার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাকে রাজা উপাধি দিয়েছিলেন। রাজনীতি, জনপ্রশাসন, শিক্ষা ও ধর্মের ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তিনি সতীদাহ প্রথা এবং বাল্যবিবাহ বাতিলের প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত ছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ রামমোহন রায় কে &quot;ভারতীয় রেনেসাঁর জনক&quot; বলে মনে করেন।

২০০৪ সালে, বিবিসির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জরিপে রামমোহন ১০ম স্থানে ছিলেন।

১৭৭২ সালের ২২ মে হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে রামমোহন রায়ের জন্ম হয়েছিল। তার পিতা রামকান্ত ছিলেন একজন বৈষ্ণব, তার মা ফুলঠাকুরানী দেবী ছিলেন শৈব পরিবারের। তিনি সংস্কৃত, ফার্সি এবং ইংরেজি ভাষার একজন মহান পণ্ডিত ছিলেন এবং আরবি, ল্যাটিন এবং গ্রীক ভাষাও জানতেন।

পনেরো-ষোলো বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে নানা স্থান ভ্রমণ করেন। কাশীতে ও পাটনায় কিছুকাল অবস্থান করেন। এছাড়া তিনি নেপালে গিয়েছিলেন। এর আগে তার সঙ্গে তন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা সুপণ্ডিত নন্দকুমার বিদ্যালঙ্কারের (পরে হরিহরানন্দ তীর্থস্বামী কুলাবধূত নামে পরিচিত) যোগাযোগ হয়। নন্দকুমারের সহযোগিতায় রামমোহনের সংস্কৃত ভাষায় পাণ্ডিত্য হয়, তার বেদান্তে অনুরাগ জন্মে। ব্রাহ্ম উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায় হরিহরানন্দই তার দক্ষিণ-হস্ত ছিলেন। বারাণসী থেকে সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার পর তিনি পাটনা থেকে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। পরে তিনি ইংরেজি, গ্রিক ও হিব্রু ভাষাও শেখেন।

তরুণ বয়সে তিনি কলকাতায় মহাজনের কাজ করতেন। ১৭৯৬ সালে রামমোহন অর্থোপার্জন শুরু করেন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। কলকাতায় প্রায়ই আসতেন এবং কোম্পানির নবাগত অসামরিক কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের নানা বিষয়ে সাহায্য করতেন। এই সুযোগে ভালো করে ইংরেজি শিখে নেন।

১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে রামমোহন কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হন, তখন থেকেই প্রকাশ্যে তার সংস্কার-প্রচেষ্টার শুরু। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ফারসি ভাষায় লেখা তুহফাতুল মুহাহহিদিন। বইটিতে একেশ্বরবাদের সমর্থন আছে। এরপর একেশ্বরবাদ (বা ব্রহ্মবাদ) প্রতিষ্ঠা করার জন্য বেদান্ত-সূত্র ও তার সমর্থক উপনিষদগুলি বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করতে থাকেন। ১৮১৫ থেকে ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয় বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, কেনোপনিষদ, ঈশোপনিষদ, কঠোপনিষদ, মাণ্ডূক্যোপনিষদ ও মুণ্ডকোপনিষদ। রক্ষণশীল ব্যক্তিরা তার এ কাজের প্রতিবাদ করেন। &#39;বেদান্ত গ্রন্থ&#39; প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখালেন আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নাম ও রূপ দেন। সাহেবদের বাংলা শেখানোর জন্য তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে ব্যাকরণ রচনা করেন।

বেদান্ত-উপনিষদগুলি বের করবার সময়ই তিনি সতীদাহ অশাস্ত্রীয় এবং নীতিবিগর্হিত প্রমাণ করে পুস্তিকা লিখলেন &#39;প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ&#39;। প্রতিবাদে পুস্তিকা বের হল &#39;বিধায়ক নিষেধকের সম্বাদ&#39;। তার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুস্তিকা বের হয়। এই বছরেই ডিসেম্বর মাসে আইন করে সহমরণ-রীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবুও গোঁড়ারা চেষ্টা করতে লাগল যাতে পার্লামেন্টে বিষয়টি পুনর্বিবেচিত হয়। এই চেষ্টায় বাধা দেওয়ার জন্য রামমোহন বিলেত যেতে প্রস্তুত হলেন। এ ব্যাপারে তাকে আর্থিক সহায়তা দান করেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। মোঘল সম্রাট ২য় আকবর তার দাবি ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করার জন্য ১৮৩০ সালে রামমোহনকে বিলেত পাঠান, তিনি রামমোহনকে রাজা উপাধি দেন।

বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিচার লিখে প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বেদান্ত গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখান আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নামে নতুন রূপ দেন।

১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর তাকে &#39;রাজা&#39; উপাধি দেন। ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের সমাজ সংস্কারের অন্যতম পথিকৃৎ।

রামমোহন রায় সামাজিক কুফলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এবং ভারতে সামাজিক ও শিক্ষাগত সংস্কার প্রচারের জন্য আত্মীয় সভা এবং একতাবাদী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৮২৮ সালে, তিনি ব্রাহ্ম সভা স্থাপন করেন, সামাজিক মন্দের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংস্কারবাদী বাঙালি ব্রাহ্মণদের একটি আন্দোলন।

রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন শিক্ষা সমাজ সংস্কারের একটি বাস্তবসম্মত হাতিয়ার। ১৮১৭ সালে, ডেভিড হেয়ারের সহযোগিতায় তিনি কলকাতায় হিন্দু কলেজ স্থাপন করেন। ১৮২২ সালে অ্যাংলো-হিন্দু স্কুলের চার বছর পরে (১৮২৬) বেদান্ত কলেজে; তিনি জোর দিয়েছিলেন যে তার একেশ্বরবাদী মতবাদের শিক্ষাগুলি &quot;আধুনিক, পাশ্চাত্য পাঠ্যক্রম&quot; এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৮৩০ সালে, তিনি রেভারেন্ড আলেকজান্ডার ডাফকে সাধারণ পরিষদের ইনস্টিটিউশন (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন। তিনি ভারতীয় শিক্ষায় পাশ্চাত্য শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি সমর্থন করেন। তিনি পাশ্চাত্য ও ভারতীয় শিক্ষার সংশ্লেষণ হিসেবে কোর্স অফার করে বেদান্ত কলেজও স্থাপন করেন।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল সংবাদ কৌমুদী। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভারতীয়দের চাকরির উচ্চ পদে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের মতো বিষয়গুলিকে কভার করে।

ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন সংবাদমাধ্যমে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন রাম মোহন যথাক্রমে ১৮২৯ এবং ১৮৩০ সালে এর বিরুদ্ধে দুটি স্মারক রচনা করেন।

১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ এপ্রিল রামমোহন লিভারপুলে পৌঁছান। ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেন। সেখানে ফরাসি সম্রাট লুই ফিলিপ কর্তৃক তিনি সংবর্ধিত হন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে বসবাস করতে থাকেন। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ দিন জ্বরে ভুগে ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যবরণ করেন। তার মৃত্যুর দশ বৎসর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর &#39;আনসার ডেল&#39; নামক স্থানে তার সমাধিস্থ করে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন। ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মধ্য ব্রিস্টলে তার একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Thu, 22 May 2025 07:21:35 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ ইংরেজ কবি আলেকজেন্ডার পোপের জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11226" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11226</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[আলেকজেন্ডার পোপ (২১ মে ১৬৮৮ &ndash; ৩০ মে ১৭৪৪) অষ্টাদশ শতকের একজন ইংরেজ কবি। ব্যঙ্গাত্মক ও প্রহসনমূলক লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। ইংরেজি সাহিত্যের হিরোয়িক কাপলেট ধাঁচের লেখার জন্য তিনি বিখ্যাত। &lsquo;দ্যা অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব কোটেশানে&rsquo; সেক্সপিয়ারের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কোটেশান তার লেখা থেকে নেয়া হয়েছে। তিনিই প্রথম মহাকাব্য ইলিয়াডের ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

আলেকজেন্ডার পোপের পিতার নাম আলেকজেন্ডার পোপ সিনিয়র (১৬৪৬ &ndash; ১৭১৭)। তিনি ছিলেন একজন কাপড় ব্যবসায়ী। লন্ডনের লম্বার্ড স্ট্রীটে তার দোকান ছিল। তার মাতার নাম এডিথ (নি টার্ণার) (১৬৪৩-১৭৩৩)। তারা দুজনেই ছিলেন রোমান ক্যাথলিক। সেই সময় ক্যাথলিকদের উপর আরোপিত টেস্ট এ্যাক্ট এর কারণে শৈশবে পোপের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। সেই সময়ে এই আইনের আওতায় ক্যাথলিকদের জন্য শিক্ষকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ভোটপ্রদান অথবা জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার রহিত করা হয়। পোপ এই সময় তার মাসির কাছে লেখাপড়া শুরু করেন। পরে তিনি দুইটি ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। অবৈধ হলেও লন্ডনের কিছু কিছু জায়গায় এ ধরনের স্কুল ছিল। সেই সময় সমগ্র ইংল্যান্ড জুড়ে ক্যাথলিক বিদ্বেষ দানা বেঁধে উঠেছিল। প্রোটেস্ট্যান্টরা লন্ডন বা ওয়েস্ট মিনিস্টার শহরের ১৬ কি.মি. এর মধ্যে ক্যাথলিক বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করত। এই কারণে ১৭০০ সালে পরিবারের সাথে তিনি রয়েল উইন্ডফরেস্ট এর কাছে বিনফিল্ড এর পোপসউড এ চলে আসেন। গ্রামাঞ্চলের- তার নতুন আবাস্থলের বর্ণনা তার &lsquo;উইন্ডসর ফরেস্ট&rsquo; কবিতায় পাওয়া যায়। বিনফিল্ডে আসার পর তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সাহিত্যের ক্লাসিক লেখাগুলো পড়তে শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জিফরি চসার, উইলিয়াম সেক্সপিয়ার, হোমার, ভার্জিল, হোরাক ও জুভেনাল। বিনফিল্ডে তার প্রচুর বন্ধু ও শুভাকাঙ্খি তৈরী হয়। যারা পরবর্তিতে তার জীবনে বিভিন্নভাব অবদান রেখেছিলেন। জন ক্যারিল ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি পোপের চেয়ে ২০ বছর বড় ছিলেন। তরুণ পোপকে তিনি নাট্যকার উইলিয়াম উইচারলি এবং কবি উইলিয়াম ওয়ালস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। পোপের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি তারা সম্পাদনা করেছিলেন।

১৭০৯ সালের মে মাসে তার লেখা প্যাস্টোরালস্ প্রকাশিত হয়। এই লেখা রাতারাতি তাকে খ্যাতি এনে দেয়। ১৭১১ সালে প্রকাশিত হয় এসে অন ক্রিটিসিজম। এই লেখাটিও সমানভাবে সমাদৃত হয়।

১৭১১ সালের দিকে জন গে, জোনাথন সুইফট, থমাস পার্ণেল এবং জন আরবাটনট কে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন স্ক্রিবিলারুস ক্লাব। ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্যে এই ক্লাবের সদস্যদের অবদান ছিল। এরপর তিনি গ্রিক মহাকাব্য হোমারের ইলিয়াড এর ইংরেজি অনুবাদের কাজে হাত দেন। পরিশ্রমসাধ্য এই কাজটি তিনি শুরু করেন ১৭১৫ সালে এবং শেষ করেন ১৭২০ সালে। হোমারের অনুবাদকর্ম থেকে তার কিছু অর্থ সমাগম হয়। সেই টাকা দিয়ে তিনি ১৭১৯ সালে টুইকেনহামে &lsquo;গ্রটো এন্ড গার্ডেন&rsquo; নামে সুড়ঙ্গ এবং বাগানসহ একটি দৃষ্টি নন্দন ভিলা নির্মাণ করেন। সুদৃশ্য মার্বেল পাথর ও স্ফটিক দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই প্র&zwnj;মোদ ভিলাটি। বাগান আর বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হলেও সুরঙ্গটি র&zwnj;্যাডনর হাউজ ইনডিপেনডেন্ট কো-এড স্কুলের নিচে এর অস্তিত্ব এখনও আছে। মাঝে মাঝে স্থান&zwnj;টি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। পোপের সর্বাধিক জনপ্রিয় কবিতা হল &lsquo;দ্যা রেপ অব দ্যা লক&rsquo; প্রথম প্রকাশিত হয় ১৭১২ সালে। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক লেখা। উচ্চবংশীয়দের মধ্যে কলহ-বিবাদ ছিল এই কাব্যের মূল উপজিব্য। তার আর একটি রচনা, &lsquo;এসে অন ম্যান&rsquo; একটি দার্শনিক কাব্য। প্রকাশিত হয় ১৭৩২ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যে।

১৭৪৪ সালের ৩০ শে মে টুইকেনহামের নিজ ভিলায় তিনি মারা যান। টুইকেনহামের চার্চ অব ইংল্যান্ডের সেন্ট মেরী দ্যা ভর্জিন এর সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

সূত্র: উইকিপিপিডিয়া

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Wed, 21 May 2025 07:10:08 +0000</updated>
        </entry>
            <entry>
            <title><![CDATA[আজ জন স্টুয়ার্ট মিলের জন্মদিন]]></title>
            <link rel="alternate" href="http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11211" />
            <id>http://www.amarbanglabd.com/news/article/feature/11211</id>
            <author>
                <name> <![CDATA[Amarbangla Admin]]></name>
            </author>
            <summary type="html">
                <![CDATA[জন স্টুয়ার্ট মিল (জন্ম: ২০ মে, ১৮০৬ - মৃত্যু: ৮ মে, ১৮৭৩) ছিলেন একজন ইংরেজ দার্শনিক, রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ এবং সরকারী চাকরিজীবী। উদারনীতিবাদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে অন্যতম মহা-প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, তিনি সামাজিক তত্ত্ব, রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ্যাতে বড় অবদান রেখেছেন। তাকে ঊনবিংশ শতকের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী ইংরেজিভাষী দার্শনিকরূপে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। মিলের স্বাধীনতাবিষয়ক মতবাদটিতে অসীম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে ব্যক্তির স্বাধীনসত্ত্বাকে প্রাগ্রাধিকারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

মিল ছিলেন উপযোগবাদের প্রবক্তা, একটি নৈতিক তত্ত্ব যেটি তার পূর্বসুরী দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম উন্নত করেন, তিনি জেরেমি বেন্থাম এর নীতিগত তত্ত্ব উপযোগবাদের উন্নয়নে অগ্রসর হয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন &#39;লিবারেল পার্টি&#39; নামক রাজনৈতিক দলের একজন সংসদ-সদস্য এবং তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যে নারীদের জন্য ভোটাধিকার চান। হেনরি হান্ট ছিলেন প্রথম ব্যক্তি। মিল একজন অজ্ঞেয়বাদী ছিলেন।

লন্ডনের পেনটোনভিলে এলাকার রডনী স্ট্রীটে জন স্টুয়ার্ট মিল জন্মগ্রহণ করেন। স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ এবং অর্থনীতিবিদ জেমস মিল এবং হ্যারিয়েট বুরো দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। পিতার তত্ত্বাবধানে তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেন। পিতার কঠোর শাসনের মধ্য দিয়ে তার বাল্য ও কৈশোর কাটে। মাত্র তিন বৎসর বয়সে তিনি গ্রিক ভাষা শিখতে শুরু করেন, তিন থেকে আট বৎসর বয়সে গ্রিক ও লাতিন ভাষা আয়ত্ত করা ছাড়াও উভয় ভাষায় লিখিত একাধিক গ্রন্থ পাঠ করেন। যে বয়সে অন্যান্য শিশুদের বিদ্যালয়ে পদচারণ শুরু হয় তিনি সে বয়সে এরূপ অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। বারো বৎসর বয়সে তিনি গণিতের অন্তরকলন শিক্ষা ছাড়াও গবেষণামূলক বিজ্ঞান, সভ্যতার ইতিহাস, অর্থনীতি ও ইংরেজি সাহিত্যের ওপর অনেক গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। এছাড়া, জেরেমি বেন্থাম এবং ফ্রান্সিস প্ল্যাসের পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁর শিক্ষাজীবনে প্রভাব বিস্তার করে।

পিতা তার অসাধারণ প্রতিভা ও বুদ্ধিমত্তার স্ফূরণ দেখতে পান শৈশবকালেই। উপযোগবাদে তার ও বেন্থামের ভূমিকা উভয়ের মৃত্যু পরবর্তীকালে ব্যাপক প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। শৈশবেই অকালপক্ক চিন্তা-চেতনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। আত্মজীবনীতে তার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিন বছর বয়সে প্রাচীন গ্রীক ভাষা শিখেন। ৮ বছরের মধ্যেই এশপের উপকথা, জিনোফোনের আনাব্যাসিস, হিরোডোটাস সমগ্র সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি ইংরেজির ইতিহাস এবং অঙ্কশাস্ত্র শিখেন। তাকে ল্যাটিন ভাষা, ইউক্লিড এবং বীজগণিত শেখার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৮৬৫ থেকে ১৮৬৮ সালের মধ্যে স্টুয়ার্ট মিল সেন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লর্ড রেক্টররূপে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে অর্থাৎ ১৮৬৫ থেকে ১৮৬৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের সিটি এন্ড ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে লিবারেল পার্টির সাথে প্রায়শঃই সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়। এমপি থাকাকালীন মিল আয়ারল্যান্ড প্রসঙ্গে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন।

১৮৬৬ সালে মিল যুক্তরাজ্যের সংসদের ইতিহাসে প্রথম সদস্যরূপে নারীর ভোটাধিকারের স্বপক্ষে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। স্বাভাবিকভাবেই এ প্রস্তাবনায় ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে বিতর্ক চলতে থাকে। এছাড়াও মিল শ্রমিক সংগঠন এবং খামার সমবায় সমিতির সামাজিক পুণর্গঠনের পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা গ্রহণ করেন।

তিনি বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের গডফাদার ছিলেন।

মিল দেখতে পান যে, নারীসংক্রান্ত বিষয়াবলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি নারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লিখতে শুরু করেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি প্রারম্ভিক নারীবাদী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ১৮৬১ সালে লিখিত ও ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত দ্য সাবজেকশন অব উইমেন শীর্ষক নিবন্ধে নারীদের বৈধভাবে বশীভূতকরণ বিষয়ে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করেন। এর ফলে তা সঠিকভাবে সমতাবিধান থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

বিবাহে নারীর ভূমিকা সম্বন্ধে কথা বলেন এবং এ সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে তিনি এর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেখানে নারীর জীবনধারণে তিনি তিনটি প্রধান দিকের কথা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- সমাজ ব্যবস্থা ও লিঙ্গভেদ, শিক্ষা এবং বিবাহ। নারীদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা ও সমর্থন ছিল প্রচণ্ড যা তাকে নারীবাদের শুরুর দিকে বিখ্যাত করে তোলে। দ্য সাবজেকশন অব উইমেন বইটি ছিল শুরুর দিকে লেখা কোন পুরুষ লেখকের বই।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

আমারবাঙলা/ইউকে]]>
            </summary>
            
            
            <updated>Tue, 20 May 2025 08:37:06 +0000</updated>
        </entry>
    </feed>
